আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে চিকিৎসক অপহরণে দুই আসামি কারাগারে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের এক চিকিৎসককে অপহরণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাজী সহিদুল ইসলাম এ আদেশ দেন। রাউজান এলাকায় চাঁদা না পেয়ে চেম্বার থেকে তুলে নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম নামে ওই চিকিৎসককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে উক্ত মামলার একই আদেশে অপর আরেকজনের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। এর আগে, তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন, পাইওনিয়ার হসপিটালের পরিচালক মনজুর হোসেন এবং সুপারভাইজার মো. জাহাঙ্গীর আলম। জামিনপ্রাপ্ত আসামি হলে হাসপাতালটির চেয়ারম্যান ডা. ফজল করিম ওরফে বাবুল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়ার বাসিন্দা চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম স্থানীয় পথেরহাটে তার পরিচালিত প্রাইভেট চেম্বারে (অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার) রোগী দেখছিলেন। এসআই টোটন মজুমদার তাকে বিএনপির কমিটিতে নাম থাকায় ক্রসফায়ার দেওয়ার হুমকি দেন; অন্যথায় বাঁচতে চাইলে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় এসআই টোটন মজুমদার, এসআই শাফায়েত আহমদ, রাউজান থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমকে চেম্বারে গিয়ে অপহরণ করে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে নোয়াপাড়ার অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে তাকে সাদা পোশাকে অপহরণ করা হয়। এরপর তার মাথায় পিস্তল রেখে চিৎকার না করতে বলে এবং আসামিরা চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে মারধর করে। পরে এসআই টোটন মজুমদারসহ আসামিরা মিলে ২০১৫ সালে ৪ এপ্রিল তারিখের একটি মিথ্যা মামলা সাজায়। সেই মামলার প্রেক্ষিতে ১৫ এপ্রিল রাত ৮ টার দিকে গ্রেপ্তার করে প্রায় ৮ ঘণ্টা পর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ আসামি পাইওনিয়ার হসপিটালের চেয়ারম্যান ডা. ফজল করিম ওরফে বাবুল সহায়তায় ওই মিথ্যা মামলার চার্জশিট দিয়ে মামলার বিচার নিষ্পত্তির জন্য ২০১৫ সালের ১৮ জুন সংশ্লিষ্ট গ্রাম আদালতে পাঠান।
তবে এর আগের দিন ১৭ জুন মামলাটির ভিকটিম মো. রাসেল শেখ ওরফে মো. রাসেল ড্রাইভার হলফনামায় উল্লেখ করেন, প্রকৃতপক্ষে কথিত ওই ঘটনার তারিখে তার সাথে চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমের দেখা হয়নি বা এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বাদী কেন ওই মামলাটি করেছে তার জানা নেই। এই বিষয়ে তাকে কোনো ডাক্তার পরীক্ষা করে নাই। তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো রকম জিজ্ঞাসাবাদও করে নাই।
চলতি বছরের (২০২৪) ১৩ আগস্ট আসামি পাইওনিয়ারের সুপারভাইজার মো. জাহাঙ্গীর আলমও হলফনামা ঘোষণা করেন, রাউজান থানার এসআই টোটন মজুমদার, সাবেক এসআই শাফায়েত আহমদ, তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশের আদেশে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চাপে পড়ে মিথ্যা মামলায় বাদী হিসেবে যুক্ত হন। ওই মিথ্যা মামলাটি প্রত্যাহার করলে তার কোনো আপত্তি নেই। ২৯ আগস্ট গ্রাম আদালতে মামলাটি বাদী ও সাক্ষীর হলফনামা বিবেচনা করে এবং অভিযোগকারী পক্ষের অনুপস্থিতি ও মিথ্যা অভিযোগ হিসেবে প্রমাণ হওয়ায় খারিজ করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এড.নাজমুল বলেন আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে ৮ সপ্তাহের জামিনপ্রাপ্ত হয়ে আজ বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাদের মধ্যে দুইজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ এবং পুলিশি প্রতিবেদন জমা পর্যন্ত অপর একজনকে জামিন দেন। এর আগে চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম (৫৫) মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, রাউজান থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, উপপরিদর্শক (এসআই) টোটন মজুমদার, রাউজান থানার সাবেক এসআই শাফায়েত আহমদ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রমে আত্মসমর্পণকারী ১২৭ জন জলদস্যুর মাঝে র‌্যাবের ঈদ উপহার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে আত্মসমর্পণকারী ১২৭ জন সাবেক জলদস্যুর মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে র‌্যাবের চট্টগ্রাম ইউনিট। বুধবার চট্টগ্রাম ইউনিটের সদর দপ্তর পতেঙ্গা এলিট হলে র‌্যাব মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী ও পেকুয়া উপকূলীয় অঞ্চলের আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের মাঝে এসব উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।একইসঙ্গে তাদের বর্তমান জীবনযাপন নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

র‌্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংস্থাটি অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, ডাকাত, চাঁদাবাজ, খুনি ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে সফলতা অর্জন করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের ধারাবাহিক অভিযানে ২০১৮ ও ২০২০ সালে ৭৭ জন এবং ২০২৪ সালে আরও ৫০ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণের পর তাদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে বলে জানায় সংস্থাটি। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম র‌্যাবের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা র‌্যাবের কল্যাণমূলক উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অপরাধমুক্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তারা ভবিষ্যতে সৎ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার হস্তক্ষেপে অবশেষে নগরের বায়েজিদ এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। জেপি সনেট লিমিটেডের মালিকপক্ষ বুধবার (১৮ মার্চ) কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করতে বাধ্য হয়েছে।

জানা যায়, ডিসির নির্দেশে কারখানার যন্ত্রপাতি তাৎক্ষণিকভাবে ১৬ লাখ টাকায় বিক্রি করে মালিকপক্ষ। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ভোরে সেই অর্থ শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।কারখানার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সজিব দাস বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত যন্ত্রপাতি বিক্রি করেই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করতে হয়েছে।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় কোনো ধরনের ভাঙচুর বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।কারখানার সিনিয়র অপারেটর মো. মনির হোসেন বলেন, ডিসি স্যার প্রথমে নিজে টেলিফোনে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।তিনি অচলাবস্থা সার্বক্ষণিকভাবে অফিসারদের মাধ্যমে মনিটরিং করেন। এছাড়া তিনি মালিকপক্ষকে সতর্ক করে দেন—প্রয়োজনে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে হলেও বকেয়া পরিশোধ করতে হবে, না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরই মালিকপক্ষ তালবাহানা বন্ধ করে।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বায়েজিদ থানার সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় থানায় গিয়ে পুলিশ পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।তিনি বলেন, ডিসি স্যার হস্তক্ষেপ না করলে ঈদের আগে শ্রমিকরা তাদের পাওনা পেতেন না।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস জানান, প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া পরিশোধের সক্ষমতা ছিল না। জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে আমরা যন্ত্রপাতি ও স্টক মালামাল বিক্রির ব্যবস্থা করি। প্রথমে ক্রেতা গড়িমসি করলেও ডিসি স্যার কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তিনি রাজি হন। রাত ১২টার দিকে সমঝোতা হয় এবং ভোর ৬টায় পুরো টাকা পরিশোধ করা হয়।

চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, আমাদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আছে। তবে জেলা প্রশাসকের সক্রিয় ভূমিকার কারণে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়েছে বকেয়া পরিশোধ করতে। জেলা প্রশাসক বারবার খোঁজ নিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন—শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কারখানায় সার্বক্ষণিকভাবে মোতায়েন করা হয়। ঈদের আগে তিন মাসের বেতন বকেয়া এবং শ্রমিকদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে যন্ত্রপাতি বিক্রি করার মতো কঠোর নির্দেশ দিতে হয়েছে।

জানা গেছে, কয়েক মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা নিয়ে সৃষ্ট এই শ্রম অসন্তোষের সূত্রপাত হয় গত ১৪ মার্চ, যখন প্রায় ১৩০ জন শ্রমিক তিন মাসের বেতন-ভাতার দাবিতে কারখানার ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ১৬ মার্চ জেলা প্রশাসন, মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি, শিল্প পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মালিকপক্ষ যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধের লিখিত অঙ্গীকার করে।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ১৭ মার্চ রাত পর্যন্ত সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। নারী শ্রমিকসহ অনেকে কারখানায় অবস্থান অব্যাহত রাখেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মালিকপক্ষ সময়ক্ষেপণ করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। পরে ১৮ মার্চ ভোরে যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর আগে মোট পাওনার মধ্যে ১ লাখ টাকা আংশিক পরিশোধ করা হয়েছিল।জেলা প্রশাসন জানায়, শ্রমিকদের পাওনা নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষ, ক্রেতা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়েছিল এবং প্রশাসনের উপস্থিতিতেই অর্থ বিতরণ সম্পন্ন হয়।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ