জামিন শুনানি হবে।। চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে আসামি না করায় নাখোশ আইনজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময়কাণ্ডে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যায় পরিবারের দায়ের করা মামলায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সহকর্মীরা। মামলায় বহিস্কৃত ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে আসামি না করায় ক্ষোভও ঝেড়েছেন তারা। এদিকে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও বহিষ্কৃত ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদনের শুনানি হবে মঙ্গলবার।
চট্টগ্রাম মহানহর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মফিজুর রহমান জানান, মহানগর দায়রা জজ মো. সাইফুল ইসলামের আদালতে ৩ ডিসেম্বর এই জামিন শুনানি হবে। আদালত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, শুনানির এই দিন আগেই ধার্য হয়েছিল। বুধ ও বৃহস্পতিবার আইনজীবীদের আদালত বর্জন ও কর্মবিরতি কর্মসূচি পালিত হয়। সপ্তাহ শেষে রোববার আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে শুনানির তারিখ জানা যায়।এর আগে ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহের এ মামলায় জামিন নাকচ করে চিন্ময় দাশকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক কাজী শরীফুল ইসলাম। ওই আদেশের পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় দাশকে কারাগারে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে রোববার দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীরা শোকর‌্যালি বের করেন। র‌্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত সভায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে আসামী না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আইনজীবী নেতা নাজিম বলেন, ইসকনের সন্ত্রাসী চিন্ময় দাসকে গ্রেফতার করা নিয়ে গত ২৬ নভেম্বর এই কোর্ট বিল্ডিংয়ে পর্যায়ক্রমে যে ঘটনাগুলো হয়েছে এবং এড. সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যার পর যে মামলাগুলো করা হয়েছে প্রতিটি মামলায় চিন্ময় দাসকে আসামি করতে হবে। গতকাল যে মামলা হয়েছে আমরা মনে করি সমস্ত মামলায় চিন্ময় দাসকে এক নম্বর আসামি করতে হবে। আমরা আইনজীবীরা মানবো না যদি চিন্ময় দাসকে এক নম্বর আসামি করা না হয়।
‘চিন্ময়কাণ্ডে’ পুলিশকে ফের দোষারোপ করে আইনজীবী সমিতির শীর্ষ এ নেতা বলেন, আমি সবসময় বলে এসেছি, ঘটনার জন্য পুলিশকে দায়ী করি। আমরা চট্টগ্রামে অনেক রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করে আনতে দেখেছি। পুলিশ তাদের রাজনৈতিক সমর্থক কাউকে কাছে ভিড়তে দেয়নি। কিন্তু চিন্ময় দাসকে যখন প্রিজন ভ্যানে তোলা হল তখন এই চিন্ময়ের সন্ত্রাসী সমর্থকরা গাড়ি আটকে রেখেছিল। আমরা দেখেছি, চিন্ময় দাস পুলিশের মাইক ব্যবহার করেছে। সেই মাইক ব্যবহার করে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। চিন্ময় দাসের ওই বক্তব্যের পরে, তার নির্দেশনার মধ্য দিয়ে পর্যায়ক্রমে সমস্ত ত্রাস, ভাঙচুর, মসজিদে হামলা, তাণ্ডব—সর্বোপরি আমার ভাই আলিফকে হত্যা করেছে।
আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার চার্জশিট দ্রুত দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যে হত্যা মামলা হয়েছে সেই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী-সাক্ষী রয়েছে। আমি পুলিশকে অনুরোধ করবো—এই মামলার চার্জশিট দিতে দেরি হওয়ার কথা নয়। যারা গ্রেফতার হয়নি; তাদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনুন। আমরা আমাদের প্রিয় ভাই আলিফের হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না।
এর আগে, আইনজীবী আলিফ হত্যার প্রতিবাদে বুকে কালোব্যাচ ধারণ করে তাঁর সহকর্মীরা একটি শোকর‌্যালি করেন। এটি আদালত চত্বরের সোনালি ব্যাংক কার্যালয়ের সামনে থেকে লালদিঘী, হকার্স মার্কেট ঘুরে আদালত চত্বরের দোয়েল ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় তাঁরা ‘চিন্ময় জঙ্গি, দিল্লির সঙ্গী’, ‘আমার সোনার বাংলায়, ইসকনের ঠাঁই নাই’ এসব স্লোগান দিতে থাকেন।
তবে গত ২৬ নভেম্বর আইনজীবী আলিফ হত্যার ঘটনায় ২৭ এবং ২৮ নভেম্বর জেলা আইনজীবী সমিতির কর্মসূচি অনুযায়ী কর্মবিরতি পালন করেছেন চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবীরা। পরবর্তীতে ২৯ এবং ৩০ নভেম্বরও ছিল সরকারি ছুটি। কর্মবিরতি পালনকালীন আদালতের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোনো মামলার শুনানি হয়নি। মামলাগুলোর আদেশ শুনানি রাখা হয়েছিল পরবর্তী তারিখে। সেসময় আগেভাগে জানা বিচারপ্রার্থীরা সেবা নিতে না গেলেও অনেকেই গিয়ে ফিরে গেছেন।
চারদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও রোববার সকালে থেকে আবারও কাজে যোগ দিয়েছেন আইনজীবীরা। সরেজমিনে সকাল ১০টার দিকে আদালত ভবনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি এজলাসের সামনে ছিলেন বিচারপ্রার্থী এবং বিভিন্ন আসামির স্বজনদের ভিড়। সময়মতো হয়েছে বিভিন্ন মামলার শুনানিও।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৬টি থানার বিপরীতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আছে ৮টি। সকাল সোয়া ১০টার দিকে দ্বিতীয় তলায় এসব আদালতে গিয়ে দেখা গেছে, আইনজীবীরা তাদের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিটি এজলাসের বাইরেই ছিল বিচারপ্রার্থীদের জটলা। কেউ এসেছেন জামিন নিতে আবার কেউ এসেছেন সাক্ষী দিতে।
বিবি কুলসুম নামে এক বিচারপ্রার্থী বলেন, আমার ছেলে পাঁচলাইশ থানার একটি মাদক মামলায় কারাগারে আছে। আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করা হয়েছে। গত ২৮ তারিখ জামিন শুনানির দিন ধার্য্য ছিল। কিন্তু আইনজীবীদের কর্মবিরতি ছিল ওইদিন। আইনজীবী আজ আসতে বলায় এসেছি।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজ উদ্দিন বলেন, কর্মবিরতি এবং সরকারি ছুটি মিলিয়ে চারদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিচারপ্রার্থীদের আনাগোনা বেড়েছে। আর আজ আইনজীবীরা কাজে যোগ দেয় আদালত ভবনের কর্মচাঞ্চল্যতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন মামলার শুনানিও সময়মতো হচ্ছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যেহেতু চারদিন কার্যক্রম বন্ধ ছিল তাই আজ একটু চাপ বেশিই ছিল। তবে আটকে থাকা শুনানি কার্যক্রম প্রায়ই শেষ হয়েছে। আর সামনে অবকাশকালীন ছুটিতে আদালত বন্ধ থাকবে। তাই বাকিগুলোও দ্রুত শেষ করা হবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার কোতোয়ালী থানায় বিএনপির সাবেক এক নেতার দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর জন্য প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। তখন চিন্ময়ের অনুসারীরা প্রিজন ভ্যান আটকে দেন। তাঁরা এ সময় প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) লাঠিপেটা করে ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। পরে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে প্রবেশপথের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হল গলিতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এর প্রতিবাদে ওইদিন রাতেই কর্মবিরতির ঘোষণা দেন জেলা আইনজীবী সমতির নেতৃবৃন্দ। পরে কর্মবিরতি আরও একদিন বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করা হয়। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদনের শুনানি মঙ্গলবার মহানগর দায়রা জজ মো. সাইফুল ইসলামের আদালতে হওয়ার কথা রয়েছে।
চিন্ময়কাণ্ডে আদালত এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধাদানের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেছে। এছাড়া গত শনিবার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা এবং পাশাপাশি আলিফের ভাই খানে আলম বাদী হয়ে যানবাহন ভাঙচুর ও জনসাধারণের উপর হামলার ঘটনায় ১১৬ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে আরেকটি মামলা করেছেন নগরের কোতোয়ালী থানায়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

যাচ্ছে পুনর্ব্যবহারে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় প্রবেশের টিকিট এখন ‘প্লাস্টিক বর্জ্য’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলেই বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা। পরিবেশ রক্ষায় শিশু-কিশোরদের সম্পৃক্ত করতে এ উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।তাঁর এ উদ্যোগের আওতায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ও সংলগ্ন পাহাড়ি ছড়ায় পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় জনসচেতনতামূলক বর্ণাঢ্য র‌্যালি।জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ।
উদ্যোগ অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবে। যেখানে সাধারণ প্রবেশ টিকিটের মূল্য ৭০ টাকা।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ তৈরি করতেই প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে বিনামূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের সুযোগ চালু করা হয়েছে। সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।তিনি বলেন, শিশুদের মুঠোফোনের পর্দায় আটকে না রেখে প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের সঙ্গে পরিচিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জেব্রা ও কুমির আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ড. শাহাদাত হোসেন। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান (সি), পিসিএসসি, বিএন; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ড. শাহাদাত হোসেন বলেন, একক কোনো সংস্থার পক্ষে পুরো নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও নগরবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ফয়’স লেক সংলগ্ন চিড়িয়াখানা, পাহাড়ি ছড়া ও প্রাকৃতিক জলাধার দূষণমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ফুটপাত ও সড়ক চলাচলের উপযোগী রাখতে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের যৌথ অভিযানে অংশ নেওয়া প্রয়োজন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্লাস্টিকের পাত্র, বোতল ও ডাবের খোসা যত্রতত্র না ফেলার আহ্বান জানান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। পাশাপাশি বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও আঙিনায় পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক করতে জাপান থেকে ২০টি কমপ্যাক্টর ডাম্প ট্রাক সিটি করপোরেশনে যুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, গত ২৫ জুলাই পরিচালিত অভিযানে তিন হাজারের বেশি সরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি বর্গফুট এলাকা থেকে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এতে ছয় হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দুই হাজার ২৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে কাজীবাড়ি পুকুর, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং প্রায় ১০০টি হোটেল-রেস্তোরাঁর রান্নাঘর ও আশপাশ পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি: চিকিৎসার মানের বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একটি হাসপাতালের সাফল্য কি শুধু কতজন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হলো, কতটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলো কিংবা কত আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হলো—এসব দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব? নাকি এর পাশাপাশি দেখতে হবে, রোগী কত সহজে সেবা পেলেন, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য কতটা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারলেন, অভিযোগ জানালে কত দ্রুত সাড়া পেলেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রতি কতটা দায়িত্বশীল আচরণ করা হলো? বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনায় এই প্রশ্নগুলো আরও গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

চিকিৎসার মান নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যসেবার মূল ভিত্তি। দক্ষ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, যথাযথ রোগনির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা ছাড়া মানসম্মত সেবা সম্ভব নয়। কিন্তু রোগীর কাছে স্বাস্থ্যসেবার অভিজ্ঞতা তৈরি হয় আরও বিস্তৃত একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া থেকে শুরু করে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া, অপেক্ষা, বিলিং, চিকিৎসা-পরবর্তী নির্দেশনা—প্রতিটি পর্যায় তাঁর আস্থা ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে চিকিৎসার উৎকর্ষ এবং সেবাব্যবস্থার কার্যকারিতাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

জবাবদিহির প্রশ্নটি এখানেই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠানে সেবা পেতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হলে, রোগী প্রয়োজনীয় তথ্য বুঝতে না পারলে কিংবা অভিযোগের যথাযথ সমাধান না হলে শুধু অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের পরিসংখ্যান দিয়ে সেই অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা যায় না। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সক্ষমতা প্রকাশ পায় তখনই, যখন সে নিজের কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করে, দুর্বলতা শনাক্ত করে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দায়িত্ব নেয়।

এ জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিমাপের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। শুধু রোগীর সংখ্যা বা সেবার পরিমাণ নয়, অপেক্ষার সময়, অভিযোগের ধরন ও সমাধান, তথ্য প্রদানের স্বচ্ছতা, রোগীর অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসা-পরবর্তী যোগাযোগের মতো বিষয়ও নিয়মিত মূল্যায়নের আওতায় আসতে পারে। তবে এসব সূচককে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে চলবে না। সংখ্যার পেছনের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অভিজ্ঞতা শুনতে হবে এবং উন্নয়নের জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এখানে ডিজিটাল প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানকে সেবার বিভিন্ন পর্যায়ের সমস্যা শনাক্ত করতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তি নিজে থেকে জবাবদিহি নিশ্চিত করে না। তথ্যের যথার্থতা, দায়িত্ব নির্ধারণ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে ডিজিটাল ব্যবস্থা কেবল আরও কিছু রিপোর্ট তৈরির মাধ্যম হয়ে থাকবে।

একই সঙ্গে জবাবদিহিকে শাস্তিমূলক সংস্কৃতি হিসেবে দেখাও ঠিক নয়। ভুল বা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমস্যার কারণ বোঝা, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সংশোধন করা এবং পুনরাবৃত্তি কমানো। যেখানে অবহেলা বা অনিয়মের প্রশ্ন রয়েছে, সেখানে যথাযথ তদন্ত ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা প্রয়োজন। আর যেখানে সমস্যার উৎস জটিল প্রক্রিয়া, অপর্যাপ্ত সমন্বয় বা অস্পষ্ট দায়িত্ব, সেখানে ব্যবস্থাগত পরিবর্তন জরুরি। এই দুই দিকের ভারসাম্যই একটি প্রতিষ্ঠানের শেখার সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও জবাবদিহির বাস্তব প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি, খরচ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সহজবোধ্য তথ্য রোগীর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। যোগাযোগ শুধু তথ্য পাঠানোর কাজ নয়; রোগী তথ্যটি বুঝেছেন কি না, তাঁর প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন কি না এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছেন কি না—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা গড়ে ওঠে এমন ধারাবাহিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই।

এই দায়িত্ব কোনো একক বিভাগ বা পেশাজীবীর নয়। চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি প্রশাসন, রোগীসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ এবং ব্যবস্থাপনা দলের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষাকে সব উন্নয়ন উদ্যোগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাই শুধু অবকাঠামো, প্রযুক্তি কিংবা চিকিৎসাসামগ্রীর দিকে তাকালে চলবে না। প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে নিজেদের কাজের মান যাচাই করে, রোগীর অভিজ্ঞতা থেকে শেখে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জবাবদিহি কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের বিরোধী নয়; বরং দায়িত্বশীলভাবে তা চর্চা করতে পারলে সুনামের ভিত্তি আরও শক্ত হতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত উৎকর্ষ শুধু ভালো চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতায় নয়, বরং প্রতিটি রোগীর প্রতি দায়িত্ব পালন, নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার এবং সেবার মান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার মধ্যেও নিহিত। এই মানসিকতাই স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ