সমুদ্রে বিভিন্ন প্রজাতির শৈবাল থেকে পচনশীল প্লাস্টিক উৎপাদনে সক্ষম : চট্টগ্রামে সেমিনার

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জন্মানো বিভিন্ন প্রজাতির শৈবালের মধ্যে ক্যারাজিনান নামের এক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ হাইড্রোফিলিক কলয়েড (জল-দ্রবণীয় মাড়ি) পাওয়া যায়। যা কাজে লাগিয়ে সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ প্রাথমিকভাবে বায়োটিগ্রাডেবল তথা পচনশীল প্লাস্টিক উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা সমাজ সেবা কার্যালয় মিলনায়তনে পলিথিন দূষণ মোকাবিলায় বিকল্প এবং টেকসই সমাধান বিষয়ক সেমিনারে এ তথ্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোহাম্মদ মনিরুল হাসান।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। চট্টগ্রাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সোসাইটি আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক বিজ্ঞান ইনিস্টিউটের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চবি শিক্ষক ড. জহিরুল আলম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি প্রমুখ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বায়োপ্লাস্টিকের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য। কারণ এটি প্রচলিত পেট্রোলিয়াম-ভিত্তিক প্লাস্টিকের একটি টেকসই বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। বায়োপ্লাস্টিক প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি এবং পরিবেশ বান্ধব হওয়ার কারণে এটি দূষণ হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের দৈনদ্দিন জীবনে প্রচুর পরিমাণ প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পরবর্তীতে মাটি, জলাশয় এবং মহাসাগরে জমা হয়, পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে। প্লাস্টিক তৈরিতে পেট্রোলিয়াম পণ্য ব্যবহার করার সময় প্রচুর গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের একটি প্রধান কারণ। বায়োপ্লাস্টিক ব্যবহারের মাধ্যমে এই বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস করা যায়, কারণ এটি প্রাকৃতিকভাবে ভেঙে যায়, পরিবেশে ক্ষতি করে না এবং প্রচলিত প্লাস্টিকের তুলনায় কম কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হয়।
সেমিনারে অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোহাম্মদ মনিরুল হাসান জানান, এই গবেষণা কাজে প্রেসারাইজড হট ওয়াটার এক্সট্রাকশন (পিএইচডাব্লিউই) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। প্লাস্টিসাইজার হিসাবে সর্বিটল এবং পলিথিন গ্লাইকলের মিশ্রন ব্যবহার করা হয়েছে। উৎপন্ন বায়ো ফিল্মের কার্যকরী গোষ্ঠীর উপস্থিতি এফটিআইআর বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। বায়োপ্লাস্টিক ফিল্মগুলি ৯০ শতাংশ বায়োডিগ্রেডেবিলিটি এবং ৯৮ শতাংশ জলে দ্রবণীয়তা দেখায়। পাশাপাশি বায়োপ্লাস্টিক ফিল্মগুলির শক্তি এবং প্রসারণের পরীক্ষাও করা হয়। এসে আশানুরূপ ফালাফল মিলেছে। ফলাফলগুলি ইঙ্গিত করে যে, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে পাওয়া সামুদ্রিক শৈবাল বিশেষত লাল প্রজাতির শৈবাল খাদ্য প্যাকেজিং, ওষুধ শিল্প ও একক ব্যবহৃত গৃহস্থালি প্লাস্টিক পণ্যের বিকল্প তথা পচনশীল প্লাস্টিক তৈরির একটি সম্ভাব্য উপদান হতে পারে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ইঞ্জিন দ্রুত মেরামতে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের নির্দেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ), লোকোসেড, সিজিপিওয়াই, কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) ও পদ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এসব স্থাপনা পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে রেলওয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (সিই), চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (সিওপিএস), চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম), চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং পাহাড়তলীর ডিএসডব্লিউসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় তিনি একাডেমির একাডেমিক ভবন, প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ কক্ষ, ডরমেটরি ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।এরপর তিনি সিজিপিওয়াই, টার্ন টেবিল, ট্রায়াঙ্গেল লাইন, ইয়ার্ড লাইন ও লোকোসেড পরিদর্শন করেন। লোকোসেড পরিদর্শনকালে ইঞ্জিন দ্রুত মেরামত ও সচল রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন।

পরে সিজিপিওয়াই এলাকায় কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় সিসিবিএলের সঙ্গে রেলওয়ের বিভিন্ন চুক্তি, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া দ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রাম জেলার ২ হাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অভিযান শুরু হয়। কর্মসূচির উদ্বোধনকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে হবে না।


এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা আর একটি প্রাণও হারাতে চাই না। হাসপাতালের শয্যা বাড়াতে পারি, ডেডিকেটেড ওয়ার্ড করতে পারি, চিকিৎসাসুবিধা দিতে পারি; কিন্তু একটি জীবন চলে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, পরিবেশ পরিষ্কার রাখা কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার একার দায়িত্ব নয়। এটি সবার দায়িত্ব। পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
কর্মসূচিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, আলেম-ওলামা, স্কাউট, গার্ল গাইড, বিভিন্ন পরিবেশ সচেতন সংগঠনের সদস্য ও তরুণেরা অংশ নেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই থেকে প্রতি শনিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রথম দিনের অভিযানে প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। ওই অভিযানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও স্থাপনা থেকে প্রায় ১৩৫ মেট্রিক টন ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়।

এরপর জেলার বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এবং কালুরঘাটের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। এরই মধ্যে জেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পুকুর ও জলাশয় পরিষ্কার করার মাধ্যমে মশার প্রজনন ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি সেগুলো ব্যবহারযোগ্য রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেসব এলাকা এখনো কার্যক্রমের আওতায় আসেনি, পর্যায়ক্রমে সেসব স্থানেও অভিযান চালানো হবে।

এর আগে, গত সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফ আয়োজিত ওই কর্মশালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইমাম, খতিব ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, মসজিদগুলোতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। তাই এসব স্থানের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইমাম ও খতিবদের মাধ্যমে মুসল্লিদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির সুযোগ রয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকে নাগরিকদের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে চট্টগ্রামজুড়ে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ