আজঃ শনিবার ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬

আপন চাচার হাতে অপহরণের শিকার শিশু, উদ্ধার করলো র‍্যাব

অন্তর দে বিশাল,কক্সবাজার :::

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপন চাচার হাতে অপহরণের শিকার শিশু আফিয়া জান্নাত আরোয়া’ (০৮)কে উদ্ধারসহ অপহরণ চক্রের দুই অপহরণকারী’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫।বুধবার (১৩ নভেম্বর) শিশু আফিয়া জান্নাত আরোয়াকে উদ্ধারের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান র‍্যাব -১৫।
গত মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সাড়ে ৭ টার দিকে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা লিংক রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই অপহরণকারীকে গ্রেফতার ও শিশু আফিয়া’কে উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-১৫ সূত্রে জানানো হয়, গত ১১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে রামু ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের অফিসের চর সিকদারপাড়া এলাকাস্থ এমদাদুল উলুম মাদ্রাসা গেইটের সামনে থেকে শিশু আফিয়া জান্নাত আরোয়া (০৮)কে অপহরণ করা হয়।
ভিকটিম আফিয়া ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডস্থ অফিসের চর সিকদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারুল হকের মেয়ে।
সেই রামু ফতেখাঁরকুল অফিসের চর সিকদারপাড়া অছি উদ্দিন জামাদার নূরানী মাদ্রাসার ২য় শ্রেণীর ছাত্রী। প্রতিদিনের ন্যায় ঐদিন সকাল ৮.২০ মিনিটের সময় মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ওৎ পেতে থাকা অজ্ঞাত অপহরণকারী চক্র তার পথরোধ করে জোরপূর্বক তাকে সিএনজি যোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

বিষয়টি ভিকটিমের পরিবার জানতে পেরে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধারের লক্ষ্যে ঘটনাস্থল এবং তার আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুজি করেন। পরবর্তীতে ঐদিন সকাল ১১ টার দিকে তার মায়ের মোবাইল নম্বরে কল করে ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা মুক্তিপণ দাবীসহ তাদের দাবী মত মুক্তিপণের টাকা না দিলে অপহৃত শিশুটিকে মানব পাচারকারীর মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করে দিবে অথবা খুন করে লাশ গুম করে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয় অপহরণকারী’রা।

এ ঘটনায় শিশু আফিয়া’র মা বাদী হয়ে রামু থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এর ৭/৮/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং ৩২, তাং ১২/১১/২০২৪।

এনিয়ে,তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান সম্পর্কে অবগত হয়ে মামলা দায়েরের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই দুই অপহরণকারী গ্রেফতার ও অপহরণের শিকার শিশুটি’কে উদ্ধার করা হয়।

এসময় অপহরণকারীদের থেকে ৩টি মোবাইল, ০১টি হাত ঘড়ি, ০১টি এটিএম কার্ড এবং নগদ ৯,০০০/- (নয় হাজার) টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত অপহরণকারী’রা হলেন, রামু ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড সিকদার পাড়া অফিসের চর এলাকার মোঃ নুরুল আবছার এর পুত্র
হাসনাইনুল হক প্রকাশ নাঈম (২৩) ও একই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড পূর্ব দ্বীপ ফতেখাঁরকুল এলাকার আব্দুস ছোবহান এর পুত্র মোঃ শাহীন (২৫)।

র‌্যাব-১৫ সূত্রে আরো জানানো হয়, অপহরণকারী’রা দু’জনই বন্ধু এবং গ্রেফতারকৃত হাসনাইনুল হক প্রকাশ নাঈম ভিকটিম আফিয়া জান্নাত আরোয়া’র আপন চাচা। গ্রেফতারকৃত নাঈম বিদেশ যাওয়ার জন্য পরিবারের কাছে টাকা চাইলে বাসা থেকে টাকা না দেয়ায় সে তার বন্ধু গ্রেফতারকৃত শাহীন’কে নিয়ে তারই আপন ভাতিজিকে অপহরণের পরিকল্পনা করে।

পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ঘটনার দিন ভিকটিম মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে সিএনজিতে তুলে প্রথমে ঈদগাঁও এর দিকে নিয়ে যায়। চতুরতার কৌশল অবলম্বন করে তারা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের জন্য ঈদগাঁও থেকে চৌফলদন্ডি এবং চৌফলদন্ডি থেকে কুতুপালং এ নিয়ে যায় শিশুটি’কে।
তারপর সেখানে গ্রেফতারকৃত শাহীনের এক চাচার বাসায় অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে ভিকটিমের পরিবারে কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ মুক্তিপণ দাবী করে। এছাড়া ভিকটিমের পরিবারকে বিভিন্ন হুমকি দেয়ার পাশাপাশি তারা নেয় নাটকীয়তার আশ্রয়। ভিকটিমের শরীরে নকল ব্যান্ডেজ করে ছবি তুলে পাঠানো হতো পরিবারের কাছে। যাতে ভিকটিমের পরিবার মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে তাড়াতাড়ি তাদের চাহিদা মোতাবেক মুক্তিপণ দিয়ে দেয়। এরই মধ্যে ভিকটিমের পরিবারের কাছ থেকে ৭০,০০০/- (সত্তর হাজার) টাকা মুক্তিপণ আদায় করে পুনরায় নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের লক্ষে তারা কুতুপালং থেকে মেরিন ড্রাইভ রোড হয়ে কলাতলী এবং কলাতলী থেকে লিংক রোড এলাকায় আসলে র‌্যাবের হাতে আটক হয়।

উদ্ধারকৃত ভিকটিমসহ গ্রেফতারকৃত অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের রামু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ২৫ বছর আগের হত্যাকাণ্ডে একজনের মৃত্যুদণ্ড, আটজনের যাবজ্জীবন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে একটি হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হক এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মনিরুল হক। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আট আসামি হলেন ছাইফুল হক, বদরুল হক, আজিজুল হক, আবদুল রাজ্জাক, মো. রফিক, ছৈয়দুল হক, বাবুল হক ও মো. হাছান।এর আগে দুই আসামি মৃত্যু হওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের ৭ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারায় জমির ঘাস পরিষ্কারকে কেন্দ্র করে নুরুল আবছার ও নুর আহম্মদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে হামলা চালান আসামিরা। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক নুর আহম্মদকে মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০০৪ সালের ২২ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন।

তথ্য জানিয়ে ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. আবু ছায়েদ বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামি মো. রফিক, বাবুল হক ও আবদুর রাজ্জাক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস ইউ এম নুরুল ইসলাম জানান, আদালত যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। মামলায় মোট ১১ জন আসামি ছিলেন। তবে বিচার চলাকালে আলী আহম্মদ ও মো. গফুর নামের দুই আসামি মারা যাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বোয়ালখালীতে ডাকাতি কুপিয়ে বৃদ্ধকে আহত দুই জন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে ঘর ডাকাতি করতে গিয়ে এলাকাবাসীর প্রতিরোধে ডাকাতরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। তবে ডাকাতি করতে না পেরে দুইজনকে কুপিয়ে আহত করেছে তারা।বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২:৪৭ মিনিটে দিকে উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড মুছা মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন রাস্তার পাশে নতুন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আব্দুল হাশেম (৬০) ও সিরাজ খাতুন( ৫৪) তারা আহত করেন।

আব্দুল হাশেম বলেন, রাত ২:৪৭ মিনিটের দিকে রাম দা নিয়ে আমার ঘরে ৩/৪ জন ঢুকে আমাদেরকে প্রথমে মারধর করে আহত করেন। পরে আমার স্ত্রী চিৎকার শুনে তারা পালিয়ে যায়। তিনি আরো জানান মই ও পানির পাইপ দিয়ে ছাদ বেয়ে ডাকাত দল ঘরে ঢুকে। যাওয়া সময় ডাকাতরা মইটা ফেরে রেখে যায়। আমার ছেলের বউ আমাদের পুরাতন বাড়িতে সবাইকে ফোন করে বললে তারা তাৎক্ষণিক বাড়িতে আসলে ডাকাতের দল পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন,খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিসি ফুটেজ দেখে ডাকাতদের শনাক্ত করা হবে।

আলোচিত খবর

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত কানাডাভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাইকোকে বাংলাদেশ সরকারকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিডি/ICSID)-এর ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


জ্বালানি সচিব বলেন, বাংলাদেশ এই মামলায় প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। প্রাপ্ত অর্থ সেই দাবির তুলনায় অনেক কম। রায়ের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে খনন ও উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পায় কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকো।

পরবর্তীতে নাইকোর পরিচালনাধীন অবস্থায় টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি এবং একই বছরের ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ হয়। এসব বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের অবকাঠামো, পরিবেশ ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র কার্যত অচল হয়ে পড়ে, যা দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ