আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

জায়গার অভাবে পণ্য ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনায় হিশশিম খাচ্ছে কাস্টমস

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উপযুক্ত জায়গার অভাবে অনেক পণ্য ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিশশিম খাচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখা। এ কারণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে একটি জায়গা চেয়ে আবেদন করেছিল চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তারই প্রেক্ষিতে নগরীর ইপিজেড থানাধীন দক্ষিণ হালিশহরে সাগর পাড়ের একটি জায়গা তিন মাসের জন্য বরাদ্দ দেয়। তবে সেই জায়গা পণ্য ধ্বংসের জন্য অনুপযোগী উল্লেখ করে পুনরায় বন্দরে কাছে উপযুক্ত জায়গা চেয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পণ্য ধ্বংসের নিয়োজিত কমিটি।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে যেসব আমদানিকৃত পণ্য খালাস না হওয়ায় পচে গেছে, নষ্ট হয়েছে কিংবা মেয়াদ উত্তীর্ণ, ক্ষতিকর, আমদানি নিষিদ্ধ ও ব্যবহার এবং খাবার অনুপযোগী হয়েছে সেসব পণ্য ধ্বংস করে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখা।উপযুক্ত জায়গার অভাবে অনেক পণ্য ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছিল না পণ্য ধ্বংসের নিয়োজিত কমিটি।
এদিকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সম্মেলন কক্ষে পণ্য ধ্বংসের নিয়োজিত কমিটির সভায় জানানো হয়, ধ্বংস কমিটির কয়েকজন সদস্য বন্দরের বরাদ্দকৃত জায়গাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সেখানে দেখা যায়, বন্দর কর্তৃপক্ষ ওই জায়গায় আরসিসি ব্লক দিয়ে বেড়িবাঁধ করেছিলেন। এমনকি জোয়ার ভাটা চালাকালে সেখানে পানি আসা যাওয়া করায় ওই ব্লক পর্যন্ত কাঁচা ও কাঁদা মাটিতে পরিপূর্ণ। তাই ওই জায়গায় চট্টগ্রাম বন্দর ও বিভিন্ন অফডক থেকে ২০ এবং ৪০ ফুটের কনটেইনারবাহী ট্রেইলার আসা যাওয়া করতে পারবে না। এছাড়া ওই জায়গায় ক্রেনসহ হেভিওয়েট ইক্যুইপমেন্ট নেওয়াও সম্ভব নয়।
সভায় ধ্বংস কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার ও ডেপুটি কমিশনার, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, বন্দর কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ওই জায়গার কিছু ভিডিও চিত্রও দেখানো হয় ধ্বংস কমিটির সদস্যদের। এরপর সকল সদস্যের মতামতের প্রেক্ষিতে ওই জায়গায় পণ্য ধ্বংস করা সম্ভব নয় বলে সিদ্ধান্ত নেয় পণ্য ধ্বংস কমিটি। পাশপাশি সভা থেকে পুনরায় বন্দরের কাছে বিকল্প উপযুক্ত জায়গা চেয়ে আবার আবেদন করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। এদিকে একই সভায় ২১ কনটেইনার পচা/নষ্ট পণ্য ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত হয়। আগামী রবিবার থেকে সেই ধ্বংস কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনাও করা হয়েছে। তবে এইসব পণ্য কনটেইনার নিয়ে নয়, বরং ড্রাম ট্রাকে করে কনটেইনার থেকে পণ্য নিয়ে হালিশহরে সিটি কর্পোরেশনের ডাম্পিং ইয়ার্ডে এনে ধ্বংস করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু ৪৬ বছরে পা রাখলো মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের ৪৬ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো মনিরুজ্জামান। এতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিভিশনাল ডিরেক্টর ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ.এম. রায়হান উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. হাফিজুল ইসলাম। হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো.ইয়াছিন আরাফাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবুন নেসা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান (মিজান) এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক।

সেমিনারে বক্তারা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের সঠিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তারা বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. তাহমিদ জুনায়েদ মাহমুদ, ডা. সাফওয়ান মাহমুদ, মার্কেটিং ম্যানেজার রতন কুমার নাথ, বিডিএম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী, সার্ভিস ম্যানেজার লুৎফুর রহমান, আই টি ম্যানেজার মোঃ উছা, সহকারী ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে জব্দ ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক সিগারেটের চালান জব্দ করা হয়েছে। মাস্কাট থেকে আগত সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. শামসুদ্দিনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৮০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক আগমন হলের ১ নম্বর লাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় আরও ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। রোববার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক আগমন হলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, জব্দ করা সিগারেট থেকে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত সিগারেট ও ল্যাপটপ ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম মূল্যে জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক যাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ