চট্টগ্রামে বাড়িতে বাড়িতে মিলেছে এডিস মশার লার্ভা, নিষ্ক্রিয় চসিক

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় নগরের বাকলিয়া এলাকাকে ‘লাল বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। সেই বাকলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গত ৬ মাসেও মশার ওষুধ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। যদিও নগরের একই এলাকায় প্রতি তিনদিনে কমপক্ষে একবার হলেও মশার ওষুধ ছিটানোর কথা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের।
এদিকে নগরীর ৩৭ শতাংশ বাড়িতে মিলেছে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভা। শুধু তাই নয়, এসব বাসাবাড়ির আশপাশে এবং বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত থাকা ৩৬ শতাংশ কন্টেইনারে মিলেছে লার্ভার প্রজননকেন্দ্র। এসবের মধ্যে আট ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব বেশি। এর মধ্যে ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের বহদ্দারহাট এলাকায় সর্বোচ্চ। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। তবুও চসিকের ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম বাড়েনি বলে অভিযোগ তাদের। মশক নিধনে চসিক উদাসীন বলে মনে করছেন নগরবাসী। গত ছয় মাসেও মশার ওষুধ দেয়া হয়নি অভিযোগ করে বাকলিয়া থানাধীন কল্পলোক সমাজকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ছয় মাস আগে আবাসিকের কিছু এলাকায় মশার ওষুধ দিয়েছে। কিন্তু কল্পলোক আবাসিকে ছয় মাসে একবারের জন্যেও ওষুধ দিতে আসেনি কেউ। ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ড এলাকার ইসহাক সওদাগর পুল সংলগ্ন সততা টাওয়ারের নিরাপত্তা কর্মী মো. আবু বকর জানান, প্রায় ৬ মাস আগে চসিক থেকে একবার এসে স্প্রে ও ফগিং করেছিল। তাদের আর দেখা যায়নি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি বলেন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। যেখানে ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে, আমরা সেসব এলাকা বিশ্লেষণ করে ওষুধ দিচ্ছি। যে সাত এলাকাকে ‘লাল বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেখানেও ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছি। এছাড়া, তিনদিনের মধ্যে একই এলাকায় কমপক্ষে একবার হলেও মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। মশক নিধন কর্মকর্তা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৯১ জনের বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ‘লাল বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকায় নিয়মিত মশার ওষুধ দিচ্ছে। এছাড়া সব এলাকায় নিয়মিত ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকা অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের চেয়ে ভালো দাবি করে এ কর্মকর্তা বলেন, আমরা প্রতিদিন অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকার ডেঙ্গুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। সে তুলনায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন অনেক ভালো আছে। এর কারণ হচ্ছে, এ বছর জানুয়ারি থেকে আমরা প্রয়োজনমতো ওষুধ ছিটিয়েছি। এছাড়াও, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা কার্যক্রম, মাইকিং এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে নগরীর ৩৭ শতাংশ বাড়িতে মিলেছে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভা। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে এডিস মশা নিয়ে চালানো জরিপের ফলাফলসহ মশক নিধনে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্যবিভাগ। তাতে আটটি সুপারিশও রয়েছে।
জানা গেছে, জেলা কীটতত্ত্ববিদ এনতেজার ফেরদাওছের নেতৃত্বে গত মাসের ১৭ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জরিপ কাজ চালানো হয়। এতে অংশ নেন কার্যালয়টির কীটতত্ত্বীয় কূশলী সৈয়দ মো. মঈন উদ্দীন ও মো. রিয়াজ উদ্দীন। এসময় তারা উঁচু ভবন, নির্মাণাধীন ভবন, সেমি পাকা, খালি প্লট ও বস্তি এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকার ২০০ বাসা-বাড়ি থেকে এডিস মশার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তারমধ্যে ৭৪টিতে এডিস মশার লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যা ৩৭ শতাংশ। এছাড়া ১৯৪ কন্টেইনারে থেকে সংগ্রহ করা নমুনার মধ্যে ৬৯ কন্টেইনারে পজিটিভ পাওয়া যায়। যা ৩৬ শতাংশ। এছাড়া প্লাস্টিক ড্রাম ও বাস্কেটে ৪০, টায়ারে ৩৭, মাটির পাত্রে ১২, প্লাস্টিক জার ও শিটে ৬, পানির ট্যাংক, ফুলের টব ও এলুমিনিয়ামে ৩ এবং ভবনের লিফটের নিচে জমানো পানিতে ২ শতাংশ লার্ভা পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপের সূচক ‘ব্রুটো ইনডেক্স’ নামে পরিচিত। আর কতগুলো বাড়িতে এডিস মশার উপস্থিতি রয়েছে, তা পরিমাপের সূচক হলো হাউস ইনডেক্স।
জরিপে দেখা যায়, ৮ ওয়ার্ডে ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি। এর অর্থ হচ্ছে, এসব এলাকার ১০০টির মধ্যে ২০টির বেশি পাত্রে মশা বা লার্ভা পাওয়া গেছে। ওয়ার্ডগুলো হলো-৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের বহদ্দারহাটে ৮০ শতাংশ, ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডের শেরশাহ-বায়েজিদে ৬০ শতাংশ, ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডের পাহাড়তলীতে ৪৫ শতাংশ, ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডে ৪০ শতাংশ, ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ও কোতোয়ালিতে ৩০ শতাংশ, ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের উত্তর ও দক্ষিণ খুলশীতে ২৫ শতাংশ, ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের হালিশহর এলাকায় ২০ শতাংশ এবং ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে ২০ শতাংশ।
জেলা কীটতত্ত্ববীদ এনতেজার ফেরদাওছ বলেন, জরিপে বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করি। এ কাজে আমাদের কর্মীও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। প্লাস্টিকের ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ারে জমা থাকা পানিতে লার্ভার অস্তিত্ব বেশি।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এডিস মশা নিয়ে চালানো জরিপের ফলাফল এবং কিছু সুপারিশ সিটি কর্পোরেশনকে জানানো হয়েছে। ফলাফল অনুসরণ করে মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস এবং ওষুধ ছিটানো সহজ হবে। পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করতেও কাজে লাগবে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে মশার ঘনত্ব বাড়বে। তাতে পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম-চকরিয়ায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে মালবাহী ট্রাকের।দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় ট্রাকটি সড়কের ওপর কাত হয়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় দুইজন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন যাত্রীও।উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়াস্থ সবুজ পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বৃহস্পতিবার দিনগত রাত পৌণে একটার দিকে।

নিহত দুই যুবকের বয়স আনুমানিক ২২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হবে বলে জানানো হয়েছে।মহাসড়কের চকরিয়ার ডুলাহাজারাস্থ মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে হতাহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি।

মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশে কর্মরত নজরুল ইসলাম নামের এক সদস্য জানিয়েছেন- ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছে দুই যুবক। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতের উদ্ধার এবং দুর্ঘটনায় পতিত গাড়ি দুটি সরিয়ে নিলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঘটনাস্থল থেকে টেকনাফের দক্ষিণ হ্নীলা এলাকার আবুল কালামের ছেলে আব্দুল্লাহর একটি জাতীয় পরিচয় পত্রের (এনআইডি) কপি পাওয়া যায়।

বর্তমান অস্থির বিশ্বে বুদ্ধের মহান বাণীই শান্তি ফেরাতে পারে: সাংসদ নুরুল আমিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মিরসরাই উপজেলাধীন পাঁচটি বৌদ্ধ গ্রামের বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু, বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিনিধি এবং সাধারণ বৌদ্ধ জনগণের সাথে সাথে মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অদ্য ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলেলে মিরসরাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল আমিন। ভিক্ষু মহাসভার সহ-সভাপতি শ্রীমৎ প্রিয়ানন্দ মহাথেরের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পুষ্পেন্দু বড়ুয়া।

অগ্রণী ব্যাংকের ডিজিএম বিজয় বড়ুয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব পুলক কান্তি বড়ুয়া, চট্টগ্রাম মেডিকেলের নেফ্রোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. বিপ্লব কুমার বড়ুয়া, দমদমা নবাবপুর ধর্মকীর্তি বৌদ্ধ বিহারের আজীবন অধ্যক্ষ বিশ্বনাগরিক ড. ধর্মকীর্তি মহাথেরো এবং শাষন বংশ মহাথরসহ প্রতিটি বৌদ্ধ গ্রামের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।
প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান অস্থির বিশ্বে বুদ্ধের মহান বাণীই শান্তি ফেরাতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার সারাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী অস্থির সময়ে মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ গ্রামে বৌদ্ধ বিহারের নিরাপত্তা ও বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের সাধারণ কর্মীরা উনার নির্দেশে অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে কাজ করেছিল। তিনি মিরসরাই উপজেলার প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে তিন লক্ষ টাকা করে অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। পরিশেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ