ফিলিপাইনের আখ চাষে সফল সিংড়ার সাগর

মোঃএমরান আলী রানা নাটোর প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরের জমি লিজ নিয়ে কখনো ধান, কখনো গম, ভুট্রা আবার কখনো সবজি চাষ করে তেমন লাভের মুখ দেখতে না পারলেও এবার এলাকায় প্রথমবারের মত ফিলিপাইনের বø্যাক সুগার কেইন জাতের আখ চাষ করে সফল হয়েছেন সাগর নামের এক তরুন কৃষি উদ্যোক্তা। ১ বিঘা জমি থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার আখ বিক্রয় করেছেন তিনি । এতে খরচ বাদে তার লাভ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। তাঁর এমন সফলতা দেখে আখ চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের। আটাশ বছর বয়সী ওই তরুন কৃষি উদ্যোক্তার বাড়ি নাটোরের সিংড়া পৌরসভার দক্ষিন দমদমা এলাকায়।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, ফিলিপাইনের বø্যাক সুগার কেইনের রঙ কিছুটা কালো খয়েরি। দেশীয় আখের মতো হলেও রয়েছে বেশকিছু ভিন্নতা। এ আখের কান্ড নরম, রসের পরিমান বেশি, মিষ্টিও বেশি। লম্বায় সাধারণত ১২ থেকে ১৬ ফুট হয়ে থাকে। জৈব সার আর গোড়ায় পানি রাখলেই দ্রæতই বেড়ে ওঠে। কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন হয় না। তুলনামুলক কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন এ জাতের আখ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
সরেজমিনে সিংড়া পৌরসভার দক্ষিণ দমদমার বালু চরের মাঠে কৃষি উদ্যোক্তা সাগরের জমিতে গিয়ে দেখা যায়, চারিদিকে বর্ষাকালীন রোপা আমন ধানের মাঝে এক বিঘা জমিতে শোভা পাচ্ছে ফিলিপাইনের বø্যাক সুগার কেইন জাতের লম্বা আখ। এ জমির প্রায় ৯০ শতাংশ আখ ইতোমধ্যে বিক্রয় করেছেন তিনি।
উদ্যোক্তা সাগর জানায়, আমার নিজের কোন জমি নাই। তিন বছরের জন্য ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে ১ বিঘা জমি লিজ নিয়ে আখের চাষ করেছি। সেই হিসাবে প্রতি বছর ২২ হাজার টাকা লিজ খরচ সহ অন্যান্য খরচ হয়। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার আখ বিক্রয় করেছি। এতে খরচ বাদে আমার আয় হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এখনো ১৫ হাজার টাকার আখ বিক্রয়ের আশা করছি। তিনি জানান, আখ চাষে প্রথম বছর চারা রোপণ বাবদ খরচ বেশি পড়ে। তাই প্রথম বছর লাভের হিসাবটাও হয় কম। জমিতে একবার চারা রোপন করলে তিন বছর ফসল পাওয়া যায়। সেই হিসাবে আগামী দুই বছরে কম খরচে লাভের হিসাবটা হবে বেশি । একারনেই এ জমি থেকে তিন বছরে গড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

সাগর আরো জানায়, আখ চাষের আগে ধান, গম,ভুট্রা ও নানা রকম সবজি চাষ করে তেমন লাভ করতে পারি নাই। গতবছর নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে ফিলিপাইনের বø্যাক সুগার কেইনের চারা সংগ্রহ করে এ জমিতে রোপন করি। জমিতে আমার বাবাই সময় দেন বেশি। আগামীতে জমির পরিমান আরো বাড়াবেন বলে জানান তিনি। এদিকে প্রথম বছরেই সাগরের এমন সফলতা দেখে আখ চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের। অনেকেই আসছেন তার জমিতে। নিচ্ছেন পরামর্শ। সাগরের কাছ থেকে এ জাতের চারা নিয়ে আখের চাষ শুরু করেছেন কেউ কেউ।
উপজেলা কৃষি অফিসার খন্দকার ফরিদ জানান, আখ চাষের জন্য নাটোর জেলা বিখ্যাত হলেও সিংড়া উপজেলায় তুলনামুলক এ ফসল চাষের চাহিদা কম। এবছর এ উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগ সবসময়ই কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা করছেন। আমরা আশা করছি, আখ চাষীরা লাভবান হবেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

লতিকচু চাষে আলোর মুখ দেখছেন ভেড়ামারার শিরিনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করে সফলতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের কাজীহাটা ব্লকের স্বরুপের ঘোপ গ্রামের গৃহিণী মোছাঃ শিরিনা খাতুন (৫২)। এক সময় যে লতিকচুর আবাদ এ অঞ্চলে খুব একটা দেখা যেত না, সেই লতিকচুই এখন তার জন্য সম্ভাবনাময় আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। মাত্র ২০ শতক জমিতে বারি-পানিকচু-১ জাতের চাষ করে তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিরিনার পতিত জমিতে সবুজ কচুগাছে ভরপুর লতি। তিনি নিজেই জমি থেকে লতি সংগ্রহ করছেন। শিরিনা খাতুন জানান, ভেড়ামারা কৃষি অফিসের পরামর্শে এবছরের মে মাসে তিনি কচুর চারা সংগ্রহ করে ২০ শতক জমিতে রোপণ করেন। রোপণের ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই তিনি লতি বিক্রি শুরু করেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ১ থেকে ২ মণ লতি বাজারে সরবরাহ করছি। পুরো মৌসুমে লতি বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি। মৌসুম শেষে কচুর কন্দ বিক্রি করেও বাড়তি আয় করা যায়।” লাভজনক হওয়ায় আগামীতে আরও বেশি জমিতে এ চাষ করবেন বলেও জানান তিনি।

ভেড়ামারা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. সদরুল ইসলাম বলেন, বর্ষায় পানিতে ডুবে যাওয়া নিচু জমিতে কৃষকের আগ্রহ ছিল সীমিত। তবে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার সেই জমিগুলোতে এখন সার্থকভাবে চাষ হচ্ছে লতিকচু। শিরিনা খাতুন তার জলন্ত উদাহরণ। স্যাঁতসেঁতে জমিতে কচুর সফল আবাদ শিরিনা খাতুনের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিসার মোছা. মাহমুদা সুলতানা পলি বলেন, যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় লতিকচু চাষে উদ্যোগ নেওয়া হয়। উন্নত জাতের বারি-পানি কচু-১, বারি-পানি কচু-২ এবং স্থানীয় জাতের কচুর চারা, সার ও জৈবসার সরবরাহ করা হয় শিরিনা খাতুনকে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবসের মাধ্যমে শিরিনা খাতুনের পতিত জমিতে এই লতি কচু চাষে উদ্ধুদ্ধ করা হয়। লতিকচু চাষ এখন শুধু নিজস্ব ভোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক কৃষির একটি স্থায়ী মডেলে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই খাত থেকে শিরিনা খাতুন নিয়মিত আয় করতে পারছেন, যা অর্থনৈতিকভাবে তাকে স্বাবলম্বী করে তুলছে।

কুষ্টিয়ায় বস্তায় আদা চাষে সোহাগের নীরব বিপ্লব: বীজ ছড়িয়েছে ১০ উপজেলায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গত মৌসুমে ৭ হাজার বস্তায় আদা চাষ করে তাক লাগানো কুষ্টিয়া মিরপুরের সফল কৃষি উদ্যোক্তা মোঃ আব্দুর রহমান সোহাগ এবার গড়ে তুলেছেন ১৫ হাজার বস্তার বিশাল আদা খামার। পিতা মোঃ আফতাব উদ্দিনের সন্তান সোহাগের এই নীরব কৃষি বিপ্লব শুধু নিজের খামারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ২০২৫-২৬ মৌসুমে তাঁর উৎপাদিত উন্নত জাতের বীজ আদা ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে জেলার বাইরে অন্তত ১০টি উপজেলায়। পাশাপাশি নিজ গ্রাম নওদা খাঁড়ারার বহু আগ্রহী কৃষকও তাঁর বীজ ব্যবহার করে চলতি মৌসুমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেতে শুরু করেছেন।

সরেজমিনে নওদাখাঁড়ারা ব্লকে সোহাগের খামারে গিয়ে দেখা যায় এক মনোরম দৃশ্য। সুবিন্যস্তভাবে সাজানো ১৫ হাজার বস্তায় লকলকিয়ে বাড়ছে আদা গাছ। খামারের প্রতিটি গাছের উচ্চতা গড়ে প্রায় আড়াই ফুটে পৌঁছেছে। কোনো ধরনের রোগবালাইয়ের লক্ষণ নেই, গাছে গাছে ফুটে উঠেছে সতেজ ও স্বাস্থ্যকর আবহ।

গত মৌসুমে ‘যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প’–এর আওতায় বস্তায় আদা চাষ করে উপজেলা পর্যায়ে সেরা যুব উদ্যোক্তার স্বীকৃতি পান সোহাগ। সেই অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তীতে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এবার তিনি নেমেছেন আরও বড় পরিসরে। আদা চাষের আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চফলনশীল ব্যবস্থাপনা সরাসরি দেখতে তিনি সম্প্রতি সফর করেছেন থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া। সেই আন্তর্জাতিক বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং পরীক্ষামূলকভাবে লাগানো বৈচিত্র্যময় জাতের আদা খামারে প্রয়োগ করায় এবারের গাছগুলোর বৃদ্ধি বিগত বছরের চেয়েও অনেক বেশি দৃষ্টিনন্দন।

উদ্যোক্তা মোঃ আব্দুর রহমান সোহাগ জানান, “গত বছরের ভুলত্রুটি ও অভিজ্ঞতা থেকে এবার মাটির মিশ্রণ ও পরিচর্যায় বিশেষ পরিবর্তন এনেছি। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে যে প্রযুক্তি ও আধুনিক কলাকৌশল দেখে এসেছি, তা এই খামারে শতভাগ বাস্তবায়ন করছি। গাছের বর্তমান স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি দেখে আমি শতভাগ আশাবাদী—গতবারের চেয়ে এবার প্রতি বস্তায় ফলন ও গুণগত মান দুটোই বহুগুণ বাড়বে।”

সোহাগের খামার দেখে ও তাঁর কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে উপকৃত স্থানীয় কৃষকরা জানান, অনাবাদী বা ছায়াযুক্ত জমিতে বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষের যে পথ সোহাগ দেখিয়েছেন, তা পুরো অঞ্চলের বেকার যুবক ও কৃষকদের মাঝে নতুন আয়ের পথ খুলে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি আর বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে সোহাগের এই ১৫ হাজার বস্তার প্রকল্প দেশের মসলা ফসলের ঘাটতি পূরণে একটি শক্তিশালী ও অনুকরণীয় মডেল হতে চলেছে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ