চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন ‘ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি’র জমি অধিগ্রহণে ব্যয় প্রায় ৫২ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো ‘ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি’ প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগ নেয় সরকার। এজন্য নগরীর বাকলিয়ার কল্পলোক আবাসিক সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীর পাড়ে আড়াই একর ভূমি চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো। এতে জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ সব টাকা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এলএ শাখাকে প্রদান করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। কিন্তু জমির মালিকানা নিয়ে বাকলিয়ার জনৈক ব্যক্তি আদালতে মামলা করলে অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়ে যায় প্রকল্পটি। এরপর দ্বিতীয় দফায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মেরিন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য নগরীর বাকলিয়ায় অপর একটি জায়গা বাছাই করে। পরে সেটি অধিগ্রহণের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু সেটিরও মালিকানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। শেষমেষ এটিও মামলায় গড়ায়। পরে অবশ্য সব জটিলতা কাটিয়ে জায়গা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়।

 

এ প্রসঙ্গে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মহেন্দ্র চাকমা বলেন, আমরা ভূমি অধিগ্রহণ সমন্বয় করছি। এরপর গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সেখানে ভবন নির্মাণে কাজ করবে।
এদিকে প্রকল্প গ্রহণের এক দশকেও বাস্তবায়ন হয়নি চট্টগ্রামে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি) নির্মাণ কাজ। ভূমি সংক্রান্ত দুই দফায় জটিলতার কারণে এটি বাস্তবায়ন পিছিয়ে যায়।
প্রকল্পের সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে জমি সংক্রান্ত আর কোনো জটিলতা নেই। প্রকল্পের জন্য বাকলিয়ায় আড়াই একর ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এখন ইনস্টিটিউট অব মেরিন টকনোলজি’তে (আইএমটি) কী ধরনের প্রশিক্ষণ হবে, কোন কোন ট্রেডে পড়ানো হবে, তা নিয়ে পিজিবিলিটি স্টাডি চলছে। এসব কাজ শেষ হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন মাঠে গড়াবে।

 

জানা গেছে, এটি নির্মাণে নগরীর বাকলিয়া এলাকায় আড়াই একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। কিন্তু ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে যথাসময়ে ভূমি অধিগ্রহণ করা যায়নি। তাতে প্রকল্পটি হুমকির মুখে পড়ে। শেষমেষ জটিলতা কাটিয়ে সম্প্রতি প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বতীরে বন্দর থানা সংলগ্ন এলাকায় ১৯৫৮ সালে একটি মেরিন ইনস্টিটিউট গড়ে ওঠে। এটির নাম- বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (বিআইএমটি)। এখানে পড়াশোনা করেন ২ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী। ১০ একর জমির ওপর এই ইনস্টিটিউট অবস্থিত, যার তিন দিকেই শীতলক্ষ্যা নদী এবং ত্রিবেনী খাল অবস্থিত। এটি হল একটি সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, যেখানে মেরিন এবং শিপ বিল্ডিং প্রযুক্তিতে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে শিক্ষাদান করা হয়। বিআইএমটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নের জন্য চারটি পৃথক কোর্সও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

 

এছাড়াও একই বিষয়ে দুই বছর মেয়াদি ট্রেড কোর্স ও শর্ট কোর্স করা হয়। ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির জন্য মাধ্যমিক বা সমমান পাস হতে হয় এবং ট্রেড কোর্সে ভর্তির জন্য উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পাস হতে হয়। মূলত নারায়ণগঞ্জের আদলে চট্টগ্রামে ‘ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি’ নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করে স্বল্প খরচে দেশে-বিদেশে চাকরির সুযোগ পাবে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার সুযোগও রয়েছে।
বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, জার্মানি, জাপান, ইংল্যান্ড, কাতার, অস্ট্রেলিয়া, দুবাইয়ে চাকরির অবারিত সুযোগ থাকবে। এছাড়াও দেশি-বিদেশি জাহাজ, শিপ ইয়ার্ড ও ডক ইয়ার্ড,′ পাওয়ার প্লান্ট, ডিজাইন সেকশন, সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে কাজের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এখান থেকে খুব কম খরচে পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের উদীয়মান জাহাজ নির্মাণ শিল্পে এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে।

 

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে সারাদেশে ৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং চট্টগ্রামে ১টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন প্রকল্প গ্রহণ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। পুরো প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৬৬৭ কোটি ৭ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে ৪০টি টিটিসি নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে ১০ বছরেও শুরু করা যায়নি চট্টগ্রামে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি নির্মাণের কাজ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষ্যে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে পেশেন্ট ফোরাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বন্দরনগরীর সর্ববৃহৎ হাসপাতাল এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম বিশ্ব স্ট্রোক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আজ (২৯ অক্টোবর) একটি পেশেন্ট ফোরাম ও সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করছে।

বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘এভরি মিনিট কাউন্টস’ কে সামনে রেখে অ্যাক্ট-ফাস্ট ক্যাম্পেইন শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মূলত স্ট্রোকের লক্ষণ সহজে চেনা এবং রোগীকে তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসার আওতায় আনাই এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য।

এ প্রসঙ্গে, এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের চিফ অপারেটিং অফিসার বিনয় কাউল বলেন, “স্ট্রোক এমন একটি জরুরি অবস্থা, যেখানে সময়ই সবচেয়ে বড় বন্ধু ও শত্রু হতে পারে। রোগীকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছালে তার সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়বে, এবং দেরি করলে বাড়বে ঝুঁকি। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে ভালোভাবে জানা ও করণীয় সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমরা বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষ্যে এই পেশেন্ট ফোরাম ও র‍্যালি আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করতে পারবো বলে আশা করছি।”

এভারকেয়ার হসপিটালস বাংলাদেশ-এর মেডিকেল সার্ভিসেস বিভাগের ডিরেক্টর ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, “এ বছরের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিটই অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। লক্ষণ বুঝতে দেরি হলে রোগীর সুস্থ হওয়া, এমনকি বেঁচে থাকার সুযোগও কমে যায়। আসুন সবার সম্মিলিত উদ্যোগে আমরা সাধারণ জনগণকে স্ট্রোক নিয়ে আরও সচেতন করে তুলি।”

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের নিউরোসার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটর ডা. মোঃ আনিসুল ইসলাম খান বলেন, স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছালে সার্জিক্যাল ইন্টারভেনশন বা থ্রম্বোলাইসিসের মতো চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ শনাক্ত করা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের নিউরোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটর ডা. সোমেন চৌধুরী বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতি চারজনের একজন স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকেন। মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা নিস্তেজ অনুভব করা, কথা জড়িয়ে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণগুলো সাধারণত স্ট্রোককে ইঙ্গিত করে। স্ট্রোক হলে প্রতি মিনিটেই মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হতে থাকে। সময়মতো হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিলে রোগীর প্রাণ বাঁচানো ও সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে—এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই এই আয়োজন।

পেশেন্ট ফোরামে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের চিফ অপারেটিং অফিসার বিনয় কাউল; মেডিকেল সার্ভিসেস বিভাগের ডিরেক্টর ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির; নিউরোসার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটর ডা. মোঃ আনিসুল ইসলাম খান; নিউরোসার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আমিনুর রহমান (আজাদ); নিউরোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট এন্ড কোঅর্ডিনেটর ডা. সোমেন চৌধুরী ও ডাঃ মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী, এ্যাটেন্ডিং কনসালট্যান্ট – নিউরোলজি।

পেশেন্ট ফোরাম শেষে আগত অতিথি, চিকিৎসক, মেডিকেল স্টাফস, রোগীর স্বজন ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ