ইছামতিতে বাংলাদেশ-ভারতের নিজ নিজ সীমানায় প্রতিমা বিসর্জন

ইব্রাহীম হোসেন দেবহাটা প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যেবর্তী ইছামতি নদীতে স্ব স্ব কিনারায় বিজয়া দশমীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে দুর্গা উৎসব। বিগত বছরগুলোর মত এ বছরও হয়নি দু’দেশের মিলন মেলা। আর তাই দু-দেশের মানুষ মিলে মিশে একাকার হতে পারেনি কেউই। এতে দু-দেশের মানুষের অংশগ্রহণের মিলন মেলাটি বন্ধ হওয়া সর্ব শ্রেণি মানুষের মাঝে আমেজ কমেছে। তবে বুক ভরা আশা নিয়ে অনেকে নদী পাড়ে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল অসসংখ্য মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, একটা সময় সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলাধীন ইছামতি নদীর টাউনশ্রীপুর এবং ভারতের টাকি পৌরসভা এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে এই মেলা বসত এই মেলা। এতে অংশ নিতে দুই বাংলার লাখও মানুষ। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিমা বিসর্জনাস্থল দেবহাটার ইছামতি নদী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ব বৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। বিগত দিনগুলোতে এই বিসর্জন কে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয় মিলন মেলা। দেশ বিভাগের অনেক আগে থেকেই সীমান্তের ইছামতি নদীর উভয় তীরে দুর্গা পূজার শেষ দিন বিজয়া দশমীতে মেলা বসে আসছে। দেশ বিভাগের পরও বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি সীমান্তের সীমারেখা। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে এ মেলা কখনও বন্ধ হয়নি। সারা বছর ধরে শুধু ইছামতি নদীর পাড়ের মানুষ নয়, বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ দিনটির জন্যে থাকে অপেক্ষায়। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে ইছামতির উভয় পাড়ে বসে নানারকমের দোকান। আত্বীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাত ছাড়াও এখানে আসা মানুষ উভয়ের মধ্যে ভাব বিনিময় শেষে সন্ধ্যার পরে ফিরে যায় যে যার দেশে, যে যার ঘরে।

এবছর (১৩ অক্টোবর) রবিবার বাংলাদেশ-ভারত দু’দেশের মধ্যে মিলন মেলা দেখতে না পাওয়া গেলেও নিজ নিজ সীমা রেখার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন। নদীর জিরো পয়েন্টে ডিঙি নৌকায় লাল ফ্লাগ উড়িয়ে দু’দেশের সীমানা নির্ধারণ করতে দেখা যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে।

এদিকে বেলা গড়ার সাথে সাথে নদীর দেবহাটার টাউন শ্রীপুর ও ভারতের টাকির দু’পারে জড়ো হতে থাকে অসংখ্য মানুষ। একই সাথে বিভিন্ন এলাকার দুর্গা প্রতিমাকে বিসর্জনের জন্য নিয়ে আসা হয় সীমান্ত নদীর পাড়ে। অপরদিকে ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাসনাবাদ, টাকী ও হিঙ্গলগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিমাও নিয়ে আসা হয়। তবে ভারতের সীমানায় আনন্দের তরী নামলেও বাংলাদেশের পাড়ে কাউকে নামতে দেয়নি আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনী। বিগত বছরগুলোতে এই দিনে ইছামতি নদীর তীরে আন্তর্জাতিক সীমারেখাসহ দ্বিধা-দ্বন্দ ভুলে মিলন মেলায় মিলিত হয় প্রতিবেশী দু’দেশের হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু কয়েক বছর আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে মিলন মেলা বন্ধ করে নেওয়া হয় কঠোর ব্যবস্থা। তারই পরিপেক্ষিতে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠিন সিদ্ধান্তে ঐতিহ্যবাহী এই মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। এবছর নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর অবস্থান নেয় বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নীল ডুমুর ১৭ ব্যাটেলিয়নের সহকারী অধিনায়ক (এডি) শাহ মোহাম্মদ খালেদের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তের বেঁড়িবাধে কঠোর অবস্থান নেয়। বাংলাদেশী কোন মানুষ যাতে ইছামতি নদীতে নামতে না পারে সে বিষয়ে টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করে। এবছর সীমান্ত এলাকার ৮ কিলো মিটারের মধ্যে সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটায় ১৫টি, কালিগঞ্জের ১৬টি ও শ্যামনগর উপজেলায় ৮টি পূজা মন্ডপ রয়েছে। সর্বমোট সীমান্ত এলাকায় ৩৯টি পূজামন্ডপ ছিল। যেখানে বিজিবি টহলদলকে ২টি টাক্সফোর্সে বিভক্ত করে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দ্বারা ৮টি সেকশনে ভাগ করে নিরাপত্তা প্রদান করে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনা, পুলিশ, বিজিবি সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়ায় এবছর শান্তিপূর্ণ ভাবে দুর্গাপূজা শেষ হয়েছে। এদিকে, সন্ধ্যার পর অশ্রæসিক্ত চোখে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানায় দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ।

দিনটি ঘিরে বাংলাদেশ পাড়ে হাজারও মানুষ জড়ো হতে থাকে। মিলন মেলার স্বাদ না পেয়ে অনেকে হতাস হয়ে বাড়িতে ফেরেন। বাংলাদেশ সীমান্তপাড়ে এসময় উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান, দেবহাটা থানার ওসি ইদ্রিসুর রহমান, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল সহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শ্রীপুর বুড়া মসজিদে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজিমুশশান নূরানী মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীপুর বুড়া মসজিদে জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও ফাতেহায়ে ইয়াজদাহুম উদযাপন উপলক্ষে আজিমুশশান নূরানী মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ।

মাহফিলে প্রধান ওয়ায়েজিন হিসেবে বক্তব্য রাখেন উদ্ভাজুল উলামা, মুফতিয়ে আহলে সুন্নাত, লেখক ও গবেষক, মুজাহিদে মিল্লাত হযরতুলহাজ্ব আল্লামা অধ্যক্ষ মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ অসিয়র রহমান আলকাদেরী (মা.জি.আ.)।বিশেষ ওয়ায়েজিন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব মুফতি মুহাম্মদ আবুল হাসনাত আলকাদেরী (মা.জি.আ.), হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব মুহাম্মদ শোয়াইব রেজা (মা.জি.আ.), শাহজাদা সৈয়দ মুফতি মুহাম্মদ মাঈনুল ইসলাম জুনায়েদ আল মাইজভান্ডারী, সৈয়দ মুহাম্মদ রহমান মিয়া এবং উদীয়মান তরুণ বক্তা আল্লামা মুহাম্মদ আব্দুল মুত্তালিব আলকাদেরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীপুর বুড়া মসজিদ ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লী আলহাজ্ব মুহাম্মদ নুরুন্নবী চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব আজিজুল হক চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মুহাম্মদ শওকত আলম, জেলা বিএনপি সদস্য জাবেদ মেহেদী হাসান সুজন, পৌরসভা বিএনপি সাবেক আহবায়ক শহীদুল্লাহ চৌধুরী, পোপাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোসলেম মিয়া,প্যানেলে চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ৮নং শ্রীপুর, খরনদ্বীপ ইউনিয়নের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ মাহফুজুল হক আলকাদেরী।

মাহফিলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, আদর্শ ও সুন্নাহ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
মাহফিলটি শ্রীপুর বুড়া মসজিদ ওয়াক্ফ এস্টেটের ওয়ারিশানবৃন্দের ব্যবস্থাপনায় এবং ঐতিহ্যবাহী শ্রীপুর বুড়া মসজিদের মুসল্লি ও এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।

সৌদি আরবকে রক্ষায় শর্তহীনভাবে প্রস্তুত পাকিস্তান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরবকে রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র বলেছেন- রিয়াদের নিরাপত্তার প্রতি ইসলামাবাদের এই অঙ্গীকার শর্তহীন প্রতিশ্রুতি। বৃহস্পতিবার আরব নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী একথা বলেন। কূটনৈতিক ও শারীরিক উভয়ভাবেই পাকিস্তান পুরোপুরি সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। ইয়েমেনের হুতি মিলিশিয়া সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে হামলা চালানোর মধ্যে তিনি এ মন্তব্য করলেন। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এযুদ্দের কারণে তেল সরবরাহের ওপর নতুন করে হুমকি তৈরি হয়েছে।
খবর – অনলাইন জিও নিউজ।


পাকিস্তান আইএসপিআর মহাপরিচালক আবারও বলেন- সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকারের মধ্যে মক্কা ও মদিনার সুরক্ষাও অন্তর্ভুক্ত। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি জানান- যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সৌদি আরবকে রক্ষা করে যাবে।

আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সামরিক বাহিনীর এই মুখপাত্র বলেন-সংঘাতের আলোচনার মাধ্যমে ও শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করতে ইসলামাবাদ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে’ স্বাক্ষর করেছে। এটা মক্কা চুক্তি হিসেবেই পরিচিত। এর অধীনে এক দেশের বিরুদ্ধে কোনো দেশ আক্রমণ চালালে তা জোটের সব দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ