আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

জনগণের নৈতিকতা কীভাবে গণতান্ত্রিক নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে?

মোঃ ইয়াসির আরাফাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গণতন্ত্র হল জনগণের শাসন। এই সরকার পদ্ধতিতে জনগণই সর্বেসর্বা। এটি একটি নির্দিষ্ট দেশের সরকারের সাথে জনগণের সম্মতি এবং চুক্তির একটি ব্যবস্থা। প্রকৃতপক্ষে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একটি দেশের সরকার সাধারণ জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন বহন করে। জনগণের নৈতিকতা প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থায় সক্রিয় অংশগ্রহণ, বিভিন্ন মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অধিকার রক্ষা করে এমন আইন মেনে চলার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক নীতিগুলোকে সমর্থন করে। একটি নৈতিকভাবে সচেতন সমাজ নেতাদের কাছ থেকে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা দাবি করে, একই সাথে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং প্রক্রিয়াগুলোকে শক্তিশালী করে।

তাই সরকারের কোনো শাখা যদি জনগণের আস্থা হারিয়ে অন্যায় ও বৈষম্যে ভরে যায়, জনগণকে তখন কথা বলতে হবে। বৃহত্তর বা জাতীয় যৌক্তিক স্বার্থের জন্য তাদের সব অনিয়ম রুখে দাঁড়াতে হবে এবং সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নীতিগুলো প্রায়শই বাঁধাগ্রস্ত হয়, কারণ এদেশের মানুষ মনে করেন যে, এই দেশের নাগরিক হিসাবে তাদের দায়িত্ব কেবল তাদের জন্য একজন নেতা বেছে নেওয়ার মাধ্যমেই (ভোট প্রদান) শেষ হয়ে যায়। কিন্তু, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য এটা কি যথেষ্ট?

আমার মতে, গণতন্ত্র শব্দটি হচ্ছে চারটি ধাপের একটি চুক্তি যার মধ্যে রয়েছে:
১. জনগণ-জনগণ চুক্তি,
২.জনগণ-প্রতিনিধি চুক্তি,
৩. প্রতিনিধি-জনগণ এবং
৪. প্রতিনিধি-প্রতিনিধি চুক্তি।

প্রথম ধাপটি বৃহত্তর জনস্বার্থে একজন উপযুক্ত ও যোগ্য ব্যক্তিকে বেছে নিতে জনগণের ঐক্য নির্দেশ করে। দ্বিতীয় ধাপে, একজন ব্যক্তিকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেওয়ার এবং দায়িত্ব প্রদানের জন্য জনগণের ঘোষণা প্রকাশ করা হয়। তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি হল একজন প্রতিনিধি বা নেতার প্রতিটি জাতীয় কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতার প্রমাণ। সবশেষে, চতুর্থ ধাপটি সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সর্বোচ্চ পরিমাণে সুখের জন্য বিভিন্ন প্রতিনিধি বা নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের প্রতীক। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নীতিগুলো উল্লিখিত কোনো চুক্তির প্রকৃত বাস্তবায়ন না থাকার জন্য প্রশ্নবিদ্ধ। যেহেতু, “জনগণ-জনগণ” এবং “জনগণ-প্রতিনিধি” গণতন্ত্রের প্রাথমিক ধাপ, তাই এদেশের নাগরিকদের তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হতে হবে, যিনি জনগণের জিজ্ঞাসা ছাড়াই জবাবদিহিতা ও দায়িত্ব নিশ্চিত করবেন। অন্যথায়, পথভ্রষ্ট হয়ে বা ভুলভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যেকোনোভাবে জনগণকে দমন ও বৈষম্যের দ্বারা শোষণের চেষ্টা করবে।

এই দেশের মানুষ একজন সফল প্রার্থীর কৃতিত্ব নিতে ভালোবাসে যিনি নিয়ম-কানুন মেনে কাজ করেন, কিন্তু যোগ্য নয় এমন একজনকে নির্বাচন করার দায়ভার নিতে তারা প্রস্তুত নয়। ফলস্বরূপ, দুর্নীতি ও অসঙ্গতি দেখা দেয়। এমনকি তারা প্রতিনিধিকে তার কর্ম ও সিদ্ধান্তের জন্য জবাবদিহি করতে ভয় পায়। জনগণকে জানতে হবে প্রতিনিধি বিশেষ কিছু নয়। তিনি কেবল জনসেবা ও জনগণের প্রয়োজনীয়তা সমন্বয় ও বিতরণের জন্য কাজ করছেন, তাদের প্রতিনিধি হিসাবে জনগণের প্রয়োজন অনুসারে নীতি প্রণয়ন করছেন। এরই সাথে, অধিকার ও সমতার বিচ্যুতি ঘটলে তাকে অপসারণ করতে হবে ও আইনগতভাবে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যা জনগণ কর্তৃক নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সম্পন্ন হবে।

বাংলাদেশে আরেকটি গণতন্ত্র হত্যার প্রক্রিয়া হল আর্থিক সেবা বিতরণের নির্বাচনী প্রচারণা এবং মানুষকে আকাশ-কুসুম স্বপ্ন দেখানো যা অসাধু প্রার্থীরা নির্বাচনের কিছু সময় পূর্বে একটি দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা অর্জনের জন্য করে থাকেন। এটাতে জনগণও সাই দেয়। বিভিন্ন নেতার কাছে সাময়িক নানা পদের খাবার ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে তারাও সন্তুষ্ট থাকে। একজন প্রার্থী সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকা সত্ত্বেও জনসাধারণ এসব নেতা দ্বারা প্রতিশ্রুত সাময়িক আর্থিক সহায়তা এবং লোভনীয় সুবিধার প্রলোভনে তাদের যাবতীয় অতীত ইতিহাস ও কর্মকাণ্ড ভুলে গেলেও নির্বাচিত হয়ে তাদের কথার বাস্তবায়নে ভিন্ন প্রেক্ষাপট লক্ষ্য করা যায়।

সুতরাং, গনতান্ত্রিক এই দেশে সঠিক লোকের পাশাপাশি ভুল ব্যক্তিকে নির্বাচন করার জন্যেও কিন্তু জনগণই দায়ী। তারা যেন কোনো ভণ্ডামি দ্বারা সম্মোহিত না হয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন লক্ষ্যে সঠিক ও প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন শ্রেণি, চিন্তা ও মতাদর্শের মানুষকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের জনগণকে একটি বিশেষ দলের যেকোনো ধরনের কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পরমতসহিষ্ণুতা বাড়াতে হবে এবং অন্যের যৌক্তিক কথা বা দাবি সহজে মেনে নেওয়ার মানসিকতা সৃষ্টি করতে হবে, নিজের ভুল স্বীকার করার ক্ষমতা থাকতে হবে। যে ব্যক্তি নিজের চিন্তা-চেতনা ও কর্মকাণ্ডের ভুল যত সহজে উপলব্ধি ও স্বীকার করতে পারে, সে ততটা বেশি ভালো মানুষ। জনসাধারণকে অবশ্যই একজন ব্যক্তিকে তার নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিত্বের গুণাবলী দ্বারা বিচার করতে হবে, দলীয়ভাবে নয়। একটি দলের আনুগত্যের ফলে তৈরি হয় সীমাবদ্ধতা, পছন্দের দলের অযোগ্য ও অসৎ প্রার্থীর গণ্ডি পেরিয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিতে না পারার সীমাবদ্ধতা!

এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় ও কার্যাবলীর কঠোর ও নির্ভুল মনিটরিং প্রক্রিয়া, প্রার্থীদের শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচন ও গণতন্ত্র সম্পর্কিত বিষয় সম্পর্কে জনসচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠা করা, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা ও প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। শুধু তাই নয়, জনপ্রতিনিধিদের উপযুক্ত পরিমাণে বেতন দিতে হবে যাতে জনসম্পদ থেকে চুরির প্রলোভন সৃষ্টি না হয়।

জনগণই গণতন্ত্রের প্রাণ। তারা একটি দেশের সরকার গঠনে রাষ্ট্রের প্রতিবিম্ব। “জনগণের নৈতিকতা, দায়িত্বশীল আচরণ, ন্যায়বিচার এবং স্বচ্ছতা”, এই নীতিগুলোর প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দ্বারা একটি গনতান্ত্রিক জাতি ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের ন্যায়বিচার রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারে পরিণত হয় এবং জনগণের অন্যায় ও অনৈতিকতা রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা ও অসঙ্গতি আনে। তাই, বাংলাদেশ সাংবিধানিকভাবে একটি গণতান্ত্রিক দেশ হওয়ায় জনগণকে অবশ্যই গণতন্ত্রের প্রকৃত অর্থ ও মূলনীতি জানতে হবে। প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত গণতন্ত্রের উপযুক্ত শিক্ষাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রসারিত করতে হবে। অন্যথায়, জনগণ অসঙ্গতি ও অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সর্বদা নীরব থাকবে এবং সরকারকে জবাবদিহি করতে এগিয়ে আসবে না, যতক্ষণ না তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়। সরকারকে এই গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিটি ক্ষুদ্র অপকর্মেরও জবাব দিতে হবে! এজন্য জনগণকে প্রথমে ন্যায়পরায়ণ ও যুক্তিবাদী হতে হবে এবং ফলস্বরূপ প্রতিটি ব্যবস্থা স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হয়ে উঠবে।

শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
ই-মেইল: [email protected]

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফেব্রুয়ারি ৪৪৮ দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত—যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আজ ০৬ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার :বিদায়ী ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের গণমাধ্যমে ৪৪৮ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত, ১১৮১ জন আহতের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এই সময়ে রেলপথে ৩৪ টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত, ১১ জন আহত, নৌ পথে ০৬ টি দুর্ঘটনায় নিহত ০৪ জন ও আহত ০৫ জন হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৪৮৮ টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জন নিহত এবং ১১৯৭ জন আহত হয়েছে। এই সময়ে ১৫১ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত, ১৩৭ জন আহত হয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩.৭০ শতাংশ, নিহতের ৩৭.৩৬ শতাংশ ও আহতের ১১.৬০ শতাংশ। এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১১৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১৫ জন নিহত ও ৩৮৭ জন আহত হয়েছে, সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে বরিশাল বিভাগে ২২ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবেদন তুলে ধরে সংগঠনটি। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ পথের দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ৫৬ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৯৩ জন চালক, ৭৬ জন পথচারী, ২০ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৮ জন শিক্ষার্থী, ০৪ জন শিক্ষক, ৬৩ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, ০২ জন সাংবাদিক, ০২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ০৬ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে নিহত হয়েছে- ০৩ জন পুলিশ সদস্য, ০৩ জন সেনা সদস্য, ০১ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, ০২ জন আনসার সদস্য, ০২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৮৫ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭২ জন পথচারী, ৪৩ জন নারী, ৪১ জন শিশু, ৪৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ০৪ জন শিক্ষক ও ০৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

এই সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত ৬৮৭ টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৬.৩৪ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩.৭২ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৫.২৮ শতাংশ বাস, ১৪.২৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ৪.৮০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ৮.৮৭ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৬.৪৭ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪১.৭৪ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ৩৩.২৫ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৭.১৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৬.৪৭ শতাংশ বিবিধ কারনে, ০.২২ চাকায় ওড়না পেছিয়ে এবং ১.১১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪২.৬৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৫.৪৪ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৭ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩.৩৪ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৪৪ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ১.১১ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ মতে, ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণসমূহ :
১. সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় অনভিজ্ঞতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, নীতি ও কৌশলগত দুর্বলতা।
২. সারাদেশে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিক্সা ও নসিমন-করিমন সড়ক-মহাসড়কে অবাধে চলাচল।
৩. জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কবাতি না থাকায় হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা।
৪. সড়কে মিডিয়ান বা রোড ডিভাইডার না থাকা, সড়কে গাছপালায় অন্ধবাঁেকর সৃষ্টি।
৫. মহাসড়কের নির্মাণ ক্রটি, যানবাহনের ক্রটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।
৬. উল্টোপথে যানবাহন, সড়কে চাদাঁবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন।
৭. অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রীবহন।
৮. বেপরোয়া যানবাহন চালানো এবং বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো।

দুর্ঘটনার প্রতিরোধে সুপারিশসমূহ :
১. সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় উন্নত বিশ্বের নীতি ও কৌশল অনুসরন করা।
২. দক্ষ চালক তৈরির জন্য চালকদের ইনক্লুসিভ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা।
৩. সিসি ক্যামরা পদ্ধতিতে ট্রাফিক আইনের প্রসিকিউশন পদ্ধতি চালু করা।
৪. গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে ফুটপাতসহ সার্ভিস লেইনের ব্যবস্থা করা।
৫. সড়কে চাদাঁবাজি বন্ধ করা, চালকের বেতন ও কর্মঘন্টা সুনিশ্চিত করা।
৬. মহাসড়কে ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা, রোড সাইন, রোড মার্কিং স্থাপন করা।
৭. সড়ক পরিবহন আইন উন্নত বিশ্বের আদলে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রয়োগ করা।
৮. সারাদেশে উন্নতমানের আধুনিক বাস নেটওর্য়াক গড়ে তোলা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
৯. মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা, নিয়মিত রোড সেইফটি অডিট করা।
১০. মেয়াদোর্ত্তীন গণপরিবহন ও দীর্ঘদিন যাবত ফিটনেসহীন যানবাহন স্ক্যাপ করার উদ্যোগ নেওয়া।
১১. মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিক্সা আমদানী ও নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ করা ।
১২. বিআরটিএ ও ট্রাফিক বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
১৩. রাজধানীসহ দেশের সকল নগরীতে করিডোর ভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করা।
১৪. সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশী-বিদেশী দক্ষ ও অভিজ্ঞ, বিশেষজ্ঞ লোকজনদের সমন্ময়ে একটি বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স গঠন করা।

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট : বৃহৎ দুই সার কারখানা সিইউএফএল ও কাফকো’’র উৎপাদন বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারি নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দুটি বৃহৎ সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)’র উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর ফলে সার কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যায়।

পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় সরকারি নির্দেশনায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, সিইউএফএল স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করে। অন্যদিকে কাফকোর দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বর্তমানে এই বিপুল পরিমাণ উৎপাদন স্থগিত রয়েছে।

কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, সার উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে গ্যাসনির্ভর। পর্যাপ্ত চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ ছাড়া উৎপাদন চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। কম চাপের গ্যাসে উৎপাদন অব্যাহত রাখলে যন্ত্রপাতির ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে কারখানাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সার সরবরাহ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই দ্রুত উৎপাদন পুনরায় চালু করে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে দুই কারখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত বছরের ১ নভেম্বর দীর্ঘ সাড়ে ছয় মাস বন্ধ থাকার পর বহুল আলোচিত রাষ্ট্রায়ত্ত সিইউএফএল পুনরায় চালু করা হলেও তা ১২ ঘণ্টাও উৎপাদন সচল রাখতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এরপর কয়েক দফায় যান্ত্রিক ত্রুটি, গ্যাস সংকটসহ নানা কারণ দেখিয়ে কারখানাটি চালু ও বন্ধের মধ্যে ছিল। সবশেষ আবারও গ্যাস সংকটে বন্ধ হলো কারখানাটি।অন্যদিকে কাফকোও গত বছরের অক্টোবর মাসে অভ্যন্তরীণ সমস্যাজনিত কারণে প্রায় ১৫ দিন উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল। এরপর সবশেষ গতকাল গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ