চট্টগ্রামে পোল্ট্রি খাতে অস্থিরতা উৎপাদন কমিয়ে আনছে খামারিরা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


চট্টগ্রাম পোল্ট্রি খাতে অস্থিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গেল দুই সপ্তাহে খুচরায় সবচেয়ে সহজলভ্য ‘ব্রয়লার’ মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। ৩০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে সোনালি ও লেয়ার মুরগির দামও।

খামারিদের দাবি, গেল কয়েক বছরে মুরগির খাবার, ওষুধ ও বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি মুরগি লালন-পালন শুরু করেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান সরাসরি মুরগি লালন-পালন ছাড়াও পছন্দের খামারির সঙ্গে ‘চুক্তিভিত্তিক’ খামার শুরু করেছে। এতে তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠছেন না স্বল্প পুঁজির প্রন্তিক খামারিরা। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে লোকসানে পড়ে খামার গুটিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ খামারি। আবার এখনও যারা টিকে আছেন তারাও নিঃস্ব হওয়ার পথে। তাই প্রান্তিক খামারিদের অস্তিত্ব রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কিছু দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। তাদের দাবিতে কর্ণপাত না করায় জানুয়ারি থেকে মুরগি ও ডিম উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে চুক্তিভিত্তিক খামার বন্ধ, করপোরেট সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণসহ ১০ দফা দাবিতে ডিম ও মুরগি উৎপাদন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল খামারিরা। দাবি আদায় না হলে নতুন বছরের শুরু থেকে সারাদেশে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। এরপর প্রায় ২ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি সমাধানে এগিয়ে আসেনি কেউ। অগত্যা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় খামারিরা। এখন থেকেই মুরগি ও ডিম উৎপাদন কমিয়ে আনতে শুরু করেছেন কেউ কেউ। এরমধ্যে লাফিয়ে বাড়ছে মুরগির দাম।
জানা গেছে, খামারিদের ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে করপোরেট কোম্পানিগুলোকে শুধু ফিড ও মুরগির বাচ্চা উৎপাদনে সীমাবদ্ধ রাখা; বাণিজ্যিকভাবে ডিম ও মুরগি উৎপাদন বন্ধ করা, ফিড ও মুরগির বাচ্চার সিন্ডিকেট বন্ধ করা; প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা; ক্ষুদ্র খামারিদের সহজ শর্তে ঋণ ও ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা করা; ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা; প্রান্তিক খামারিদের জন্য পৃথক বাজার সুবিধা তৈরি করা; করপোরেট সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ; কন্ট্রাক্ট ফার্মিং বন্ধ করা এবং প্রান্তিক খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া।
পোাল্ট্রি শিল্পে প্রান্তিক খামারিদের সঙ্গে গেল প্রায় এক যুগ ধরে যুক্ত ফটিকছড়ির হেঁয়াকো এলাকার ডিলার মো. ইদ্রীস। তিনি বলেন, গেল কয়েক বছরে উত্তর ফটিকছড়িতে যারা খামার করতো তাদের অধিকাংশই লোকসান দিতে দিতে নিঃস্ব হয়ে গেছে। শুরুর দিকে অনেক শিক্ষিত তরুণ এই খাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছিল, কিন্তু এখন অবস্থা খুবই খারাপ। ভাগ্য ফেরানোর আশায় এই খাতে এসে এখন নিঃস্ব হয়ে ফিরছে সবাই। এর পেছনে সবচেয়ে বেশি দায়ী করপোরেট খামারিরা।
এই বিষয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিটন প্রসাদ চৌধুরী বলেন, প্রান্তিক খামারিদের পুঁজি কম। অল্প পুঁজি নিয়ে ছোট ছোট খামার করেন সবাই। তাই করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর হাজার কোটি টাকার কার্যক্রমের সঙ্গে আমরা পেরে উঠছি না। আমি নিজেই সম্প্রতি টানা চারবার লোকসানে পড়েছি। আমরা কয়েকবছর ধরে এটা নিয়ে কথা বলছি, কিন্তু কেউ কর্ণপাত করছে না।
তিনি বলেন, শুরুতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু মুরগির খাবার, ওষুধ আর বাচ্চা উৎপাদন করলেও পরে মুরগি লালন-পালন শুরু করে। এতে তারাই বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। আমরা লাখ লাখ প্রান্তিক খামারি তাদের সামনে কিছুই না, এই ‘জনা বিশেক’ মোড়লের হাতে আমাদের সবার ভাগ্য বন্দী। চুক্তিভিত্তিক খামার বন্ধ এবং বাচ্চা আর খাবারের দাম কমানো না গেলে প্রান্তিক খামারিদের বাঁচানো সম্ভব না।
প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান বলেন, খামারিরা খামার বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। ইচ্ছে করলেই তো আর সবকিছু হয়ে যায় না। এখন ১ জানুয়ারি আসুক, দেখা যাক কী হয়।
করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর চুক্তিভিত্তিক খামার ও প্রান্তিক খামারিদের অন্যান্য দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের সুযোগ আমরা দিয়েছি নাকি? রাষ্ট্র দিয়েছে। রাষ্ট্র যদি চিন্তা করে তাহলে বন্ধ করবে। দুই পক্ষেরই স্বার্থ ঠিক রাখতে হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনে সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি : পুলিশ সুপার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনে সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে সিভিক সেন্টারে আয়োজিত মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, উন্নত কর্মপরিবেশ, শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।

পুলিশ সুপার পুলিশ লাইন্সের অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত স্থান সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এসব জায়গায় শাকসবজি ও ফলমূল চাষের উদ্যোগ নিতে পুলিশ সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করেন।এতে অব্যবহৃত জমির সঠিক ব্যবহার, পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও স্বনির্ভরতা বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা, মনোবল ও কর্মস্পৃহা বাড়াতে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।
এ ছাড়া প্রতিটি থানায় প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম ও উপকরণ সরবরাহের বিষয়েও নির্দেশনা দেন।

সভায় পেশাগত দক্ষতা ও বিশেষ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার, সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়। ওয়ারেন্ট তামিল, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধী ও পলাতক আসামি গ্রেপ্তারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় তাঁদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এ সময় পুলিশ সদস্যদের উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন পুলিশ সুপার। সেগুলো সমাধানে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন তিনি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ এবং পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দেন।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সার্কেল অফিসার, কোর্ট ইন্সপেক্টর, টিআই (অ্যাডমিন), ডিআইও-১, আরআই, বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), বিভিন্ন ইউনিটের ইনচার্জসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দোকান ঘর-সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ব্যবসায়ীর জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় দোকান ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে মো. সফি উল্যাহ চৌধুরী (৭০) নামে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নূর নবী (৬০)। এ ঘটনায় তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নূর নবী ও তার ভাই-বোনেরা পৈত্রিক সূত্রে ১৩ নম্বর চরপার্বতী মৌজার সিএস ৯৯১ নম্বর খতিয়ানের ১২০৮ নম্বর দাগে নকশা অনুযায়ী ৩৮ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির মধ্যে পাঁচ শতাংশের মালিক ও দখলদার। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করালিয়া এলাকায় ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে সফি উল্যাহ চৌধুরী অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজনকে নিয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা জমিতে থাকা দোকান ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। পরে সেখানে মাটি ভরাট করে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

এতে নূর নবী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের জন্য তেড়ে আসেন। একই সঙ্গে রাস্তা নির্মাণের কাজে বাধা দিলে মারধরের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় সংঘর্ষ ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা করছেন অভিযোগকারী।

নূর নবী বলেন, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে বসতবাড়ি ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়স্বজনকে জানানোর পর তাদের পরামর্শে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে সফি উল্যাহ চৌধুরী বলেন, ‘সেটি প্রমাণের জন্য আমি আমার প্রতিনিধির মাধ্যমে ওসির কাছে উপস্থাপন করব।’
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, প্রতিদিন অনেক অভিযোগ জমা পড়ে। লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ