আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের অপসারণ নয়, সহযোগী ভাবুন- ইউপি অ্যাসোসিয়েশন

নিজস্ব প্রতিনিধি :-

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা গত ইউপি নির্বাচনে প্রায় ৭৫% এর উপর সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতিতে প্রতিযোগিতা পূর্ণ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সর্বমোট ৪৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৬৫% চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র, বিএনপি, জামায়াত সহ অন্যান্য দলের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়। স্থানীয় সরকার কর্তৃক তাদের উপর অর্পিত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আইন-শৃংখলা রক্ষা, গ্রামীন অবকাঠামো সহ স্থানীয় প্রশাসনকে সার্বিক সহায়তা করে থাকে। জন্ম-মৃত্যু, অন্ধ, ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধি ও দুঃস্থদের নিবন্ধন করা, যাচাই-বাছাই এর মাধ্যমে ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যু সনদ প্রদান করা, বিধবা, এতিম, গরীব ও দুঃস্থ ব্যক্তিদের মাঝে সরকারি সহায়তা সুষ্ঠুভাবে বিতরণ, গ্রামের রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়ন করা এবং গ্রামীণ জনসাধারণের ঝগড়া-বিবাদের মীমাংসা ও মামলা মোকদ্দমা নিস্পত্তির মাধ্যমে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। 

এবিষয়ে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন এর নেতৃবৃন্দ বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও বাংলাদেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিগণ গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা রেখে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে আসছি এবং বাংলাদেশের জনগণের বহুল কাঙ্ক্ষিত একটি দুর্নীতিমুক্ত জনকল্যাণকর রাষ্ট্র বিনির্মাণে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন এতে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ এসোসিয়েশন নীতিগতভাবে সম্পূর্ণ একমত। আরও বলেন, সংস্কার কাজে তাদের  জোরালো সমর্থন রয়েছে এবং এই সংস্কার কাজে চেয়ারম্যান মেম্বারগণ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা করতে চায়।

কিন্তু কিছুদিন যাবত সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ হয় ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিতিদের অনুপস্থিতির কারণে জনসেবা বিঘ্নিত হওয়ার অজুহাতে বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রান্তিক পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিকল্পহীন প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদের সকল চেয়ারম্যান মেম্বারদের অপসারনের উদ্যোগ নিয়েছেন। অথচ ১৯অক্টোবর প্রকাশিত দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার একটি রিপোর্টে বলা হয় বাংলাদেশের সর্বমোট ৪৫৮০ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মধ্যে ৩,১৬৪জন চেয়ারম্যান উপস্থিত রয়েছেন এবং ১,৪১৬জন চেয়ারম্যান। ৫আগস্টের পূর্ববর্তী আন্দোলন বিরোধী নাশকতামূলক কার্যকলাপে সম্পৃক্ততায় মামলা মোকদ্দমার আসামি হওয়া বা গ্রেপ্তার হওয়া সহ বিভিন্ন কারণে অনুপস্থিত অথবা পলাতক রয়েছেন যার কারনে ঐসব ইউনিয়নে সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। এই কারণে বাংলাদেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের অপসারণ করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগের আত্মঘাতী উদ্যোগ নিচ্ছেন। কতিপয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণের অনুপস্থিতির কারণে এ ধরনের আত্মঘাতী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণ চরমভাবে সেবা বঞ্চিত এবং হয়রানির শিকার হবেন এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হবে বলে আমরা মনে করি। তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালনে সর্বদা উপস্থিত ৩,১৬৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্দোষ চেয়ারম্যানদের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা  হবে। জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে প্রশাসক দ্বারা একটি ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব বলে আমরা মনে করেন। বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ  বর্তমান অন্তর্ভুক্তি কালীন সরকারের কাছে জোর দাবি করে বলেন মাথাব্যথার জন্য মাথা কাটা নয়, মাথা ব্যাথার জন্য সঠিক চিকিৎসা করে এই নীতির আলোকে অনুপস্থিত পলাতক চেয়ারম্যানদের কে অপসারণ করে  বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ আইনের আওতায় বিধি মোতাবেক প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব অর্পণ করে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার মাধ্যমে সেবা প্রদান এবং পরিষদে উপস্থিত দায়িত্বরত চেয়ারম্যান মেম্বারদের অপসারণ না করে মেয়াদকালীন সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহযোগী হওয়ার সুযোগ দেওয়ার হোক।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগে আতর্কিত হামলা ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-১০ আসনের জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীর নির্বাচনী গণসংযোগে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মহানগরের খুলশী থানাধীন আমবাগান রেলগেট এলাকায় মঙ্গলবার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, গণসংযোগ চলাকালে হঠাৎ করে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এতে জামায়াতের অন্তত ৮ জন নেতাকর্মী আহত হন।
আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে শামসুজ্জামান হেলালী অভিযোগ করে বলেন, অতর্কিতভাবে স্থানীয় বিএনপির লোকজন আমাদের শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে হামলা চালিয়েছে।

এতে আমাদের নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন।এদিকে হামলার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা বা আটকের তথ্য পাওয়া যায়নি।

শ্রীবরদীর জামায়াতের সেক্রেটারি নিহতের ঘটনায় ঢাবি ছাত্রদের প্রতিবাদ মিছিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১০টায় তিনি মারা যান। এই প্রাণহানির ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ