আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য ১০ হাজার ৮১৮ টন, সংগ্রহ ১৪৬ দশমিক ১৬০ টন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে মিল মালিকরা বেকাদায় রয়েছে। বাজারে মোটা চালের দাম বাড়তি। বাজারে বর্তমানে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৬-৪৭ টাকা দরে। সরকারও মিলারদের কাছ থেকে আতপ চাল কিনছে ৪৬ টাকা দরে। এর বাইরে পরিবহন-শ্রমিক খরচ ও খাদ্য কর্মকর্তাদের উৎকোচ মিলে আরও ৩-৪ টাকা বাড়তি গুনতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মিলার বলেন, ৮৪ টন চালের বরাদ্দ পেয়েছি। এখনও চাল দিতে পারিনি। প্রতিকেজি ৩ টাকা করে হলেও ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে। তারপরও লাইসেন্স টিকিয়ে রাখার জন্য কিছু চাল সরকারকে দিতে হবে।
এদিকে আমনের ভরা মৌসুমে বাড়ছে চালের দাম। সরু চালের চেয়ে মোটা চালের দাম একটু বেশি বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ধীরগতিতে চলছে আমন সংগ্রহ। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সন্দিহান খাদ্য কর্মকর্তা ও মিলাররা।

সরেজমিনে নগরের চাক্তাই, পাহাড়তলী এবং জেলার রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানের ৫ মিল মালিকের সঙ্গে কথা হয়। তারা বললেন, সরকারের শর্ত মতে ‘মান’ বজায় রেখে চাল দিলে বেশি লোকসান গুনতে হয়। বড় লোকসানের ভয়ে খাদ্য অধিদপ্তর ও গুদাম কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে চাল দিতে হচ্ছে। চালের ধরন ও মানের উপর ভিত্তি করেই উৎকোচ গুনতে হচ্ছে।

খাদ্য বিভাগের তথ্য মতে, চলতি আমন মৌসুমে চট্টগ্রাম জেলায় আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৮ হাজার ৪৭৩ টন। ধান সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয় ১০ হাজার ৮১৮ টন। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ পর্যন্ত আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে চার হাজার ১৭৭ দশমিক ৫৪০ টন। সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে ৫৬৪ টন। ধান সংগ্রহ হয়েছে ১৪৬ দশমিক ১৬০ টন।
হালিশহর খাদ্য গুদামের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, বাজারে চালের দাম বাড়তি। তাই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সন্দেহ রয়েছে। আশা করছি, লক্ষ্য অর্জন সন্তোষজনক হবে। তিনি বলেন, সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্যের জোগান বাড়াতে অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করেছে খাদ্য অধিদপ্তর।

চট্টগ্রাম রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, চাল দিতে কষ্ট হচ্ছে। সরকারের বেঁধে দেওয়া দরে ধান ও চাল পাওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থায় অনেকেই চাল দিয়েছেন। এখন অন্যরা দিতে পারবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) মো. ফখরুল আলম বলেন, আমন সংগ্রহ কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে। এ পর্যন্ত ৫৫ শতাংশ সংগ্রহ হয়েছে। মিলাররা এখন লোকসানের কথা বলছেন। কিন্তু লাভের ক্ষেত্রে তো নীরবে চাল দেন।

জানা গেছে, আমন ও বোরো মৌসুমে মাঠ পর্যায় থেকে ধান-চাল সংগ্রহ করে সরকার। কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা হয়। চলতি আমন মৌসুমে সরকার প্রতিকেজি আতপ চাল কিনছে ৪৬ টাকা দরে। সিদ্ধ চাল কিনছে ৪৭ টাকায়। আর কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনছে ৩৩ টাকা করে। আমন ও বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ‘বকশিস’ প্রথা চলে আসছে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। চলে আসছে সেই বকশিস প্রথা। তবে খাদ্য বিভাগ ও গুদাম কর্মকর্তারা বকশিস বা উৎকোচের বিষয়ে এড়িয়ে যান।

বোয়ালখালীর কড়লডেঙ্গা এলাকার এক কৃষক জানান, খাদ্য গুদামে টাকা না দিলে ধান বিক্রিতে হয়রানির শিকার হতে হয়। টাকার (উৎকোচ) উপর ভিত্তি করে ধানের মানদণ্ড নির্ণয় করেন গুদাম কর্মকর্তারা। কৃষকের ধানের মতো উৎকোচের উপর নির্ভর করে চালের মানদণ্ড ও নির্ণয় করা হয় বলে জানান একাধিক মিল মালিক।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জেলা পরিষদের ৪২ প্রশাসক নিযুক্ত। 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (১৫ মার্চ) নিয়োগ দেওয়া পর  প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ