আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে বাড়িতে বাড়িতে মিলেছে এডিস মশার লার্ভা, নিষ্ক্রিয় চসিক

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় নগরের বাকলিয়া এলাকাকে ‘লাল বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। সেই বাকলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গত ৬ মাসেও মশার ওষুধ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। যদিও নগরের একই এলাকায় প্রতি তিনদিনে কমপক্ষে একবার হলেও মশার ওষুধ ছিটানোর কথা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের।
এদিকে নগরীর ৩৭ শতাংশ বাড়িতে মিলেছে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভা। শুধু তাই নয়, এসব বাসাবাড়ির আশপাশে এবং বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত থাকা ৩৬ শতাংশ কন্টেইনারে মিলেছে লার্ভার প্রজননকেন্দ্র। এসবের মধ্যে আট ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব বেশি। এর মধ্যে ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের বহদ্দারহাট এলাকায় সর্বোচ্চ। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। তবুও চসিকের ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম বাড়েনি বলে অভিযোগ তাদের। মশক নিধনে চসিক উদাসীন বলে মনে করছেন নগরবাসী। গত ছয় মাসেও মশার ওষুধ দেয়া হয়নি অভিযোগ করে বাকলিয়া থানাধীন কল্পলোক সমাজকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ছয় মাস আগে আবাসিকের কিছু এলাকায় মশার ওষুধ দিয়েছে। কিন্তু কল্পলোক আবাসিকে ছয় মাসে একবারের জন্যেও ওষুধ দিতে আসেনি কেউ। ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ড এলাকার ইসহাক সওদাগর পুল সংলগ্ন সততা টাওয়ারের নিরাপত্তা কর্মী মো. আবু বকর জানান, প্রায় ৬ মাস আগে চসিক থেকে একবার এসে স্প্রে ও ফগিং করেছিল। তাদের আর দেখা যায়নি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি বলেন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। যেখানে ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে, আমরা সেসব এলাকা বিশ্লেষণ করে ওষুধ দিচ্ছি। যে সাত এলাকাকে ‘লাল বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেখানেও ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছি। এছাড়া, তিনদিনের মধ্যে একই এলাকায় কমপক্ষে একবার হলেও মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। মশক নিধন কর্মকর্তা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৯১ জনের বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ‘লাল বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকায় নিয়মিত মশার ওষুধ দিচ্ছে। এছাড়া সব এলাকায় নিয়মিত ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকা অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের চেয়ে ভালো দাবি করে এ কর্মকর্তা বলেন, আমরা প্রতিদিন অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকার ডেঙ্গুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। সে তুলনায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন অনেক ভালো আছে। এর কারণ হচ্ছে, এ বছর জানুয়ারি থেকে আমরা প্রয়োজনমতো ওষুধ ছিটিয়েছি। এছাড়াও, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা কার্যক্রম, মাইকিং এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে নগরীর ৩৭ শতাংশ বাড়িতে মিলেছে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভা। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে এডিস মশা নিয়ে চালানো জরিপের ফলাফলসহ মশক নিধনে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্যবিভাগ। তাতে আটটি সুপারিশও রয়েছে।
জানা গেছে, জেলা কীটতত্ত্ববিদ এনতেজার ফেরদাওছের নেতৃত্বে গত মাসের ১৭ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জরিপ কাজ চালানো হয়। এতে অংশ নেন কার্যালয়টির কীটতত্ত্বীয় কূশলী সৈয়দ মো. মঈন উদ্দীন ও মো. রিয়াজ উদ্দীন। এসময় তারা উঁচু ভবন, নির্মাণাধীন ভবন, সেমি পাকা, খালি প্লট ও বস্তি এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকার ২০০ বাসা-বাড়ি থেকে এডিস মশার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তারমধ্যে ৭৪টিতে এডিস মশার লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যা ৩৭ শতাংশ। এছাড়া ১৯৪ কন্টেইনারে থেকে সংগ্রহ করা নমুনার মধ্যে ৬৯ কন্টেইনারে পজিটিভ পাওয়া যায়। যা ৩৬ শতাংশ। এছাড়া প্লাস্টিক ড্রাম ও বাস্কেটে ৪০, টায়ারে ৩৭, মাটির পাত্রে ১২, প্লাস্টিক জার ও শিটে ৬, পানির ট্যাংক, ফুলের টব ও এলুমিনিয়ামে ৩ এবং ভবনের লিফটের নিচে জমানো পানিতে ২ শতাংশ লার্ভা পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপের সূচক ‘ব্রুটো ইনডেক্স’ নামে পরিচিত। আর কতগুলো বাড়িতে এডিস মশার উপস্থিতি রয়েছে, তা পরিমাপের সূচক হলো হাউস ইনডেক্স।
জরিপে দেখা যায়, ৮ ওয়ার্ডে ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি। এর অর্থ হচ্ছে, এসব এলাকার ১০০টির মধ্যে ২০টির বেশি পাত্রে মশা বা লার্ভা পাওয়া গেছে। ওয়ার্ডগুলো হলো-৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের বহদ্দারহাটে ৮০ শতাংশ, ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডের শেরশাহ-বায়েজিদে ৬০ শতাংশ, ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডের পাহাড়তলীতে ৪৫ শতাংশ, ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডে ৪০ শতাংশ, ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ও কোতোয়ালিতে ৩০ শতাংশ, ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের উত্তর ও দক্ষিণ খুলশীতে ২৫ শতাংশ, ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের হালিশহর এলাকায় ২০ শতাংশ এবং ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে ২০ শতাংশ।
জেলা কীটতত্ত্ববীদ এনতেজার ফেরদাওছ বলেন, জরিপে বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করি। এ কাজে আমাদের কর্মীও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। প্লাস্টিকের ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ারে জমা থাকা পানিতে লার্ভার অস্তিত্ব বেশি।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এডিস মশা নিয়ে চালানো জরিপের ফলাফল এবং কিছু সুপারিশ সিটি কর্পোরেশনকে জানানো হয়েছে। ফলাফল অনুসরণ করে মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস এবং ওষুধ ছিটানো সহজ হবে। পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করতেও কাজে লাগবে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে মশার ঘনত্ব বাড়বে। তাতে পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার গুঁড়া দুধ আমদানি করে : প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রেড চিটাগাং ক্যাটল (আরসিসি)-এর গুরুত্ব তুলে ধরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, লাল গরুর দেশ চট্টগ্রাম। দুধ হয়তো কিছুটা কম দেয়, কিন্তু মাংসের দিক থেকে এবং জাতগত বৈশিষ্ট্যে রেড চিটাগাং ক্যাটলের তুলনা পৃথিবীর কোথাও নেই। তাই এই জাত সংরক্ষণ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। উপদেষ্টা বুধবার সকালে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এ কে এগ্রো এন্ড ডেইরি হাব সংলগ্ন মাঠে “চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডেইরি খাতের উন্নয়ন: সম্ভাবনা ও করণীয়” -শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপষ্টো বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে গুঁড়া দুধ আমদানি করে। এই টাকা যদি দেশীয় দুধ উৎপাদন বাড়াতে ব্যয় করা হয়, তাহলে আমদানির প্রয়োজন কমবে। গুঁড়া দুধ তরল দুধে ভেজালের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। তাই আমাদের শপথ নিতে আমদানি কমিয়ে দেশীয় তরল দুধের উৎপাদন বাড়াতে হবে।

বিদ্যুৎ বিল ও ভর্তুকি প্রসঙ্গে উপষ্টো বলেন, ব্যাপক আলোচনা ও প্রচেষ্টার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্প খাতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল রেয়াত এবং ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া সম্ভব হয়েছে। এটি প্রাথমিক উদ্যোগ হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। তিনি খামারি নিবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নিবন্ধন ছাড়া প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব নয়। অনলাইনে নিবন্ধন হলে সব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে এবং নীতিনির্ধারণ সহজ হবে।

উপদেষ্টা বলেন, প্রাণিসম্প ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর মাধ্যমে খামারিরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, পিজি গ্রুপ গড়ে উঠেছে এবং অনেকের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে ডেইরি কার্যক্রম। তিনি বলেন, অনেকে বলছেন, লাভ-ক্ষতির হিসাব না করেও এটি এখন তাদের জীবনের অংশ। এর মানে ভবিষ্যতে এখান থেকেই তারা টেকসইভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।
নারীরে উদ্দেশে তিনি বলেন, দুধ শুধু উৎপানের পরিসংখ্যান নয়-মানুষ কতটা দুধ গ্রহণ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য দুধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা হাড়ের রোগ ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক।

এলডিডিপি’র মাধ্যমে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, স্কুলে দুধ সরবরাহ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দরিদ্র ও শহুরে শিশুদের জন্য যা কার্যকর উদ্যোগ। তিনি বলেন, বাংলাশে তরুণদের দেশ। ডেইরি ইন্ডাস্ট্রিতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। আমরা সংগ্রামী জাতি-দেশের উন্নয়নের জন্য এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

সেমিনারে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাশে ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন) মোঃ শাহজামান খান তুহিন, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুননাহার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (পরিচালক) ডা. মোঃ আতিয়ার রহমান এবং এ কে এগ্রো এন্ড ডেইরি ফার্মের পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেইন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোঃ বয়জার রহমান। এছাড়া এলডিডিপিথর আওতায় ডেইরি হাব কার্যক্রম: বাস্তবায়ন, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা শীর্ষক উপস্থাপনা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মোঃ মোস্তফা কামাল।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতের ঘাঁটিতে ‘পুরোনোর’ সাথে ‘নতুন’র লড়াই।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি জামায়াতে ইসলামীর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসন্ন নির্বাচনে আসনটিতে জামায়াত-বিএনপি প্রার্থী বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।এই আসনে জামায়াত এবার প্রার্থী করেছে দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য পোড়খাওয়া রাজনীতিক শাহজাহান চৌধুরীকে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন প্রথমবারের মতো নির্বাচনি লড়াইয়ে আসা নাজমুল মোস্তফা আমিন।
ভোটের মাঠের ‘পুরনো খেলোয়াড়’ শাহাজাহান চৌধুরীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক আর নবাগত নাজমুল মোস্তফা আমিনের ধানের শীষের প্রচার চলছে সমানতালে।

প্রথমবার খেলতে নেমে তরুণ নাজমুল বাজিমাত করবেন না-কি বয়সে প্রবীণ শাহজাহানের শিরোপা অক্ষুন্ন থাকবে- লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল দেখার অপেক্ষায় আছেন সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার আপামর জনসাধারণ।
এদিকে প্রচারে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মানুষের কাছে সেই নির্যাতনের কাহিনি তুলে কাতর কণ্ঠে ভোট প্রার্থনা করছেন শাহজাহান চৌধুরী। বিভিন্ন গণসংযোগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি শাহজাহান চৌধুরী, আমি বড় মজলুম, নির্যাতিত। সময়ে সময়ে নয়টি বছর আমি কারাগারে কাটিয়েছি। আমি জেলে থাকা অবস্থায় আমার মা আমাকে ছেড়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমি বড় ছেলে হিসেবে নিজের মাকে কবরে দেওয়ার সুযোগ পাইনি। আমাদের নেতারা ফাঁসির কাষ্ঠে গিয়েছেন।

আল্লামা সাঈদীকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে। আমি রাজপথে রক্ত দিয়েছি। আমি আপনাদের দুয়ারে এসেছি। আপনারা আমাকে ফেরত দেবেন না। অতীতে যেভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করেছিলেন, আমি আবারও আপনাদের কাছে একটি ভোট ভিক্ষা চাই। আগামীদিনে আমি নিরাপদ, শান্তির সাতকানিয়া-লোহাগাড়া গড়ে তুলব। ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাট- আপনাদের যা যা প্রয়োজন, আমি আপনাদের পাশে থাকব।

অন্যদিকে নাজমুল মোস্তফা আমিনও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে ভোটারদের নিজের দিকে টানার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি সন্ত্রাসমুক্ত সাতকানিয়া-লোহাগাড়া গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে উভয় প্রার্থীই বিরত আছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগে গিয়ে নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, ১৬ বছর আমি রাজপথে ছিলাম।

আওয়ামী লীগ আমার ওপর অনেক জুলুম করেছে। আমি ঘরে থাকতে পারিনি। রাজনীতিতে আমার ত্যাগের জন্য দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে এ আসনে প্রার্থী করেছেন। সাতকানিয়া ও লোহাগাড়াবাসীর কাছে আমার আকুল আবেদন, আপনারা গত ৩৬ বছরে এখানে বিভিন্ন প্রতীকের অনেক প্রার্থীকে দেখেছেন। এবার ধানের শীষে আপনাদের ভোট চাই। সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় আমি সন্ত্রাসের কবর রচনা করব। মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারবে, কথা দিচ্ছি। উন্নত, সমৃদ্ধ, আধুনিক এলাকা গড়ার জন্য আপনারা ধানের শীষে ভোট দিন।

ভোটের মাঠের কী অবস্থা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধানের শীষ জনগণের প্রতীক। ধানের শীষ মানেই জোয়ার, ধানের শীষ মানেই ঘূর্ণিঝড়। ইনশাল্লাহ, আমি সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সর্বস্তরের জনগণের বিপুল সাড়া পাচ্ছি। ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয়ী হবে বলে আমি আশাবাদী। তবে এখানে সন্ত্রাসীদের দাপট দেখতে পাচ্ছি। তারা কিছু একটা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করেছি, তারা যেন ভোটের দিনের আগেই অবৈধ অস্ত্র, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার করে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে।

জানা গেছে, পুরো লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৫। এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৯১৫ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৪ জন। নির্বাচনে প্রার্থী মাত্র তিনজন। জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী ও বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিনের সঙ্গে প্রার্থী হিসেবে আরও আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরীফুল আলম চৌধুরী।

তিনবার নির্বাচন করে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও গেল ২৫ বছরে চারটি সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রামের আলোচিত নেতা শাহজাহান চৌধুরীকে। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে জরুরি অবস্থায় এবং আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের অধিকাংশ সময়ই তাকে জেলখানায় কাটাতে হয়েছে। অর্ধশতাধিক মামলার আসামি হয়েছিলেন। কারাগারের বাইরে থাকলেও দিন কাটাতে হয়েছে লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে।

এছাড়া শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ সালে তরুণ বয়সে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) হেভিওয়েট নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলেও বিএনপির প্রার্থী অলি আহমদের কাছে পরাজিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট থেকে এ আসনে প্রার্থী করা হয়েছিল শাহজাহান চৌধুরীকে। কিন্তু অলি আহমদ ওই আসনে নির্বাচন করতে অনড় অবস্থান নেন। ফলে জোট থেকে আসনটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

অলি আহমদ ধানের শীষে এবং শাহজাহান চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হন। নির্বাচনে তিনি অলি আহমদকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে আনেন।কিন্তু ২০০৭ সালে এক-এগারো প্রেক্ষাপট পরবর্তী জরুরি অবস্থায় শাহজাহান চৌধুরী গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। সেই মামলায় সাজা হলে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারেননি। পরে অবশ্য ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে সাজা বাতিল হয়। ওই নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আরেক জামায়াত নেতা আ ন ম শামসুল ইসলাম প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।

২০১৪ সালে ‘একতরফাভাবে’ অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নিয়ে প্রার্থী করে আ ন ম শামসুল ইসলামকে। বিতর্কিত ওই নির্বাচনে তাকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি। এর ফলে ২৫ বছর পর জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন নিয়ে আবারও ভোটের মাঠে এসেছেন শাহজাহান চৌধুরী।

অন্যদিকে নাজমুল মোস্তফা আমিন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এর আগে তিনি দক্ষিণের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৬ বছরে দলের কঠিন দুঃসময়ে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিয়ে ও মামলা মোকাবিলায় সহযোগিতা করে তিনি দলের ভেতর গ্রহণযোগ্যতা পান বলে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
নাজমুল মোস্তফা আমিন ছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আরও তিনজন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

এরা হলেন- চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. মহিউদ্দিন, বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন ও মুজিবুর রহমান। নাজমুলকে প্রার্থী করা হলে তিনজন ও তাদের অনুসারীরা বিদ্রোহ করেছিলেন। কিন্তু হাইকমান্ডের নির্দেশে পরবর্তী সময়ে তিনজনই নাজমুলের পক্ষে কাজ করতে সম্মত হন। বর্তমানে আসনটিতে ধানের শীষের জয়ের জন্য নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ