আইনের ৪২ ধারা (পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ, গ্রেপ্তার) সম্পূর্ণ বাতিল ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ২১, ২৫, ২৮, ২৯ ও ৩২ নম্বর ধারায় বর্ণিত সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট করা প্রয়োজন।

সাইবার আইন সংশোধন: প্রযুক্তির যুগে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি

মোহাম্মদ সাদেক আব্দুল্লাহ,আদনান আহমেদ রিফাত সিকদার।

বাংলাদেশের সাইবার অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালে, কিন্তু উক্ত সাইবার অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম এখনো সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ বাংলাদেশের হচ্ছে না,

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ, ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও ক্রমবর্ধমান। ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহ যেমন সুযোগের সৃষ্টি করেছে, তেমনি সাইবার অপরাধের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলেছে। সাইবার জগতের অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০০৬ সালে প্রণয়ন করা হয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন (আইসিটি আইন)। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে এটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে পুনঃসংস্করণ করা হয়।এবং ২০২৩ সালে সাইবার আইন প্রণয়ন করা হয়।তবে, এই আইন প্রণয়নের পর থেকে সমালোচনা ও বিতর্কও কম হয়নি। মত প্রকাশের স্বাধীনতা হ্রাস, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে, আইনের সংশোধন একান্ত প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, সাইবার অপরাধ দমনের পাশাপাশি মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই আইনের সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিবেদনে, সাইবার আইনের সংশোধনের প্রয়োজনীয় দিক, প্রস্তাবিত পরিবর্তন, এবং সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার বিশ্লেষণ তুলে ধরা হবে। বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়তে সাইবার আইনের এই সংশোধন কীভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তারও একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে।

১) সাইবার নিরাপত্তা আইনে যদিও মানহানিকর তথ্য’, ‘ভুল তথ্য’, ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী বক্তব্য’, ‘ভাবমূর্তি’, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ ও ‘অশ্লীলতা’র মতো যে বিষয়গুলো আইনে সাজার আওতাভুক্ত রয়েছে, কিন্তু সেই বিষয়গুলোর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। যেন এই বিষয়গুলো অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে দমন–পীড়ন না করা যায়। ২)উক্ত আইনের ৪২ ধারা (পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ, গ্রেপ্তার) সম্পূর্ণ বাতিল ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ২১, ২৫, ২৮, ২৯ ও ৩২ নম্বর ধারায় বর্ণিত সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট করা প্রয়োজন।এই আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এই ধারা অনুসারে, এমন কোনো তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করা নিষিদ্ধ, যা “জনমনে ভীতি বা বিভ্রান্তি” সৃষ্টি করতে পারে। এর অপব্যবহারের ফলে সাংবাদিকদের সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। এটি বিশেষ করে গবেষণামূলক প্রতিবেদন এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য বড় বাধা। দেশের বহু সাংবাদিক এই ধারার অধীনে প্রচুর হেনস্তার শিকার হয়েছে।দেশের মিডিয়া দেশের আয়না,তাদের কাজে বাধা পড়লে দেশের মানুষ অবর্ণনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে,অধিকাংশ আইনজ্ঞের মতে এই ধারা পুরোপুরি বাতিল করা প্রয়োজন।৩)গত আগষ্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে সাইবার ট্রাইবুনালের সংখ্যা ছিল মাত্র আটটি। উক্ত সাইবার ট্রাইবুনালের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন,কমপক্ষে প্রতিটি জেলায় একটি করে ট্রাইবুনাল গঠন করা প্রয়োজন।৪)বাংলাদেশের সাইবার অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালে, কিন্তু উক্ত সাইবার অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম এখনো সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ বাংলাদেশের হচ্ছে না, জনগণের নয়াবিচার পাওয়ার অধিকার ব্যবস্থা করতে চাইলে, সাইবার অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালের সংস্করণ অপরিহার্য।৫)ই-কোর্ট স্থাপন করা প্রয়োজন। যোগ্য বিচারক বা বিচারকদের উপস্থিতিতে, যার একটি উন্নত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো রয়েছে। এই অবকাঠামোটি সাধারণত দল, অংশগ্রহণকারী এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের আদালতের কার্যাবলীর কিছু প্রশাসনিক এবং পদ্ধতিগত দিকগুলিকে আরও ভালভাবে পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা প্রয়োজন। ৬)ডিজিটাল এভিডেন্সগুলোকে কোর্ট গ্রহণ করার জন্য, উক্ত সাইবার কোর্ট গুলোকে আরো ডিজিটালাইজড করা প্রয়োজন। ৭) প্রতিটি সাইবার ট্রাইবুনাল কোর্টে কিছু সাইবার এক্সপার্ট নিয়োগ দেওয়া জরুরী,যাতে তারা বিচারকদের বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও উপাত্ত দিয়ে সাহায্য করতে পারে। ৮) এই আইনের ৬০টি বিধানের মধ্যে ৩৭টি বিধান অপরাধসংক্রান্ত এবং ১৮টি বিধানে আছে শুধু কী করলে অপরাধ হবে। ডেটা, ডিজিটাল কনটেন্ট প্রভৃতির সুরক্ষার জন্য মাত্র চারটি ধারা রয়েছে। সুতরাং সাইবার ওয়ার্ল্ডে যে সমস্ত ডাটা ও ডিজিটাল কনটেন্ট এর অপরাধগুলো সংঘটিত হচ্ছে সেগুলা সম্পর্কে আরো বেশি ধারা প্রণয়ন করতে হবে এবং উক্ত ধারাগুলো সুস্পষ্ট প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

সাইবার আইন সংশোধনের প্রস্তাবনা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং অধিকতর স্বচ্ছ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উপহার দেওয়ার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বর্তমান আইন প্রয়োগে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব, এবং ডিজিটাল হুমকির বিরুদ্ধে অপর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়ার যে অভিযোগগুলো উঠে এসেছে, সেগুলো সংশোধনের মাধ্যমে নতুন আইন প্রণয়ন করলে তা দেশের আইনি কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে, এই সংশোধনের ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে, সাইবার অপরাধ দমন করতে হবে; অন্যদিকে, নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীন নজরদারি সংস্থা গঠন, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, এবং শিক্ষামূলক কর্মসূচি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের সাইবার আইন যদি প্রযুক্তি, অধিকার এবং সুশাসনের মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে, তবে তা জাতির ডিজিটাল অগ্রযাত্রাকে একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। এটি কেবল সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিক্ষা এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। সুতরাং, সাইবার আইন সংশোধন কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতি একটি যুগান্তকারী অঙ্গীকার।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

BPHCDA-এর রাজশাহী বিভাগীয় কমিটিতে কার্যনির্বাহীর সন্মানিত সদস্য মনোনীত হলেন মোঃ আব্দুল জব্বার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার,
বিশেষ প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন (BPHCDA)-এর রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সন্মানিত সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মোঃ আব্দুল জব্বার।
পাবনা জেলা কমিটির পক্ষ থেকে তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

মোঃ আব্দুল জব্বার বর্তমানে BPHCDA-এর ভাঙ্গুড়া উপজেলা কমিটির সভাপতি ও পাবনা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনের রাজশাহী বিভাগীয় কমিটিতে নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে তাকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় মোঃ আব্দুল জব্বার বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানিত কেন্দ্রীয় ও রাজশাহী বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ এবং পাবনা জেলা কমিটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উন্নয়ন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে চান। এ ক্ষেত্রে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নিয়ে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

মোঃ আব্দুল জব্বার আরও আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। নতুন দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য তিনি সবার নিকট দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য, মোঃ আব্দুল জব্বার BPHCDA-এর ভাঙ্গুড়া উপজেলা কমিটির সভাপতি, পাবনা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি এবং নব-মনোনীত রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সন্মানিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

দাতা সংস্থা ৩ কোটি টাকার ওষুধ পেল চমেক-চসিক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) দাতব্য চিকিৎসালয় ও আরবান হেলথ ক্লিনিকগুলোর জন্য প্রায় ৩ কোটি টাকার ওষুধ দিয়েছে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল। অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা উরৎবপঃ জবষরবভ-এর সহযোগিতায় পাওয়া এসব ওষুধের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা এবং চসিকের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর জন্য প্রায় ১ কোটি টাকার ওষুধ রয়েছে।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব ওষুধ হস্তান্তর করা হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ডা. শাহাদাত হোসেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা উরৎবপঃ জবষরবভ-এর সহযোগিতায় চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধসামগ্রী প্রদান একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।এ সহযোগিতার ফলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

তিনি বলেন, দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুধু ওষুধ সরবরাহ নয়, চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করা গেলে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে।
প্রশাসক বলেন, করোনাকালীন সংকটময় সময়ে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। হাসপাতালটির সেই ভূমিকা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও চিকিৎসাসেবায় প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ইতোমধ্যে এটি চট্টগ্রামবাসীর চিকিৎসাসেবার আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ রেজাউল করিম আজাদ, হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. অসীম কুমার বড়ুয়া, হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. মহিউদ্দিন, উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন, পিএস টু জিএস ইমাম রাজি ইবনে জাহেদসহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মকর্তারা।

একই দিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে চসিকের দাতব্য চিকিৎসালয় ও আরবান হেলথ ক্লিনিকগুলোর জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ওষুধসামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। এ সময় প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চসিকের অধীনে ২০টি দাতব্য চিকিৎসালয়, ৩২টি আরবান হেলথ ক্লিনিক এবং মাতৃসদন ও হাসপাতালসহ মোট ৫৭টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে ওষুধগুলো সরবরাহ করা হবে।

তিনি বলেন, ওষুধগুলো যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত উন্নতমানের। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের প্রয়োজন অনুসারে এসব ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। এর ফলে নগরের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ মানসম্মত ওষুধ পেয়ে উপকৃত হবেন। চিকিৎসাসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন কাজ করে যাচ্ছে।ধদাতা সংস্থা ৩ কোটি টাকার ওষুধ পেল চমেক-চসিক

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ