আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চউক’র অনুমোদন বাণিজ্যিক ভবন

নিজস্ব প্রতিবেদক

তৈরি হচ্ছে হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের মেহেদীবাগে একটি ভবন নির্মাণে নিয়ম না মানার বিষয়টি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) এর তদন্তে ওঠে এসেছে। মূলত চউক আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিলেও সেখানে তৈরি হচ্ছে হাসপাতাল। তবে এ বিষয়ে বারবার অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেনা চউক। বৃহস্পতিবার সকালে নগরের মেহেদীবাগ এলাকার নিজ বাড়ির সামনে এক

সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী মো. শহীদ উল্লাহ। নিয়মবহির্ভূত নির্মাণাধীন বহুতল ওই ভবনের পাশেই ‘আনোয়ারা ম্যানসন’ নামে একটি চারতলা ভবনের মালিক তিনি।অভিযুক্তরা হলেন, নগরের চকবাজার থানার মেহেদীবাগ এলাকার মৃত মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. মনজুরুল ইসলাম, মো. মফিজুল ইসলাম, মো. নজরুল ইসলাম, নুর আক্তার বানু বেগম, হোসনে আরা বেগম প্রমুখ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলছেন, হাসপাতাল হলে এই সড়কে যানজট বাড়বে। তাছাড়া এমন এলাকায় হাসপাতাল করলে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মান ব্যাহত হবে। শুধু তাই নয়, নকশা এবং ইমারত বিধিমালা না মেনে ভবন নির্মাণের ফলে যেকোনো বড় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির শঙ্কাও তৈরি হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ভবন মালিক মো. মনজুরুল ইসলামের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি দীর্ঘদিন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন দাবি করে বলেন, আমি ঠিকভাবে হাঁটাচলাও করতে পারি না। চউক’র কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছিলাম। এসব আমার মেয়ের স্বামী সরোয়ার দেখে। অভিযোগ সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারছি না এখন। আমি আমার মেয়ের স্বামীর সাথে আলোচনা করব এ বিষয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শহীদ উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, মূলত আমার চারতলা ভবনটি মেহেদীবাগ ৭০৯/বি সড়কে। যেটি আমার বাবা ১৯৭৫ সালে নির্মাণ করেছিলেন। আমাদের সামনে দুটো প্লট রয়েছে। যারমধ্য দিয়ে ৮ ফুট একটি রাস্তা আমাদের মালিকানাধীন। এই রাস্তার বাম পাশেই ১৪ তলা র‌্যাঙ্কন ভবন আছে। আর ডান পাশে একটি ১০তলা আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবন সিডিএ’র অনুমোদিত নকশায় নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু ভবনের নির্মাণকাজ নকশার অনুমোদনের বাইরে গিয়ে করা হচ্ছে, যা ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন।
ওই ভবন নির্মাণকাজের জন্য তার ভবন মারাত্মক হুমকির মুখে উল্লেখ করে বলেন, তারা এমনভাবে ভবন নির্মাণ করছে যাতে আমাদের যাতায়াতের রাস্তার সীমানা বরাবর ওদের স্থাপনা চলে আসে। নাগরিক বিবেচনায় আলো-বাতাস চলাচল,

ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডসহ অন্যান্য দুর্ঘটনার জন্য যা মারাত্মক হুমকি। এ বিষয়ে গতবছরের ২৫ জুলাই আমি সিডিএ’তে অভিযোগ দিই। এছাড়া আমি পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় কাউন্সিলরকেও একই অভিযোগ দিয়েছি। সবশেষ একইবছরের ২৫ নভেম্বর চউকে আমি আরও একটি অভিযোগ দিই। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিডিএ নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের একটি কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, এখন পর্যন্ত চউক এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো আলামত দেখছি না। চউক চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করেও আমি এ বিষয়ে অবগত করেছি। কিন্তু আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে। নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি সিডিএকে আবেদন জানান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কিংবা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে নির্মাণাধীন ওই দশ তলা ভবন মালিকদের দেওয়া চউক’র ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, চউক কর্তৃক যে ১তলা আবাসিক-কাম-বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল তার শর্ত অমান্য করেই নির্মাণ কাজ চলছে। যেটি সরেজমিন তদন্তে সংস্থাটি প্রমাণ পেয়েছে। ভবনের নিচতলায় তিন পাশে যে পরিমাণ জায়গা খালি রেখে স্থাপনা করার কথা তা রাখা হয়নি। এছাড়া দ্বিতীয় থেকে ১০তলা পর্যন্তও একই কাজ করা

হয়েছে। তাছাড়া আবাসিক-কাম-বাণিজ্যিক ভবনের অনুমতি নিয়ে হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার এবং এরজন্য ভবন লাগোয়া একটি সিঁড়িও নির্মাণ করছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ বিষয়ে ৭ দিনের মধ্যে তাদের কারণ দর্শাতে বলা হয়। এছাড়া কাজ বন্ধ না রাখলে আইনানুগ গ্রহণের কথাও বলা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ