আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

জামিন শুনানি হবে।। চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে আসামি না করায় নাখোশ আইনজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময়কাণ্ডে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যায় পরিবারের দায়ের করা মামলায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সহকর্মীরা। মামলায় বহিস্কৃত ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে আসামি না করায় ক্ষোভও ঝেড়েছেন তারা। এদিকে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও বহিষ্কৃত ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদনের শুনানি হবে মঙ্গলবার।
চট্টগ্রাম মহানহর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মফিজুর রহমান জানান, মহানগর দায়রা জজ মো. সাইফুল ইসলামের আদালতে ৩ ডিসেম্বর এই জামিন শুনানি হবে। আদালত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, শুনানির এই দিন আগেই ধার্য হয়েছিল। বুধ ও বৃহস্পতিবার আইনজীবীদের আদালত বর্জন ও কর্মবিরতি কর্মসূচি পালিত হয়। সপ্তাহ শেষে রোববার আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে শুনানির তারিখ জানা যায়।এর আগে ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহের এ মামলায় জামিন নাকচ করে চিন্ময় দাশকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক কাজী শরীফুল ইসলাম। ওই আদেশের পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় দাশকে কারাগারে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে রোববার দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীরা শোকর‌্যালি বের করেন। র‌্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত সভায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে আসামী না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আইনজীবী নেতা নাজিম বলেন, ইসকনের সন্ত্রাসী চিন্ময় দাসকে গ্রেফতার করা নিয়ে গত ২৬ নভেম্বর এই কোর্ট বিল্ডিংয়ে পর্যায়ক্রমে যে ঘটনাগুলো হয়েছে এবং এড. সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যার পর যে মামলাগুলো করা হয়েছে প্রতিটি মামলায় চিন্ময় দাসকে আসামি করতে হবে। গতকাল যে মামলা হয়েছে আমরা মনে করি সমস্ত মামলায় চিন্ময় দাসকে এক নম্বর আসামি করতে হবে। আমরা আইনজীবীরা মানবো না যদি চিন্ময় দাসকে এক নম্বর আসামি করা না হয়।
‘চিন্ময়কাণ্ডে’ পুলিশকে ফের দোষারোপ করে আইনজীবী সমিতির শীর্ষ এ নেতা বলেন, আমি সবসময় বলে এসেছি, ঘটনার জন্য পুলিশকে দায়ী করি। আমরা চট্টগ্রামে অনেক রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করে আনতে দেখেছি। পুলিশ তাদের রাজনৈতিক সমর্থক কাউকে কাছে ভিড়তে দেয়নি। কিন্তু চিন্ময় দাসকে যখন প্রিজন ভ্যানে তোলা হল তখন এই চিন্ময়ের সন্ত্রাসী সমর্থকরা গাড়ি আটকে রেখেছিল। আমরা দেখেছি, চিন্ময় দাস পুলিশের মাইক ব্যবহার করেছে। সেই মাইক ব্যবহার করে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। চিন্ময় দাসের ওই বক্তব্যের পরে, তার নির্দেশনার মধ্য দিয়ে পর্যায়ক্রমে সমস্ত ত্রাস, ভাঙচুর, মসজিদে হামলা, তাণ্ডব—সর্বোপরি আমার ভাই আলিফকে হত্যা করেছে।
আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার চার্জশিট দ্রুত দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যে হত্যা মামলা হয়েছে সেই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী-সাক্ষী রয়েছে। আমি পুলিশকে অনুরোধ করবো—এই মামলার চার্জশিট দিতে দেরি হওয়ার কথা নয়। যারা গ্রেফতার হয়নি; তাদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনুন। আমরা আমাদের প্রিয় ভাই আলিফের হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না।
এর আগে, আইনজীবী আলিফ হত্যার প্রতিবাদে বুকে কালোব্যাচ ধারণ করে তাঁর সহকর্মীরা একটি শোকর‌্যালি করেন। এটি আদালত চত্বরের সোনালি ব্যাংক কার্যালয়ের সামনে থেকে লালদিঘী, হকার্স মার্কেট ঘুরে আদালত চত্বরের দোয়েল ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় তাঁরা ‘চিন্ময় জঙ্গি, দিল্লির সঙ্গী’, ‘আমার সোনার বাংলায়, ইসকনের ঠাঁই নাই’ এসব স্লোগান দিতে থাকেন।
তবে গত ২৬ নভেম্বর আইনজীবী আলিফ হত্যার ঘটনায় ২৭ এবং ২৮ নভেম্বর জেলা আইনজীবী সমিতির কর্মসূচি অনুযায়ী কর্মবিরতি পালন করেছেন চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবীরা। পরবর্তীতে ২৯ এবং ৩০ নভেম্বরও ছিল সরকারি ছুটি। কর্মবিরতি পালনকালীন আদালতের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোনো মামলার শুনানি হয়নি। মামলাগুলোর আদেশ শুনানি রাখা হয়েছিল পরবর্তী তারিখে। সেসময় আগেভাগে জানা বিচারপ্রার্থীরা সেবা নিতে না গেলেও অনেকেই গিয়ে ফিরে গেছেন।
চারদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও রোববার সকালে থেকে আবারও কাজে যোগ দিয়েছেন আইনজীবীরা। সরেজমিনে সকাল ১০টার দিকে আদালত ভবনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি এজলাসের সামনে ছিলেন বিচারপ্রার্থী এবং বিভিন্ন আসামির স্বজনদের ভিড়। সময়মতো হয়েছে বিভিন্ন মামলার শুনানিও।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৬টি থানার বিপরীতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আছে ৮টি। সকাল সোয়া ১০টার দিকে দ্বিতীয় তলায় এসব আদালতে গিয়ে দেখা গেছে, আইনজীবীরা তাদের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিটি এজলাসের বাইরেই ছিল বিচারপ্রার্থীদের জটলা। কেউ এসেছেন জামিন নিতে আবার কেউ এসেছেন সাক্ষী দিতে।
বিবি কুলসুম নামে এক বিচারপ্রার্থী বলেন, আমার ছেলে পাঁচলাইশ থানার একটি মাদক মামলায় কারাগারে আছে। আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করা হয়েছে। গত ২৮ তারিখ জামিন শুনানির দিন ধার্য্য ছিল। কিন্তু আইনজীবীদের কর্মবিরতি ছিল ওইদিন। আইনজীবী আজ আসতে বলায় এসেছি।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজ উদ্দিন বলেন, কর্মবিরতি এবং সরকারি ছুটি মিলিয়ে চারদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিচারপ্রার্থীদের আনাগোনা বেড়েছে। আর আজ আইনজীবীরা কাজে যোগ দেয় আদালত ভবনের কর্মচাঞ্চল্যতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন মামলার শুনানিও সময়মতো হচ্ছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যেহেতু চারদিন কার্যক্রম বন্ধ ছিল তাই আজ একটু চাপ বেশিই ছিল। তবে আটকে থাকা শুনানি কার্যক্রম প্রায়ই শেষ হয়েছে। আর সামনে অবকাশকালীন ছুটিতে আদালত বন্ধ থাকবে। তাই বাকিগুলোও দ্রুত শেষ করা হবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার কোতোয়ালী থানায় বিএনপির সাবেক এক নেতার দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর জন্য প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। তখন চিন্ময়ের অনুসারীরা প্রিজন ভ্যান আটকে দেন। তাঁরা এ সময় প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) লাঠিপেটা করে ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। পরে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে প্রবেশপথের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হল গলিতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এর প্রতিবাদে ওইদিন রাতেই কর্মবিরতির ঘোষণা দেন জেলা আইনজীবী সমতির নেতৃবৃন্দ। পরে কর্মবিরতি আরও একদিন বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করা হয়। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদনের শুনানি মঙ্গলবার মহানগর দায়রা জজ মো. সাইফুল ইসলামের আদালতে হওয়ার কথা রয়েছে।
চিন্ময়কাণ্ডে আদালত এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধাদানের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেছে। এছাড়া গত শনিবার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা এবং পাশাপাশি আলিফের ভাই খানে আলম বাদী হয়ে যানবাহন ভাঙচুর ও জনসাধারণের উপর হামলার ঘটনায় ১১৬ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে আরেকটি মামলা করেছেন নগরের কোতোয়ালী থানায়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে সাড়ে তিন বছর আগে শিশুকে কেটে ছয় টুকরো, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত অপহরণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মো. আবিরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টায় চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন। চাঞ্চল্যকর এ মামলায় ৫০ জন সাক্ষীর মধ্যে মোট ৩৩ জনের সাক্ষ্য নিয়ে আদালত এ রায় দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আবির আদালতে উপস্থিত ছিলেন।সাড়ে তিন বছর আগে এই শিশুকে কেটে ছয় টুকরো করে লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গুমের লোমহর্ষক ঘটনার মামলার রায় দেয়া হল। দণ্ডিত ২৩ বছর বয়সী আবির আলীর বাড়ি রংপুর জেলায়। ঘটনার সময় চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জালাল উদ্দিন বলেন, শিশুটিকে হত্যার অপরাধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। লাশ টুকরো-টুকরো করে গুমের অপরাধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বিকালে নগরীর দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার চার বছর ১১ মাস বয়সী মেয়ে আলীনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।

ঘটনা জেনেই ছায়া তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।২৪ নভেম্বর আয়াত হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী তরুণ আবির আলীকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। ২৫ নভেম্বর দায় স্বীকার করে তিনি আদালতে জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যে ৩০ নভেম্বর নগরীর ইপিজেড থানার আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে নালাসংলগ্ন স্লুইচগেট এলাকা থেকে আয়াতের বিচ্ছিন্ন দুই পায়ের অংশ এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার হয়। ৬ ডিসেম্বর আবিরের সহযোগী এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

আবিরের বরাতে পিবিআই তখন জানিয়েছিল, আবির ১৫ নভেম্বর আয়াতকে তুলে নিয়ে শ্বাসরোধে খুন করেন। এরপর লাশ কেটে ছয় টুকরো করেন। ১৬ নভেম্বর সকালে লাশের তিনটি টুকরো নগরীর আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে বেড়িবাঁধের পর আউটার রিং রোডসংলগ্ন বে-টার্মিনাল এলাকায় সাগরে ভাসিয়ে দেন। ওইদিন রাতে বাকি তিন টুকরো আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে একটি নালায় স্লুইচগেটের প্রবেশমুখে ফেলে দেন।

আয়াতের বাবার করা মামলা তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ কুমার দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে আবির আলী এবং তার কিশোর বয়সী বন্ধুকে আসামি করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, নগরীর দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকায় আয়াতের দাদা মনজুর হোসেনের মালিকানাধীন ভবনে ভাড়া থাকত আবিরের পরিবার। আবিরের জন্ম ওই বাসায়। তবে ঘটনার সময় তার বাবা আজাহারুল ইসলাম ওই বাসায় থাকলেও দাম্পত্য কলহের জেরে মা আলো বেগম আকমল আলী রোডে আলাদা বাসায় থাকতেন। আবির ও তার বোন মায়ের সঙ্গে থাকতেন। তবে আবির তার বাবার বাসায়ও নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন।

বেকার জীবনের হতাশা থেকে আবির সম্পদশালী পরিবারের শিশু আয়াতকে অপহরণ করে বড় অংকের টাকা মুক্তিপণ আদায় করার কৌশল নিয়েছিলেন। সহযোগী কিশোরকে নিয়ে তিনি আয়াতকে তুলে নিয়েছিলেন। এরপর আবির তার বাবার বাসায় নিয়ে শিশুটিকে খুন করেন। লাশ বস্তায় ভরে মায়ের বাসায় নিয়ে কেটে ছয় টুকরো করে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেন। ২০২৪ সালের ৩০ মে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

আদালতে উপস্থিত পিবিআই পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী জানালেন, মামলার দুজন আসামির মধ্যে আবির আলীর বিচার সম্পন্ন হয়েছে। অপর আসামি কিশোর বয়সী হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে চলমান আছে।

পরিক্ষিত রাজনীতিবীদ সাংসদ এরশাদ উল্লাহ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাজ্জাদ হোসেন খাঁন : আমাদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে আস্তা-বিশ্বাস ও ধৈর্য শব্দটির তাজ্জবতা অতি গুরুত্বপূর্ণ, যা আমার নিজের দু চোখ এই ৩টি শব্দ সমূহের বাস্তব স্বাক্ষী। যাকে নিয়ে কথা গুলো বলছিলাম, আমাদের চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির বর্তমান আহবায়ক এবং চট্টগ্রাম ৮ -সংসদীয় আসনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের প্রতি আস্তাশীল যেমন-তেমনি শহীদ জিয়ার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী আর্দশের প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস ও নিজের ধৈর্য শক্তির পরিক্ষাতেও উত্তির্ণ রাজনীতিবীদ পরিক্ষিত থেকে ভাগ্য প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার অন্যন দৃষ্টান্ত এমপি এরশাদ উল্লাহ।

২০০৬ সালে ২৮ অক্টোবর পরর্বতী বিস্ময় এর এক রাজনৈতিক আচমকা সংকটের মূখে প্রিয় স্বদেশ যার সংকেপে বলতে গেলে তৎকালীন ১/১১ “ওয়ান ইলেভেন”। ঠিক সেই রাজনৈতিক কঠিন সংকটময় মূর্হতে বীর চট্টলার গুটি কয়েকজন মধ্যম সারির নেতাদের মধ্যে নীতিনির্ধারকের ভূমিকায় নানান কৈাশলে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে এরশাদ উল্লাহর আবির্ভাব যেন দিশেহারা তৃণমূল কর্মীদের জাগিয়ে ছিল আশার আলো আর এ আলোকে আরো আলোকিত করেছিল ডা: শাহাদাত, নাজিমুর রহমান, শ্রমিক নেতা নাজিম উদ্দিন, কমিশনার শামসুল আলম, এডভোকেট আব্দুস সত্তার সহ আমরা অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের জুনিয়র কিছু সহযোগি কর্মী হিসেবে কর্মসূচি বাস্তবায়নে সীমিত আকারে দলীয় কর্মকান্ড শুরু করি অতি গোপনীয়তা রক্ষা করে এরি মাঝে চলমান ছিল মঈন-ফখরুদ্দীনের জারী করা জরুরী অবস্থায় এবং তাদের শাসন ব্যবস্থা।

এরশাদ উল্লাহর মূল শক্তি বিএনপির তৃণমূল কর্মীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। আমি একজন যা নিজের দু চোখ কখনো ভুল বলতে পারেনা তারপর শুরু হয়ে গেল কিছুটা জরুরী অবস্থার শিথিলের মধ্য দিয়ে নির্বাচনীয় ডামা-ঢোল প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকান্ড ঘরোয়া পরিবেশের মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম, এরশাদ উল্লাহ বিএনপির মনোনিত তৎকালীন চারদলীয় জোট প্রার্থী হয়ে ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নির্বাচনে অংশনেন আর সেই নীল নকশার ষড়যন্ত্রের নির্বাচনে পরাজিত হয়েও মানুষ এবং দলীয় কর্মীদের প্রতি রেখে দিয়েছেন আস্তা বিশ্বাস ও পরিপূর্ণ ভালোবাসা যেন পিছু ছাড়েনি এরশাদ উল্লাহর তারপর আবারো দৃঢ় অবস্থান ব্যাক্তিগত সদিচ্ছা অনিশ্চায়তাকে হার মানিয়ে নানান ঘাত-প্রতিঘাত উপেক্ষা করে পথচলার তার দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নিজের উপর আস্তা-বিশ্বাস এরশাদ উল্লাহর আজকের সফলতা ২০২৬ সালের সধ্য সমাপ্ত ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিজয়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ