আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

অবসর কাটুক দেশীয় সংস্কৃতি চর্চায়

লেখক: মো: ইয়াসির আরাফাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অবসর মানবজীবনের এক বহু আকাঙ্ক্ষিত পর্যায়কাল। আমাদের নিত্য দিনের ছুটে চলা যেন এই এক টুকরো অবসর প্রাপ্তির খোঁজে। কর্মব্যস্ত জীবনে আমরা দিনশেষে একটু প্রশান্তির আশায় থাকি, যখন ব্যস্ততার চাপে অবদমিত শখ ও সুপ্ত ইচ্ছাগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগ আসে। অনেকেই অবসরে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ান, কেউবা শখের কাজগুলোর মাধ্যমে নিজেদের ব্যস্ত রাখেন। কিন্তু কেমন হতো যদি এই অবসর আমরা আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি, সাহিত্য ও কৃষ্টির চর্চার মাধ্যমে প্রাণবন্ত করে তুলতে পারতাম?

বাংলাদেশের সংস্কৃতি হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। এখানে মিশে আছে বাঙালি জাতির ইতিহাস, জীবনধারা, আচার-অনুষ্ঠান, লোকসংস্কৃতি, গান, নৃত্য, নাটক, সাহিত্য এবং আরও নানা ধরণের সাংস্কৃতিক উপাদান। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি আমাদের জাতিসত্তার পরিচয় বহন করে, যা বহির্বিশ্বের কাছে আমাদের আলাদা করে তুলে ধরে। এছাড়াও, বাংলাদেশের সাহিত্য জগৎ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। চর্যাপদ থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, জীবনানন্দ দাশের সাহিত্য আমাদের কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে। তেমনি গ্রামবাংলার পালাগান, জারি-সারি, ভাটিয়ালি, বাউলগান, গম্ভীরা, পুঁথি-পাঠ আমাদের লোকসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ, বর্তমানের নগরায়নের প্রভাবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের কারণে এগুলো দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে।

অবসরে যদি আমরা মানসিক প্রশান্তি লাভের জন্য কোনো সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত না হই, তবে একাকীত্ব ও হীনম্মন্যতা আমাদের গ্রাস করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অবসর সময়ে কোনো সৃজনশীল কাজ বা সাংস্কৃতিক চর্চা না করলে বিষণ্নতা ও অবসাদ দেখা দিতে পারে। তাই অবসর সময়ে দেশীয় সাহিত্য, সংগীত, নাটক, লোকসংস্কৃতি চর্চা করলে মনের খোরাক যেমন মিটে, তেমনি আমাদের সংস্কৃতির ঐতিহ্যও টিকে থাকে। বর্তমানে, বিশ্বায়নের কারণে দেশীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টির ওপর বিদেশি সংস্কৃতির ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। নগরায়ন, প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং আধুনিকতার নামে পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুকরণ আমাদের অনেক ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক চর্চাকে বিলুপ্তির পথে ঠেলে দিয়েছে। এক সময় গ্রামবাংলার প্রতিটি অঞ্চলে লোকগানের আসর বসত, পুঁথি পাঠের প্রচলন ছিল, এবং মঞ্চ নাটকের জনপ্রিয়তা ছিল ব্যাপক। কিন্তু, এখন এসব ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল বিনোদনের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়ছে যে তারা নিজস্ব সংস্কৃতি সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে, অবসর সময়ে দেশীয় সংস্কৃতি ও সাহিত্য চর্চা একদিকে আমাদের মননশীলতা ও সৃজনশীলতা বাড়াবে, অন্যদিকে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করবে। দেশীয় সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার প্রখ্যাত সাহিত্যিকদের বই পড়া, নিজে কবিতা, গল্প বা প্রবন্ধ লেখা এবং সাহিত্য আলোচনা চক্রে অংশগ্রহণ করা যেতে পারে। সঙ্গীত ও নৃত্য চর্চায় বাউল, ভাটিয়ালি, নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসঙ্গীত, জারি-সারি ইত্যাদির চর্চা করা এবং লোকনৃত্য শেখা ও শেখানো যেতে পারে। স্থানীয় নাট্যদল গঠন করা, মঞ্চনাটক মঞ্চায়ন করা এবং লোকনাট্যের চর্চার মাধ্যমেও দেশীয় সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। তাছাড়া, গ্রামীণ হস্তশিল্প, নকশি কাঁথা, মৃৎশিল্প, শোলাশিল্প ইত্যাদির চর্চা করে এগুলোর প্রচার ও প্রসার ঘটানো যেতে পারে। প্রবীণদের কাছ থেকে গ্রামীণ গল্প ও ঐতিহাসিক কাহিনি সংগ্রহ করে তা লিখে রাখা ও প্রচার করা গেলে সেটি হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অমূল্য সম্পদ।

উপরন্তু, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতির প্রচার ও সংরক্ষণ সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য মাধ্যমে লোকসংস্কৃতি, সাহিত্য ও ঐতিহ্য সহজলভ্য করা যেতে পারে। সাথে সাথে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে লোকসংস্কৃতিকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশীয় হস্তশিল্প ও কারুশিল্প আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তির সাথে দেশীয় সংস্কৃতির মিলবন্ধন ঘটালে এটি টিকে থাকবে, বিকশিত হবে এবং বিশ্ব দরবারে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। এভাবে, আমরা একই সাথে আধুনিক প্রযুক্তি ও ধারার সংস্পর্শে থেকে আমাদের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সকল সংস্কৃতি ও কৃষ্টি পুনরুজ্জীবিত করতে পারি।

দেশীয় সংস্কৃতি আমাদের আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি। একে অবহেলা করা মানেই আমাদের শিকড়কে দুর্বল করে ফেলা। তাই অবসর সময়কে কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং মননশীল ও সৃজনশীল কাজের জন্য ব্যয় করা উচিত। দেশীয় সাহিত্য, সংগীত, নাটক, লোকসংস্কৃতি ও কৃষ্টির চর্চার মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করতে পারি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ভান্ডার রেখে যেতে পারি। তাই আমাদের উচিত অবসর সময়কে মূল্যবান করে তোলা, যেন আমরা আমাদের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের গৌরব ধরে রাখতে পারি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জীবন সংস্কৃতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কতনা অদ্ভূত সমাজ
মিথ্যাকে বিশ্বাস করে
সত্যের প্রমান চায়,
সাপের মতো খোলস বদল
স্বভাব থেকে যায় ।

কতনা অদ্ভূত সমাজ
ভাল কাজ মুছে যায়
সময়ের বাঁকে,
মন্দ কাজ রেকর্ড হয়
ইতিহাসের ফাঁকে ।

কতনা বিচিত্র জীবন সংস্কৃতি
একদিন না পেলে
ভুলে যায় স্মৃতি ,
স্বার্থের মোহে অন্ধ মানুষ
লাভের গায় গীতি ।।

কতনা অদ্ভূত মানুষ
অবুঝ তার মন,
সত্যকে আড়াল করে
মিথ্যার অনুশীলন।

কতনা অসহায় মানুষ
যত পায় তত চায় ,
অফুরন্ত চাহিদা তার
অভাব থেকে যায় ।

কতনা অবুঝ মানুষ
হিসেবের খাতায় ভুল
ক্ষনিকের মোহ মায়ায়
সৃষ্টির প্রেমে আকুল ।

কতনা অসহায় মানুষ
হেরে যায় টাকার কাছে
লোভের কাছে
বন্ধুত্বের কাছে
কখনো ভালবাসার কাছে ।

কতনা অসহায় মানুষ
হেরে যায় বিবেকের কাছে
সময়ের কাছে
অবশেষে মৃত্যুর কাছে ।

কতনা অসহায় মানুষ
উজাড় করে জীবন,
একদিন নিজেই বোঝা
কেউ থাকেনা আপন।

কতনা অসহায় মানুষ
জানেনা তার কখন মরণ,
যেতে হবে ছেড়ে
মায়ার বাঁধন,
সব যাবে মুছে
কেউ করবেনা স্মরণ ।

এই বুঝি দুনিয়ার নিয়ম
বিদায়ের পরিনতি,
হাসি আর কান্নার মাঝে
জীবনের ইতি ।

রচনাকাল: ১৫/১২/২০২৫

দেশের জাতীয় সম্পদ ধ্বংসকারীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্র গঠনে ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করবে। মন্ত্রী শুক্রবার চট্টগ্রামে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও স্বাধীনতা কমপ্লেক্স পরিদর্শন পরবর্তী উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে মেজর জিয়া থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি জিয়া ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে তাঁর অবদান দেশকে আলোড়িত ও সমৃদ্ধ করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থেই এই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

স্বাধীনতা কমপ্লেক্স প্রসঙ্গে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ে ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’ করা হয়েছিল, যা প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পুনরায় এর নাম ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন মেজর জিয়া। পরবর্তীতে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা,সেক্টর কমান্ডার, বীর উত্তম, সেনাপ্রধান ও সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর নাম ও অবদান ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা কখনো সফল হবে না।মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে এসব স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা দেশের জাতীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে, তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। সরকার এসব স্থাপনা পুনর্গঠন করে জনগণের জন্য আবার উন্মুক্ত করবে।

দেশের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সামান্য মূল্য সমন্বয়কে কেন্দ্র করে দেশে যে ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে, তা অযৌক্তিক। সকলকে দেশপ্রেমিক হতে হবে, কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি বা গণতন্ত্রহীনতার দিকে আমরা যেতে চায় না। প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছি।

তিনি আরো উল্লেখ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যা এগিয়ে নিয়েছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছেন।পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আশরাফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও জেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ