আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

মানিকগঞ্জের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিহত -আহত ৬

মোঃ রাজিব হোসেন জেলা প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মানিকগঞ্জে ঘিওর উপজেলা সদরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লাভলু আহমেদ (৩৭) নিহত হয়েছেন। মারাত্নক আহত হয়েছেন আরও ৬ জন। গতকাল সোমবার দুপুরে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সামনে এই ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়দের সুত্রে জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত লাভলু আহমেদ ২০০৩ সালে ঘিওর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। গত চার মাস আগে কুয়েত থেকে দেশে ফিরে লাভলু আহমেদ বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন। নিহত লাভলু কুস্তা গ্রামের মৃত আব্দুল হালিমের ছেলে। আহতরা হলেন, কুস্তা গ্রামের মৃত দীন ইসলামের ছেলে ঘিওর সদর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রাহাতুজ্জামান খান আলতাফ (৪২), একই গ্রামের শওকত দর্জির ছেলে ওয়ার্ড যুবদল নেতা হিমেল দর্জি (২৫), উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মো: আফিকুল ইসলাম, ঘিওর উপজেলা মোড় এলাকার বাসিন্দা মো: রফিকের ছেলে সোহাগ (২৫), আজাদ খানের ছেলে তামিম (২৫) ও শাহ আলমের ছেলে মো: সেলিম (২৮)।

আহতদের ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ঘিওর উপজেলা সদরে থমথমে ভাব বিরাজ করছে। যে কোন সময় আরো বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় একাধিক সুত্রে জানা গেছে, গত তিন মাস ধরে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার এবং রাজনৈতিক কোন্দল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ চলে আসছিল। এ নিয়ে কয়েক দফা মারামারি, শালিস বৈঠক ও হামলা-ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় দুই নেতা জানান, এলাকার ক্ষমতা আর আধিপত্ত বিস্তারের জের ধরে ঘিওর সদর (উপজেলা মোড়) ও কুস্তা গ্রামের বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এই দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এ বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দও কয়েক দফায় আলোচনা করে মিমাংশা করে দিয়েছেন। নেতাদের সামনে সমঝোতা হলেও আড়ালে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েই যায়। এরই ফলশ্রুতিতে আজকের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ এবং হতাহতের স্বজনদের মারফত জানা গেছে, আজ সোমবার বেলা বারোটার দিকে ঘিওর বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় যুবদল নেতা কুস্তা গ্রামের বাসিন্দা হিমেলকে উপজেলা মোড় এলাকার সোহাগ, তানভীর, বাবু, শীতল, তামিম, সেলিমসহ আরো অন্তত ১৫-২০ জন বেধড়ক পেটায়। এসময় দুই গ্রুপের মারামারিতে আহত হিমেল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাবার পথে পুনরায় তাদের উপর হামলা চালায়। এরপর ওই আহতদের দেখার জন্য ছাত্রদলের সাবেক নেতা লাভলু মিয়া, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রাহাতুজ্জামান আলতাফ হাসপাতালের গেটে যাওয়ার পর পরই তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। এসময় দেশিয় চাপাতি ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয় লাভলু, আলতাফ ও হিমেলকে। খবর পেয়ে ঘিওর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুরুতর আহত লাভলুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে সেখান থেকে মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষনা করে। আর আহত আলতাফকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর মানিকুজ্জামান মানিক বলেন, আমি এলাকায় ছিলাম না। এ বিষয়ে কিছু জানিও না। কোন মন্তব্যও নেই।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, দলীয় ভাবে এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘিওর থানা পুলিশের নিস্কৃয়তার কারনেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম- লাভলু আহমেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক বিএনপি নেতা মারা গেছেন। কয়েকজন আহত আছে। তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টাও চলছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

রাজনীতি, নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক গভীর বিশ্বাস সংকটে উপনীত। রাজনীতি কি সত্যিই জনগণের কল্যাণের জন্য, নাকি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার কৌশল—এই প্রশ্নটি এখন আর তাত্ত্বিক নয়, এটি বাস্তব ও জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ দেখছে, নির্বাচনের নামে প্রক্রিয়া আছে, কিন্তু ভোটাধিকার নিয়ে আস্থা নেই; রাষ্ট্র আছে, কিন্তু জবাবদিহিতা দুর্বল।এই বাস্তবতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক আয়োজন নয়, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে একটি বড় পরীক্ষা।

একটি নির্বাচন তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন জনগণ সেখানে স্বাধীনভাবে অংশ নিতে পারে, বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ পায় এবং ভোটের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন থাকে না। ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের কাঠামোতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন জনগণের প্রকৃত রাজনৈতিক মতামত কতটা প্রতিফলিত করবে—এই প্রশ্নের স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য উত্তর এখনো মেলেনি।

গণতন্ত্রের মূল শক্তি অংশগ্রহণ। অথচ অংশগ্রহণহীন বা সীমিত অংশগ্রহণের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না; বরং তা সংকটকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। এই বাস্তবতায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। কিন্তু দেশের ভেতরের রাজনৈতিক বাস্তবতা আন্তর্জাতিক সুনামের চেয়েও কঠিন। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা—এই তিনটি বিষয়ের ওপরই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করছে।

প্রশ্ন হলো, তিনি কি রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে উঠে একটি সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন? নাকি এই নির্বাচনও অতীতের মতোই ‘প্রক্রিয়াগত’ নির্বাচনের তালিকায় যুক্ত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সদিচ্ছায় নয়, রাষ্ট্রযন্ত্রের সম্মিলিত আচরণের ওপর নির্ভর করছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ড. ইউনুস যদি দৃঢ় অবস্থান নিয়ে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পারেন, তবে নির্বাচন একটি গ্রহণযোগ্য পথে এগোতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন—তিনি কি রাজনৈতিক চাপ, দলীয় প্রভাব এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক বাস্তবতা সামাল দিতে পারবেন?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি দীর্ঘ আন্দোলনের প্রতীক। গত প্রায় ১৭ বছর ধরে দলটি নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে রয়েছে। এই আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিল একটি মৌলিক দাবি—ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার।

সমালোচকরা বিএনপির আন্দোলন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুললেও একটি বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই—দেশে আজ যে নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক, আস্থাহীনতা ও আন্তর্জাতিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তা বিএনপির দীর্ঘদিনের দাবিকেই প্রমাণ করে। বিএনপির আন্দোলন ক্ষমতার জন্য নয়—এটি একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি।

অতীতে নির্বাচন না হওয়ার দাবিতে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবতা হলো, সেই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যও ছিল অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা। গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস না করার রাজনৈতিক অবস্থানই বিএনপির মূল শক্তি।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই সহজ নয়। এই লড়াইয়ে দমন, মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপ এসেছে বারবার। তবুও বিএনপি রাজপথ ছাড়েনি। কারণ গণতন্ত্র কোনো দল বা ব্যক্তির সম্পত্তি নয়—এটি জনগণের অধিকার।

আজ যারা বিএনপির আন্দোলনকে ‘দ্বন্দ্বের রাজনীতি’ বলে আখ্যা দেন, তাদের মনে রাখা দরকার—গণতন্ত্রের ইতিহাস কখনোই নির্বিঘ্ন ছিল না। গণতন্ত্র এসেছে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই। প্রশ্ন হলো, সেই সংগ্রামকে রাষ্ট্র কি স্বীকৃতি দেবে, নাকি দমন করবে?

দেশের তরুণ ভোটাররা আজ সবচেয়ে বেশি হতাশ। তারা চায় একটি ভোট, যার মূল্য থাকবে; একটি সরকার, যার কাছে জবাবদিহিতা থাকবে। বিএনপির আন্দোলন এই তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেই যুক্ত—কারণ ভোটাধিকার ছাড়া কোনো ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে পারত। কিন্তু অংশগ্রহণ, আস্থা ও নিরপেক্ষতা ছাড়া কোনো নির্বাচনই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ খুলে দিতে পারে না।

এই বাস্তবতায় বিএনপির আন্দোলন কোনো দলীয় স্বার্থের নয়—এটি রাষ্ট্র ও জনগণের অধিকারের প্রশ্ন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, গণতন্ত্র কখনো দানে আসে না, তা আদায় করে নিতে হয়।এই নির্বাচন কি সত্যিই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ খুলবে, নাকি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে আরও দীর্ঘ করবে?
jahangirfa@yahoo .com

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ