আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

শহরের সৌন্দয্য রক্ষায় সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে:চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটিকরপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম শহরটি ৭০ লক্ষ জনগনের শহর। সেকারণে নগরের পরিস্কার পরিচ্ছনতা, প্লাস্টিক ও যানজটসহ সকল সমস্যা নিরসনে জনগন ও সিটিকরপোরেশনকে এক যোগে কাজ করতে হবে। ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে ক্যাব নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানে সদা সচেষ্ট আছে, সেজন্য ক্যাব নেতৃবৃন্দের প্রতি নগরবাসীর আস্থা ও প্রত্যাশা অনেক বেশি। তিনি ক্যাব এর ১৬ দফা দাবিকে সমর্থন করে এই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহায়তা ও সমর্থনের আশ্বাস দেন। ক্যাব ও সিটি করপোরেশন নাগরিক ভোগান্তি নিরসনে একযোগে কাজ করবে।বৃহস্পতিবার নগরীর টাইগারপাস্থ সিটিকরপোরেশন মিলনায়তনে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রাম নগর ও বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সিটি মেয়র ডাঃ শাহাদত হোসেন উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
মতবিনিময় সভায় ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনের নেতৃত্বে অন্যান্যদের মধ্যে ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, বিভাগীয় সহ-সভাপতি সাংবাদিক এম নাসিরুল হক, মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, মহানগরের যুগ্ন সম্পাদক মোঃ সেলিম জাহাঙ্গীর, আবু মোশারফ রাসেল, চান্দগাও থানা সভাপতি মোহাম্মদ জানে আলম, সাধারন সম্পাদক ইসমাইল ফারুকী, সদরঘাট থানা সভাপতি মোহাম্মদ শাহীন চৌধুরী, পাঁচলাাইশ থানা সভাপতি সায়মা হক, পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির, আবদুল আওয়াল, হাটহাজারী উপজেলার লায়লা ইয়াছমিন, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি আবু হানিফ নোমান, যুগ্ন সম্পাদক রাসেল উদ্দীন, প্রচার সম্পাদক ইমদাদুল ইসলাম, ক্যাব সদস্য এম এ হোসাইন, সাজ্জাদ উদ্দীন, ফয়সল আবদুল্লাহ আদনান, নাজিম উদ্দীন চৌধুরী অ্যানেল, ক্যাব জামালখানের হেলাল চৌধুরী, ক্যাব বোয়ালখালীর উপদেষ্ঠা নুর মোহাম্মদ চেয়ারম্যান, ক্যাব বায়েজিদের নাসিমা আলম, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলার সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক শাহনেওয়াজ আলী মির্জা, সাংবাদিক ওসমান জাহাঙ্গীর প্রমুখ এ উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন।
সিটি মেয়র আরো বলেন, এই শহর শুধু মেয়র শাহাদাতের একার নয়, এটি আমাদের সবার। তাই এই শহরের সৌন্দয্য রক্ষায় সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। ক্যাব এর পক্ষ থেকে নগরীর ১৭টি বাজার পরিদর্শন করে আগামি ১ সপ্তাহের মধ্যে করনীয় বিষয়ে মেয়রের কাছে প্রতিবেদন পেশ, প্রতিটি বাজারের সার্বিক তথ্য মনিটরিং করে মেয়রের কাছে উপস্থাপনের জন্য অনুরোধ জানান। নগরীর ৪১ টি ওয়ার্ডে সিএলসিসি কমিটিতে ক্যাব এর ১জন সদস্যকে সদস্য করা হবে বলে ঘোষনা দেন।
ডাঃ শাহাদত আরও বলেন, পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নাই। আর এরকারনে জলাবদ্ধাতা সৃষ্ঠি হচ্ছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ঠ বাজারের বাইরে ফুটপাতের হকার্স ও ভাসমান বিক্রেতাদের কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসনে জনমত গড়ে তুলতে সিটিকরপোরেশনকে সহায়তা প্রদানের অনুরোধ করেন। তিনি স্থানীয় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন বলে আশ্বাস প্রদান করে জনগণের সেবায় নিজেকে নিবেদিত করার প্রত্যয় পুনরায় ব্যক্ত করেন। সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে সেবা পেতে ভোগান্তি পেলে সরাসরি মেয়রের নজরে আনার আহবান জানান।
সিটি মেয়র ডাঃ শাহাদত নালা-নর্দমা পরিষ্কার, অবৈধ স্থাপনা, হকার্স উচ্ছেদে সিটি করপোরেশন কাজ করছে এবং এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানান। যে কোন অনৈতিক কাজ ও অন্যায়ের প্রতিবাদে সকলকে একযোগে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রতিরোধেই সমাজ থেকে অন্যায় ও অনিয়ম বন্ধ হবে। মানসম্মত শিক্ষার নিশ্চিতে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও খেলাধুলার প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করার আশ্বাস দেন।
আসন্ন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে যৌথভাবে সভা করে করনীয় নির্ধারন করা হবে বলে আশ্বাস দেন। একই সাথে নগরীর বাজারগুলির মনিটরিং এর তৎপরতা আরও জোরদার করা এবং ক্যাবকে এ কাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা হবে বলে জানান।
হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে রাজস্ব বিভাগের হয়রানি রোধে আপিল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আপিল বোর্ড ও ভোক্তা অধিকার স্ট্যান্ডিং কমিটিতে ক্যাব প্রতিনিধি যুক্ত করা এবং নাগরিক ভোগান্তি রোধে ত্রিপাক্ষিক গণশুণানীর আয়োজনের বিষয়ে একমত হন।আলোচনা শেষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ক্লিন, গ্রীণ ও হেলদি নগরীতে রূপান্তরে ক্যাব থেকে ১৬ দফা প্রস্তাবনা মেয়রের হাতে তুলে দেয়া হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ