আজঃ বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

১৮ বছরে সব হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী হচ্ছে শেখ হাসিনা : শাহজাহান চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরের আমির শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, কোটা বিরোধী আন্দোলন ও গত ১৮ বছরে যত হত্যা হয়েছে এসব হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী হচ্ছে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের তথ্য সম্বলিত ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতার শহীদ যারা’ শীর্ষক স্মারক উম্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নগর জামায়াতে ইসলামী। ১০ খণ্ডে সংকলিত ২ হাজার ৫০০ পৃষ্ঠার এ স্মরণিকার মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারী জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান।

দুর্নীতি ও প্রশাসনে দলীয়করণের কারণে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে উল্লেখ করে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, প্রশাসনে মেধাশূন্যতা ও দলীয়করণের কারণে বাংলাদেশ আজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিশেষ করে হত্যা, গুম, নির্যাতন, আয়নাঘর এগুলোর মাধ্যমে আজ বাংলাদেশে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য এক নম্বর দায়ী আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনা। এ দেশে বিশৃঙ্খলা , নিপীড়ন, জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করা সবকিছুর ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি দায়ী।

তাই সাধারন নির্বাচনের আগে এ সমস্ত ফ্যাসিস্ট যারা রয়েছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, এসবের ফয়সালা করার জন্যে বিশেষভাবে উদ্যেগ নেওয়া উচিত। জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশে বিশেষ করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যারা বিশৃঙ্খলা করেছে তাদের বিচারের আওতায় এনে বিচার করা অত্যন্ত জরুরি।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ভূমিকা তুলে ধরে জামায়াতের এ নেতা বলেন, প্রবাসী ভাইয়েরা আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন। বিশেষ করে আরব আমিরাত, কুয়েত, সৌদি আরব, আমেরিকা, ইউরোপসহ সব জায়গায় প্রবাসীরা আমাদের আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। আরব আমিরাতে মিছিল করতে গিয়ে ১২৫ জনের মতো প্রবাসী ভাই গ্রেফতার হয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাহেবের কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যেমে এ প্রবাসী ভাইদের আমরা দেশে ফিরিয়ে আনতে ফেরেছি। তাদেরকে মুক্ত করেছি।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই এখানে এসেছেন। তারা আজ নিঃস্ব। তাদের অনেকেই দোকানপাট, ব্যবসা, চাকরি ছেড়ে চলে এসেছেন। আমরা উপদেষ্টাদের এসব জানিয়েছি। তারাও এটা নিয়ে কাজ করছেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র যারা ছিলেন, আপনাদের নতুন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জাতি স্মরণ করবে। আপনারা আগামীতেও জাতির যে কোনো সংকটে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন সে আশা রাখছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার মিছিলের পর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন-তানভীর হাসান (২৭), মোসলেম উদ্দিন (৪০), বিপু ঘোষ বিলু (৫৫), মোঃ নাহিদ হোসেন (১৯), মোঃ সাইফুল ইসলাম (২০), মোঃ নওশের উদ্দিন চৌধুরী (২১), মোঃ জুয়েল (২৪), মোঃ আলাল (২১), মোঃ আসিফ (২২), মোঃ শুভ রহমান (২২), সৌরভ দেওয়ানজী (২৯), ইমাম হোসেন সাদমান (২২)৷

পুলিশ জানায়, শুক্রবার কোতোয়ালী থানাধীন রেলওয়ে বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। পরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঝটিকা মিছিলে জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আ. লীগ নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকার মেডিকেল সেন্টার গলি থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়।

জানা গেছে, বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া সবাই ওমর গণি এমইএস কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল নিয়ে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। কোনো অগ্রগতি হলে আপনাদেরকে (সাংবাদিক) জানানো হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র আরও জানায়, সকাল সাতটার দিকে ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি নগরীর মেডিকেল সেন্টার গলি থেকে গোলপাহাড় মোড়ের দিকে চলে। এতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদ জানায়। এই মিছিলে পাহাড়তলী ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরীর ছবিযুক্ত ব্যানার দেখা যায়।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ