রাবিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল খেলা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে উপাচার্য স্যার বলেন,
দুটি বিভাগের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা আমরা দেখলাম তা আমাকে লজ্জিত ও ব্যথিত করেছে। তবে এই লজ্জার বড় দায়ভার যাদের, তাদের ভেতর অনুশোচনা বা লজ্জার তেমন কোন লক্ষণ দেখতে পাই নি। এটা আরেক লজ্জা।

ছাত্রছাত্রীদের মূল কাজ পড়াশোনা। জ্ঞান অর্জন। নিজেদের তৈরি করা। এখানে পড়াশোনার সাথে এক্সট্রা-কারিকুলার, কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি খুব প্রয়োজনীয়। আমি এক্সট্রা-কারিকুলার এবং কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি বিশেষভাবে উৎসাহিত করতে চাই। অশ্লীল কথাবার্তা এবং লাঠিসোটা ব্যবহারে দক্ষ ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মানায় না।

একেবারে শুরু থেকেই আমার একটা পলিসি ছিল। সবাইকে সাথে নিয়ে, একসাথে সামনে এগোনো। এর ফলে কাজের গতি কিছুটা ধীর হলেও, আমি মনে করি, এটাই সবচেয়ে ভালো উপায়। এই আড়াই মাসের অভিজ্ঞতায় মনে হচ্ছে, এই স্পিরিট পুরোপুরি কাজ করছে না। এর প্রধান কারণ, বিভিন্ন ইন্টারেস্ট গ্রুপ। এদের ফোকাস শুধুমাত্র নিজেদের নিয়ে। নিজেদের কথাটাই সবচেয়ে বড়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ একটা গৌণ বিষয়। এটা দুঃখজনক।

যাই হোক, খেলাধুলার বিষয়ে ফিরে আসি। যে দুটি বিভাগীয় দল নিয়ে সমস্যার সুত্রপাত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব ছাত্র সহিংসতায় এবং ভাঙচুরে অংশ নিয়েছে, তাদের আইডেন্টিফাই করার কাজ শুরু হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কিছুদিনের জন্য ফুটবল টুর্নামেন্ট বন্ধ থাকবে। এটা সাময়িক। বাকি খেলাগুলো শিগ্রি শুরু হবে। তবে খেলা পরিচালনায় কিছু পরিবর্তন আসবে। আমি কিছু পদক্ষেপের কথা ভাবছি।

১। খেলাধুলা বন্ধুত্ব এবং বিনোদনের জন্য। সেই উদ্দেশ্য পূরণের জন্য যে ধরণের শিক্ষা ও মানসিকতা প্রয়োজন সেখানে ঘাটতি আছে। বাকি খেলাগুলোতে দুটি দলের সমর্থকরা উত্তর এবং দক্ষিন গ্যালারিতে অবস্থান করবে।

২। প্রত্যেকটি খেলায়, প্রত্যেক গ্যালারির জন্য দুজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্য থাকবেন। তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দুজন শিক্ষক থাকবেন। অর্থাৎ উত্তর ও দক্ষিন গ্যালারির জন্য মোট আটজন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক। খেলা শুরুর আগে অফিসিয়ালি তাদের এই দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে। বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা থাকলে খেলা বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের থাকবে।

৩। খেলা শেষে কোন দলের খেলোয়াড় বা সমর্থকরা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গনে জটলা করতে পারবে না।

৪। দুই দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা পৃথক সময়ে স্টেডিয়াম ত্যাগ করবে। এর ক্রম কী হবে, সেটা দায়িত্বপ্রাপ্ত আটজন শিক্ষক মিলে ঠিক করবেন।

একটা সভ্য সমাজে এই সব নিয়ম কানুনের কোন প্রয়োজন হয় না। সবাই মিলেমিশেই খেলা উপভগ করতে পারে। আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা সেই পর্যায়ে এসেছি, তার প্রমাণ আমরা রাখতে পারছি না। আশা করি একদিন এই সমস্ত নিয়ম কানুনের আর প্রয়োজন হবে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মার্গের সামনে নিহত ছাত্রী মাইশার মায়ের আহাজারি : ‘আমার মাইশা’ কই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মার্গের সামনে মাইশার মা সালমা বেগম কেবল চিৎকার করে বারবার ডাকছিলেন মেয়েকে। ‘আমার মাইশা, আমার ঝি। কখনো আহাজারি, কেন এমন হলো!’ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে চমেক হাসপাতালে শুধু সালমা বেগম নয়, মাইশার সহপাঠী শিক্ষার্থীরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা কোনোভাবেই মাইশার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না।

মাইশা আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী। বাড়ি মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া এলাকায়। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করতেন। সকালে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় ক্যাম্পাসের সামনে বাসচাপায় মারা যান। মাইশার সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেও সহপাঠীদের কথা হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ কো-অর্ডিনেটর জাহেদ হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ক্লাস বাতিল হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ফিরে যাচ্ছিলেন মাইশা ও তার এক বান্ধবী। বাসের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন তারা। তাদের তোলার জন্য একটি বাস দাঁড়ায়। ওই মুহূর্তে পাশ থেকে একটি লরি বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি উল্টে দুই শিক্ষার্থীর গায়ের ওপর পড়ে। হাসপাতালে মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

মাইশার বান্ধবী রাজিয়া বেগম সামান্য চোট পেয়েছেন। তার বাড়িও মিরসরাইয়ে। কিন্তু এমন ঘটনায় রাজিয়া হতভম্ব। তাকে ফেনীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মিরসরাই থেকে হাসপাতালে ছুটে আসেন মা সালমা বেগম। তিনি এসে দেখেন সব শেষ। এরপর আহাজারি করতে থাকেন সালমা বেগম।

কয়েক বছর আগে মাইশার বাবা মারা যান। দুই ভাইবোনের মধ্যে মাইশা বড়। নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। পড়ালেখা শেষ করে মা ও একমাত্র ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল একটি সড়ক দুর্ঘটনায়। মাইশার মা কীভাবে নিজেকে সান্ত্বনা দেবেন।

এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধ চলছে। দুপুর দেড়টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ছাত্রী দূর্ঘটনায় মৃত্যু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এলাকা অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাস্তা পারাপারের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় মাইশা মুশফিরাত (২১) নামে এক শিক্ষার্থী মারা যান। আহত হন তার দুই সহপাঠী।নিহত মাইশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয়দের বরাতে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল আলম জানান, সকালে দুটি লরি পরস্পরকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। একটি লরি ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে ধাক্কা দিলে বাসটি উল্টে গিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। তাদেরকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে মাইশাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ইভা জানান, দুর্ঘটনার শিকার তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সকালে ক্যাম্পাসে আসছিলেন।সার্জেন্ট শফিউল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত দুটি লরি এবং বাস জব্দ করা হয়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন।এদিকে দুর্ঘটনার খবর জানার পর প্রতিবাদে মহাসড়কের দুই পাশ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ফলে দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরোধের কারণে উভয়পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।

এ সময় পাঁচদফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সেগুলো হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালককে গ্রেপ্তার, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা, ক্যাম্পাস ফটকে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ