সর্বশেষ
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ গাউসিয়া হক ভাণ্ডারী খানকাহ্ শরিফ এর উদ্যোগে “পবিত্র ফাতেহা ইয়াজদাহুম” উপলক্ষে আলেচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত মহান ১০ আশ্বিন খলিফায়ে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী, ফানাফিল্লা-বাকাবিল্লা হযরত মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ আল্লামা রিজুয়ান উদ্দীন মাইজভাণ্ডারী (রহঃ) প্রকাশ শাহনগরীর ৯৮তম বার্ষিক ওরশ শরিফ নিরাপদ খাবার কোথায়? ভোক্তার জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি আর কতদিন সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার ​চুয়েটে সর্বাত্মক শাটডাউন অচল ক্যাম্পাস, শিক্ষার্থীবৃন্দের মানববন্ধন, মশাল মিছিল ও প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি

ফ্যাসিবাদীদের দোসর উগ্রবাদীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে তা মোকাবেলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’ -মিয়া গোলাম পরওয়ার

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ইসকন যতই উস্কানিমূলক কর্মকান্ড করুক না কেন আমাদেরকে উত্তম সবরের মাধ্যমে তার জবাব দিতে হবে। ভারত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য ফাঁদ পেতেছে। আমরা সেই ফাঁদে পা দিবনা।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামে ইসকন সদস্যদের হামলায় নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ সব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা দোয়া করি বাংলাদেশের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া তথা দক্ষিণ অঞ্চল হবে ইসলামের ঘাঁটি। এই যে ইসকন নামক উগ্র জঙ্গীবাদী যে সাম্প্রতিক গোষ্ঠী সন্ত্রাসের আগুন জ্বালাতে চেষ্টা করছে। এদের ব্যাপারে আমীরে জামায়াতের হেদায়েত হলো আমরা উত্তম ধৈর্য ধারণ করবো, আমরা সংযত থাকবো।

কেন্দ্রীয় এ নেতা বলেন, ইসলামি আন্দোলনের বিজয়ের বিপুল সম্ভাবনা দেখে পাতানো ফাঁদে আমাদের আটকাতে চায়। আমরা কখনো এ পাতানো ফাঁদে পা দিতে চায় না। ধৈর্যের সঙ্গে এ দেশে আমরা আল্লাহর দ্বীনের সৌন্দর্য রক্ষা করবো আমাদের রক্ত যাবে, জেল জুলুম রিমান্ড শাহাদাত সবকিছুর বিনিময়ে দ্বীনের সৌন্দর্য দুনিয়ার সামনে প্রকাশিত করবো।

তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দশ্যে বলেন, আমাদের ভাগ্যে যা আছে তাই হবে। আমরা তাকদিরের ওপর বিশ্বাস করি। কিন্তু ফিতনা ফাসাদ বিশৃঙ্খলা অপশক্তি উগ্রবাদীদের পাতানো ফাঁদে যেন পা না দেই। একটু কষ্ট হলেও আমরা ধৈর্যের সঙ্গে সময় কাটাবো। কেন্দ্রীয় সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করবো।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সংসদীয় দলের সাবেক হুইপ চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমির ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য চট্টগ্রাম মহানগরী নায়েবে আমীর নজরুল ইসলাম,চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল
হক,অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাকারিয়া, শহীদ সাইফুল ইসলাম আলিফের শ্রদ্ধেয় আব্বা মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন, ডক্টর হেলাল উদ্দিন মোহাম্মদ নোমান,লোহাগাড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদী, সেক্রেটারি মাওলানা আবুল কালাম সহ স্থানীয় জামায়াত ও ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বার্তা প্রেরক
মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী
প্রচার সম্পাদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
চট্টগ্রাম মহানগরী।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গোমদণ্ডী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজে, কানুনগোপাড়া ড. বিভূতি ভূষণ উচ্চ বিদ্যালয় এবং জ্যৈষ্ঠপুরা রমণী মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ডিডি (হি. ও নি.) প্রফেসর মো. একরামুল হক, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আবদুল মন্নান এবং বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব আজিজুল হক চেয়ারম্যান, গোমদণ্ডী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. শওকত আলম, বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হাজী ইছহাক চৌধুরী, সাবেক সদস্য সচিব হামিদুল হক মান্নান চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বোর্ডের কর্মসূচি বোয়ালখালীতে সমন্বয় করেন গোপাড়া ড. বিভূতি ভূষণ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. নুরুন্নবী চৌধুরী ও শিক্ষা বোর্ডের সেকশন অফিসার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী।

পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ চৌধুরী, সরোয়ার আলমগীর, বোয়ালখালী ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব হাজী আবু আকতার, বোয়ালখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল, আবুল মনসুর, জয়নাল আবেদীন সিকদার, এ এম কামাল উদ্দিন, এস এম জামাল উদ্দিন, প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী, ও মো. খালেদ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কানুনগোপাড়া ড. বিভূতি ভূষণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাপন কুমার ভঞ্জ, জ্যৈষ্ঠপুরা রমণী মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার ঘোষ এবং গোমদণ্ডী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম খসরু পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। গাছ মানুষের পরম বন্ধু। যে ব্যক্তি একটি গাছের জিম্মাদারি নিতে পারবে, সে একদিন দেশ ও জাতির জিম্মাদারিও নিতে পারবে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, পড়ালেখা করতে গিয়ে কোনো ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হলে শিক্ষা বোর্ডের অফিস সবসময় তাদের জন্য খোলা রয়েছে। যেকোনো সময় তারা এসে তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারবে। তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয় এবং বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়।

নিরাপদ খাবার কোথায়? ভোক্তার জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি আর কতদিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর ব্যস্ততম সড়ক, বাণিজ্যিক এলাকা কিংবা আবাসিক পাড়া—চোখের সামনে সারি সারি হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বেকারি, ফাস্টফুডের দোকান। কোথাও ঝকঝকে সাজসজ্জা, কোথাও আধুনিক নাম ও বাহারি বিজ্ঞাপন। বাইরে থেকে দেখলে সবই যেন পরিপাটি। কিন্তু সেই খাবারের পেছনের রান্নাঘর, সংরক্ষণব্যবস্থা কিংবা ব্যবহৃত কাঁচামালের দিকে তাকালেই কি একই চিত্র দেখা যায়? সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানের তথ্য অন্তত সেই নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।

মানুষ বাইরে খাবার খায় প্রয়োজনেই। কর্মব্যস্ত নগরজীবনে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ হোটেল-রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর নির্ভর করেন। কেউ অফিসের ব্যস্ততায়, কেউ ব্যবসায়িক কাজে, কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে, কেউবা পরিবার নিয়ে। একজন ক্রেতা যখন একটি খাবারের দোকানে প্রবেশ করেন, তখন তিনি ধরে নেন—টাকা দিয়ে যে খাবারটি কিনছেন, সেটি নিরাপদ এবং মানুষের খাওয়ার উপযোগী। কিন্তু যদি সেই বিশ্বাসের আড়ালে থাকে পচা খাবার, মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ, পোড়া তেল, অপরিষ্কার রান্নাঘর কিংবা কাঁচা ও রান্না করা খাবার পাশাপাশি সংরক্ষণের মতো অনিয়ম, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—ভোক্তার নিরাপত্তা কোথায়?

সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা অধিকারবিষয়ক অভিযানে এমন বেশ কিছু অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে পচা খাদ্য উপকরণ, কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ মাংস, সবজি, ফল বা দই, কোথাও নিম্নমানের উপকরণ কিংবা অননুমোদিত রং ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পোড়া তেলে খাবার তৈরির পাশাপাশি কাঁচা ও রান্না করা খাবার একই স্থানে সংরক্ষণের মতো বিষয়ও উঠে এসেছে। কোথাও আবার অপরিচ্ছন্ন পাত্র, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ কিংবা পোকামাকড়ের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযানের পর এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটিকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের জরিমানাও করা হয়েছে।

একটি সাম্প্রতিক অভিযানে নগরের ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে মোট ৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্য একটি অভিযানে চকবাজারের একটি ফুড কোর্টের চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগেও নগরের বিভিন্ন এলাকায় খাবারের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জরিমানার ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ বিষয়টি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং নগরের খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নিয়মিত নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাই এসব অভিযান সামনে নিয়ে আসছে।তবে এখানেই শেষ নয়; বরং এখান থেকেই শুরু হওয়া উচিত আরও বড় প্রশ্নের। জরিমানা করার পর কী হয়?

একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হলো, জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগারে গেল, অভিযান শেষ হলো—তারপর? প্রতিষ্ঠানটি কি পরদিন থেকে স্থায়ীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলল? রান্নাঘর কি পরিচ্ছন্ন হলো? মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ কি আর ব্যবহার করা হলো না? পোড়া তেল কি বাদ দেওয়া হলো? কাঁচা ও রান্না করা খাবারের জন্য পৃথক সংরক্ষণব্যবস্থা তৈরি হলো? নাকি কয়েকদিন পর আবারও আগের চিত্র ফিরে এল?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই আসলে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ধারণ করবে।কারণ জরিমানা শাস্তির একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু জনস্বাস্থ্য রক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। একজন মানুষ পচা বা দূষিত খাবার খেয়ে অসুস্থ হলে তার কষ্টের মূল্য কোনো জরিমানার অঙ্ক দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। তার চিকিৎসা ব্যয়, কর্মঘণ্টার ক্ষতি, পরিবারের দুশ্চিন্তা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি—এসবের দায় কে নেবে?

একজন ভোক্তা খাবার কিনে রান্নাঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন না। তিনি দেখতে পারেন না মাংসটি কতদিন ধরে রাখা হয়েছে, সবজিটি তাজা কি না, তেল কতবার ব্যবহার করা হয়েছে, ফ্রিজের তাপমাত্রা ঠিক আছে কি না কিংবা রান্নার পাত্রটি কতটা পরিষ্কার। তিনি প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশ্বাস করেই খাবার খান। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি নিম্নমানের বা অনিরাপদ খাবার পরিবেশন করেন, তাহলে সেটি শুধু ব্যবসায়িক অনৈতিকতা নয়—এটি ভোক্তার মৌলিক নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুতর বিষয়।

চট্টগ্রামের মতো বন্দরনগরী ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নগরে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ নগরের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন। দেশ-বিদেশের মানুষও এই নগরে আসেন। ফলে এখানকার খাদ্যব্যবস্থার মান শুধু স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য নয়, নগরের সামগ্রিক ভাবমূর্তির সঙ্গেও সম্পর্কিত।

প্রশ্ন হলো, একটি শহরে শত শত খাবারের প্রতিষ্ঠান থাকলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘর ও খাদ্য সংরক্ষণব্যবস্থা কি নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে? যেসব প্রতিষ্ঠান একবার জরিমানা হয়েছে, তাদের পুনরায় পরিদর্শন করা হচ্ছে কি? একই ধরনের অনিয়ম পুনরাবৃত্তি হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত নজরদারি কতটা কার্যকর? এসব প্রশ্নের উত্তর সাধারণ মানুষ জানার অধিকার রাখেন।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও রেস্টুরেন্টগুলোর রান্না, খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কিন্তু এর সাফল্য নির্ভর করবে সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী হচ্ছে তার ওপর। নির্দেশনা দেওয়ার চেয়ে নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটিই বড় কথা।
অভিযানের সময় ক্যামেরার সামনে রান্নাঘর পরিষ্কার করে রাখলেই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। দরকার প্রতিদিনের স্বাস্থ্যবিধি, নিয়মিত তদারকি এবং ব্যবসায়ীদের নিজেদের দায়িত্ববোধ।

ব্যবসা করা অপরাধ নয়। লাভ করাও অপরাধ নয়। বরং একটি ভালো রেস্টুরেন্ট বা বেকারি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, মানুষের প্রয়োজন মেটায় এবং অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু লাভের জন্য যদি খাবারের মান কমানো হয়, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয় কিংবা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি করা হয়, তখন ব্যবসা আর কেবল ব্যবসা থাকে না—তা জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিতে পরিণত হয়।এখানে ব্যবসায়ীদের বিবেকের প্রশ্নও আছে।

একজন ক্রেতা হয়তো বুঝতে পারছেন না তার প্লেটে পরিবেশিত খাবারের উপকরণ কতটা নিরাপদ। কিন্তু খাবার প্রস্তুতকারী জানেন তিনি কী ব্যবহার করছেন। ক্রেতা জানেন না তেলটি কতবার ব্যবহার করা হয়েছে; রান্নাঘরের দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানেন। ভোক্তা জানেন না ফ্রিজে রাখা খাবারটির মেয়াদ শেষ হয়েছে কি না; ব্যবসায়ী জানেন। তাই তথ্যের এই অসমতার জায়গায় ব্যবসায়ীর দায়িত্ব আরও বেশি।শুধু প্রশাসনের ভয়েই নয়, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।

একই সঙ্গে ভোক্তারও দায়িত্ব আছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার না খাওয়া, খাবারের মান নিয়ে সন্দেহ হলে অভিযোগ করা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য দেওয়া দরকার। তবে ভোক্তাকে সচেতন করার পাশাপাশি প্রশাসনিক নজরদারি শক্তিশালী করাও জরুরি। কারণ একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে একটি রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরের ভেতরের প্রতিটি বিষয় পরীক্ষা করা সম্ভব নয়।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাম্প্রতিক অভিযানগুলো তাই কেবল কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানার খবর হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এসব অভিযান নগরের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, সেটি দেখারও একটি সুযোগ। অভিযান থেকে তথ্য নিতে হবে, পুনরাবৃত্ত অনিয়মের কারণ খুঁজতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চাই যেখানে কোনো রেস্টুরেন্টে অভিযান চালানোর জন্য অভিযোগ জমা পড়ার অপেক্ষা করতে হবে না; নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে অনিয়ম আগেই শনাক্ত হবে। এমন একটি ব্যবস্থা চাই যেখানে শুধু জরিমানা নয়, সংশোধন বাস্তবায়নের অগ্রগতিও দেখা হবে। এমন একটি ব্যবস্থা চাই যেখানে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলো উৎসাহিত হবে এবং বারবার অনিয়ম করা প্রতিষ্ঠানগুলো আইনের আওতায় আরও কার্যকরভাবে জবাবদিহির মুখোমুখি হবে।

কারণ খাবার কোনো সাধারণ পণ্য নয়। খাবারের সঙ্গে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সরাসরি জড়িত।একজন মানুষ দিনের পর দিন পরিশ্রম করে উপার্জিত টাকা দিয়ে খাবার কিনছেন। সেই খাবার যদি তার সুস্থ থাকার বদলে অসুস্থতার কারণ হয়, তাহলে এর চেয়ে বড় ভোক্তা-অবিচার আর কী হতে পারে?

আমরা চাই না চট্টগ্রামের কোনো মা-বাবা সন্তানকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে গিয়ে ফিরে এসে হাসপাতালের পথে ছুটুন। আমরা চাই না একজন শ্রমজীবী মানুষ দিনের উপার্জনের টাকা খাবারে খরচ করে পরদিন চিকিৎসার জন্য আরও বেশি টাকা ব্যয় করুন। আমরা চাই না একটি পরিবারের আনন্দের খাবার অসুস্থতার কারণ হয়ে উঠুক।

তাই এখন সময় এসেছে প্রশ্ন করার—নিরাপদ খাবার কোথায়? ভোক্তার জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি আর কতদিন?অভিযান হোক, জরিমানা হোক, আইন প্রয়োগ হোক—কিন্তু তার সাথে থাকতে হবে স্থায়ী সমাধান। খাদ্য ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হতে হবে, প্রশাসনকে নিয়মিত নজরদারি করতে হবে এবং ভোক্তাকে সচেতন হতে হবে। এই তিন পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্ব ছাড়া নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

সবশেষে একটি কথা মনে রাখা দরকার—আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে হয়তো কোনো অনিয়মের তাৎক্ষণিক দায় এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব, কিন্তু মানুষের ক্ষতি, মানুষের অধিকার এবং মানুষের আমানতের দায় এড়িয়ে যাওয়া যায় না। একজন বিশ্বাসী মানুষের কাছে সেই জবাবদিহি শুধু রাষ্ট্রের কাছে নয়, মহান আল্লাহর কাছেও।
একটি জরিমানার রসিদ হয়তো অপরাধের আইনি মূল্য নির্ধারণ করতে পারে; কিন্তু একজন অসুস্থ মানুষের কষ্টের মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না।

তাই প্রয়োজন এমন একটি খাদ্যব্যবস্থা, যেখানে ব্যবসা থাকবে, মুনাফা থাকবে, কিন্তু মানুষের স্বাস্থ্যকে মুনাফার বলি হতে হবে না।নিরাপদ খাবার কোনো বিলাসিতা নয়—এটি মানুষের অধিকার। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; এটি ব্যবসায়ীর নৈতিক দায় এবং রাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্যগত দায়িত্বও।

লেখক, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ