আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

সাবেক মেয়র লিটনের পরিত্যক্ত বাড়ীতে এখন কি হচ্ছে ?

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

সাবেক মেয়র লিটনের পরিত্যক্ত বাড়ীতে কি হচ্ছে??আত্মগোপনে রয়েছেন রাজশাহীর সাবেক সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। মহানগরীর উপশহরে তার বাড়িটির দরজা-জানালাও খুলে নেওয়া হয়েছে। পরিত্যক্ত সেই বাড়িটি এখন জিম্মিকেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। সেখানে এক কলেজছাত্রকে আটকে রেখে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করেছেন চার তরুণ।

 

বৃহস্পতিবার ১৬/১/২৫ সন্ধ্যায় খবর পেয়ে পুলিশ এই চারজনকে আটক করে থানায় নিয়েছে। তারা মহানগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী কলেজছাত্রের দাবি, আটক ওই চার তরুণ তার কাছে নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়েছিলেন।

আটক চারজন হলেন- শাহাদাত হোসেন, আকাশ হোসেন, জাহিদুল ইসলাম ও রাইফুল রাহিম। শাহাদাতের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। অন্য তিনজনের বাড়ি নাটোর সদরে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম ফাহিম হোসেন জীম। তিনি রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের ছাত্র।

আটক শাহাদাত হোসেন মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আটকের সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি সমন্বয়ক না, রাজশাহী কলেজের সাধারণ স্টুডেন্ট। আমি কোনো টাকা-পয়সা দাবি করিনি। আমি শুধু ওকে (জীমকে) বলেছি, তোমার বন্ধু ছাত্রলীগ তাকে এনে দাও।

অন্ধকারে পরিত্যক্ত বাসায় কেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যখন আসি তখন অন্ধকার ছিল না।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফাহিম হোসেন জীম বলেন, আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার পদত্যাগ পর্যন্ত আমি আন্দোলনে ছিলাম। কিছুদিন ধরে আমাকে বার বার কল করা হচ্ছিল। বলা হচ্ছিল, আমি নাকি ছাত্রলীগ করি। আমি মহানগর ভবনের সামনে

ছিলাম। সেখান থেকে আমাকে তুলে আনা হয়েছে। আনার পরে মারধর করে। বলে, আমার সঙ্গে নাকি ছাত্রলীগের যোগাযোগ আছি। তারা আমার কাছে চাঁদাও দাবি করেছিল। পরে আমি আমার দুজন বন্ধুকে ডাকলাম। আমার বন্ধুরা এসে লোকজন ডেকে আমাকে উদ্ধার করল।

জীমকে উদ্ধারে গিয়েছিলেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান কাফি। তার বাড়ি উপশহরেই। কাফি বলেন, আমরা খবর পাই যে সাবেক মেয়রের পরিত্যক্ত বাড়ির গ্যারেজে এক ছাত্রকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। তার কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।

কাফি বলেন, আমরা গিয়ে দেখি, ওই ছাত্রকে গ্যারেজে অন্ধকারের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে। আমি ওই চারজনের পরিচয় জানতে চাই। তখন তারা নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দেয়। বলে, ওপরের নির্দেশ আছে এই ছেলেকে ধরার জন্য। তার বন্ধু ছাত্রলীগ করে। একে ধরলে তার বন্ধুকে পাওয়া যাবে। আমি তাদের কাছে ওপরের নির্দেশটিই দেখতে চাই। কিন্তু তারা কোনো নির্দেশনা দেখাতে পারেনি। এরই মধ্যে পুলিশ চলে আসে। পুলিশ তাদের নিয়ে গেছে।

কাফি বলেন, এরা যে ছেলেটিকে ধরে আনে সে ছাত্রলীগ না। মোবাইলে ছবি দেখলাম সে নিজেই আন্দোলনে ছিল। ছেলেটির কাছে প্রথমে দেড় লাখ এবং পরে এক লাখ টাকা দাবি করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওই চারজন নিজেদের তাহাস নূর নামে একজনের লোক বলে পরিচয় দেয়। তাহাস ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের নিয়ে নগর ভবন পাহারার দায়িত্বে ছিলেন।

তাহাস নূর রাজশাহী কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি। ওই চারজন আন্দোলনের সময় আমার সঙ্গে ছিল। আমরা একসঙ্গে নগর ভবন পাহারা দিয়েছি। তারা আমাকে জানায় যে- তারা একজন ছাত্রলীগকে ধরেছে। আমি তাদেরকে পুলিশে দেওয়ার জন্য বলেছিলাম। পরে কী হয়েছে সেটা আমি বলতে পারব না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক জিকেএম মেশকাত চৌধুরী মিশু বলেন, তাহাসের সঙ্গে আমার ৫ আগস্টের পর পরিচয়। সে শিক্ষার্থীদের নিয়ে নগর ভবন পাহারা দিত। তার ছেলেরা কাউকে জিম্মি করেছিল, এমন কোনো খবর আমি পাইনি।

মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ বলেন, শুনলাম যে সমন্বয়ক পরিচয়ে এক কলেজছাত্রকে সাবেক মেয়রের পরিত্যক্ত বাসায় আটকে রাখা হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে ছেলেটিকে উদ্ধার করেছে। চারজনকে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী ছেলেটি চাইলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। আমরা মামলা গ্রহণ করব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গরু চুরিতে গণপিটুনির শিকার যুবকের মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনির শিকার এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।মঙ্গলবার (২ জুন) ভোররাতে উপজেলার গোহালবাড়ি ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ফিরোজ আলী (৪০) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পিটিআই কলেজ বস্তি এলাকার মৃত নুর নবীর ছেলে। তবে তিনি গত পাঁচ বছর ধরে শ্বশুরবাড়ি গোহালবাড়ি গ্রামে বসবাস করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গোয়ালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. এমরান হোসেনের গোয়ালঘরে গরু চুরির চেষ্টা হচ্ছে বলে পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ করেন। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে ফিরোজ আলীকে আটক করা হয়। পরে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজ আলীকে উদ্ধার করে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে তিনি মারা যান।খবর পেয়ে ভোলাহাট থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

ভোলাহাট থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ৪জন গ্রেপ্তার: ২টি মাটি ভর্তি ট্র‍্যাক্টর জব্দ 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে পদ্মার নদীর বাঁধ এলাকায় রাত দিন ২৪ ঘন্টা কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ৪জন কে গ্রেপ্তার ও মাটি পরিবহনের দায়ে মাটি ভর্তি ২টি ট্র‍্যাক্টর জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার সুন্দরপুর পদ্মা নদীর বাঁধ এলাকায় সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাব্বির আহমেদ রোবেল এর নেতৃত্ব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মোবাইল কোটের মাধ্যমে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত-২০২৩) অনুয়ায়ী কারাদন্ড প্রদান করা হয়। দন্ডিত ব্যাক্তিদের একজনকে ২০ দিনের, একজনকে ১৫ দিনের ও দুইজনকে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদীর ৫.৬.৭ ও ৮ নম্বার বাঁধে এলাকায় একটি চক্র রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও পুলিশকে ম্যানেজ করে রাত দিন প্রকাশ্য মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে। মাটিবাহী ট্রলি ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে পাকা সড়ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন ঘটনার সত‍্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কৃষি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা শুধু কৃষির ক্ষতিই করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় হুমকি সৃষ্টি করে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ