আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

রাস্তার কাজের কোন ত্রুটি হলে শাস্তির আওতায় আনা হবে

আহমেদুর রহমান স্মৃতি সংসদের গণসংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় ডা: শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সততার সাথে আমি কাজ করতে চাই। আমি তাই প্রথম দিনেই যত কাজ এখানে অনেক কাজের ধরন দেখেছি। আমাদের এখানে অনেক বাজেট আছে। আড়াই হাজার কোটি টাকার বাজেট রয়ে গেছে। মাত্র ৫শ ৬২ কোটি টাকার ছাড় হয়েছে। আরো প্রায় ১৯ শ কোটি টাকা আছে, কাজ করলে, কাজ করা যাবে। আমি সৎ মানুষের খোঁজ করছি। যারা সত্যিকার অর্থে সুন্দর একটি রাস্তা করতে পারবে। কোন ধরনের চুরি না করে দুর্নীর্তি না করে। তাই আমি ইতোমধ্যে কন্ট্রাক্টর ও ঠিকাদার যারা আছে, ইঞ্জিনিয়ারদের বলে দিয়েছি। যে ৫শ ৬২ কোটি টাকা ইতিমধ্যে ছাড় হয়েছে, ঐ সমস্ত রাস্তার মাপ লেপটেস্ট করে আমাকে জানানোর জন্য যদি কোন ধরনের সেখানের মানের ব্যাপারে কোন ধরনের প্রশ্ন আসে, অবশ্যই আমি বলেছি তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। সমগ্র সিটি কর্পোরেশনে আজকে যে দুর্নীতির সে দুর্নীতি সারা বাংলাদেশের দুর্নীতি থেকে কোন অংশে কম নয়। বাংলাদেশ থেকে আজ আপনারা জানেন ১৫/ ১৬ অনেক বলে ১৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনে অনেক সম্পদ আছে। সততার সাথে যদি আমরা কাজ করতে পারি। এই সিটি কর্পোরেশনকে নিজের সম্পত্তি না বানিয়ে যদি জনগণের সম্পত্তি হিসেবে আমি উপস্থাপন করতে পারি। ৪ শ ৫০ কোটি টাকার যে দেনার কথা বলা হয়েছে ইনশাআল্লাহ আমি সেটা শূন্যতায় নামিয়ে আনতে পারবো। সেটা আমি বিশ^াস করি। আমি বলেছি, অনেক কমর্শিয়াল মার্কেট আসে যেখানে তারা পার স্কোয়ার ফিট ৭ টাকা থেকে ৮ টাকা ভাড়া দিয়েছে সেখান থেকে আসার কথা ছিল ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা। এভাবে করে তারা সিটি কর্পোরেশনকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
তিনি গতকাল ২৩ নভেম্বর শনিবার রাত ১১ টার সময় নগরীর চকবাজার ১৭ নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে আহমেদুর রহমান স্মৃতি সংসদের গণসংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আমি ২০ হাজার ভিনের অর্ডার দিয়েছি। প্রতিটি দোকানে ভিন দেব। যদি কেউ ভিনে ময়লা না ফেলে রাস্তায় ফেললে তাদেরকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবো। আমি আরো ভিনের অর্ডার দেব। সিটি কর্পোরেশনের দুই টা গাড়ি স্ট্যান্ড বাই রেখেছি। সেখানে ইট বালি পাথর ও বিটুমিন রাখা আছে। আপনারা রাস্তার কোথাও যদি খানা খন্দক দেখতে পান। তা অবশ্যই জানাবেন। সাথে সাথে লোক প্রস্তুত তারা গিয়ে কাজ করে দেবে। আপনারা নিজ নিজ ওয়ার্ডে নিজ উদ্যোগে মনিটরিং করবেন। প্রতি ওয়ার্ডে ৫০ থেকে ৬০ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী আছে, তাদেরকে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা বেতন দিত, বাকি টাকা তৎকালীন ওয়ার্ড কাউন্সিলদের পকেটে যেত। যার যেটা প্রাপ্য সেটা সে পাবে। কিন্তু কাজ করতে হবে। কাজ না করলে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে।
নগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশার সভাপতিত্বে এবং নগর বিএনপির সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক খোরশেদ আলম ও ১৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজি এমরান উদ্দিনের পরিচালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন। নগর বিএনপির সাবেক সদস্য নাছির উদ্দীন, মো: আরশাদুল আলম সেলিম, বিএনপি নেতা সিরাজুল হক, নগর বিএনপির সদস্য কামরুল ইসলাম, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো: সেকান্দার, সমাজ সেবক একেএম শহিদুল্লাহ শাহজাহান, আবদুর রহিম, আমিন মাহমুদ, ইব্রাহিম বাচ্চু, সালাহ উদ্দিন কায়ছার লাবু, আবদুল হালিম বাবলু, শেখ আলাউদ্দিন, খোরশেদ আলম, আবদুল কাদের, মনসুর সওদাগর, আবদুল হালিম, মো: মুজিব, আরিফুল ইসলাম ডিউক, জিয়াউল হক মিন্টু, শেখ কামাল আলম, মো: ফারুক, মো: সেলিম, ইসমাইল হোসেন লেদু, জাহেদ নূর জিতু, মো: সোহেল, জকির হোসেন, জাবেদুল হক, সাদ্দামুল হক, শফিউল বশর সাজু, মো: জাহেদ, রাকিবুল হাসান সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
বাদে ফজর ফালাহ গাজী মসজিদের ডা: শাহাদাত হোসেনের পিতা আহমেদুর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সংবর্ধনা শেষে মেজবানের আয়োজন করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

কিউলেক্স মশার প্রকোপ বেড়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নালা-নর্দমা ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। তাই নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’শনিবারের অঙ্গীকার, বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’—এই স্লোগান সামনে রেখে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারা দেশে পরিচালিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে।মেয়র বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, কারণ প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।তাই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী বা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী। তবে বর্তমানে কিউলেক্স মশার বিস্তার বেশি দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান উৎস নোংরা ড্রেন ও জমে থাকা বর্জ্য। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।তিনি জানান, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ১৬০ জনের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।মেয়র বলেন, চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গিবাজার, হালিশহর, পাহাড়তলীসহ কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষভাবে মশক নিধন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। আমেরিকা থেকে আনা কার্যকর লার্ভিসাইড ব্যবহার করায় ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহর শুধু সিটি করপোরেশনের নয়—এটি সবার শহর। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা-বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সব সময় উন্নয়ন ও উদ্যোগে পথ দেখিয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেইন গেট, কেবি ফজলুল কাদের সড়ক এবং প্রবর্তক মোড় এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করা হয় এবং মশক নিধনে লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ