আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামকে পর্যটন নগরী করতে চান মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের বাণিজ্য সমৃদ্ধ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চান চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।সোমবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে চসিকের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের গঠিত কমিটি’র সদস্যদের এক সভায় চট্টগ্রামকে ঘিরে তাঁর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। ডা. শাহাদাত বলেন, বাংলাদেশের জিডিপি মূলত তিনটি সেক্টরের উপর নির্ভরশীল। চার নাম্বার আরেকটি সেক্টরকে কিন্তু আমরা চট্টগ্রামের মাধ্যমে উঠিয়ে আনতে পারি। সেটা হচ্ছে পর্যটন খাত। যে পর্যটন খাত দিয়ে কিন্তু আমাদের আশেপাশের সার্কভুক্ত সবগুলো দেশ সমৃদ্ধশালী হয়ে গেছে। অথচ এই পর্যটন খাতটাকে কিন্তু আমরা সেভাবে বিকশিত করতে পারিনি। চট্টগ্রামকে ঘিরেই কিন্তু বাংলাদেশের পর্যটনখাত নির্ভরশীল। আপনি যদি বাংলাদেশে কোথাও বিনোদনের জন্য ঘুরতে যেতে চান প্রথমেই চিন্তা করবেন কক্সবাজারের কথা। এরপরে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি অথবা খাগড়াছড়ি। এর বাহিরেও চট্টগ্রামে আরো অনেক পর্যটন কেন্দ্র আছে।“এ কারণে আমরা যদি চট্টগ্রামের পর্যটনখাতের বিকাশ ঘটাতে পারি তাহলে একদিকে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে। চট্টগ্রামের অবকাঠামো যদি আমরা ডেভেলাপ করতে না পারি তাহলে ইনফ্যাক্ট আমরা বাংলাদেশকে বাঁচাতে পারবো না। দেশের অর্থনৈতিক যে একটা চাকা তা সচল করার জন্য চট্টগ্রামকে সুন্দর করতে হবে।”
অর্থনীতির বিকাশের স্বার্থেই চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রয়োজন মন্তব্য করে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের আয়ের এত বড় একটি সেক্টর, অথচ চট্টগ্রামের বাইরে কিন্তু বন্দরের টাকার সিংহভাগ চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে বিভিন্ন জায়গায় অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করার জন্য যেখানে ঘাটতি হচ্ছে সে জায়গায় বন্দরের টাকা চলে যাচ্ছে, যদিও বন্দর চট্টগ্রামের। কাজেই চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পটাকে চিন্তা করে আমাদের কাজ করতে হবে। এখানে স্পেশাল ইকোনমিক জোন আছে, এখানে কন্টেইনার ইয়ার্ডগুলো আছে। এখানে আপনার বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটা ব্যাপার আছে এবং এখানে ট্রেড সেন্টার আছে। ব্যবসায়িক হাব হিসেবেও কিন্তু চট্টগ্রাম অত্যন্ত পরিচিত। কাজেই সব মিলিয়ে ভৌগোলিক কারণে আজকে চট্টগ্রাম কিন্তু অত্যন্ত ইম্পর্টেন্ট একটা জোনে আছে।”
চট্টগ্রামের বিকাশে সিটি গভর্মেন্ট দরকার দাবি করে মেয়র বলেন, সেন্ট্রাল গভমেন্ট কে আমরা অলরেডি বুঝিয়েছি যে একটা জিনিস আমাদের খুব দরকার সেটা হচ্ছে সিটি গভর্মেন্ট বা, নগর সরকার। এই যে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি আপনার যারা এসেছেন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আপনারা বলছেন যে এটার-ওটার অনুমতি লাগবে বিভিন্ন জায়গা থেকে এবং চট্টগ্রামের সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ও নেই। অথচ সিটি গভর্মেন্ট যদি থাকতো তাহলে সিটি মেয়র হিসেবে আমি আজকে সব জায়গায় অনুমোদনের বিষয়টি সহজে করিয়ে নিতে পারতাম।
চট্টগ্রামের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, সিটি গভর্মেন্ট না থাকায় আমাদের যে লিমিটেশন সেই লিমিটেশনকে জয় করতে হলে আমাদের আন্তরিক হতে হবে। আন্তরিকতার উপর আর কিছু নেই। আমাদের যে ঐক্যবদ্ধতা, আমাদের যে হৃদ্যতা, এই হৃদ্ধতা-ঐক্যবদ্ধতার মাধ্যমে আমরা আসুন সিটি গভর্মেন্ট না হওয়া পর্যন্ত আমরা মিলেমিশে সবাই একসাথে কাজ করি।
শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যবসায়ীদের সাথে সভা করার ঘোষণা দিয়ে মেয়র বলেন, আমি সবগুলো ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে বসব। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ করে নালা ও রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে ময়লার বিন রাখা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, বিন না থাকায় অনেকে ময়লাগুলো নিয়ে নালায়, রাস্তায়, খালে ফেলছে। আমি কালকে নিজ হাতে নালা থেকে ময়লা তুললাম, অথচ ময়লা ফেলতে পারছি না। কারণ দোকানের সামনে বিন নেই। বিন রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রয়োজনে আইনের প্রয়োগ করতে হবে। গতকাল ৬ নং ওয়ার্ডে বড় কবরস্থানের পাশে কৃষিখালে গিয়ে দেখলাম, খালটি ডাস্টবিন হয়ে গেছে। পানি যাবে কিভাবে? এটা বাসাবাড়ি আশেপাশের সব মানুষ বোধহয় ডাস্টবিনে ময়লা ফেলে না। এর ফেলছে খালে, মনে করে এটাই ডাস্টবিন। এইভাবে তো আসলে চলতে পারে না। ওখানে ডাস্টবিন করে দিতে বলেছি।
“আপনারা ধনাঢ্য ব্যক্তি ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা করুন। যোগাযোগ করে দেখি তাদের থেকে স্পন্সর পাওয়া যায় কী না। কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে উনাদের থেকে ময়লা সংগ্রহ করার জন্য বিন সংগ্রহ করা যেতে পারে। সমাজের উন্নয়নে সমাজের সবাইকে নিয়েই আমাদের এগুতে হবে। পলিথিনের বিকল্প অনুসন্ধান করতে হবে আমাদের। পলিথিন চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ।”
পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম নিয়ে মেয়র বলেন, ডিসি মহোদয়ের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে আমি ওনাকে বলেছি যেখানে খাস জায়গা আছে অন্ততপক্ষে আমাকে এগুলো দিন। আমি সেখানে ডাম্পিং স্টেশনগুলো করতে চাই। আমি চাই না যে ময়লা আবর্জনার গন্ধ মানুষের নাকের মধ্যে ঢুকুক। শুধু গন্ধ না, পচনশীল বর্জ্য থেকে অনেক ফ্লাইস-বর্ন-ডিজিজ হচ্ছে। সেগুলো বন্ধ করতে পরিচ্ছন্ন বিভাগের সক্ষমতা বাড়াবো। আমাদের যে ম্যাজিস্ট্রেটরা আছেন, আপনারা রাজপথে একটু স্ট্রংলি একটিভ হন। যারা ইচ্ছে করে ময়লা ফেলছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।
বিপ্লব উদ্যানসহ চসিকের স্থাপনাগুলোর আয় যাচাই করার ঘোষণা দিয়ে মেয়র বলেন, যে জায়গাগুলো থেকে ইনকাম দেওয়ার কথা সেখানে যদি আমরা ইনকাম না পাই তাহলে সিটি কর্পোরেশন আমি চালাবো কিভাবে? আমার ইচ্ছা হচ্ছে যে আমি একটা ডায়ালাইসিস সেন্টার করব পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে যেখানে জনগণ কম টাকায় সেবা পাবে। তো সেটা আমি করতে পারছি না। আমার ইচ্ছা একটা চাইল্ড কেয়ার সেন্টার করব, আমি প্রতিটা ওয়ার্ড ওয়ার্ডে আরবান হেলথ সেন্টারগুলো আছে এগুলোকে একটু সমৃদ্ধ করব। সেখানে ম্যাটারনাল ফ্যাসিলিটিস, চাইল্ড ফ্যাসিলিটিস, প্রাইমারি হেলথকেয়ার পাবে জনগণ। এগুলিতে আমি করতে পারছি না।
“বিপ্লব উদ্যানে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপনারা জানেন আমি গত ৭ই নভেম্বর সেখানে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম যে একটা হরিলুট হয়েছে। আগের মেয়ররা একেকজন অনেক টাকা নিয়ে গেছেন বিপ্লব উদ্যান থেকে। অথচ সিটি কর্পোরেশন একটা টাকাও পায়নি। চুক্তি করেছে বছরে মাত্র এক লক্ষ টাকা দিবে তাও বছরে। ইতিমধ্যে আপনারা জেনেছেন যে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি যেটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের টাকা দিয়ে করা সেটা বেদখল হয়ে গেছে। শপিং কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য মার্কেটেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে অসম চুক্তি করে হরিলুট করা হয়েছে। আমি প্রত্যেকটা মার্কেটের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করব এবং রাজস্ব আহরণের চেষ্টা করব।”
সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ চসিকের বিভাগীয় ও শাখা প্রধানগণ এবং নগরীর বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের প্রকৃতি উদ্যান ও বিনোদনকেন্দ্রে ভ্রমণপিপাসুদের উপচে পড়া ভিড়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রকৃতি উদ্যান ও বিনোদনকেন্দ্রে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু। কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের ঢলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে এ অঞ্চলের পাহাড়, হ্রদ ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকাগুলো। ঈদুল আজহার ছুটিতে চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। রোববার বিকেল পর্যন্ত এ দৃশ্য দেখা গেছে।


নগরজীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে ঈদুল আজহার দিন বিকেল থেকে মুখরিত পতেঙ্গা সৈকত, ফয়’স লেক সি ওয়ার্ল্ড, চিড়িয়াখানা, পারকি সৈকত, জুলাই বিপ্লব পার্ক, আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্ক, লিংক রোড়, নেভাল একাডেমি, গুলিয়াখালী সি বিচ, ভাটিয়ারি সানসেট পয়েন্ট। সরেজমিনে দেখা গেছে, সাগরের ঢেউয়ের মায়ায় নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে জড়ো হতে থাকেন দর্শনার্থীরা। কেউ মেতেছিলেন ঢেউয়ের মিতালিতে, কেউ ব্যস্ত ছিলেন ফ্রেমবন্দি হতে। স্পিডবোট ও ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ সৈকতের আকর্ষণ আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল।

চট্টগ্রাম নগরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও সি ওয়ার্ল্ডে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের ছিল ব্যাপক সমাগম। ঈদের প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পরিবারগুলো শুক্রবার থেকে ভিড় বাড়তে থাকে। ৩০ মে বিকেলে সেখানে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে ভক্তদের চমকে দেন অভিনেত্রী ও গায়িকা নুসরাত ফারিয়া।বিকেল চারটার দিকে সি ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্কে পৌঁছালে মুহূর্তেই দর্শনার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নুসরাত ফারিয়া উপস্থিত সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে তিনি কুইজ পর্বে অংশ নেন এবং নিজের জনপ্রিয় গান ‘লোকে বলে’-এর কয়েকটি লাইন গেয়ে শোনান। গানের তালে নৃত্য পরিবেশনও করেন তিনি, যা উপস্থিত দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দেয়।

চট্টগ্রামের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে নুসরাত ফারিয়া বলেন, এখানকার খাবারের প্রতি তাঁর বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। বিশেষ করে কালাভুনা ও মেজবানের প্রশংসা করে তিনি জানান, ঈদের দিনেও তিনি গরুর মাংসের কালাভুনা উপভোগ করেছেন।
কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের বিপণন ব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, রোলার কোস্টার, ফেরিস হুইল ও পাইরেট শিপের মতো জনপ্রিয় পারিবারিক রাইডের পাশাপাশি এবার নতুন কয়েকটি আকর্ষণ যুক্ত করা হয়েছে। নতুন রাইডগুলোর মধ্যে রয়েছে টর্নেডো ৩৬০, এয়ারবোর্ন শট, ফ্লাইং বাস ও স্কাই হুপার। তিনি বলেন, ঈদের ছুটির পুরো সময় প্রতিদিন পাঁচ হাজারের বেশি পর্যটক আসেন।

কাছেই অবস্থিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা শিশুদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। চিড়িয়াখানার উপ-কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, এই পাঁচ দিনে প্রায় ৬০ হাজার দর্শনার্থী হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ হাজার মানুষ।তবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত কর্মীদের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২৪ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল।
এদিকে নগরের বাইরে সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী এবং আনোয়ারার পারকি সমুদ্রসৈকতেও দেখা গেছে ভ্রমণপিয়াসীদের উপচেপড়া ভিড়। সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী সানসেট পয়েন্ট দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। অনেকে দিনের শেষে মনোহর সূর্যাস্ত উপভোগ করতে এখানে জড়ো হন।

শনিবার সকাল থেকে ভাটিয়ারী বাজারে বিনোদন কেন্দ্রকে ঘিরে উপচে পড়া ভিড় আর যানজট দেখা দিয়েছে। রোববারও ছিল একই অবস্থা। এছাড়া মিরসরাইয়ে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ মহামায়া ইকোপার্কও প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ি ঝরনা ও স্বচ্ছ জলের মনোমুগ্ধকর সমন্বয় পর্যটকদের টানছে সেখানে।
পার্কটির ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক তাসলিম উদ্দিন তৌহিদ বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই প্রায় ৫০০ পর্যটক সেখানে ভিড় করেন। তিনি বলেন, শুক্রবার থেকে ঈদের ছুটি কার্যত পূর্ণমাত্রায় শুরু হওয়ায় প্রতিদিন এক হাজারের বেশি দর্শনার্থীর লক্ষ্যমাত্রা আমরা সহজেই অতিক্রম করছি।

পর্যটকদের চাহিদা সামাল দিতে পার্কের সব ধরনের জলযান চালু রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬৪টি কায়াকিং বোট, যা তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়; ৫০ থেকে ৫৫টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা এবং স্থানীয় জেলেদের পরিচালিত ১২ থেকে ১৪টি পিনাকল বোট।
ভ্রমণকারী মাহমুদুল হাসান বলেন, আমি চট্টগ্রাম শহরে থাকি, তবে ঈদের জন্য গ্রামে এসেছি। আবহাওয়া বেশ গরম হলেও পরিবারের সঙ্গে পাহাড় আর পানির মধ্য দিয়ে নৌকা চালানোর অভিজ্ঞতা সত্যিই দারুণ।

পর্যটকদের এই ঢল জেলার ১৫টি উপজেলাজুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা এবং সীতাকুণ্ডের ব্যতিক্রমধর্মী গুলিয়াখালী সৈকতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এ ছাড়া ডিসি পার্ক ও আরশিনগর ফিউচার পার্কেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল সর্বোচ্চ।
এই বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। পতেঙ্গা ও আশপাশের ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি দল মোতায়েন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি উত্তম প্রসাদ পাঠক জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে ঘোরাঘুরি নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঈদের পর টানা এক সপ্তাহ পুলিশ এই বিশেষ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

ব্যয় বেড়েছে ১০ কোটি টাকা আগামী মাসে চালু হচ্ছে পারকি কমপ্লেক্স

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন পারকি সৈকত পর্যটন কমপ্লেক্সের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত পারকিকে আন্তর্জাতিকমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের নেওয়া এ প্রকল্প আগামী জুনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে আনোয়ারার পারকি সমুদ্রসৈকতে ১৩ দশমিক ৩৬ একর জমির ওপর আধুনিক পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ শুরু হয়। শুরুতে ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে কয়েক দফা সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭২ কোটি টাকা। সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক মাজেদুর রহমান জানান, অবকাঠামোগত কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। আগামী জুনের মধ্যেই পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্প এলাকায় কটেজ, বহুতল ভবন, প্রবেশদ্বার, সীমানাপ্রাচীর ও পার্কিং জোনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং ও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার কাজ।

প্রকল্পে থাকছে ১০টি সিঙ্গেল কটেজ, চারটি ডুপ্লেক্স কটেজ, তিনতলাবিশিষ্ট মাল্টিপারপাস ভবন, রেস্তোরাঁ, সার্ভিস ব্লক, সাবস্টেশন ভবন, অভ্যন্তরীণ সড়ক, নিরাপত্তাকক্ষ, পিকনিক শেড, শিশুদের খেলাধুলার স্থান এবং একটি হ্রদ।

তবে প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। পারকি বিচ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। এছাড়া পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থার কারণে প্রকল্পের সীমানাপ্রাচীরের কিছু অংশ ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার অসীম শীল বলেন, ত্রুটিগুলো পরবর্তীতে সংস্কার করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণেই কাজ শেষ হতে বেশি সময় লেগেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের আশা, পর্যটন কমপ্লেক্সটি চালু হলে পারকি সৈকতে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ