আজঃ শনিবার ২ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বিশেষ অভিযান বিশেষ টাস্কফোর্স’র

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসনের গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স। কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, অভিযানে মূলত তারা দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর কারসাজির সঙ্গে জড়িত ‘অদৃশ্য’ সিণ্ডিকেটের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে অভিযানে চার প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড করা হলেও অদৃশ্য সিন্ডিকেটের হদিস মেলেনি বলে স্বীকার করে নিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে শিথিলতা নিয়ে অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হুঁশিয়ারির পর রোববার দুপুরে দেশের অন্যতম বড় ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রাম নগরীর খাতুনগঞ্জে এ অভিযান চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক।
এর আগে গত শনিবার অন্তবর্তীকালীন সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া চট্টগ্রামে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে টাস্কফোর্সের অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। চট্টগ্রামে টাস্কফোর্সের অভিযান অন্যান্য জেলার চেয়ে কম উল্লেখ করে উপদেষ্টা সরকারকে অসহযোগিতার চেষ্টার অভিযোগ করেন এবং এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দেন।
উপদেষ্টার ক্ষোভ প্রকাশের পরদিনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন প্রতিনিধি নিয়ে রোববার খাতুনগঞ্জে অভিযানে যান টাস্কফোর্সের সদস্যরা। অভিযানে কৃষিপণ্য বিপণন আইনের সনদ না থাকায় দ্বীন অ্যান্ড কোম্পানি ও দ্বীন অ্যান্ড সিন্ডিকেট নামে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার করে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া পণ্য কেনাবেচার পাকা রশিদ না থাকায় আল আমানত কিশমিস দোকানকে পাঁচ হাজার ও জাহানারা এন্টারপ্রাইজকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক সাংবাদিকদের বলেন, অভিযানে আমরা দুটি দোকানকে ৫০ হাজার টাকা করে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছি। তাদের দুই মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা অর্থদণ্ড পরিশোধ করায় তাদের আর কারাগারে যেতে হয়নি। কৃষিপণ্য বিপণন আইন অনুযায়ী তাদের কাছে যে লাইসেন্স থাকার কথা সেটা তাদের কাছে ছিল না। তারা যে ব্যবসা করছে তার কোনো সরকারি লাইসেন্স নেই। এ ছাড়া এখানে কোনো অদৃশ্য সিন্ডিকেট আমরা খুঁজে পাইনি। আমরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। যদি কোনো সিন্ডিকেট পাই সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।
বিশেষ টাস্কফোর্সে থাকা ছাত্র প্রতিনিধি মো. জুবায়েদ বলেন, প্রশাসনের বাধ্যবাধকতা থাকে। গতানুগতিক কথা বলে থাকেন উনারা। কিন্তু আমরা দেখেছি, অভিযান পরিচালনা করার সময় দোকানগুলোতে কোনো কাগজপত্র নেই। পণ্য কী দামে সংগ্রহ করেছে তার কোনো ডকুমেন্টস তাদের কাছে নেই। ওরা বলেছে কমিশনের ওপর তারা পণ্য রেখেছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

৪ মে পর্যন্ত দেশজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের সব বিভাগে ৪ মে পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ের মধ্যে দেশের উত্তর–পূর্বাঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টিতে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও সারা দেশের সব নদী বন্দরগুলোতে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। বিগত কয়েকদিনে এমন নির্দেশনা দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়া অফিস বলছে, দেশের ছয় বিভাগের কয়েকটি স্থানে শুক্রবার (১ মে) বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। রাজধানীতেও আরও বৃষ্টি হতে পারে। এতে দেশের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলার নদীগুলোয় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের সব বিভাগেই ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা আগামী কয়েকদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

তাপমাত্রা কোথাও কোথাও নামতে পারে ৫-৭ ডিগ্রিতে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশে শৈত্যপ্রবাহ আগামী কয়েক দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এ অবস্থায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ পূর্বাভাস দিয়েছেন।

আবারও তাপমাত্রা কমে ১২ জেলার উপর শৈত্যপ্রবাহ নিজের ফেসবুক পোস্টে আবহাওয়াবিদ পলাশ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। সকাল ৬টার দিকে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও লেখেন, আগামী শনিবার ১০ জানুয়ারি ও রোববার ১১ জানুয়ারি শৈত্যপ্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে। এ সময় রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।

পোস্টে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৬টায় রাজশাহী জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জে ৭ ডিগ্রি, যশোরে ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি, পঞ্চগড়ে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।আবহাওয়াবিদ পলাশ জানান, বুধবার সকাল ৬টার মধ্যে দেশের ৮ বিভাগের মধ্যে ৫টি বিভাগের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ