আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

নেত্রকোনায় বেড়ে গেছে চুরি-ডাকাতি আতঙ্কে এলাকাবাসী

মোঃ নুর উদ্দিন মন্ডল দুলাল নেত্রকোনা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার পূর্বধলায় হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে চুরি- ডাকাতি। প্রতিনিয়তই ঘটছে নানা রকম চুরির ঘটনা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরির খবর পাওয়া যাচ্ছে। চুরির ভয়ে রাতে সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে পুলিশের দায়িত্ব পালনে শিথিলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে থানা ও পুলিশের ওপর হামলা, আগুন, পুলিশ হত্যা-এসব কারণে পুলিশের প্রশাসনিক কাঠামো একেবারেই ভেঙে পড়েছে। অনেকাংশেই কমে গেছে পুলিশর মনোবলও। পুলিশ সদস্যরা কর্মস্থলে ফিরে এলেও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শিথিলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কেউ কেউ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আর এরই সুযোগে চোর-ডাাকাত ও অপরাধীরা আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে চুরির ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ চোর ও ডাকাতচক্র।

খোজ নিয়ে জানাযায়, গত ২১ ডিসেম্বরে পূর্বধলার হিরনপুরে লিজা আক্তারের দিলশান ভিলা ও আব্দুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীর বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতরা দিলশান ভিলা থেকে ৩ ভরি সোনা নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও আব্দুর রহমানর বাসা থেকে নগদ ১৯ লাখ টাকা, বিদেশি মুদ্রা ও ৩৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ অর্ধকোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ডাকাতরা গ্রিল কেটে দুটি বাসাতেই প্রবেশ করে পারিবারের সদস্যদের বেঁধে রেখে এসব মালামাল ও নগদ টাকা লুটপাট করে পালিয়ে যায়।

গত ২ জানুয়ারি হোগলা চৌরাস্তা বাজারে ব্যবসায়ী মো রবিকুল ইসলামের মুদির দোকান চুরি হয়। গত ৯ জানুয়ারি দিবাগত রাতে উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের পাজুনিয়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী শরিফ আহমেদ’র গোয়াল ঘরের শিকল কেটে তিনটি ষাঁড় গরু ও দুটি গাভী চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া ৫টি গরুর মূল্য আনুমানিক ৪ লাখ টাকা। গরু চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর আগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।

গত ১৮ জানুয়ারি দিবাগত রাতে পূর্বধলা সদরের মধ্যবাজারে মা কসমেটিক্স স্টোর, আরবী স্টোর ও নুরুল আমিনের জুতার দোকানে চুরি ঘটনা ঘটে। এসময় সংঘবদ্ধ চোর চক্র দোকানগুলোর ঘরের চালের টিন ও পিছনের দরজা কেটে অনুমানিক আড়াই লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। সিসিটিভির ফুটেজে ২জন চোরের চুরির দৃশ্য ধরা পড়েছে। ভূক্তভোগী ব্যবসায়ীরা পূর্বধলা থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। এদের দ্রুত আটকের দাবি জানান তারা। এমন দূর্ধষ চুরির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চোর আতংক বিরাজ করছে। তারা চুরি রোধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।অপর দিকে ময়মনসিংহ – জারিয়া লোকাল ট্রেনে একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, রাতে পুলিশ টহল না থাকায় বারবার চুরির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় কেউ কেউ থানায় অভিযোগ করলেও অনেকেই জামেলা ভেবে পুলিশকে জানান না। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকািদের নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

তবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে নিয়মিতই অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। শিগগির দোষীদের গ্রেফতার করা হবে বলেও আশ্বস্ত করছেন তারা।

স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশ প্রকৃত চোরদের আটক করতে না পারায় তারা বেশ বেপরোয়া হয়ে উঠছে। চুরি অধিকাংশই রাত ১টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি এবং দোকানে সংঘটিত হচ্ছে। তারা পুলিশের টহল বাড়াতে এবং বিভিন্ন বাজারগুলোর কমিটির পক্ষ থেকে সিকিউরিটি জোরদার করার দাবি জানান। পাশাপাশি গ্রাম পুলিশকে রাতে টহল জোরদারের কাজে লাগানোর আহবান জানান ।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ বলেন, জনবল সংকট থাকলেও টহল জোরদার করা হয়েছে। এসব ঘটনার অভিযোগ আসলে মামলা নেওয়া এবং ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে সন্ত্রাসী হামলার মামলাশ ৭ জন গ্রেফতার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার চালিতাবাড়ী গ্রামে মোঃ হাসেম আলীর ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৩ জন আসামির মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে হামলা, মারধর ও এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চালিতাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হাসেম আলীর ওপর পূর্ব বিরোধের জেরে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ শিবালয় থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—১. মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক (৩৫), পিতা: আফছার উদ্দিন
২. পাবেল বেপারী (৩০), পিতা: বরকত আলী
৩. আকিব বেপারী (২৪), পিতা: মজিবর বেপারী
৪. নাইম শেখ (২৮), পিতা: আলেম শেখ
৫. মিন্টু বেপারী (৪০), পিতা: মৃত তমেজ বেপারী
৬. বাসসা বেপারী (৫৫), পিতা: মৃত অছিমদ্দি বেপারী
৭. রওনক মোল্লা (১৯), পিতা: তাইজুল ইসলাম মোল্লা
পুলিশ জানায়, মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শিবালয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ