আজঃ রবিবার ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামে আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য ১০ হাজার ৮১৮ টন, সংগ্রহ ১৪৬ দশমিক ১৬০ টন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে মিল মালিকরা বেকাদায় রয়েছে। বাজারে মোটা চালের দাম বাড়তি। বাজারে বর্তমানে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৬-৪৭ টাকা দরে। সরকারও মিলারদের কাছ থেকে আতপ চাল কিনছে ৪৬ টাকা দরে। এর বাইরে পরিবহন-শ্রমিক খরচ ও খাদ্য কর্মকর্তাদের উৎকোচ মিলে আরও ৩-৪ টাকা বাড়তি গুনতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মিলার বলেন, ৮৪ টন চালের বরাদ্দ পেয়েছি। এখনও চাল দিতে পারিনি। প্রতিকেজি ৩ টাকা করে হলেও ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে। তারপরও লাইসেন্স টিকিয়ে রাখার জন্য কিছু চাল সরকারকে দিতে হবে।
এদিকে আমনের ভরা মৌসুমে বাড়ছে চালের দাম। সরু চালের চেয়ে মোটা চালের দাম একটু বেশি বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ধীরগতিতে চলছে আমন সংগ্রহ। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সন্দিহান খাদ্য কর্মকর্তা ও মিলাররা।

সরেজমিনে নগরের চাক্তাই, পাহাড়তলী এবং জেলার রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানের ৫ মিল মালিকের সঙ্গে কথা হয়। তারা বললেন, সরকারের শর্ত মতে ‘মান’ বজায় রেখে চাল দিলে বেশি লোকসান গুনতে হয়। বড় লোকসানের ভয়ে খাদ্য অধিদপ্তর ও গুদাম কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে চাল দিতে হচ্ছে। চালের ধরন ও মানের উপর ভিত্তি করেই উৎকোচ গুনতে হচ্ছে।

খাদ্য বিভাগের তথ্য মতে, চলতি আমন মৌসুমে চট্টগ্রাম জেলায় আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৮ হাজার ৪৭৩ টন। ধান সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয় ১০ হাজার ৮১৮ টন। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ পর্যন্ত আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে চার হাজার ১৭৭ দশমিক ৫৪০ টন। সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে ৫৬৪ টন। ধান সংগ্রহ হয়েছে ১৪৬ দশমিক ১৬০ টন।
হালিশহর খাদ্য গুদামের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, বাজারে চালের দাম বাড়তি। তাই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সন্দেহ রয়েছে। আশা করছি, লক্ষ্য অর্জন সন্তোষজনক হবে। তিনি বলেন, সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্যের জোগান বাড়াতে অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করেছে খাদ্য অধিদপ্তর।

চট্টগ্রাম রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, চাল দিতে কষ্ট হচ্ছে। সরকারের বেঁধে দেওয়া দরে ধান ও চাল পাওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থায় অনেকেই চাল দিয়েছেন। এখন অন্যরা দিতে পারবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) মো. ফখরুল আলম বলেন, আমন সংগ্রহ কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে। এ পর্যন্ত ৫৫ শতাংশ সংগ্রহ হয়েছে। মিলাররা এখন লোকসানের কথা বলছেন। কিন্তু লাভের ক্ষেত্রে তো নীরবে চাল দেন।

জানা গেছে, আমন ও বোরো মৌসুমে মাঠ পর্যায় থেকে ধান-চাল সংগ্রহ করে সরকার। কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা হয়। চলতি আমন মৌসুমে সরকার প্রতিকেজি আতপ চাল কিনছে ৪৬ টাকা দরে। সিদ্ধ চাল কিনছে ৪৭ টাকায়। আর কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনছে ৩৩ টাকা করে। আমন ও বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ‘বকশিস’ প্রথা চলে আসছে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। চলে আসছে সেই বকশিস প্রথা। তবে খাদ্য বিভাগ ও গুদাম কর্মকর্তারা বকশিস বা উৎকোচের বিষয়ে এড়িয়ে যান।

বোয়ালখালীর কড়লডেঙ্গা এলাকার এক কৃষক জানান, খাদ্য গুদামে টাকা না দিলে ধান বিক্রিতে হয়রানির শিকার হতে হয়। টাকার (উৎকোচ) উপর ভিত্তি করে ধানের মানদণ্ড নির্ণয় করেন গুদাম কর্মকর্তারা। কৃষকের ধানের মতো উৎকোচের উপর নির্ভর করে চালের মানদণ্ড ও নির্ণয় করা হয় বলে জানান একাধিক মিল মালিক।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে আরো ২৩ শিশু হাসপাতালে : হামের উপসর্গ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ২৩ শিশুকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে শনিবার পর্যন্ত চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ৯২ শিশু চিকিৎসাধীন। আর হাম শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে।এরমধ্যে সম্প্রতি এক শিশু মারা গেছে।
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দৈনিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, শনিবার হাম শনাক্ত ও সন্দেহজনক ৯২ শিশু ভর্তি আছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে ১৯ শিশু।নতুন করে এদিন হাম পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে কেউ না এলেও এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে ৪১৩টি। এরমধ্যে এখন পর্যন্ত ৪১ জনের হাম শনাক্ত হয়।

গ্যাস সরবরাহ কম, জ্বালানি সংকট চাকা ঘুরছেনা চট্টগ্রামের ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রের, চরম ভোগান্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে, ফলে ভ্যাপসা গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়, এমনকি দেখা দিয়েছে পানির সংকটও।জ্বালানি সংকটের কারণে এসব বিদ্যাৎকেন্দ্রগুলোর চাকা বন্ধ রয়েছে। যার ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। উৎপাদন কমে আসলেও গরমের কারণ বাড়ছে চাহিদা। ফলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে বাড়ছে ভোগান্তি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বৈশাখ মাসের গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।ফটিকছড়ির ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলাম বলেন, দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। দোকানে অনলাইনভিত্তিক কাজ করতে হয়। বিদ্যুৎ ছাড়া কাজ করা যায় না। আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।পিডিবির চট্টগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান জানান, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া ও জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী লোডশেডিং কমবেশি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে এর মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। এর আগে বেলা ১১টায় চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান ১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য। পিডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ১১টায় ১১টি ও সন্ধ্যা ৭টায় ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ছিল শূন্যের কোঠায়। এরমধ্যে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সকাল-সন্ধ্যা উৎপাদনের বাইরে ছিল। এর মধ্যে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সকালে কিছু উৎপাদন মিললেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুটি।

বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত নির্ভর করছে কয়েকটি কেন্দ্রের ওপর। সন্ধ্যার হিসাব অনুযায়ী বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৬১২ মেগাওয়াট, শিকলবাহা কেন্দ্র থেকে ২১৮ মেগাওয়াট এবং মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার কেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে।

আলোচিত খবর

সমুদ্রপথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ক্যাডেটরা প্রস্তুত: চট্টগ্রামে নৌ পরিবহনমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেরিটাইম খাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের সক্ষমতা তুলে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে ২৮তম ব্যাচের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, শিক্ষা শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য শারীরিক ও মানসিক পূর্ণ বিকাশ।আপনারা শুধু ব্যক্তি নন, আপনারা জাতির সম্পদ। বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে গিয়ে আপনারা বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরবেন, দেশের সক্ষমতা ও স্মার্টনেস প্রদর্শন করবেন।যারা এই কোর্স সম্পন্ন করে সমুদ্রে যাবেন, তারা নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শিখেছেন। জাহাজ ব্যবস্থাপনা কিংবা নৌ চলাচল-যেখানেই থাকুন না কেন, দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশই জলভাগ, যা একসময় ছিল দুর্গম। তবে আধুনিক বিশ্ব সেই সীমাবদ্ধতা জয় করেছে।

কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, একমাত্র অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষা অনেক সময় বেকারত্ব তৈরি করে। এর বিপরীতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেয়। ১৯৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত মেরিটাইম প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থেকে ইতোমধ্যে হাজারো দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে এই খাত আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের উদ্দেশে তিনি স্বাস্থ্য সচেতনতার কথাও উল্লেখ করেন। দীর্ঘসময় রোদে প্যারেড করার কারণে সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া অনুষ্ঠানে মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন। পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজ ও দক্ষতা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ