আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ, ২০২৬

বাংলাদেশে অরবিস ৪৫ লাখেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবস্থানরত অরবিস ফ্লাইং আই হসপিটালে প্রেস ব্রিফিং

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অরবিস ইন্টারন্যাশনালের ভাইস প্রেসিডেন্ট (গ্লোবাল কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মার্কেটিং) ক্রিস্টিন টেইলর বলেছেন, বাংলাদেশে অরবিস সম্পর্কে অরবিস গত ৩৯ বছর ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে। এই চার দশকে, অরবিস শিশুদের চক্ষু চিকিৎসা, মাইক্রোসার্জারি, রেটিনা সার্জারি, কর্নিয়াল রোগ এবং আই ব্যাংকিং, প্রিম্যাচিউর শিশুদের রেটিনোপ্যাথি (আরওপি), এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির ওপর স্থানীয় চিকিৎসকদের দক্ষতা ও জ্ঞান উন্নত করতে সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে অরবিস ৭৮ লাখেরও বেশি চক্ষু পরীক্ষা পরিচালনা করেছে, ৪৫ লাখেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের জন্য চিকিৎসা ও অপটিক্যাল সেবা প্রদান করেছে, ২ লক্ষ ৫৮ হাজারটিরও বেশি চক্ষু সার্জারিতে সহায়তা করেছে, এবং ৪০ হাজার এর বেশি মানুষকে চক্ষু চিকিৎসার ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবস্থানরত বাংলাদেশে ১১তম বার ও চট্টগ্রামে ৫ম বারের মতো আসার অরবিস ফ্লাইং আই হসপিটালের সেমিনার কক্ষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন,অরবিস ৪২টি ভিশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে চক্ষু সেবা ছড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারী-নেতৃত্বাধীন গ্রিন ভিশন সেন্টার যা নারীদের জন্য প্রচলিত বাধাগুলো দূর করে সেবার সুযোগ বৃদ্ধি করে। এছাড়াও, অরবিস ১৭টি মাধ্যমিক (সেকেন্ডারি) হাসপাতাল, ৪টি তৃতীয় পর্যায়ের (টার্শিয়ারি) হাসপাতাল, ৪ টি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার, এবং ২ টি ডিজিটাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা বা উন্নত করতে সহায়তা করেছে।
অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সহযোগী পরিচালক (গ্লোবাল কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মার্কেটিং) জেনা মন্টগোমারি বলেন, অরবিস বাংলাদেশের ৪০০টি কমিউনিটি ক্লিনিককে দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রিম্যাচিউর শিশুদের রেটিনোপ্যাথি নির্ণয় ও ব্যবস্থাপনার জাতীয় গাইডলাইন তৈরি করতে অংশীদার হয়েছে অরবিস। এই রোগটি শিশুদের অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। ২০০০ সালে, অরবিস বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী প্রোগ্রাম চালু করে এবং স্থানীয় চক্ষু হাসপাতাল ও এনজিওদের সাথে মিলে চক্ষু রোগ প্রতিরোধ ও দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করে, যা দূরবর্তী এলাকায় যেমন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায় এবং সিলেটের নারী চা শ্রমিকদের মধ্যেও পৌঁছে গেছে।
তিনি আরো বলেন, ফেডেক্স অরবিসের মিশনে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সহায়তা প্রদান করছে এবং ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান ও পণ্যসামগ্রী পরিবহনের মাধ্যমে অবদান রেখেছে। ২০২১ সালে, ফেডেক্স তাদের দৃষ্টি সুরক্ষা মিশনে অরবিসের প্রতি নতুনভাবে প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করে, যেখানে তারা ৩.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দেয়। এই অনুদান অরবিসের ফ্লাইং আই হসপিটাল এবং এর প্রকল্পগুলির জন্য আর্থিক, লজিস্টিক এবং অপারেশনাল সহায়তা প্রদান করবে আগামী পাঁচ বছরে।এছাড়াও, ফেডেক্স বিমানযন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, এবং পাইলট প্রশিক্ষণ সরবরাহ করে।
তিনি বলেন, ফ্লাইং আই হসপিটালটি পরিচালনা করে ফেডেক্স পাইলটরা, যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সময় দান করে এবং সারা বিশ্বে অরবিস প্রকল্পে বিমানটি পরিচালনা করে নিয়ে যান। “ফ্লাইং আই হসপিটাল উদ্ভাবন এবং সহানুভূতির এক অসাধারণ উদাহরণ। এটি এমন একটি সম্পদ যা বিশ্বের সবচেয়ে দূরবর্তী কোণগুলিতে আশার আলো ও চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিচ্ছে, বলেছেন ফেডেক্স এর ফ্লাইট অপারেশনস এবং এয়ারলাইন প্ল্যানিং এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ব্রাউনলি। তিনি আরও বলেন, “আমাদের ফেডেক্স পাইলট, যান্ত্রিক বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের কাজের জন্য আমরা অত্যন্ত গর্বিত, যারা অরবিসের মিশনকে সমর্থন করছে। তাদের নিবেদন এবং দক্ষতা ফ্লাইং আই হসপিটাল প্রোগ্রামের সফলতায় অপরিহার্য”।
অরবিস একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা, যা দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করে। অরবিস বিশ্বজুড়ে ২০০ টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে কাজ করছে যাতে ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজ উন্নতি করতে পারে। বর্তমানে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ বিলিয়ন মানুষ এমন অন্ধত্ব ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের শিকার যা সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধযোগ্য। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অরবিস এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শক্তিশালী ও টেকসই চক্ষু সেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে যা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে এবং অ্যালকন কেয়ারস, অ্যালকন ফাউন্ডেশন ও ফেডেক্স-এর সহায়তায়, অরবিস ফ্লাইং আই হসপিটাল চট্টগ্রামে দুই সপ্তাহব্যাপী চক্ষু প্রশিক্ষণ প্রকল্প শুরু করেছে।বাংলাদেশে চক্ষু সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য এটি অরবিস ফ্লাইং আই হসপিটালের একাদশ অবতরণ। প্রথমবার ১৯৮৫ সালে এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে এই প্রশিক্ষণ প্রকল্প অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থিত ফ্লাইং আই হসপিটাল এবং অরবিসের পার্টনার হাসপাতাল চট্টগ্রাম আই ইনফার্মারি এবং ট্রেনিং কমপ্লেক্স (সিইআইটিসি) তে অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রকল্পের প্রশিক্ষণের মূল বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যাটারাক্ট, অকুলোপ্লাস্টিকস, সার্জিক্যাল রেটিনা, শিশু গ¬ুকোমা এবং কর্নিয়ার মতো চক্ষু রোগের চিকিৎসা। এছাড়াও রয়েছে অ্যানেস্থেশিওলজি, নার্সিং এবং বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রশিক্ষণ। ১৭ নভেম্বর থেকে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে চলবে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চক্ষু বিশেষজ্ঞদের জন্য অরবিস ফ্লাইং আই হসপিটালের ভেতরে প্রশিক্ষণ প্রদান করবে, যা বিশ্বের একমাত্র সম্পূর্ণ স্বীকৃত বিমানভিত্তিক চক্ষু শিক্ষাদান হসপিটাল। অরবিসের ক্লিনিক্যাল স্টাফ এবং স্বেচ্ছাসেবক বিশেষজ্ঞগণ (ভলান্টিয়ার ফ্যাকাল্টি) সারা দেশ থেকে আগত চক্ষু বিশেষজ্ঞদের হাতে-কলমে সার্জারি ও রোগী সেবা প্রশিক্ষণ প্রদান করবে, এর পাশাপাশি সিমুলেশন প্রশিক্ষণ ও চক্ষু কর্মশালার আয়োজনও করা হবে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য স্থানীয় চক্ষু সেবাদাতাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং বাংলাদেশে চক্ষু স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে এবং অ্যালকন ফাউন্ডেশন ও ফেডেক্স-এর সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও অ্যালকন কেয়ারস, অফথালমোলোজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওএসবি), বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন (বিসিপিএস) এবং ন্যাশনাল আই কেয়ার এই প্রকল্পে সহায়তা করছে। অ্যালকন এবং অরবিসের চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অংশীদারিত্ব রয়েছে, যেখানে তারা অ্যালকন কেয়ারস এর মাধ্যমে সরঞ্জাম দান ও অ্যালকন ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে অর্থায়ন করে থাকে। এছাড়াও অ্যালকন এর বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও প্রশিক্ষকরা অরবিস প্রকল্পে অংশগ্রহণ করে, যেখানে তারা চক্ষু সেবা প্রযুক্তি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করে। অ্যালকন সর্বশেষ ২০২৩ সালে মঙ্গোলিয়ায় ফ্লাইং আই হসপিটাল প্রকল্পেও সহায়তা করেছে।
অরবিস আফ্রিকা, এশিয়া, ক্যারিবিয়ান এবং ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে কর্মসূচি পরিচালনা করে; উদ্ভাবনী প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি বিকাশ করে, যার মধ্যে রয়েছে পুরস্কারপ্রাপ্ত টেলিমেডিসিন এবং ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম সাইবারসাইট। অরবিস বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র উড়ন্ত চক্ষু হাসপাতাল (ঋষুরহম ঊুব ঐড়ংঢ়রঃধষ) পরিচালনা করে, যা একটি এমডি-১০ বিমানের উপর সম্পূর্ণভাবে স্বীকৃত চক্ষু শিক্ষার হাসপাতাল হিসেবে বিশ্বে সমাদৃত। গত ১১ বছর ধরে, অরবিস চ্যারিটি নেভিগেটর -এর চার-তারকা রেটিং পেয়েছে, যা শক্তিশালী আর্থিক স্বাস্থ্যের প্রতিশ্রুতি এবং স্বচ্ছতার প্রতি অরবিসের প্রতিশ্রুতির নিদর্শন এবং এটি অরবিসকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৩% দাতব্য সংস্থার মধ্যে স্থান দিয়েছে। গত তিন বছরে অরবিস গাইডস্টার-এর প্লাটিনাম স্বচ্ছতার স্মারক অর্জন করেছে। ২০২২ সাল থেকে অরবিস বেটার বিজনেস ব্যুরো থেকে “স্বীকৃত দাতব্য সংস্থা”র মর্যাদা পেয়েছে, যা দাতব্য সংস্থার জন্য ২০টি মানদণ্ড পূরণ করার স্বীকৃতি দেয়। অ্যালকন বিশ্বজুড়ে ৭৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঐতিহ্যের সাথে দৃষ্টিশক্তি উন্নত করা এবং মানুষের জীবনমান বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। অ্যালকনের সার্জিকাল এবং ভিশন কেয়ার পণ্যগুলি প্রতি বছর ২৬০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে, যারা ছানি, গ্লুকোমা, রেটিনাল রোগ এবং অপটিক্যাল ত্রুটির মতো রোগের সাথে বসবাস করছেন। ১৪০টিরও বেশি দেশে অ্যালকন কার্যক্রম পরিচালনা করে। ২৫,০০০ এর বেশি সহযোগী নিয়ে অ্যালকন উদ্ভাবনী পণ্য, চক্ষু বিশেষজ্ঞদের সাথে অংশীদারিত্ব এবং উন্নত মানের চক্ষু সেবার প্রাপ্তি বৃদ্ধিতে কাজ করে। ফেডেক্স এক্সপ্রেস কর্পোরেশন সম্পর্কে ফেডেক্স এক্সপ্রেস কর্পোরেশন বিশ্বের বৃহত্তম এক্সপ্রেস পরিবহন সংস্থাগুলির মধ্যে একটি, যা ২২০টিরও বেশি দেশে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ডেলিভারি প্রদান করে। ফেডেক্স বিমান এবং স্থল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সংবেদনশীল পণ্য দ্রুত সরবরাহ করে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রমে আত্মসমর্পণকারী ১২৭ জন জলদস্যুর মাঝে র‌্যাবের ঈদ উপহার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে আত্মসমর্পণকারী ১২৭ জন সাবেক জলদস্যুর মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে র‌্যাবের চট্টগ্রাম ইউনিট। বুধবার চট্টগ্রাম ইউনিটের সদর দপ্তর পতেঙ্গা এলিট হলে র‌্যাব মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী ও পেকুয়া উপকূলীয় অঞ্চলের আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের মাঝে এসব উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।একইসঙ্গে তাদের বর্তমান জীবনযাপন নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

র‌্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংস্থাটি অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, ডাকাত, চাঁদাবাজ, খুনি ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে সফলতা অর্জন করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের ধারাবাহিক অভিযানে ২০১৮ ও ২০২০ সালে ৭৭ জন এবং ২০২৪ সালে আরও ৫০ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণের পর তাদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে বলে জানায় সংস্থাটি। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম র‌্যাবের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা র‌্যাবের কল্যাণমূলক উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অপরাধমুক্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তারা ভবিষ্যতে সৎ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার হস্তক্ষেপে অবশেষে নগরের বায়েজিদ এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। জেপি সনেট লিমিটেডের মালিকপক্ষ বুধবার (১৮ মার্চ) কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করতে বাধ্য হয়েছে।

জানা যায়, ডিসির নির্দেশে কারখানার যন্ত্রপাতি তাৎক্ষণিকভাবে ১৬ লাখ টাকায় বিক্রি করে মালিকপক্ষ। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ভোরে সেই অর্থ শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।কারখানার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সজিব দাস বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত যন্ত্রপাতি বিক্রি করেই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করতে হয়েছে।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় কোনো ধরনের ভাঙচুর বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।কারখানার সিনিয়র অপারেটর মো. মনির হোসেন বলেন, ডিসি স্যার প্রথমে নিজে টেলিফোনে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।তিনি অচলাবস্থা সার্বক্ষণিকভাবে অফিসারদের মাধ্যমে মনিটরিং করেন। এছাড়া তিনি মালিকপক্ষকে সতর্ক করে দেন—প্রয়োজনে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে হলেও বকেয়া পরিশোধ করতে হবে, না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরই মালিকপক্ষ তালবাহানা বন্ধ করে।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বায়েজিদ থানার সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় থানায় গিয়ে পুলিশ পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।তিনি বলেন, ডিসি স্যার হস্তক্ষেপ না করলে ঈদের আগে শ্রমিকরা তাদের পাওনা পেতেন না।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস জানান, প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া পরিশোধের সক্ষমতা ছিল না। জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে আমরা যন্ত্রপাতি ও স্টক মালামাল বিক্রির ব্যবস্থা করি। প্রথমে ক্রেতা গড়িমসি করলেও ডিসি স্যার কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তিনি রাজি হন। রাত ১২টার দিকে সমঝোতা হয় এবং ভোর ৬টায় পুরো টাকা পরিশোধ করা হয়।

চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, আমাদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আছে। তবে জেলা প্রশাসকের সক্রিয় ভূমিকার কারণে মালিকপক্ষ বাধ্য হয়েছে বকেয়া পরিশোধ করতে। জেলা প্রশাসক বারবার খোঁজ নিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন—শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কারখানায় সার্বক্ষণিকভাবে মোতায়েন করা হয়। ঈদের আগে তিন মাসের বেতন বকেয়া এবং শ্রমিকদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে যন্ত্রপাতি বিক্রি করার মতো কঠোর নির্দেশ দিতে হয়েছে।

জানা গেছে, কয়েক মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা নিয়ে সৃষ্ট এই শ্রম অসন্তোষের সূত্রপাত হয় গত ১৪ মার্চ, যখন প্রায় ১৩০ জন শ্রমিক তিন মাসের বেতন-ভাতার দাবিতে কারখানার ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ১৬ মার্চ জেলা প্রশাসন, মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি, শিল্প পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মালিকপক্ষ যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধের লিখিত অঙ্গীকার করে।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ১৭ মার্চ রাত পর্যন্ত সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। নারী শ্রমিকসহ অনেকে কারখানায় অবস্থান অব্যাহত রাখেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মালিকপক্ষ সময়ক্ষেপণ করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। পরে ১৮ মার্চ ভোরে যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর আগে মোট পাওনার মধ্যে ১ লাখ টাকা আংশিক পরিশোধ করা হয়েছিল।জেলা প্রশাসন জানায়, শ্রমিকদের পাওনা নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষ, ক্রেতা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়েছিল এবং প্রশাসনের উপস্থিতিতেই অর্থ বিতরণ সম্পন্ন হয়।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ