আজঃ শনিবার ২ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য ১০ হাজার ৮১৮ টন, সংগ্রহ ১৪৬ দশমিক ১৬০ টন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে মিল মালিকরা বেকাদায় রয়েছে। বাজারে মোটা চালের দাম বাড়তি। বাজারে বর্তমানে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৬-৪৭ টাকা দরে। সরকারও মিলারদের কাছ থেকে আতপ চাল কিনছে ৪৬ টাকা দরে। এর বাইরে পরিবহন-শ্রমিক খরচ ও খাদ্য কর্মকর্তাদের উৎকোচ মিলে আরও ৩-৪ টাকা বাড়তি গুনতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মিলার বলেন, ৮৪ টন চালের বরাদ্দ পেয়েছি। এখনও চাল দিতে পারিনি। প্রতিকেজি ৩ টাকা করে হলেও ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে। তারপরও লাইসেন্স টিকিয়ে রাখার জন্য কিছু চাল সরকারকে দিতে হবে।
এদিকে আমনের ভরা মৌসুমে বাড়ছে চালের দাম। সরু চালের চেয়ে মোটা চালের দাম একটু বেশি বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ধীরগতিতে চলছে আমন সংগ্রহ। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সন্দিহান খাদ্য কর্মকর্তা ও মিলাররা।

সরেজমিনে নগরের চাক্তাই, পাহাড়তলী এবং জেলার রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানের ৫ মিল মালিকের সঙ্গে কথা হয়। তারা বললেন, সরকারের শর্ত মতে ‘মান’ বজায় রেখে চাল দিলে বেশি লোকসান গুনতে হয়। বড় লোকসানের ভয়ে খাদ্য অধিদপ্তর ও গুদাম কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে চাল দিতে হচ্ছে। চালের ধরন ও মানের উপর ভিত্তি করেই উৎকোচ গুনতে হচ্ছে।

খাদ্য বিভাগের তথ্য মতে, চলতি আমন মৌসুমে চট্টগ্রাম জেলায় আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৮ হাজার ৪৭৩ টন। ধান সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয় ১০ হাজার ৮১৮ টন। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ পর্যন্ত আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে চার হাজার ১৭৭ দশমিক ৫৪০ টন। সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে ৫৬৪ টন। ধান সংগ্রহ হয়েছে ১৪৬ দশমিক ১৬০ টন।
হালিশহর খাদ্য গুদামের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, বাজারে চালের দাম বাড়তি। তাই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সন্দেহ রয়েছে। আশা করছি, লক্ষ্য অর্জন সন্তোষজনক হবে। তিনি বলেন, সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্যের জোগান বাড়াতে অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করেছে খাদ্য অধিদপ্তর।

চট্টগ্রাম রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, চাল দিতে কষ্ট হচ্ছে। সরকারের বেঁধে দেওয়া দরে ধান ও চাল পাওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থায় অনেকেই চাল দিয়েছেন। এখন অন্যরা দিতে পারবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) মো. ফখরুল আলম বলেন, আমন সংগ্রহ কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে। এ পর্যন্ত ৫৫ শতাংশ সংগ্রহ হয়েছে। মিলাররা এখন লোকসানের কথা বলছেন। কিন্তু লাভের ক্ষেত্রে তো নীরবে চাল দেন।

জানা গেছে, আমন ও বোরো মৌসুমে মাঠ পর্যায় থেকে ধান-চাল সংগ্রহ করে সরকার। কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা হয়। চলতি আমন মৌসুমে সরকার প্রতিকেজি আতপ চাল কিনছে ৪৬ টাকা দরে। সিদ্ধ চাল কিনছে ৪৭ টাকায়। আর কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনছে ৩৩ টাকা করে। আমন ও বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ‘বকশিস’ প্রথা চলে আসছে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। চলে আসছে সেই বকশিস প্রথা। তবে খাদ্য বিভাগ ও গুদাম কর্মকর্তারা বকশিস বা উৎকোচের বিষয়ে এড়িয়ে যান।

বোয়ালখালীর কড়লডেঙ্গা এলাকার এক কৃষক জানান, খাদ্য গুদামে টাকা না দিলে ধান বিক্রিতে হয়রানির শিকার হতে হয়। টাকার (উৎকোচ) উপর ভিত্তি করে ধানের মানদণ্ড নির্ণয় করেন গুদাম কর্মকর্তারা। কৃষকের ধানের মতো উৎকোচের উপর নির্ভর করে চালের মানদণ্ড ও নির্ণয় করা হয় বলে জানান একাধিক মিল মালিক।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মহান মে দিবসে চসিক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক ইউনিয়ন ২১-এর আলোচনা সভা ও বিশাল র‍্যালি অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মহান মে দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) জাতীয়তাবাদী শ্রমিক ইউনিয়ন ২১-এর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও বিশাল র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে র‍্যালিটি নাসিমন ভবনে গিয়ে শেষ হয়।সংগঠনের সভাপতি দিদারুল আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মোঃ সেলিম ভুইঞা, মোঃ বশির,শাহেদ আলম, মাবুদ, নাছির, শাহ আলম,মোঃজামশেদ, মহিউদ্দিন, মোঃমফজ্জল,হেদায়েত উল্ল্যা মোঃইসমাইলসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সাইফুল ও সোমনাথ রাজু। এছাড়াও শ্রমিক ইউনিয়নের অসংখ্য নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।সভায় বক্তারা বলেন, মহান মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের প্রেরণার উৎস। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

শিক্ষা বিভাগে আগুনের ঘটনার পেছনে কারা জড়িত? দেখা যাক তদন্তে কি বেড়িয়ে আসছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগে আগুনের ঘটনার পেছনে কারা জড়িত? দেখা যাক তদন্তে কি বেড়িয়ে আসছে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ