জনগণের নৈতিকতা কীভাবে গণতান্ত্রিক নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে?

মোঃ ইয়াসির আরাফাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গণতন্ত্র হল জনগণের শাসন। এই সরকার পদ্ধতিতে জনগণই সর্বেসর্বা। এটি একটি নির্দিষ্ট দেশের সরকারের সাথে জনগণের সম্মতি এবং চুক্তির একটি ব্যবস্থা। প্রকৃতপক্ষে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একটি দেশের সরকার সাধারণ জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন বহন করে। জনগণের নৈতিকতা প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থায় সক্রিয় অংশগ্রহণ, বিভিন্ন মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অধিকার রক্ষা করে এমন আইন মেনে চলার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক নীতিগুলোকে সমর্থন করে। একটি নৈতিকভাবে সচেতন সমাজ নেতাদের কাছ থেকে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা দাবি করে, একই সাথে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং প্রক্রিয়াগুলোকে শক্তিশালী করে।

তাই সরকারের কোনো শাখা যদি জনগণের আস্থা হারিয়ে অন্যায় ও বৈষম্যে ভরে যায়, জনগণকে তখন কথা বলতে হবে। বৃহত্তর বা জাতীয় যৌক্তিক স্বার্থের জন্য তাদের সব অনিয়ম রুখে দাঁড়াতে হবে এবং সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নীতিগুলো প্রায়শই বাঁধাগ্রস্ত হয়, কারণ এদেশের মানুষ মনে করেন যে, এই দেশের নাগরিক হিসাবে তাদের দায়িত্ব কেবল তাদের জন্য একজন নেতা বেছে নেওয়ার মাধ্যমেই (ভোট প্রদান) শেষ হয়ে যায়। কিন্তু, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য এটা কি যথেষ্ট?

আমার মতে, গণতন্ত্র শব্দটি হচ্ছে চারটি ধাপের একটি চুক্তি যার মধ্যে রয়েছে:
১. জনগণ-জনগণ চুক্তি,
২.জনগণ-প্রতিনিধি চুক্তি,
৩. প্রতিনিধি-জনগণ এবং
৪. প্রতিনিধি-প্রতিনিধি চুক্তি।

প্রথম ধাপটি বৃহত্তর জনস্বার্থে একজন উপযুক্ত ও যোগ্য ব্যক্তিকে বেছে নিতে জনগণের ঐক্য নির্দেশ করে। দ্বিতীয় ধাপে, একজন ব্যক্তিকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেওয়ার এবং দায়িত্ব প্রদানের জন্য জনগণের ঘোষণা প্রকাশ করা হয়। তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি হল একজন প্রতিনিধি বা নেতার প্রতিটি জাতীয় কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতার প্রমাণ। সবশেষে, চতুর্থ ধাপটি সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সর্বোচ্চ পরিমাণে সুখের জন্য বিভিন্ন প্রতিনিধি বা নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের প্রতীক। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নীতিগুলো উল্লিখিত কোনো চুক্তির প্রকৃত বাস্তবায়ন না থাকার জন্য প্রশ্নবিদ্ধ। যেহেতু, “জনগণ-জনগণ” এবং “জনগণ-প্রতিনিধি” গণতন্ত্রের প্রাথমিক ধাপ, তাই এদেশের নাগরিকদের তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হতে হবে, যিনি জনগণের জিজ্ঞাসা ছাড়াই জবাবদিহিতা ও দায়িত্ব নিশ্চিত করবেন। অন্যথায়, পথভ্রষ্ট হয়ে বা ভুলভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যেকোনোভাবে জনগণকে দমন ও বৈষম্যের দ্বারা শোষণের চেষ্টা করবে।

এই দেশের মানুষ একজন সফল প্রার্থীর কৃতিত্ব নিতে ভালোবাসে যিনি নিয়ম-কানুন মেনে কাজ করেন, কিন্তু যোগ্য নয় এমন একজনকে নির্বাচন করার দায়ভার নিতে তারা প্রস্তুত নয়। ফলস্বরূপ, দুর্নীতি ও অসঙ্গতি দেখা দেয়। এমনকি তারা প্রতিনিধিকে তার কর্ম ও সিদ্ধান্তের জন্য জবাবদিহি করতে ভয় পায়। জনগণকে জানতে হবে প্রতিনিধি বিশেষ কিছু নয়। তিনি কেবল জনসেবা ও জনগণের প্রয়োজনীয়তা সমন্বয় ও বিতরণের জন্য কাজ করছেন, তাদের প্রতিনিধি হিসাবে জনগণের প্রয়োজন অনুসারে নীতি প্রণয়ন করছেন। এরই সাথে, অধিকার ও সমতার বিচ্যুতি ঘটলে তাকে অপসারণ করতে হবে ও আইনগতভাবে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যা জনগণ কর্তৃক নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সম্পন্ন হবে।

বাংলাদেশে আরেকটি গণতন্ত্র হত্যার প্রক্রিয়া হল আর্থিক সেবা বিতরণের নির্বাচনী প্রচারণা এবং মানুষকে আকাশ-কুসুম স্বপ্ন দেখানো যা অসাধু প্রার্থীরা নির্বাচনের কিছু সময় পূর্বে একটি দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা অর্জনের জন্য করে থাকেন। এটাতে জনগণও সাই দেয়। বিভিন্ন নেতার কাছে সাময়িক নানা পদের খাবার ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে তারাও সন্তুষ্ট থাকে। একজন প্রার্থী সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকা সত্ত্বেও জনসাধারণ এসব নেতা দ্বারা প্রতিশ্রুত সাময়িক আর্থিক সহায়তা এবং লোভনীয় সুবিধার প্রলোভনে তাদের যাবতীয় অতীত ইতিহাস ও কর্মকাণ্ড ভুলে গেলেও নির্বাচিত হয়ে তাদের কথার বাস্তবায়নে ভিন্ন প্রেক্ষাপট লক্ষ্য করা যায়।

সুতরাং, গনতান্ত্রিক এই দেশে সঠিক লোকের পাশাপাশি ভুল ব্যক্তিকে নির্বাচন করার জন্যেও কিন্তু জনগণই দায়ী। তারা যেন কোনো ভণ্ডামি দ্বারা সম্মোহিত না হয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন লক্ষ্যে সঠিক ও প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন শ্রেণি, চিন্তা ও মতাদর্শের মানুষকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের জনগণকে একটি বিশেষ দলের যেকোনো ধরনের কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পরমতসহিষ্ণুতা বাড়াতে হবে এবং অন্যের যৌক্তিক কথা বা দাবি সহজে মেনে নেওয়ার মানসিকতা সৃষ্টি করতে হবে, নিজের ভুল স্বীকার করার ক্ষমতা থাকতে হবে। যে ব্যক্তি নিজের চিন্তা-চেতনা ও কর্মকাণ্ডের ভুল যত সহজে উপলব্ধি ও স্বীকার করতে পারে, সে ততটা বেশি ভালো মানুষ। জনসাধারণকে অবশ্যই একজন ব্যক্তিকে তার নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিত্বের গুণাবলী দ্বারা বিচার করতে হবে, দলীয়ভাবে নয়। একটি দলের আনুগত্যের ফলে তৈরি হয় সীমাবদ্ধতা, পছন্দের দলের অযোগ্য ও অসৎ প্রার্থীর গণ্ডি পেরিয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিতে না পারার সীমাবদ্ধতা!

এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় ও কার্যাবলীর কঠোর ও নির্ভুল মনিটরিং প্রক্রিয়া, প্রার্থীদের শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচন ও গণতন্ত্র সম্পর্কিত বিষয় সম্পর্কে জনসচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠা করা, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা ও প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। শুধু তাই নয়, জনপ্রতিনিধিদের উপযুক্ত পরিমাণে বেতন দিতে হবে যাতে জনসম্পদ থেকে চুরির প্রলোভন সৃষ্টি না হয়।

জনগণই গণতন্ত্রের প্রাণ। তারা একটি দেশের সরকার গঠনে রাষ্ট্রের প্রতিবিম্ব। “জনগণের নৈতিকতা, দায়িত্বশীল আচরণ, ন্যায়বিচার এবং স্বচ্ছতা”, এই নীতিগুলোর প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দ্বারা একটি গনতান্ত্রিক জাতি ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের ন্যায়বিচার রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারে পরিণত হয় এবং জনগণের অন্যায় ও অনৈতিকতা রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা ও অসঙ্গতি আনে। তাই, বাংলাদেশ সাংবিধানিকভাবে একটি গণতান্ত্রিক দেশ হওয়ায় জনগণকে অবশ্যই গণতন্ত্রের প্রকৃত অর্থ ও মূলনীতি জানতে হবে। প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত গণতন্ত্রের উপযুক্ত শিক্ষাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রসারিত করতে হবে। অন্যথায়, জনগণ অসঙ্গতি ও অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সর্বদা নীরব থাকবে এবং সরকারকে জবাবদিহি করতে এগিয়ে আসবে না, যতক্ষণ না তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়। সরকারকে এই গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিটি ক্ষুদ্র অপকর্মেরও জবাব দিতে হবে! এজন্য জনগণকে প্রথমে ন্যায়পরায়ণ ও যুক্তিবাদী হতে হবে এবং ফলস্বরূপ প্রতিটি ব্যবস্থা স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হয়ে উঠবে।

শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
ই-মেইল: [email protected]

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে, জ্বলছেনা চুলা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তীব্র গ্যাস-সংকটে বিপাকে পড়ছেন চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ। অনেকের বাড়িতে রান্নার গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এমনকি শিল্প উৎপাদন ও সিএনজি পাম্পগুলোতেও এর প্রভাব পড়ছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আগুন লাগার পর থেকেই সংকট শুরু হয়। ওই ঘটনার পর গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে গ্যাস সংকটে নগরের বহু এলাকায় বাসাবাড়ির চুলা আর জ্বলছে না। রান্না করতে না পেরে পরিবারগুলো বৈদ্যুতিক চুলা ও এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে কাট্টলী, ইপিজেড, পতেঙ্গা, বন্দর ও সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় গ্যাস সংকটে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

রেনাববার নগরের আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও পাহাড়তলী এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বাসাবাড়িতে রান্না বন্ধ রয়েছে। কোথাও ভোরে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা গ্যাস এলেও সকাল গড়াতেই চাপ একেবারে কমে যায়। কিন্তু সকাল থেকে জ্বলছে না কারো চুলো। ফলে নগরবাসীর বড় একটি অংশ ঝুঁকছেন বিকল্প জ্বালানীতে। কেউ কেউ দীর্ঘ অপেক্ষার পর রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে এনেছেন।

হালিশহরের বাসিন্দা গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, সকালে একটু গ্যাস পাই, তখন সব রান্না একসঙ্গে করার চেষ্টা করি। না হলে ইন্ডাকশন চুলায় রান্না করতে হয়। এতে বিদ্যুৎ বিলও বেড়ে যাচ্ছে। বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তিন দিন ধরে দুপুর ও রাতে গ্যাস পাইনি। বাইরে থেকে খাবার আনতে হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটা বড় কষ্ট।

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অনেক পরিবার এখন ছোট সিলিন্ডার ব্যবহার শুরু করেছে। কিন্তু এলপিজির অতিরিক্ত খরচ বহন করা সবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।এদিকে নগরের অলংকার মোড়, জিইসি, আগ্রাবাদ ও বন্দর এলাকার কয়েকটি ছোট হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নার সময়সূচি বদলাতে হচ্ছে। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছে।

আগ্রাবাদের এক হোটেল মালিক আবদুল কাদের বলেন, গ্যাসের চাপ না থাকলে চুলা জ্বলে না। এলপিজিতে রান্না করলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যায়, না বাড়ালে লোকসান।অন্যদিকে গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের শিল্প খাতে। পতেঙ্গা, ইপিজেড, কালুরঘাট, অক্সিজেন ও সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চলের একাধিক কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না থাকায় বয়লার ও জেনারেটর পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।

ইপিজেড এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য যে পরিমাণ গ্যাস দরকার, তার অর্ধেকও পাচ্ছি না। কিছু মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অর্ডার সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এইচএম স্টিলের পরিচালক সরোয়ার আলম বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং সরবরাহ না থাকায় আমরা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। সম্প্রতি গ্যাসের এ সংকটের জন্য আমাদের উৎপাদন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। অথচ আমাদের ইউটিলিটি বিল ও ওভারহেড কস্ট (মাথাপিছু ব্যায়) হিসেব করলে কোটি টাকা দৈনিক ক্ষতি হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়লে বিক্রয়মূল্যও বেড়ে যেতে পারে।

সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালটি গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই দেশে এলএনজি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)-এর উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, টার্মিনালটিতে দুটি বয়লার রয়েছে। এর একটিতে অগ্নিকাণ্ডজনিত কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পুরো টার্মিনাল বন্ধ রাখতে হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে একটি বয়লার চালু করা সম্ভব হবে। তখন দৈনিক প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু করা যেতে পারে।

জানা গেছে, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামেও লোডশেডিং বেড়েছে। বন্দর এলাকার ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস বলেন, গ্যাস নেই, আবার বিদ্যুতও বারবার চলে যাচ্ছে। দোকানের ফ্রিজ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে সমস্যা হচ্ছে।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে মানুষ বৈদ্যুতিক চুলা বেশি ব্যবহার করায় চাহিদা আরও বেড়ে যাচ্ছে।

গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী লিমিটেডের (জিটিসিএল) অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দৈনিক চাহিদার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট সংকট তৈরি হচ্ছে। আমাদের দৈনিক চাহিদা রয়েছে ২৬-২৭’শ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে আমাদের সবক্ষেত্রে সমান ডিস্ট্রিবিউশন ঠিক রাখতে কিছু সময় অফ (বন্ধ) রাখতে হচ্ছে। অথবা চাপ কমাতে হচ্ছে। তাই স্বীকার করতেই হচ্ছে, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে গ্যাসের ভোগান্তিতে মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার বিলিং সিস্টেমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ : এমডি প্রকৌশলী সেলিম মো: জানে আলম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ওয়াসার ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ‘বিলিং সিস্টেম উন্নয়ন কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত
২২ জুলাই ২০২৬ চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (চট্টগ্রাম ওয়াসা) গ্রাহকসেবা আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করার লক্ষ্যে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম ওয়াসার যৌথ উদ্যোগে ‘বিলিং সিস্টেম উন্নয়ন কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন ভবনের ৩য় তলার সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় ৩৬ জন মিটার পরিদর্শক, চট্টগ্রাম ওয়াসার ১২ জন কর্মকর্তা উক্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক(অর্থ) মিজ্ শারমিন অাক্তার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় বিদ্যমান বিলিং প্রক্রিয়া, বর্তমানে ম্যানুয়ালি পরিচালিত বিভিন্ন সেবা এবং প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কর্মশালায় মিটার পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োজনীয় মতামত তুলে ধরেন। তাঁদের এসব পরামর্শ চট্টগ্রাম ওয়াসার সেবাদানের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি উন্নয়নে সহায়ক হবে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে ডিজিটাল সেবাব্যবস্থায় রূপান্তরিত হতে হবে এবং এ লক্ষ্যে ওয়াটারএইডের প্রস্তাবটি ইতিবাচক।

আমরা সবকিছুর ঊর্ধ্বে চট্টগ্রাম ওয়াসার স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে চাই এবং ডিজিটালাইজেশন ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবার মান উন্নত করতে চাই। বিলিং সিস্টেম উন্নত হলে গ্রাহক সেবার মানও উন্নত হবে এটা নিশ্চিত।
তিনি ডিজিটাল ব্যবস্থাটি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও মতামত প্রদানের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে রাজস্ব সংগ্রহের কার্যক্রম শক্তিশালী করতে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন। এ ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসার সঙ্গে নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠীর রাজস্ব সংগ্রহে ওয়াটারএইডের পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

বিলিং সিস্টেম উন্নয়ন কর্মশালাটি ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম ওয়াসার মধ্যকার সহযোগিতা আরও জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মিটার পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ