রুয়েট প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছে ছাত্ররা

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  1. ৯ দফা দাবিতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করছেন। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় এই কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

    জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা সকালে পুরকৌশল অনুষদের ডিন কামরুজ্জামান রিপনের রুম ও প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন। এরপর তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে, উপাচার্যের উপস্থিতিতে ৯ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। উপাচার্য দাবি মানার আশ্বাস দিলেও তারা তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক ঘোষণা চান। শিক্ষার্থীরা রুয়েট মেইন গেটেও তালা দিয়েছেন। মিটিং থেকে আশানুরূপ সিদ্ধান্ত না আসায় কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা দিয়েছেন তারা। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় উপাচার্যের দফতরে জরুরি মিটিং করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- পরবর্তী সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার খাতায় কোডিং সিস্টেম চালু করতে হবে এবং এ বিষয়ক প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে যাতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়; সেমিস্টারের রেজাল্ট ও গ্রেডশিট দ্রুত প্রকাশ করতে হবে এবং খাতা রিভিউ করার সুযোগ দেওয়া; যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বিভিন্ন অভিযোগ আছে, তাদের অনতিবিলম্বে সাময়িক বহিষ্কার এবং অতিদ্রুত তদন্তের সাপেক্ষে স্থায়ী বহিষ্কার করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া ছাত্রলীগের পোস্টেড নেতা সৌমিক, লতিফসহ আরও যারা ছিল তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।

     

    শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা নিশ্চিত করা এবং ৩-৪ দিন ক্লাস নিয়ে পুরো সেমিস্টারের উপস্থিতি গণনা করা যাবে না। যদি শিক্ষকের ব্যস্ততা/অনুপস্থিতির কারণে কোনও ক্লাস মিস যায়, তবে সেক্ষেত্রে সব শিক্ষার্থীকে ওই দিনের অ্যাটেন্ডেন্স দিতে হবে এবং কোনোদিন এক্সট্রা ক্লাস নিলে, তা একটা ক্লাসের অ্যাটেন্ডেন্স হিসাবে কাউন্ট করতে হবে; প্রতি মাসে প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা সেশন আয়োজন করতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে। এ ছাড়াও প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকদের নিয়ে প্রতি মাসে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার আয়োজন করতে হবে।

    হজোর মোড়ের ঘটনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চার্জশিট প্রদান করার কথা থাকলেও চার্জশিট প্রদান করা হয়নি। অতি দ্রুত সেই মামলার বাকি কার্যক্রম শুরু করতে হবে এবং রুয়েট ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে; ইচ্ছাকৃতভাবে পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্য করার দায়ে গোলাম মোস্তাকিম ও সিভিল ফ্যাকাল্টির ডিন কামরুজ্জামান রিপনসহ অভিযুক্ত সব শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের প্রতি সদাচরণ করতে হবে এবং শিক্ষকদের কার্যক্রমের মূল্যায়ন ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং অনতিবিলম্বে জমা করা ১২ দফার বাস্তবায়ন করতে হবে। এই দাবি গুলো ছাত্র, ছাত্রীরা তুলে ধরেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মার্গের সামনে নিহত ছাত্রী মাইশার মায়ের আহাজারি : ‘আমার মাইশা’ কই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মার্গের সামনে মাইশার মা সালমা বেগম কেবল চিৎকার করে বারবার ডাকছিলেন মেয়েকে। ‘আমার মাইশা, আমার ঝি। কখনো আহাজারি, কেন এমন হলো!’ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে চমেক হাসপাতালে শুধু সালমা বেগম নয়, মাইশার সহপাঠী শিক্ষার্থীরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা কোনোভাবেই মাইশার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না।

মাইশা আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী। বাড়ি মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া এলাকায়। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করতেন। সকালে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় ক্যাম্পাসের সামনে বাসচাপায় মারা যান। মাইশার সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেও সহপাঠীদের কথা হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ কো-অর্ডিনেটর জাহেদ হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ক্লাস বাতিল হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ফিরে যাচ্ছিলেন মাইশা ও তার এক বান্ধবী। বাসের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন তারা। তাদের তোলার জন্য একটি বাস দাঁড়ায়। ওই মুহূর্তে পাশ থেকে একটি লরি বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি উল্টে দুই শিক্ষার্থীর গায়ের ওপর পড়ে। হাসপাতালে মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

মাইশার বান্ধবী রাজিয়া বেগম সামান্য চোট পেয়েছেন। তার বাড়িও মিরসরাইয়ে। কিন্তু এমন ঘটনায় রাজিয়া হতভম্ব। তাকে ফেনীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মিরসরাই থেকে হাসপাতালে ছুটে আসেন মা সালমা বেগম। তিনি এসে দেখেন সব শেষ। এরপর আহাজারি করতে থাকেন সালমা বেগম।

কয়েক বছর আগে মাইশার বাবা মারা যান। দুই ভাইবোনের মধ্যে মাইশা বড়। নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। পড়ালেখা শেষ করে মা ও একমাত্র ভাইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল একটি সড়ক দুর্ঘটনায়। মাইশার মা কীভাবে নিজেকে সান্ত্বনা দেবেন।

এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধ চলছে। দুপুর দেড়টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ছাত্রী দূর্ঘটনায় মৃত্যু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এলাকা অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাস্তা পারাপারের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় মাইশা মুশফিরাত (২১) নামে এক শিক্ষার্থী মারা যান। আহত হন তার দুই সহপাঠী।নিহত মাইশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয়দের বরাতে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল আলম জানান, সকালে দুটি লরি পরস্পরকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। একটি লরি ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে ধাক্কা দিলে বাসটি উল্টে গিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। তাদেরকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে মাইশাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ইভা জানান, দুর্ঘটনার শিকার তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সকালে ক্যাম্পাসে আসছিলেন।সার্জেন্ট শফিউল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত দুটি লরি এবং বাস জব্দ করা হয়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন।এদিকে দুর্ঘটনার খবর জানার পর প্রতিবাদে মহাসড়কের দুই পাশ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ফলে দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরোধের কারণে উভয়পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।

এ সময় পাঁচদফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সেগুলো হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালককে গ্রেপ্তার, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা, ক্যাম্পাস ফটকে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ