আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

বিদেশ পাঠানোর কথা বলে ৩ কোটি টাকা নিয়ে উধাও

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ৩ কোটি টাকা নিয়ে উধাও দম্পতি।বিদেশে পাঠানো ও চাকরি দেওয়ার নাম করে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছেন এক দম্পতি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিয়ে মনিরুজ্জামান ও তার স্ত্রী সুকতারা বেগম গা ঢাকা দিয়েছেন।

 

৪ জানুয়ারি গোদাগাড়ীতে এক সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিকার চেয়েছেন এলাকার প্রতারিত ৩৫ জন নারী পুরুষ। তারা টাকা ফেরত পেতে পথে পথে ঘুরছেন। তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগও করছেন না ওই দম্পতি। টাকা ফেরত চাইলে মামলায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে ।

 

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগে জানা গেছে, মনিরুজ্জামান ও তার স্ত্রী বাসুদেবপুর হাইকেয়ার মোড়ের বাজারে একটি দোকানঘর ভাড়া নিয়ে তৈরি পোশাকের দোকান দেন। সেই সুবাদে এলাকার মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। মনিরুজ্জামান ও সুকতারা দম্পতি উদ্যোক্তা তৈরি, বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির ব্যবস্থা করা, স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেওয়া, বিদেশে লোক পাঠানো ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান, কাঁথা সেলাই করে ঢাকার বাজারে বিক্রি ও হাতের কাজ শেখানোর কথা বলে এলাকাবাসীকে আকৃষ্ট করেন।

প্রতারণার কৌশল হিসেবে এলাকাবাসীর কাছ থেকে টাকা জমা নেওয়া শুরু করেন। আবার জমা টাকার ওপর কয়েকজনকে এক দুই মাস কিছু কিছু পরিমাণে লাভ দেন।

ভুক্তভোগী শারমিন খাতুন অভিযোগে বলেন, মনিরুজ্জামান ও সুকতারা দম্পতি এলাকার ৩৫ জনকে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়ে ঋণের সমুদয় টাকা নিজের কাছে রেখে দেন। ভুক্তভোগীদের বলা হয় ঋণের টাকা তার কাছে নিরাপদে থাকবে এবং ঋণের কিস্তি তারাই পরিশোধ করবেন। মাঝখান থেকে ঋণ গ্রহীতারা মাসে মাসে ভাল অংকের লাভ পাবেন। এছাড়া এলাকার আরও কয়েকজনকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে মোটা অংকের টাকা নেন। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরির কথা বলে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বাসুদেবপুর এলাকায় জমি কিনে একটি পাকা বাড়ি তৈরি করেন।

 

ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, তারা এই দম্পতির প্রতারণার বিষয়টি টের পেয়ে টাকা ফেরতের জন্য তাগাদা দিতে থাকেন। কিন্তু নানা কৌশলে সে বুঝিয়ে সময়ক্ষেপন করেন। এদিকে গত ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পরপরই একদিন রাতের আঁধারে উধাও হয়ে যান মনিরুজ্জামান ও তার স্ত্রী সুকতারা বেগম। এরপর থেকেই তাদের ফোন বন্ধ হয়ে যায়।

ভুক্তভোগীরা টাকা উদ্ধারের জন্য গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গিয়ে তাদের সন্ধান পান। তবে টাকা উদ্ধার করতে পারেননি কেউ। উল্টো তাদেরকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়েছে। অবশেষে ভুক্তভোগীরা গোদাগাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

 

ভুক্তভোগীদের পক্ষে শারমিন খাতুন বলেন, আমরা টাকা ফেরত চাইতে গেলে আমাদেরকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রতারক এই দম্পতি অনেক মানুষকে সর্বস্বান্ত করে এলাকা থেকে উধাও হয়েছেন। মোবাইল ফোন নম্বর বদলে ফেলেছেন। ফলে তাদের সঙ্গে কোন প্রকার যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তারা প্রতারক দম্পতিকে গ্রেফতার করে আইনী প্রতিকারসহ টাকা ফেরত চান।

ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া মনিরুজ্জামান ও তার স্ত্রী সুকতারা বেগমের মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরগুলি বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে এই বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কালিয়াকৈরে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হাটুরিয়াচালা–লস্করচালা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আবারও একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাসুম নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহন কার্যক্রম চলছিল। শনিবার রাতে মাটি পরিবহনের সময় একটি ড্রাম ট্রাক চলাচলের সময় মাসুম নামে ওই যুবক ট্রাকের নিচে পড়ে যান। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর ডিসি হিলে এই কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে। তার আগেই যদি আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসী উপকৃত হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সরকার এ কাজে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাসব্যাপী চলছে। এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা ও পরিষ্কার করা। চট্টগ্রামে যেসব জায়গা বেশি অরক্ষিত, যেখানে ডেঙ্গু বেশি বিস্তার ঘটতে পারে সেগুলো আমরা পরিষ্কার করব এবং নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম আমরা গড়ে তুলব।
বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্কাউটের সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অংশ নেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে’ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ