আজঃ শুক্রবার ১০ জুলাই, ২০২৬

কালিয়াকৈরে আবারও পোশাক কারখানা শ্রমিকেরা বকেয়া বেতনের বৃদ্ধি দাবিতে কালিয়াকৈর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

শাহিদুল ইসলাম কালিয়াকৈর গাজীপুর প্রতিনিধি :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আবারও পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বকেয়া বেতনের বৃদ্ধি দাবিতে কালিয়াকৈর নবীননাগর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে উপজেলার আইরিশ নামক কারখানার শ্রমিকেরা এই বিক্ষোভ করছেন।
এদিকে চন্দ্রা নবীনাগর মহাসড়ক অবরোধ করলে উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন ওই মহাসড়ক ব্যবহারকারী যাত্রী ও চালকেরা। ঢাকা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলে চলাচলের একমাত্র সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আশপাশের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মালিকপক্ষ ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।

 

পুলিশ ও কারখানার শ্রমিকেরা জানান, কারখানার শ্রমিকদের যাদের চাকরির বয়স এক বছর হয়েছে তাদের বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি করার ঘোষণা দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে যাদের এক বছর পূর্ণ হয়নি সেসব শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবি তুলে রোববার সকালে শুরু করে আন্দোলন করেন। সার্ভিস বেনিফিট ও বেতন বৃদ্ধির সার্ভিস বেনিফিটের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন।

সোমবার সকালে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে পুনরায় দাবি নিয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে শ্রমিকরা কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন শিল্প পুলিশের সদস্যরা।
শিল্প পুলিশের সদস্যরা জানান, আইরিশ নামে এই কারখানার শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করে সড়ক অবরোধ করলে জিরানী বাজার এলাকার কমপক্ষে ১০-১২টি পোশাক তৈরির কারখানা একদিনের ছুটি দেয় কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক বলেন যাদের চাকরির বয়স এক বছর হয়েছে তাদের বেতন বৃদ্ধি হবে আর যাদের চাকরির বয়স ৮ মাস ১০ মাস হয়েছে তাদের হবে না এটা মেনে নেয়া যায় না বেতন বৃদ্ধি সবারই চাই। এদিকে মালিকপক্ষ তা মেনে নিতে পারছে না এজন্যই ফ্যাক্টরের শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধির আন্দোলন করছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু তালেব বলেন, বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আইরিশের শ্রমিকরা সোমবার সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের বিক্ষোভের কারণে আশপাশের কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাঁশখালী তীব্র স্রোতে ভেসে দুই শিশুর মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানির তীব্র স্রোতে ভেসে মিরাজ ও আশিক নামে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাহারচড়া ইউনিয়নের পৃথক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে আশিক বাহারচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা গ্রামের মেহের আলী বাড়ির প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে। অপর নিহত শিশু মিরাজ একই ইউনিয়নের রত্নপুর এলাকার বাসিন্দা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুই শিশু নিজ নিজ বাড়ির উঠানে বের হলে পূর্ব দিক থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল পানির স্রোতে ভেসে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাদের মৃত্যু হয়।

গাছ উপড়ে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সঞ্চালন লাইন চট্টগ্রামে বিদ্যুৎহীন বিভিন্ন উপজেলা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।কোথাও টানা দুইদিন, আবার কোথাও তিনদিন ধরে বিদ্যুৎহীন রয়েছে অনেক গ্রাম। এতে জনজীবনের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে তারা পড়াশোনা, অনলাইনে প্রয়োজনীয় নোট সংগ্রহ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার ৭১ হাজার ১১৬ জন পরীক্ষার্থী চরম বিপাকে পড়েছে।

জানা গেছে, কোথাও গাছ উপড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়েছে, কোথাও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার কোথাও তার ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।
তারা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের কাজ চলছে।দ্রুত সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামত করে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, সাবস্টেশন ও বিতরণ লাইনের অবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মাঠে একাধিক টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে।জানা গেছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারা, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, পটিয়া, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িতে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির, সাতকানিয়ার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় ৩৩ কেভি প্রধান সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা লাইন মেরামতের কাজ চালিয়ে গেলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না।সাতকানিয়া উপজেলায় গত বুধবার সকাল থেকে পল্লী বিদ্যুৎ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। টানা ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলার পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অধিকাংশ বাড়িতে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, পাওয়ার ব্যাংকসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের চার্জ শেষ হয়ে গেছে। জেনারেটরে চার্জ দিয়ে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। সড়কে হাঁটু সমান পানি মাড়িয়ে বাজারে যাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।আনোয়ারার বটতলী এলাকার বাসিন্দা মো. মামুনুল করিম জানান, ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন ছিলাম। মোবাইলে ছিল না নেটওয়ার্ক। বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যুৎ এসেছে।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় অনেকগুলো লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের প্রকৌশলী ও লাইনম্যানরা ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামত করে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় পানি জমে গেছে বা এখনও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে, সেখানে নিরাপদ পরিবেশ না পাওয়া পর্যন্ত মেরামতকাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে। এখন আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সব লাইনে মেরামত পর্যায়ক্রমে চলছে।

আলোচিত খবর

এইচএসসি-সমমান প্রথমদিন অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার -৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ১২০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে।০২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন।

অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জনকে। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৯৭, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৭৯৫, যশোর বোর্ডে দুই হাজার ৭৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজার ৩৪০, সিলেট বোর্ডে এক হাজার ১২৭, বরিশাল বোর্ডে এক হাজার ৩৪৬, দিনাজপুর বোর্ডে এক হাজার ৯৩৭ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে এক হাজার ১৪২ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ বিষয়ে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ১৩১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮৩ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে একজনকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ