আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে পোল্ট্রি খাতে অস্থিরতা উৎপাদন কমিয়ে আনছে খামারিরা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


চট্টগ্রাম পোল্ট্রি খাতে অস্থিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গেল দুই সপ্তাহে খুচরায় সবচেয়ে সহজলভ্য ‘ব্রয়লার’ মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। ৩০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে সোনালি ও লেয়ার মুরগির দামও।

খামারিদের দাবি, গেল কয়েক বছরে মুরগির খাবার, ওষুধ ও বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি মুরগি লালন-পালন শুরু করেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান সরাসরি মুরগি লালন-পালন ছাড়াও পছন্দের খামারির সঙ্গে ‘চুক্তিভিত্তিক’ খামার শুরু করেছে। এতে তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠছেন না স্বল্প পুঁজির প্রন্তিক খামারিরা। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে লোকসানে পড়ে খামার গুটিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ খামারি। আবার এখনও যারা টিকে আছেন তারাও নিঃস্ব হওয়ার পথে। তাই প্রান্তিক খামারিদের অস্তিত্ব রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কিছু দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। তাদের দাবিতে কর্ণপাত না করায় জানুয়ারি থেকে মুরগি ও ডিম উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে চুক্তিভিত্তিক খামার বন্ধ, করপোরেট সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণসহ ১০ দফা দাবিতে ডিম ও মুরগি উৎপাদন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল খামারিরা। দাবি আদায় না হলে নতুন বছরের শুরু থেকে সারাদেশে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। এরপর প্রায় ২ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি সমাধানে এগিয়ে আসেনি কেউ। অগত্যা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় খামারিরা। এখন থেকেই মুরগি ও ডিম উৎপাদন কমিয়ে আনতে শুরু করেছেন কেউ কেউ। এরমধ্যে লাফিয়ে বাড়ছে মুরগির দাম।
জানা গেছে, খামারিদের ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে করপোরেট কোম্পানিগুলোকে শুধু ফিড ও মুরগির বাচ্চা উৎপাদনে সীমাবদ্ধ রাখা; বাণিজ্যিকভাবে ডিম ও মুরগি উৎপাদন বন্ধ করা, ফিড ও মুরগির বাচ্চার সিন্ডিকেট বন্ধ করা; প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা; ক্ষুদ্র খামারিদের সহজ শর্তে ঋণ ও ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা করা; ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা; প্রান্তিক খামারিদের জন্য পৃথক বাজার সুবিধা তৈরি করা; করপোরেট সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ; কন্ট্রাক্ট ফার্মিং বন্ধ করা এবং প্রান্তিক খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া।
পোাল্ট্রি শিল্পে প্রান্তিক খামারিদের সঙ্গে গেল প্রায় এক যুগ ধরে যুক্ত ফটিকছড়ির হেঁয়াকো এলাকার ডিলার মো. ইদ্রীস। তিনি বলেন, গেল কয়েক বছরে উত্তর ফটিকছড়িতে যারা খামার করতো তাদের অধিকাংশই লোকসান দিতে দিতে নিঃস্ব হয়ে গেছে। শুরুর দিকে অনেক শিক্ষিত তরুণ এই খাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছিল, কিন্তু এখন অবস্থা খুবই খারাপ। ভাগ্য ফেরানোর আশায় এই খাতে এসে এখন নিঃস্ব হয়ে ফিরছে সবাই। এর পেছনে সবচেয়ে বেশি দায়ী করপোরেট খামারিরা।
এই বিষয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিটন প্রসাদ চৌধুরী বলেন, প্রান্তিক খামারিদের পুঁজি কম। অল্প পুঁজি নিয়ে ছোট ছোট খামার করেন সবাই। তাই করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর হাজার কোটি টাকার কার্যক্রমের সঙ্গে আমরা পেরে উঠছি না। আমি নিজেই সম্প্রতি টানা চারবার লোকসানে পড়েছি। আমরা কয়েকবছর ধরে এটা নিয়ে কথা বলছি, কিন্তু কেউ কর্ণপাত করছে না।
তিনি বলেন, শুরুতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু মুরগির খাবার, ওষুধ আর বাচ্চা উৎপাদন করলেও পরে মুরগি লালন-পালন শুরু করে। এতে তারাই বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। আমরা লাখ লাখ প্রান্তিক খামারি তাদের সামনে কিছুই না, এই ‘জনা বিশেক’ মোড়লের হাতে আমাদের সবার ভাগ্য বন্দী। চুক্তিভিত্তিক খামার বন্ধ এবং বাচ্চা আর খাবারের দাম কমানো না গেলে প্রান্তিক খামারিদের বাঁচানো সম্ভব না।
প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান বলেন, খামারিরা খামার বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। ইচ্ছে করলেই তো আর সবকিছু হয়ে যায় না। এখন ১ জানুয়ারি আসুক, দেখা যাক কী হয়।
করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর চুক্তিভিত্তিক খামার ও প্রান্তিক খামারিদের অন্যান্য দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের সুযোগ আমরা দিয়েছি নাকি? রাষ্ট্র দিয়েছে। রাষ্ট্র যদি চিন্তা করে তাহলে বন্ধ করবে। দুই পক্ষেরই স্বার্থ ঠিক রাখতে হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু ৪৬ বছরে পা রাখলো মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের ৪৬ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো মনিরুজ্জামান। এতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিভিশনাল ডিরেক্টর ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ.এম. রায়হান উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. হাফিজুল ইসলাম। হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো.ইয়াছিন আরাফাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবুন নেসা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান (মিজান) এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক।

সেমিনারে বক্তারা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের সঠিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তারা বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. তাহমিদ জুনায়েদ মাহমুদ, ডা. সাফওয়ান মাহমুদ, মার্কেটিং ম্যানেজার রতন কুমার নাথ, বিডিএম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী, সার্ভিস ম্যানেজার লুৎফুর রহমান, আই টি ম্যানেজার মোঃ উছা, সহকারী ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে জব্দ ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক সিগারেটের চালান জব্দ করা হয়েছে। মাস্কাট থেকে আগত সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. শামসুদ্দিনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৮০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক আগমন হলের ১ নম্বর লাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় আরও ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। রোববার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক আগমন হলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, জব্দ করা সিগারেট থেকে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত সিগারেট ও ল্যাপটপ ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম মূল্যে জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক যাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ