আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

সব নির্বাচনে সরকারি চাকুরেরাও প্রার্থী হতে পারার প্রস্তাব:চট্টগ্রামে সংস্কার কমিশন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনের নির্বাচন একসঙ্গে করার প্রস্তাব করা হবে। নির্বাচনে যাতে সরকারি চাকুরেরাও প্রার্থী হতে পারেন সেই প্রস্তাব রাখার পাশাপাশি খরচের বহরও কমানো হবে। রোববার দুপুরে নগরের একটি হেটেলে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় সভায় কমিশনের চেয়ারম্যান ড. তোফায়েল আহমেদ এসব কথা জানান।
চাকরি করে মেয়র-কাউন্সিলর হতে বাধা নেই ইউরোপের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, চাকরি করে কিংবা অন্য পেশার সাথে সংযুক্ত এমন কারো মেয়র-কাউন্সিলর হতে বাধা নেই। কিন্তু ফুলটাইম এক্সিকিউটিভ বডিতে থাকলে তিনি এককভাবে করবেন না। উনি কিন্তু কয়েকজনকে নিয়ে একটা এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল করবেন। যেমন কলকাতা কিংবা লন্ডন সিটি করপোরেশনে মেয়র-কাউন্সিলর আছে। এটা এখানেও হতে পারে। চেয়ারম্যান ফুল টাইম করবেন দুই-তিনজন মেম্বারকে সাথে নিয়ে। বিকল্প প্রপোজালও আছে। এটাকে ৫ বছরের জন্য না করে দুই বছর অথবা একবছর করে রোটেটিং করা যায় কিনা। এগুলো সবগুলো বিবেচনা করা হবে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. ফেরদৌস আরফিনা ওসমান, আবদুর রহমান, ড. মাহফুজ কবীর, মাশহুদা খাতুন শেফালী, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, ইলিয়া দেওয়ান, অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম প্রমুখ।
নির্বাচনের খরচ কমানোর কথা জানিয়ে সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচন আমাদের দেশে খুবই ব্যয়বহুল হয়েছে। ব্যয়বহুল দুই সেন্সে। একটা প্রার্থীর জন্য আরেকটা সরকারের জন্য। আমি নির্বাচন কমিশন থেকে তথ্য নিয়ে দেখেছি। গত সরকারের সময়ে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন এতে খরচ হয়েছে ২৩ হাজার কোটি টাকা। ১৯ লাখ লোককে নিয়োগ করা হয়েছে। দিন লেগেছে ২২৫ দিন। তাহলে এই জিনিসটা অনেক ব্যয়বহুল, অনেক সময় নষ্ট করে এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ফলে কাজকর্ম ব্যাহত হয়।
খরচের বহর না কমালে নির্বাচনে ভালো মানুষ আসতে পারবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটা কমন কথা আসছে যে, ভোট কেনাবেচা হবে। ভোটের মধ্যে টাকা খরচটাও শুধু সংসদীয় পদ্ধতিতে হচ্ছে তাতো নয়। একজন মেয়র হতে হলে ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে খরচ করতে হচ্ছে। এই খরচের বহরটা কিন্ত কমাতে হবে নির্বাচন থেকে। না হলে ভালো মানুষ আসতে পারবে না নির্বাচনে।
ড. তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, সেজন্য এটাকে আমরা একসাথে একইদিনে করতে পারি আইন পরিবর্তন করে তাহলে খরচ হবে ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা। আর মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ দিন লাগবে। একবারেই নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে। একেকটা নির্বাচন একেকসময়ে হলে সরকারের সময়, বাজেট এবং পরিকল্পনার সাথে সম্পর্ক থাকছে না।
দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিষয়ে বলেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন এটা কেউ চাচ্ছে না। কিন্তু দলের একেবারে প্রভাব মুক্ত হবে এটা কিন্তু হলফ করে কেউ বলতে পারবে না। যারা নির্বাচন করে তারা রাজনীতি তো করেন। একদল থেকে হয়তোবা একাধিক প্রার্থী দাঁড়াবে। আর যদি আমরা এটা করতে পারি— সরকারি চাকরি বা অন্য কিছু করার পরেও কাউন্সিলর-মেম্বার হতে বাধা নেই, তাহলে কোয়ালিটি চেঞ্জ হবে বলে আমার ধারণা। ইঞ্জিনিয়ার, প্ল্যানার— এরকম অনেকে আছেন। তারা যদি দাঁড়ান, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন তাহলে নির্বাচনের কোয়ালিটি ভালো হবে।
শিক্ষকতার যোগ্যতার প্রশ্নটা সব জায়গায় বলা হচ্ছে। আমরা এটা একচুয়েলি বিবেচনা করছি। কিন্তু সংবিধানের সাথে যদি সাংঘর্ষিক হয় তাহলে এটা করা যাবে না। কারণ জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে যদি শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রশ্ন না থাকে তাহলে স্থানীয় নির্বচনের ক্ষেত্রে আনা কঠিন হবে। সেক্ষেত্রে আমরা সবাই মিলে আলাপ-আলোচনা করবো। সব জায়গাতেই একই রকম মতামত পাওয়া যাচ্ছে’ যোগ করেন তিনি।
প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি ভোটারদের নির্ধারণ করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটারদেরকেই নির্ধারণ করতে হবে আমার এখানে যারা দাঁড়াচ্ছেন তার মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে কিন্তু নেতৃত্ব বা অন্যান্য যোগ্যতায় ঘাটতি থাকলে কাকে সিলেক্ট করবো।
সংসদীয় পদ্ধতি এবং রাষ্ট্রপতি পদ্ধতি নিয়ে বলেন, সংসদীয় পদ্ধতি এবং রাষ্ট্রপতি পদ্ধতি, এই দোলাচলের মধ্যে আমরা অনেকরকম মতামত পাচ্ছি। বিশেষ করে যখন মেম্বার, কাউন্সিলর, সাধারণ লোক এবং একাডেমিয়ান—তারা বেশিরভাগই সংসদীয় পদ্ধতির পক্ষে। চেয়ারম্যান এবং মেয়র সাহেবরা এটার বিরোধীতা করছেন। তারা বলছেন, এটা করলে যারা এতদিন চেয়ারম্যানে ছিলেন কিংবা মেয়রে ছিলেন তারা মেম্বারে দাঁড়াবেন কিভাবে? এর মানে মেম্বারশিপটাকে নেগলেট করা হচ্ছে চারদিক থেকে। মেম্বারের যদি কোয়ালিটি ইমপ্রুভ করতে হয় তাহলে মেম্বার কারা হবে তাতেও অনেকরকম পরিবর্তন করতে হবে।
‘না ভোট’ বিষয়ক প্রস্তাবনার বিষয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘না ভোটের বিষয়টা নির্বাচন সংস্কার কমিশনের বিষয়। এটা আগেও বলেছি যে এটার ক্ষেত্রে অনেক মতামত আমরা পেয়েছি। অনেক মানুষ না ভোটের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। আমাদের কমিশন চিন্তা করছে, না ভোট রাখা যায়। কারণ এটা একটা চেকপয়েন্ট হবে। আমাদের দেশে ইতিহাস আছে ১৫২ থেকে ১৫৩টি সংসদ সদস্য পদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছে। না ভোট হলে এই সুযোগটা চলে যাবে। অন্যদিকে, কিছু মানুষ আছে যারা পছন্দের প্রার্থী না থাকায় ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন না। এ বিষয়ে সংস্কার কমিশনের সক্রিয় বিবেচনায় আছে।’
সংরক্ষিত আসন নিয়ে তিনি বলেন, সংরক্ষণ ব্যবস্থা যুগ যুগ ধরে চলবে এটাও যুক্তিসঙ্গত না। সেজন্য আগামী তিনটি নির্বাচনে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে সংরক্ষিত আসন থাকবে।
কবে নাগাদ কমিশন রিপোর্ট জমা দেবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময় ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অফিসিয়ালি আছে। আমরা চেষ্টা করবো সময়ের রিপোর্টটা দিয়ে দেওয়ার।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

যশোরের চাড়াভিটায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


যশোরে বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা ও তার পার্শ্বতি এলাকায়  হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেলা ২টার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ডেকে   মেঘা আচ্ছন্ন হয়ে ঝড় বাতাসের সাথে বজ্র বূষ্টি শুরু হয়ে

টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় চলে এই ঝড়।চাড়াভিটা বাজারে পাশেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি উপ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।, গত কয়েক দিন ধরে যশোর অঞ্চলে  তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। দুপুরের পর আকাশ কালো মেঘে গুমোট আকার ধারণ করে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত।

বাঘারপাড়া  উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের চাড়াভিটা বাজার সহ কয়েকটি  এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে।যে কারণে  বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় ভূতুড়ে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসী জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি।। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভাঙ্গুড়ায় ন্যায্য মূল্যে কৃষকের ধান সংগ্রহের সময় শেষ, সরকারি মূল্য পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি খাদ্যগুদামের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ পেয়ে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করেছে খাদ্য বিভাগ।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো/২০২৬ মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় কর্তৃক তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্য থেকে আগে আসলে আগে বিক্রয় ভিত্তিতে ধান ক্রয় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষি বিভাগের নিবন্ধিত কৃষকরা কৃষি কার্ড ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পান। সংগ্রহ নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান গ্রহণের পর মূল্য সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমেছে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেয়েছেন।
উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৭০০ নিবন্ধিত কৃষকের কৃষি কার্ড ও কৃষক হিসাব রয়েছে। ধান বিক্রি করা অনেক কৃষক জানান, বাজারমূল্যের তুলনায় সরকারি মূল্য বেশি হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। উৎপাদন খরচ মিটিয়ে অতিরিক্ত আয় করতে পারায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ জানায়, ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। কৃষকদের পরিচয়, কৃষি কার্ড এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পরই ধান গ্রহণ করা হয়েছে। সব অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে।ভাঙ্গুড়া খাদ্যগুদামের উপ-পরিদর্শক নিরঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই করে ধান গ্রহণ করা হয়েছে এবং কৃষকদের নিজস্ব হিসাবেই অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

ভাঙ্গুড়া এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম জানান, সরকার চলতি বোরো/২০২৬ মৌসুমে গত ৩ মে থেকে সারাদেশে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু করে। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নির্ধারিত ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান ইতোমধ্যে সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে ধানের দাম কিছুটা কম থাকায় কৃষকরা প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহী হয়েছেন। ফলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ বর্ম্মন বলেন, ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের কৃষি কার্ড ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের পরই বিল অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি মূল্য পাওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের আশা, আগামী মৌসুমেও সরকার একইভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে। এতে কৃষকরা উৎপাদনে আরও উৎসাহিত হবেন এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ