আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন ‘ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি’র জমি অধিগ্রহণে ব্যয় প্রায় ৫২ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো ‘ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি’ প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগ নেয় সরকার। এজন্য নগরীর বাকলিয়ার কল্পলোক আবাসিক সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীর পাড়ে আড়াই একর ভূমি চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো। এতে জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ সব টাকা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এলএ শাখাকে প্রদান করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। কিন্তু জমির মালিকানা নিয়ে বাকলিয়ার জনৈক ব্যক্তি আদালতে মামলা করলে অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়ে যায় প্রকল্পটি। এরপর দ্বিতীয় দফায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মেরিন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য নগরীর বাকলিয়ায় অপর একটি জায়গা বাছাই করে। পরে সেটি অধিগ্রহণের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু সেটিরও মালিকানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। শেষমেষ এটিও মামলায় গড়ায়। পরে অবশ্য সব জটিলতা কাটিয়ে জায়গা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়।

 

এ প্রসঙ্গে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মহেন্দ্র চাকমা বলেন, আমরা ভূমি অধিগ্রহণ সমন্বয় করছি। এরপর গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সেখানে ভবন নির্মাণে কাজ করবে।
এদিকে প্রকল্প গ্রহণের এক দশকেও বাস্তবায়ন হয়নি চট্টগ্রামে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি) নির্মাণ কাজ। ভূমি সংক্রান্ত দুই দফায় জটিলতার কারণে এটি বাস্তবায়ন পিছিয়ে যায়।
প্রকল্পের সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে জমি সংক্রান্ত আর কোনো জটিলতা নেই। প্রকল্পের জন্য বাকলিয়ায় আড়াই একর ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এখন ইনস্টিটিউট অব মেরিন টকনোলজি’তে (আইএমটি) কী ধরনের প্রশিক্ষণ হবে, কোন কোন ট্রেডে পড়ানো হবে, তা নিয়ে পিজিবিলিটি স্টাডি চলছে। এসব কাজ শেষ হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন মাঠে গড়াবে।

 

জানা গেছে, এটি নির্মাণে নগরীর বাকলিয়া এলাকায় আড়াই একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। কিন্তু ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে যথাসময়ে ভূমি অধিগ্রহণ করা যায়নি। তাতে প্রকল্পটি হুমকির মুখে পড়ে। শেষমেষ জটিলতা কাটিয়ে সম্প্রতি প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বতীরে বন্দর থানা সংলগ্ন এলাকায় ১৯৫৮ সালে একটি মেরিন ইনস্টিটিউট গড়ে ওঠে। এটির নাম- বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (বিআইএমটি)। এখানে পড়াশোনা করেন ২ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী। ১০ একর জমির ওপর এই ইনস্টিটিউট অবস্থিত, যার তিন দিকেই শীতলক্ষ্যা নদী এবং ত্রিবেনী খাল অবস্থিত। এটি হল একটি সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, যেখানে মেরিন এবং শিপ বিল্ডিং প্রযুক্তিতে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে শিক্ষাদান করা হয়। বিআইএমটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নের জন্য চারটি পৃথক কোর্সও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

 

এছাড়াও একই বিষয়ে দুই বছর মেয়াদি ট্রেড কোর্স ও শর্ট কোর্স করা হয়। ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির জন্য মাধ্যমিক বা সমমান পাস হতে হয় এবং ট্রেড কোর্সে ভর্তির জন্য উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পাস হতে হয়। মূলত নারায়ণগঞ্জের আদলে চট্টগ্রামে ‘ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি’ নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করে স্বল্প খরচে দেশে-বিদেশে চাকরির সুযোগ পাবে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার সুযোগও রয়েছে।
বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, জার্মানি, জাপান, ইংল্যান্ড, কাতার, অস্ট্রেলিয়া, দুবাইয়ে চাকরির অবারিত সুযোগ থাকবে। এছাড়াও দেশি-বিদেশি জাহাজ, শিপ ইয়ার্ড ও ডক ইয়ার্ড,′ পাওয়ার প্লান্ট, ডিজাইন সেকশন, সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে কাজের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এখান থেকে খুব কম খরচে পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের উদীয়মান জাহাজ নির্মাণ শিল্পে এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে।

 

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে সারাদেশে ৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং চট্টগ্রামে ১টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন প্রকল্প গ্রহণ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। পুরো প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৬৬৭ কোটি ৭ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে ৪০টি টিটিসি নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে ১০ বছরেও শুরু করা যায়নি চট্টগ্রামে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি নির্মাণের কাজ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হলেন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার ১১৮ কর্মকর্তা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হলেন প্রশাসনের যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার ১১৮ কর্মকর্তা। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের সবাই বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই পদোন্নতির তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদোন্নতির আদেশে উল্লিখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর বা কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে তাকে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে। জনপ্রশাসন সচিবের কাছে সরাসরি বা ইমেইলে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে।

পদোন্নতি পাওয়া কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কোনো বিরূপ বা ভিন্নরূপ তথ্য পেলে তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন বা বাতিল করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে বড় পরিবর্তনবর্তমানে ২৮৫ জন অতিরিক্ত সচিব রয়েছেন। নতুন ১১৮ জনকে নিয়ে অতিরিক্ত সচিবরে সংখ্যা হয়েছে ৪০৩ জন। অতিরিক্ত সচিবের স্থায়ী পদের সংখ্যা ২১২ জন হওয়ায় পদোন্নতি পাওয়া বেশির ভাগ কর্মকর্তাকে আগের পদেই (ইনসিটু) কাজ করতে হবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের এই পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনেক যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তা আবারও বাদ পড়েছেন। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের বড় একটি অংশ এই তালিকায় জায়গা পাননি বলে জানা গেছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ