আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

সমুদ্রে বিভিন্ন প্রজাতির শৈবাল থেকে পচনশীল প্লাস্টিক উৎপাদনে সক্ষম : চট্টগ্রামে সেমিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উপকূলীয় অঞ্চলে জন্মানো বিভিন্ন প্রজাতির শৈবালের মধ্যে ক্যারাজিনান নামের এক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ হাইড্রোফিলিক কলয়েড (জল-দ্রবণীয় মাড়ি) পাওয়া যায়। যা কাজে লাগিয়ে সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ প্রাথমিকভাবে বায়োটিগ্রাডেবল তথা পচনশীল প্লাস্টিক উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা সমাজ সেবা কার্যালয় মিলনায়তনে পলিথিন দূষণ মোকাবিলায় বিকল্প এবং টেকসই সমাধান বিষয়ক সেমিনারে এ তথ্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোহাম্মদ মনিরুল হাসান।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। চট্টগ্রাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সোসাইটি আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক বিজ্ঞান ইনিস্টিউটের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চবি শিক্ষক ড. জহিরুল আলম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি প্রমুখ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বায়োপ্লাস্টিকের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য। কারণ এটি প্রচলিত পেট্রোলিয়াম-ভিত্তিক প্লাস্টিকের একটি টেকসই বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। বায়োপ্লাস্টিক প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি এবং পরিবেশ বান্ধব হওয়ার কারণে এটি দূষণ হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের দৈনদ্দিন জীবনে প্রচুর পরিমাণ প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পরবর্তীতে মাটি, জলাশয় এবং মহাসাগরে জমা হয়, পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে। প্লাস্টিক তৈরিতে পেট্রোলিয়াম পণ্য ব্যবহার করার সময় প্রচুর গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের একটি প্রধান কারণ। বায়োপ্লাস্টিক ব্যবহারের মাধ্যমে এই বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস করা যায়, কারণ এটি প্রাকৃতিকভাবে ভেঙে যায়, পরিবেশে ক্ষতি করে না এবং প্রচলিত প্লাস্টিকের তুলনায় কম কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হয়।
সেমিনারে অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোহাম্মদ মনিরুল হাসান জানান, এই গবেষণা কাজে প্রেসারাইজড হট ওয়াটার এক্সট্রাকশন (পিএইচডাব্লিউই) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। প্লাস্টিসাইজার হিসাবে সর্বিটল এবং পলিথিন গ্লাইকলের মিশ্রন ব্যবহার করা হয়েছে। উৎপন্ন বায়ো ফিল্মের কার্যকরী গোষ্ঠীর উপস্থিতি এফটিআইআর বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। বায়োপ্লাস্টিক ফিল্মগুলি ৯০ শতাংশ বায়োডিগ্রেডেবিলিটি এবং ৯৮ শতাংশ জলে দ্রবণীয়তা দেখায়। পাশাপাশি বায়োপ্লাস্টিক ফিল্মগুলির শক্তি এবং প্রসারণের পরীক্ষাও করা হয়। এসে আশানুরূপ ফালাফল মিলেছে। ফলাফলগুলি ইঙ্গিত করে যে, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে পাওয়া সামুদ্রিক শৈবাল বিশেষত লাল প্রজাতির শৈবাল খাদ্য প্যাকেজিং, ওষুধ শিল্প ও একক ব্যবহৃত গৃহস্থালি প্লাস্টিক পণ্যের বিকল্প তথা পচনশীল প্লাস্টিক তৈরির একটি সম্ভাব্য উপদান হতে পারে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ