আজঃ বুধবার ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

পাহাড় কাটা বন্ধে পরিবেশ উপদেষ্টার কঠোর বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে পাহাড় কাটা বন্ধে পরিবেশ ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান কঠোর বার্তা দিয়েছেন। রোববার সকালে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে চসিক আয়োজিত পলিথিনবিরোধী এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন বার্তা দেন।

এ সময় পাহাড় কাটা বন্ধে ‘টম অ্যান্ড জেরি’ খেলা আর চলবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, আমি আসব-যাব, পাহাড় কাটা বন্ধ হবে। কাল আবারও পাহাড় কাটা হবে। ওরা রাতেও পাহাড় কাটে। রাতের বেলা পাহাড় পাহারা দিতে হবে। এটা সবার দায়িত্ব। এটা সরকারের আইন।

রিজওয়ানা বলেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা অফিস কোনো প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী করতে পারে না। তাকে সবসময় প্রজাতন্ত্রের সেবায় থাকতে হবে। আমরা একটা তালিকা নিয়েছি। তালিকায় মালিকদের নাম দেয়ার কথা বললেও তারা দেননাই। দুটা মালিককে গ্রেফতার করেন, পাহাড় কাটা বন্ধ হবে। আপনি গাছ কাটলে গাছ লাগাতে পারবেন, পাহাড় কেটে পাহাড় সৃষ্টি করার জাদু নেই।

যদি জাদু না থাকে তাহলে পাহাড় কাটতে দেওয়া যাবে না।এর আগে সভার শুরুতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সিদ্ধার্থ শংকর কুন্ডু জায়ান্ট স্ক্রিনে ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ ও প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ’ শীর্ষক চিত্র উপস্থাপন করেন।

পলিথিনের ব্যবহার বন্ধের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, পলিথিন শপিংব্যাগের বিরোধিতা আমাদের সময়ে শুরু হয়নি। এটি ২০০২ সালে নিষিদ্ধ হয়েছে। আজ ২০২৫ সালে এসে এটি বাস্তবায়নের কথা আমরা বলছি। কতটা দুর্ভাগ্য আমাদের। জনগণের স্বার্থেই পলিথিন বন্ধ করা হয়েছিল। আমার মনে আছে, ২০০৪ থেক ২০০৬ সালে লাগাতার অভিযান করে পলিথিনের ব্যবহার প্রায় কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন কেউ বিকল্পের কথা তোলেনি।

বিকল্প আপনার-আমার সবারই আছে। এই ধোয়াগুলো তোলা হয় প্লাস্টিক-পলিথিন ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। আপনার দাদা পর্যন্ত যাব কেন? আপনার বাবা কি নিয়ে বাজারে যেতো? চটের ব্যাগ নিয়ে যেতো।

পলিথিনের অপকারিতা তুলে ধরে রিজওয়ানা হাসান বলেন, এখন বাজারে গেলে গাজরের জন্য, শসার জন্য, ফুলকপির জন্য, কাঁচা মরিচের জন্য একটা করে পলিথিন। আর মাছ-মাংসের জন্য পলিথিন তো আছেই। এটা আসলে সরকার আইন করেছে বলে আপনাকে মানতে হবে না। আপনাকে এজন্য মানতে হবে—আপনার ভবিষ্যৎ এবং সরকারের জন্য খারাপ। আমাদের দূষিত বাতাস ইনহেইল করেও আপনার বাচ্চা অসুস্থ হচ্ছে।

পলিথিন ব্যাগে খাবার রেখে খাওয়া চরম অনিরাপদ। প্লাস্টিকের গ্লাসে গরম চা-কফি দেওয়া হলে মাইক্রোপ্লাস্টিক লিকেজ হয়ে সিস্টেমে ঢুকে যাচ্ছে। এটা কেন আপনার সন্তানকে খাওয়াবেন? এটা আপনার মনে রাখতে হবে, এটা খারাপ জিনিস এবং এটির বিকল্প আছে।

পলিথিন সস্তা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে সস্তার কথা বলেন। পলিথিন নাকি সস্তা। এটা কেমন করে সস্তা হলো? আপনি পলিথিনের জন্য আলাদা টাকা দিচ্ছেন না। পলিথিন যারা বানাচ্ছে তারা কি বিদ্যুৎ ছাড়া বানাচ্ছে? তারা কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করে আনছে। আমরা যখন পলিথিন বন্ধের কাজ শুরু করলাম তখন শ্রমিক পুনর্বাসনের ধোঁয়া তুললো। প্লাস্টিক যে তাপমাত্রায় পোড়ানোর কথা তার চেয়ে অনেক কম তাপমাত্রায় পুড়িয়ে তারা শপিংব্যাগ তৈরি করছে। এতে শ্রমিকদের ডায়োক্সিনের মুখোমুখি করছে, ফলে ক্যান্সার হচ্ছে। তখন প্লাস্টিক উৎপাদনকারীরা বলে না কেন আমার শ্রমিককে ক্যান্সার হতে দেব না?
কারখানা বন্ধ হলে মালিকরা ক্ষতিপূরণ দেবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, গার্মেন্টস বন্ধ হলে মালিক শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়। তাহলে পলিথিন কারখানা বন্ধ হলে আমরা কেন ক্ষতিপূরণ দেব। ক্ষতিপূরণ মালিক দেবে। কারণ সে তার শ্রমিককে অনিরাপদ কর্মস্থলে কাজ করিয়েছে।‘যে পাটের দাম ছিল ২৮ টাকা; যেই বললাম পলিথিন বন্ধ পাট আসবে অমনি হয়ে গেল ৪০ টাকা।

এটাতো বাংলাদেশ। আমাদের দেশটাকে তো আমরা চিনি। জিনিসগুলো প্রশ্রয় দিলে কিন্তু পলিথিন ব্যবসায়ীরাই সামনে আসবে। তাই এগুলোকে আমরা প্রশ্রয় দেব না। পলিথিন ব্যাগ পুনর্ব্যবহার করা যায় না। একটা চটের ব্যাগ অনেকবার ব্যবহার করা হয়।

পলিথিন বন্ধে বাধা আসলে মুখোমুখি হতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি সকল বাহিনীর সাথে মিটিং করেছি। আমরা যখন পলিথিন কারখানা বন্ধ করতে যাব বাধা আসবে। সেই বাধা ফেইস করে আমরা বন্ধ করবো। গত সপ্তাহে আমরা কামরাঙ্গিরচরে বন্ধ করেছি। ক্রমান্বয়ে আমরা সব জায়গায় বন্ধ করবো। আপনারা কেউ পলিথিনের শপিং ব্যাগ নেবেন না।

শব্দদূষণ রোধে চট্টগ্রামে ক্যাম্পেইন করা হবে জানিয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, হর্নের বিরুদ্ধে আমরা শিগগিরই একটা ক্যাম্পেইন শুরু করে দেব। আজ এখানে অন্তত ১২০ জন আছেন। প্রত্যেকেরই নিজ নিজ গাড়ি অথবা উবার আছে। যার গাড়িতে উঠবেন ড্রাইভারকে বলবেন হর্ন বাজাবেন না। ড্রাইভার তখন বলবে, হর্ন বাজানো ছাড়া গাড়ি এ দেশে চালানো সম্ভব না। গতিটা একটু কম রাখলে হর্নও বাজাতে হবে না, দুর্ঘটনাও কমবে। অনেক রাস্তা আছে যেখানে রিকশা চলে না, সেখানে হর্ন কেন বাজাতে হবে? আপনি হর্ন বাজানো বন্ধ করলে শব্দদূষণ বন্ধ হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা এবং পলিথিন-প্লাস্টিক—এগুলো একটার সাথে একটা সম্পৃক্ত। আমাদেরকে পলিথিন-প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এটাকে আইন করে বন্ধ করতে হবে। যেভাবে ২০০৫ সালে করা হয়েছিল। ঠিক একইভাবে প্রতিটি কারখানা এবং বিপণন স্থানগুলোতে আমরা আইন প্রয়োগ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে একটা সুফল আমরা পেতে পারি।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, প্লাস্টিকের বদলে চাল-মাছ দিচ্ছে তারা। এই কনসেপ্টে আমি তাদের প্লাস্টিকের সাথে পলিথিনও যুক্ত করতে বলেছি। আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আছে এমন। তাদের জন্য চসিকের যে মাঠ আছে সেগুলোতে পণ্য রাখার সুযোগ করে দেব। মূল জায়গা হচ্ছে পরিকল্পনা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, বলেন, চট্টগ্রাম নগরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য করপোরেশন সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা প্রতিপালন করছি। সাম্প্রতিক সময়ে নির্দেশনা অনুযায়ী, চসিকে বোতলজাত পানি পুরোপুরি বন্ধ করেছি। আমরা লিফলেট বিতরণসহ নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম করছি।

চট্টগ্রামে ইউনিলিভার, ইপসা এবং সিটি করপোরেশন—আমরা একটি সমঝোতা স্বাক্ষর করেছি। এর মাধ্যমে আমরা অফ প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করছি। পাশাপাশি মেয়র মহোদয়ের নির্দেশনায় চসিকের ৭৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীদের সচেতন করার জন্য আমরা প্রশিক্ষণেরও উদ্যোগ নিয়েছি।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে প্রধান উপদেষ্টা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Oplus_131072

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গণভবনে তৈরি করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

Oplus_131072

রাজনৈতিক দলের নেতা ও সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন তিনি।


রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা ও সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ ঘুরে দেখেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
ছবি: পিআইডি

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতবিনিময়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের সদস্যরা।মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি দুপুরে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের দুই সদস্য অংশ নেন।

মতবিনিময়কালে চট্টগ্রামের মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক পরিবেশ, ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের প্রস্তুতি, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং সামগ্রিক নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।মতবিনিময়ে উভয় পক্ষ নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি কাজী আবুল মনছুর, প্রচার ও প্রকাশ সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল এবং প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ আজাদ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ