আজঃ রবিবার ৩ মে, ২০২৬

ধুমপানের কুফল সম্পর্কে কর্মশালা

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  1. ধুমপান এবং তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব ও প্রতিকার বিষয়ে রাজশাহীতে সাংবাদিকদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা করেছে বাংলাদেশ ব্রাইন্ড মিশন। রাজশাহী নগরীর একটি চাইনিজ রেস্টুরেণ্টে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র (হু) দেয়া তথ্যের উল্লেখ করে বলা হয়, তামাকজাতদ্রব্য ও ধুমপানের কারণে প্রতিবছর ৮০ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। আর একই কারণে বছরে বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এতে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকগণ ধুমপান এবং তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব ও প্রতিকার বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ উপস্থাপন করেন।

কর্মশালায় বলা হয়, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে প্রতিকার পেতে বিভিন্ন ধরণের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এজন্য উন্মুক্তস্থানে ধুমপান না করা ,ধুমপান এবং তামাকদ্রব্য কেনা-বেচায় ও উৎপাদনে আইনের কঠোর প্রয়োগ, সন্তানদের/পরিবারের সদস্যদের সাথে ধুমপানের ক্ষতিকর দিক নিয়ে কাউন্সিলিং, ধুমপান ছাড়তে উৎসাহ প্রদানের জন্য পুরস্কৃত করা, তামাক জাতীয় দ্রব্যের ওপর অধিকহারে করারোপ করা, মিডিয়ায় ধারাবাহিকভাবে তামাক এবং ধুমপান বিরোধী সংবাদ ও লেখা তুলে ধরা এক্ষেত্রে কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্রাইন্ড মিশনের খন্দকার আবেদুল ইসলাম। কর্মশালাটি পরিচালনা এবং ফেসিলিটেশন করেন বিশিষ্ট কনসালটেন্ট শুভাশীষ চন্দ্র মহন্ত ও রোগতত্তবিদ সামসুল ইসলাম। সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা: আব্দুল আউয়াল ও ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের রাজশাহী প্রতিনিধি মঞ্জুয়ারা খাতুন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খন্দকার মোহাম্মদ নাসিরুজ্জামান ও বিবিএম’র তারেক মাহমুদ।

এতে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল এবং অনলাইন মিডিয়ার ২৬ জন সাংবাদিক অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্রাইন্ড মিশনের কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, হু-এর তথ্য মতে, প্রতিবছর ৮০ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। ২০২২ সালের এক গবেষণা অনুসারে, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ধূমপানের হার ২৮.৬ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষদের মধ্যে ধূমপানের হার ৪৭.৭ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে ধূমপানের হার ৮.৭ শতাংশ। ধূমপানের কারণে মৃত্যুর হার দিন দিন বাড়ছে। ২০২১ সালের এক গবেষণা অনুসারে, বাংলাদেশে ধূমপানের কারণে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে পুরুষদের মৃত্যু হার ২০.৮ শতাংশ এবং নারীদের মৃত্যু হার ০.৯ শতাংশ।

ধুমপান ছাড়তে/ক্ষতি কমাতে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা হু-এর নির্দেশিকা বা গাইডলাইনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ১.২৫ বিলিয়ন তামাক ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ তামাকের নেশা ছাড়তে চায়। আর ৭০ শতাংশ মানুষ এই বিষয়ে কোনো স্বাস্থ্য পরিষেবা বা অন্য সাহায্য পান না। হু-র এক চিকিৎসক বলেছেন, ধূমপান ত্যাগ করার সংগ্রাম অপরিসীম। আমাদের বুঝতে হবে যে এটা করতে শক্তি লাগে এবং এই আসক্তি কাটিয়ে ওঠার জন্য ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে কষ্ট সহ্য করতে হয়।

আচরণগত সহায়তার সঙ্গে ওষুধের সংমিশ্রণ সফলভাবে ধূমপান ত্যাগ করার সম্ভাবনাকে অনেক বাড়িয়ে দেয়। ডব্লিউএইচও তামাক ছাড়ার কার্যকরী চিকিৎসা হিসেবে ভেরেনিক্লিন, নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (এনআরটি), বুপ্রোপিয়ন এবং সাইটিসিনের মতো ওষুধের সুপারিশ করেছে।

২০২৪ সালের এপ্রিলে নিকোটিন গাম এবং প্যাচ প্রথম হু-অনুমোদিত এনআরটি পণ্য হয়ে উঠে। এছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছ থেকে সংক্ষিপ্ত কাউন্সেলিং (৩০ সেকেন্ড থেকে ৩ মিনিট) এবং আরো নিবিড় আচরণগত সহায়তা যেমন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ফোন কাউন্সেলিংয়ের সুপারিশ করেছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শারজাহ্ সিলেট এফসি-কে হারিয়ে স্বাধীনতা গোল্ডকাপ ঘরে তুলল চট্টগ্রাম এফসি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

​সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘স্বাধীনতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর জমকালো ফাইনাল। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে শারজাহ ওয়ান্ডারার্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে এই মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। শারজার অন্যতম জনপ্রিয় সংগঠন ‘ইউজড স্পেয়ার পার্টস অ্যাসোসিয়েশন’-এর উদ্যোগে টানা দুই মাসব্যাপী এই ফুটবল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল।

​আমিরাতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আসা মোট ১২টি দলের অংশগ্রহণে দুই মাস ধরে চলে এই টুর্নামেন্ট। কাঙ্ক্ষিত ফাইনালে মুখোমুখি হয় চট্টগ্রাম এফসি বনাম সিলেট এফসি। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে সিলেট এফসি-কে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে চট্টগ্রাম এফসি। পুরস্কার হিসেবে তারা জিতে নেয় বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল গাড়ি ‘মার্সিডিজ বেঞ্জ’।
​​দুই দেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে খেলার শুভ উদ্বোধন করেন সংগঠনের সভাপতি শাহাদাত হোসেন।

কামাল হোসেন সুমন ও জাহাঙ্গীর রুপুর যৌথ সঞ্চালনায় এবং আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন,দুবাই কনস্যুলটের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর আশীষ কুমার সরকার।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন,প্রবাসীদের মাঝে যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা ছিল, তার মাঝে এমন আয়োজন প্রশংসার দাবিদার। রাত ২টার সময়ও দর্শকদের এই উন্মাদনা প্রমাণ করে আমরা কতটা ঐক্যবদ্ধ। এই টুর্নামেন্ট শুধু জয়-পরাজয় নয়, বরং প্রবাসীদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, বাংলাদেশ সমিতি আবুধাবির সভাপতি প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন, দুবাই সমিতির সহ-সভাপতি ইয়াকুব সৈনিক, সিনিয়র কমিউনিটি নেতা প্রকৌশলী সালাহউদ্দীন,আব্দুল কুদ্দুস,সিনিয়র নেতা হাজী শরাফত আলী,ক্রীড়া সংগঠক হাবিবুর রহমান,সিডিএ প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির,মোস্তাফা মাহমুদ, প্রকৌশলী করিমুল হক, নওয়াব সিরাজ,সালেহ আহমেদ, বদরুল চৌধুরী, আব্দুল কুদ্দুস মজনু,সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক,হাজী সেলিম,মোহাম্মদ শাহজাহান, মোহাম্মদ রফিক, মোহাম্মদ মামুন,মোহাম্মদ ইমরান,মোহাম্মদ এনাম,মাহবুল আলম, মোস্তাফিজ রহমান, রফিক চেয়ারম্যান মজিবু হক মঞ্জু,মোতাহের হোসেন বাশার প্রমূখ।

প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিদেশের মাটিতে খেলাধুলার চর্চা দেশের ইমেজ বৃদ্ধি করে। বিদেশিরা জানবে বাংলাদেশিরা অপকর্মে নয়, বরং গঠনমূলক কাজে নিয়োজিত থাকে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের।

খেলা মাঠে মাঝরাত অবধি চলা এই খেলায় দর্শকদের উপস্থিতি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। প্রবাসীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস মাঠকে এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত করেছিল। আয়োজক কমিটিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সফল আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়ন টেকসই হবে না।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও জীবনমান নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়ন টেকসই হবে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে মে দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য বিলীন হয়ে যাবে।শিকাগো শহরে শ্রমিকরা তাদের রক্তের বিনিময়ে যে আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, সেই চেতনা আজও আমাদের সামনে প্রাসঙ্গিক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো আমরা সব শ্রমিকের ন্যায্য দাবি পূরণ করতে পারিনি।

তিনি শুক্রবার (১ মে) দুপুরে নগরীর টাইগার পাস মোড়ে মহান মে দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম হালকা মোটরযান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, প্রতিটি সেক্টরেই শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। রাস্তা নির্মাণ থেকে শুরু করে ভবন, নালা-নর্দমা পরিষ্কার, নগরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখার প্রতিটি কাজে শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। আজ আমরা যে উন্নত অবকাঠামো ও নগরজীবন উপভোগ করছি, তা শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রমের ফল।

তিনি আরও বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবেও জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেন। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে আমরা দিন-রাত কাজ করছি। কোথাও পানি জমলে বা কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সেখানে ছুটে যাই, যাতে মানুষের কষ্ট কমানো যায়।

রুট লেভেলের শ্রমিকদের গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, তাদের ন্যায্য মজুরি ও জীবনমান নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকরা অনেক সময় বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামে, যা আমাদের জন্য দুঃখজনক।


চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে প্রায় ১২০০ অস্থায়ী শ্রমিককে স্থায়ী করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এটি ছিল তাদের দীর্ঘদিনের দাবি। ঝুঁকি নিয়েই আমরা এটি বাস্তবায়ন করেছি, কারণ তারা দীর্ঘদিন অসহায় অবস্থায় ছিলেন।

এ সময় তিনি শ্রমিকবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য পাঁচটি আবাসন নির্মাণে ৩০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং সিটি কর্পোরেশনের জন্য ৬০ কোটি টাকার সরকারি অনুদান শ্রমিকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের ৫ হাজার টাকা করে বোনাস প্রদানকেও তিনি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বক্তব্যের শেষে মেয়র একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করতে হবে। তিনি বলেন, এই নীতিকে বাস্তবে প্রয়োগ করা গেলে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হবে এবং তারা দেশের উন্নয়ন ও একটি সুন্দর চট্টগ্রাম গড়তে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

চট্টগ্রাম হালকা মোটরযান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আবু ফয়েজের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমির হোসেনের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর চৌধুরী, রাজনীতিবিদ তোফাজ্জল হোসেন, মিল্টন ডেকোরেটারসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাজেদুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ মানবাধিকার ও পরিবেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এস এম সামশুল হক। বক্তব্য রাখেন মে দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক শামসুল ইসলাম আরজু, সদস্য সচিব মো. সোলাইমান সুমন, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ আলম ফিরোজী, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সংগঠনের নেতা কে এম শহীদুল্লাহ, কাজল ইসলাম, মাঈন উদ্দিন তাপস, সাইফুল ইসলাম শাহীন, মো. হাসান, মিজানুর রহমান, জসিম উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, রাসেল হাওলাদার, ইয়াছিন মিয়াজি, মনির হোসেন, মো. সোহাগ, আবদুস সালাম, মো. শফি, জসিম উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন, কাজী গোলাম মোস্তফা, এম এ হাকিম, এস এম ফজলুল হক, ওয়াজেদ আলী ওমর, ইমাম হোসেন মাসুদ প্রমুখ।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ