অদম্য মেধাবী ফারজানা ও তার ভবিষ্যৎ

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঘর আছে, কিন্তু জমিটা নিজেদের নয়। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান জান্নাতুল ফারজানার বাবা। নুন আনতে পান্তা ফুরায় সংসারে। জান্নাতুল ফারজানা মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছেন, কিন্তু ভর্তির টাকা নেই। মেধাবী মেয়েটির জন্য এগিয়ে এলেন প্রতিবেশী ও এলাকার মানুষ। তাতে ফারজানার মেডিকেল কলেজে ভর্তির বন্দোবস্ত হলো। কিন্তু বাকিটা পথ শেষ হবে কীভাবে, সেই চিন্তার শেষ নেই ফারজানার। অনিশ্চয়তায় প্রতিটি দিন কাটছে তাঁর।

ফারজানার বাড়ি রাজশাহী নগরের রাজপাড়া মহল্লায়। বাবার নাম জাহিদ হাসান মুকুল। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরীক্ষা দিয়ে ফারজানা রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল। ২০২২ সালে এই বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন সব বিষয়ে জিপিএ-৫ নিয়ে। তারপর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হন রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজে। গত বছর এই কলেজ থেকেই উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে। এ বছর তিনি হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। ভর্তি হয়েছেন ৪ ফেব্রুয়ারি।

ফারজানার বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড বাড়িতে ছোট ছোট দুটি ঘর। একটা ঘরে থাকেন তাঁর মা-বাবা। অন্য ঘরে দাদি আর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে থাকেন ফারজানা। তখন বাড়িতে ছিলেন না বাবা জাহিদ হাসান মুকুল। কিছুক্ষণ পর ভ্যান নিয়ে বাড়ি ফিরলেন।

ফারজানা বলেন, ‘ভর্তি হতে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা লেগেছে। এই টাকাটাই আমাদের ছিল না। আমি মেডিকেলে চান্স পেয়েছি দেখে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসেছেন। যে যার মতো করে সহযোগিতা করেছেন। এখন শুনছি মেডিকেল কলেজের বইয়ের অনেক দাম। তা ছাড়া বাড়ি থেকে অনেক দূরে থাকা ও খাওয়ার খরচও আছে। সব মিলিয়ে আমি খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। কারণ, আমার ভ্যানচালক বাবার পক্ষে এত খরচ বহন করা কোনোমতেই সম্ভব না।’

ফারজানা আরও বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হব। ডাক্তার হয়ে অসহায় মানুষের সেবা করব। মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করে ডাক্তার হতে পারব কি না জানি না। আমাকে সবাই যদি সহযোগিতা করেন, তাহলে হয়তো সেটা সম্ভব হবে। তা না হলে এখানেই থেমে যেতে হবে। কারণ, এত দারিদ্র্যের মধ্যে তো সব সম্ভব না।’

ফারজানার বাবা জাহিদ হাসান মুকুল বললেন, ‘ভ্যান চালিয়ে অনেক কষ্ট করেই সংসার চালাই। তারপরও যেভাবেই পারি আমি মেয়ের পড়াশোনাটা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে মেয়ে আমার মুখ উজ্জ্বল করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি তাঁকে পড়াশোনা করাতে পারব কি না জানি না। সমাজের বিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে আমার মেয়েটার স্বপ্নপূরণ হবে। ডাক্তার হয়ে আমার মেয়ে মানুষের সেবা করবে।’

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরলেন সাবেক ভিসি, স্লোগানে বরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ফিরেছেন সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে কালো রঙের একটি প্রাইভেটকারে করে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে তিনি ক্যাম্পাসে আসেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’ স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এর আগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চুয়েটের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে রেখেছিলেন। অধ্যাপক সায়েমকে বহনকারী গাড়ি ফটকের সামনে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেন। সকালে ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান অধ্যাপক সায়েম। সেখান থেকে সরাসরি চুয়েট ক্যাম্পাসে যান তিনি।
সদ্য নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম কবে ক্যাম্পাসে যোগ দেবেন, সে বিষয়ে চুয়েট প্রশাসন এখনো কোনো তথ্য পায়নি। তবে শিক্ষার্থীরা তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বললেন, অধ্যাপক সায়েম ক্যাম্পাসে এসেছেন এবং শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। তাদের দাবি, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। শিক্ষক সমিতিও এ দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে আসার বিষয়ে প্রশাসনকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যাপক সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার মধ্যরাত থেকে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং উপাচার্যের বাসভবনে তালা দেন।

ভালকান অ্যাসপায়ার লিমিটেড ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভালকান অ্যাসপায়ার লিমিটেড ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে। এ উপলক্ষে ভালকান অ্যাসপায়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান এসএম সাফাত ইশতিয়াক এবং ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির এক্সটার্নাল এনগেজমেন্টের পরিচালক ও সিপিডিসি এর পরিচালক ড. রওনক আফরোজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই সমঝোতার মাধ্যমে ভালকান অ্যাসপায়ার লিমিটেড ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসের Career Excellence Partner হিসেবে যাত্রা শুরু করল।

চুক্তি অনুযায়ী ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির বর্তমান শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাই ভালকান অ্যাসপায়ার পরিচালিত সকল Corporate Soft Skill Training -এর বেসিক কোর্সসমূহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার সুযোগ পাবেন। এছাড়াও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভালকান অ্যাসপায়ার শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরীর সুযোগ সৃষ্টি, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এবং পেশাগত উন্নয়নমূলক সেবা প্রদান করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, ভালকান অ্যাসপায়ারের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বে আমরা আনন্দিত। আমাদের লক্ষ্য অভিন্ন এবং আমি আশা করি, তারা তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ দিয়ে ইডিইউর শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার উন্নয়নে কাজ করবে।

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির এক্সটার্নাল এনগেজমেন্টের পরিচালক ও সিপিডিসি এর পরিচালক ড. রওনক আফরোজ বলেন, আমরা সবসময় আমাদের শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভালকান অ্যাসপায়ারের সে এই অংশীদারিত্ব আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ভালকান অ্যাসপায়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম সাফাত ইশিতয়াক বলেন, চট্টগ্রাম ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির সন্মানিত কতৃপক্ষের আন্তরিক অভ্যর্থনায় অত্যন্ত আনন্দিত। এই অংশীদারিত্ব এখানকার শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করবে। আমি আশ্বস্ত করছি, ভালকান অ্যাসপায়ার শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ মানের প্রশিক্ষণ ও সেবা প্রদানে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ