আজঃ শুক্রবার ১ মে, ২০২৬

বড় ব্যবসায়ীরা নিজেদের ফায়দা নিতে গিয়ে অন্যদের ধ্বংস করেছে:চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বড় ব্যবসায়ীরা নিজেদের ফায়দা নিতে গিয়ে অন্য ব্যবসায়ীদের ধ্বংস করেছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, আজ বিভিন্ন কারণে ছোট মাঝারি ব্যবসায়িরা সমস্যায় পড়েছে। বড় বড় ব্যবসায়িরা তাদের ফায়দা নেওয়ার জন্য রাজনীতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ট্যাক্স মওকুফ করিয়েছে। তারা কমপ্রোমাইজ করেছে তাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য। কিন্তু ছোট মাঝারি ব্যবসায়ীদের তারা ধ্বংস করে দিয়েছে গত ১৬ বছরে।

শনিবার দুপুরে কাজীর দেউড়ী ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বাংলাদেশ ২০২৫ এর উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বাণিজ্য মেলার আয়োজক ও মিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে ও স্বপ্না জিমি ও শিশির চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।
মেলায় ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, নেপাল, ইরান ও চায়না সহ দেশি বিদেশি দুই শতাধিক দোকান রয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয়ে ১ মার্চ পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলার প্রবেশ টিকেট ২০ টাকা। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে।

চসিক মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম অনেক পুরানো নগরী। এটা বাণিজ্যের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। এক সময় মায়ানমারের সঙ্গে চট্টগ্রামের একটা সংযোগ ছিল ব্যবসার। সেই ব্যবসাটা বাড়তে বাড়তে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চট্টগ্রামের সুনাম ব্যবসায়িকভাবে ছড়িয়েছে।
জিয়াউর রহমানের মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ফিরতে হবে জানিয়ে মেয়র শাহাদাত বলেন, এ ধারা থেকে বেরিয়ে এসে মুক্তবাজার যে অর্থনীতি, যেটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের পরে তিনি উন্মুক্ত করেছেন। এবং যার ধারাবাহিকতায় অর্থনীতির জিডিপিতে, মানবসম্পদ, কৃষি এবং গার্মেন্টস সেকশনে যে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছিল, সেই ধারায় আমাদের ফিরে যেতে হবে। আজ চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক নগরের পাশাপাশি পর্যটন নগরীও। কিন্তু সেটাকে আমরা সেভাবে ফোকাস করতে পারি নাই। এটাকে ফোকাস করতে হবে বলে জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, এই মেলা চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো হতে যাচ্ছে। এখানে বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভাতৃত্বের বন্ধন ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে। দেশে কঠিন এক সময় অতিক্রম করে আজকে আমরা এই পরিবেশে এসেছি। বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধশালী করা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে আহ্বান জানাই। এতে বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের ব্যবসায়ী আফসা মনসুর, ভারতের ব্যবসায়ী মিরাজ কাশ্মীর, মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য ফেরদৌস আহমেদ লিটন, এনায়েত হোসেন ফোরকান, জুনায়েদ আহমেদ, কোরআন তেলওয়াত করেন মো. কাউসার প্রমূখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভারতের বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জনের সাথে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারতের চট্টগ্রামস্থ সহকারী হাইকমিশনের বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন আজ বুধবার টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাৎকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দীর্ঘ চার বছর বাংলাদেশে কর্মরত থাকা অবস্থায় চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ডা. রাজীব রঞ্জনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এসময় মেয়র বলেন, “বৈচিত্র্যই ভারতের বড় শক্তি। ভারতের এক একটি রাজ্য থেকে আরেকটি রাজ্যের পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির ভিন্নতা রয়েছে। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশকে ঐক্যবদ্ধ করে চলতে পারার কারণেই ভারত বিশ্বের বুকে একটি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আমি ব্যক্তি জীবনে অনেকবার ভারতে গিয়েছি, এমনকি পড়াশোনার জন্যও গিয়েছি।তিনি আরও বলেন – বাংলাদেশের অনেক মানুষ ধর্মীয়, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতে যান। তাদের ভিসা প্রসেসিং সহজ হলে এবং ভিসা প্রদানের গতি বাড়লে উভয় দেশের মানুষই উপকৃত হবে।”

বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বলেন, “চট্টগ্রাম উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি নগরী। কারণ চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ এখনো অনেকটাই সংরক্ষিত আছে। বিশেষ করে ভাটিয়ারী, পতেঙ্গা ও ফয়’স লেক এলাকা অত্যন্ত নয়নাভিরাম। চট্টগ্রাম শহরের পাহাড় এবং নদীও অপূর্ব সুন্দর। পর্যটনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ যদি এই সুযোগগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে, তবে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

তিনি বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে সার্বিক সহযোগিতার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও মেয়র মহোদয়কে ধন্যবাদ জানান।সাক্ষাৎকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মেয়র মহোদয় বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনারকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দেন।

পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে : মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরে বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ ও প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন তিনি।পরিদর্শনকালে মেয়র স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চলমান খাল সংস্কার কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের কাছ থেকে জেনে নেন। মেয়র শাহাদাত হোসেন জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর আওতাধীন খাল সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।বিশেষ করে হিজরা খাল ও জামালখান খালের সংস্কার কাজ চলমান থাকায় কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।

মেয়র বলেন, এসব উন্নয়ন কাজ চলমান থাকার কারণে সাময়িক দুর্ভোগ তৈরি হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী ১৫ মে’র মধ্যে সিডিএ’র খাল সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ শেষ হবে। কাজ শেষ হলে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি ঘটবে এবং জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।আশাবাদ ব্যক্ত করে মেয়র বলেন, চলমান বর্ষা মৌসুমেই নগরীর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।পরিদর্শনকালে চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ