আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন ‘ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি’র জমি অধিগ্রহণে ব্যয় প্রায় ৫২ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো ‘ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি’ প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগ নেয় সরকার। এজন্য নগরীর বাকলিয়ার কল্পলোক আবাসিক সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীর পাড়ে আড়াই একর ভূমি চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো। এতে জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ সব টাকা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এলএ শাখাকে প্রদান করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। কিন্তু জমির মালিকানা নিয়ে বাকলিয়ার জনৈক ব্যক্তি আদালতে মামলা করলে অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়ে যায় প্রকল্পটি। এরপর দ্বিতীয় দফায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মেরিন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য নগরীর বাকলিয়ায় অপর একটি জায়গা বাছাই করে। পরে সেটি অধিগ্রহণের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু সেটিরও মালিকানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। শেষমেষ এটিও মামলায় গড়ায়। পরে অবশ্য সব জটিলতা কাটিয়ে জায়গা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়।

 

এ প্রসঙ্গে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মহেন্দ্র চাকমা বলেন, আমরা ভূমি অধিগ্রহণ সমন্বয় করছি। এরপর গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সেখানে ভবন নির্মাণে কাজ করবে।
এদিকে প্রকল্প গ্রহণের এক দশকেও বাস্তবায়ন হয়নি চট্টগ্রামে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি) নির্মাণ কাজ। ভূমি সংক্রান্ত দুই দফায় জটিলতার কারণে এটি বাস্তবায়ন পিছিয়ে যায়।
প্রকল্পের সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে জমি সংক্রান্ত আর কোনো জটিলতা নেই। প্রকল্পের জন্য বাকলিয়ায় আড়াই একর ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এখন ইনস্টিটিউট অব মেরিন টকনোলজি’তে (আইএমটি) কী ধরনের প্রশিক্ষণ হবে, কোন কোন ট্রেডে পড়ানো হবে, তা নিয়ে পিজিবিলিটি স্টাডি চলছে। এসব কাজ শেষ হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন মাঠে গড়াবে।

 

জানা গেছে, এটি নির্মাণে নগরীর বাকলিয়া এলাকায় আড়াই একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। কিন্তু ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে যথাসময়ে ভূমি অধিগ্রহণ করা যায়নি। তাতে প্রকল্পটি হুমকির মুখে পড়ে। শেষমেষ জটিলতা কাটিয়ে সম্প্রতি প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বতীরে বন্দর থানা সংলগ্ন এলাকায় ১৯৫৮ সালে একটি মেরিন ইনস্টিটিউট গড়ে ওঠে। এটির নাম- বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (বিআইএমটি)। এখানে পড়াশোনা করেন ২ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী। ১০ একর জমির ওপর এই ইনস্টিটিউট অবস্থিত, যার তিন দিকেই শীতলক্ষ্যা নদী এবং ত্রিবেনী খাল অবস্থিত। এটি হল একটি সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, যেখানে মেরিন এবং শিপ বিল্ডিং প্রযুক্তিতে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে শিক্ষাদান করা হয়। বিআইএমটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নের জন্য চারটি পৃথক কোর্সও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

 

এছাড়াও একই বিষয়ে দুই বছর মেয়াদি ট্রেড কোর্স ও শর্ট কোর্স করা হয়। ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির জন্য মাধ্যমিক বা সমমান পাস হতে হয় এবং ট্রেড কোর্সে ভর্তির জন্য উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পাস হতে হয়। মূলত নারায়ণগঞ্জের আদলে চট্টগ্রামে ‘ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি’ নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করে স্বল্প খরচে দেশে-বিদেশে চাকরির সুযোগ পাবে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার সুযোগও রয়েছে।
বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, জার্মানি, জাপান, ইংল্যান্ড, কাতার, অস্ট্রেলিয়া, দুবাইয়ে চাকরির অবারিত সুযোগ থাকবে। এছাড়াও দেশি-বিদেশি জাহাজ, শিপ ইয়ার্ড ও ডক ইয়ার্ড,′ পাওয়ার প্লান্ট, ডিজাইন সেকশন, সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে কাজের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এখান থেকে খুব কম খরচে পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের উদীয়মান জাহাজ নির্মাণ শিল্পে এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে।

 

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে সারাদেশে ৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং চট্টগ্রামে ১টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন প্রকল্প গ্রহণ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। পুরো প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৬৬৭ কোটি ৭ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে ৪০টি টিটিসি নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে ১০ বছরেও শুরু করা যায়নি চট্টগ্রামে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি নির্মাণের কাজ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জেলা পরিষদের ৪২ প্রশাসক নিযুক্ত। 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (১৫ মার্চ) নিয়োগ দেওয়া পর  প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ফের অনিশ্চয়তায় সিসিসিআই নির্বাচন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠন চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) নির্বাচন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। দুপক্ষের আইনি বিরোধের কারণে উচ্চ আদালতের নির্দেশে নির্ধারিত ৪ এপ্রিলের নির্বাচনও স্থগিত হয়ে গেছে। তবে আদালত আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালকে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
তথ্যটি নিশ্চিত করে রিটকারী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বেলালের পক্ষে আইনজীবী আশফাকুর রহমান বলেন, আদালত আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালকে বিরোধ নিষ্পত্তি করে সিদ্ধান্ত দিতে বলেছেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশ আমলে না নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

চেম্বার সূত্রে জানা যায়, ৩ মার্চ প্রায় পাঁচ মাস স্থগিত থাকার পর চট্টগ্রাম চেম্বারের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের নতুন তফশিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তফশিল অনুযায়ী আগামী ৪ এপ্রিল নগরের আগ্রাবাদ এলাকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইনি মতামতের ভিত্তিতে সাধারণ ও সহযোগী গ্রুপের ১৮ জন পরিচালক নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে আদালতের নতুন আদেশে সেই নির্বাচনও স্থগিত হয়ে গেল।

এর আগে, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের আটটি সংগঠনকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল হাইকোর্টে রিট করেন এবং এফবিসিসিআইতেও অভিযোগ করেন।
রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ অক্টোবর হাইকোর্ট দুই শ্রেণিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে রুল জারি করেন এবং মন্ত্রণালয়ের ৪ সেপ্টেম্বরের চিঠির ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে আপিলের পর ৩০ অক্টোবর আদালত দুই সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিত করেন।

পরবর্তীতে গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ছয়টি টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের ছয় প্রতিনিধিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধেও আপিল করেন রিটকারী মোহাম্মদ বেলাল। সেই আপিলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত এফবিসিসিআইয়ের ট্রাইব্যুনালে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন এবং মৌখিকভাবে বলেন, ৪ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ৩ জন করে মোট ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এভাবে ২৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়। পরে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে একজন সভাপতি ও দুজন সহসভাপতি নির্বাচিত হন।এবার টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ছয়জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে ছিলেন। তবে দুপক্ষের আইনি বিরোধের কারণে নির্ধারিত সময়েও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং নতুন তফশিল ঘোষণার পরও তা আবার স্থগিত হয়ে গেছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ