আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

চউক’র অনুমোদন বাণিজ্যিক ভবন

নিজস্ব প্রতিবেদক

তৈরি হচ্ছে হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের মেহেদীবাগে একটি ভবন নির্মাণে নিয়ম না মানার বিষয়টি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) এর তদন্তে ওঠে এসেছে। মূলত চউক আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিলেও সেখানে তৈরি হচ্ছে হাসপাতাল। তবে এ বিষয়ে বারবার অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেনা চউক। বৃহস্পতিবার সকালে নগরের মেহেদীবাগ এলাকার নিজ বাড়ির সামনে এক

সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী মো. শহীদ উল্লাহ। নিয়মবহির্ভূত নির্মাণাধীন বহুতল ওই ভবনের পাশেই ‘আনোয়ারা ম্যানসন’ নামে একটি চারতলা ভবনের মালিক তিনি।অভিযুক্তরা হলেন, নগরের চকবাজার থানার মেহেদীবাগ এলাকার মৃত মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. মনজুরুল ইসলাম, মো. মফিজুল ইসলাম, মো. নজরুল ইসলাম, নুর আক্তার বানু বেগম, হোসনে আরা বেগম প্রমুখ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলছেন, হাসপাতাল হলে এই সড়কে যানজট বাড়বে। তাছাড়া এমন এলাকায় হাসপাতাল করলে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মান ব্যাহত হবে। শুধু তাই নয়, নকশা এবং ইমারত বিধিমালা না মেনে ভবন নির্মাণের ফলে যেকোনো বড় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির শঙ্কাও তৈরি হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ভবন মালিক মো. মনজুরুল ইসলামের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি দীর্ঘদিন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন দাবি করে বলেন, আমি ঠিকভাবে হাঁটাচলাও করতে পারি না। চউক’র কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছিলাম। এসব আমার মেয়ের স্বামী সরোয়ার দেখে। অভিযোগ সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারছি না এখন। আমি আমার মেয়ের স্বামীর সাথে আলোচনা করব এ বিষয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শহীদ উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, মূলত আমার চারতলা ভবনটি মেহেদীবাগ ৭০৯/বি সড়কে। যেটি আমার বাবা ১৯৭৫ সালে নির্মাণ করেছিলেন। আমাদের সামনে দুটো প্লট রয়েছে। যারমধ্য দিয়ে ৮ ফুট একটি রাস্তা আমাদের মালিকানাধীন। এই রাস্তার বাম পাশেই ১৪ তলা র‌্যাঙ্কন ভবন আছে। আর ডান পাশে একটি ১০তলা আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবন সিডিএ’র অনুমোদিত নকশায় নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু ভবনের নির্মাণকাজ নকশার অনুমোদনের বাইরে গিয়ে করা হচ্ছে, যা ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন।
ওই ভবন নির্মাণকাজের জন্য তার ভবন মারাত্মক হুমকির মুখে উল্লেখ করে বলেন, তারা এমনভাবে ভবন নির্মাণ করছে যাতে আমাদের যাতায়াতের রাস্তার সীমানা বরাবর ওদের স্থাপনা চলে আসে। নাগরিক বিবেচনায় আলো-বাতাস চলাচল,

ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডসহ অন্যান্য দুর্ঘটনার জন্য যা মারাত্মক হুমকি। এ বিষয়ে গতবছরের ২৫ জুলাই আমি সিডিএ’তে অভিযোগ দিই। এছাড়া আমি পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় কাউন্সিলরকেও একই অভিযোগ দিয়েছি। সবশেষ একইবছরের ২৫ নভেম্বর চউকে আমি আরও একটি অভিযোগ দিই। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিডিএ নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের একটি কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, এখন পর্যন্ত চউক এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো আলামত দেখছি না। চউক চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করেও আমি এ বিষয়ে অবগত করেছি। কিন্তু আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে। নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি সিডিএকে আবেদন জানান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কিংবা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে নির্মাণাধীন ওই দশ তলা ভবন মালিকদের দেওয়া চউক’র ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, চউক কর্তৃক যে ১তলা আবাসিক-কাম-বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল তার শর্ত অমান্য করেই নির্মাণ কাজ চলছে। যেটি সরেজমিন তদন্তে সংস্থাটি প্রমাণ পেয়েছে। ভবনের নিচতলায় তিন পাশে যে পরিমাণ জায়গা খালি রেখে স্থাপনা করার কথা তা রাখা হয়নি। এছাড়া দ্বিতীয় থেকে ১০তলা পর্যন্তও একই কাজ করা

হয়েছে। তাছাড়া আবাসিক-কাম-বাণিজ্যিক ভবনের অনুমতি নিয়ে হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার এবং এরজন্য ভবন লাগোয়া একটি সিঁড়িও নির্মাণ করছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ বিষয়ে ৭ দিনের মধ্যে তাদের কারণ দর্শাতে বলা হয়। এছাড়া কাজ বন্ধ না রাখলে আইনানুগ গ্রহণের কথাও বলা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু ৪৬ বছরে পা রাখলো মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের ৪৬ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো মনিরুজ্জামান। এতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিভিশনাল ডিরেক্টর ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ.এম. রায়হান উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. হাফিজুল ইসলাম। হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো.ইয়াছিন আরাফাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবুন নেসা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান (মিজান) এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক।

সেমিনারে বক্তারা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের সঠিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তারা বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. তাহমিদ জুনায়েদ মাহমুদ, ডা. সাফওয়ান মাহমুদ, মার্কেটিং ম্যানেজার রতন কুমার নাথ, বিডিএম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী, সার্ভিস ম্যানেজার লুৎফুর রহমান, আই টি ম্যানেজার মোঃ উছা, সহকারী ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে জব্দ ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক সিগারেটের চালান জব্দ করা হয়েছে। মাস্কাট থেকে আগত সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. শামসুদ্দিনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৮০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক আগমন হলের ১ নম্বর লাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় আরও ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। রোববার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক আগমন হলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, জব্দ করা সিগারেট থেকে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত সিগারেট ও ল্যাপটপ ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম মূল্যে জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক যাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ