আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

রূপগঞ্জে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণে যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ ॥ অপর যুবক আটক

মাহাবুবুর রহমান রনি,রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার টেকনোয়াদ্দা এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে গুলিবষর্ণে রাসেল আহম্মেদ(৩৩)নামের এক যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গতকাল ১৯ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে হারুন-অর-রশিদ নামের এক অস্ত্রধারীর ছোঁড়া গুলিতে সে আহত হয়।
জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা হারুন-অর-রশিদ ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে বেশ কিছুদিন ধরে রূপগঞ্জ ইউনিয়নের বাগেরআগা গ্রামে স্বপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। এরই মধ্যে তিনি বাগেরআগা গ্রামের

পাশর্^বর্তী টেকনোয়াদ্দা এলাকার আক্কাস আলীগংদের কাছ থেকে টিনের মসজিদ এলাকায় আরো কিছু জমি ক্রয় করেন। আক্কাস আলীগংদের কাছ থেকে একই দাগে জমি ক্রয় করেন বাড়িয়াছনি গ্রামের সিরাজ আহম্মেদের ছেলে যুবদল নেতা শামীম আহম্মেদ।
এদিকে পূর্বাচল উপশহরের আওয়তাধীন মৌজার পূর্ণাঙ্গ জমির রেকর্ডিয় জরিপ কাজ চলছে। টেকনোয়াদ্দা মৌজার আংশিক জমি পূর্বাচল উপশহরের বাইরে রয়েছে। সে কারনে এখানকার জমি উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল বুধবার টেকনোয়াদ্দা মৌজার জমির জরিপ কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টেকনোয়াদ্দা এলাকায় আসেন। খবর পেয়ে হারুন-অর-রশিদ ও শামীম আহম্মেদ টেকনোয়াদ্দা আসেন। একপর্যায়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হারুন-অর-রশিদের সঙ্গে শামীম আহম্মেদের মধ্যে প্রথমে বাক্-বিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। খবর পেয়ে হারুন-অর-রশিদের সমর্থিতরা রামদা, পিস্তল, এসএস পাইপ নিয়ে শামীম আহম্মেদের লোকজনদের উপর হামলা চালায়।
যুবদল নেতা শামীম আহম্মেদের লোকজন হারুন-অর-রশিদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। তিনি মোবাইল ফোনটি উদ্ধারে চেষ্টা করেন। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন উত্তেজিত হয়ে হারুন-অর-রশিদের প্রাইভেটকারে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যুবদল নেতা শামীম আহম্মেদকে গুলি করেন। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে শামীম আহম্মেদের সঙ্গে থাকা পাশ^বর্তী ভোলানাথপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে অপর যুবদল নেতা রাসেল আহম্মেদ ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবর্ষণের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে আশপাশের লোকজন দিকবিদ্বিগ ছুটোছুটি করে। হারুন-অর-রশিদ যুবদলনেতা শামীম আহম্মেদকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। শামীম আহম্মেদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে প্রাইভেটকারে হারুন-অর-রশিদ পালিয়ে যায়। পরে গুলিবিদ্ধ যুবদল নেতা রাসেল আহম্মেদকে উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টেকনোয়াদ্দা এলাকার সোহেল মিয়া(২৫) নামের এক যুবককে আটক করে। এ ঘটনায় অস্ত্রধারী হারুন-অর-রশিদের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে যুবদল নেতা শামীম আহম্মেদ বাদী হয়ে হারুন-অর-রশিদকে নামীয় ও অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
রূপগঞ্জ থানা ওসি লিয়াকত আলী বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে জরিমানা গুনল দুই পেট্টোল পাম্প, ওজন কম ও হালনাগাদ নেই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে দুইটি পেট্টোল পাম্পকে জরিমানা করা হয়। বুধবার বিএসটিআইয়ের পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালতে এসব জরিমানা করা হয়। দুটি পেট্টোল পাম্পকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালতে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই চট্টগ্রামের পরীক্ষক প্রিময় মজকুরী জয়। অভিযানে নগরীর পাঁচলাইশ থানার নাসিরাবাদের বাদশা মিয়া অ্যান্ড সন্স পেট্টোল পাম্পের ডিসপেন্সিং ইউনিট যাচাই করে দেখা যায়, ডিজেল সরবরাহে প্রতি ৫ লিটারে ১২০ মিলিলিটার কম দেওয়া হয়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন মন্ডল অপু।

একইদিন, কাতালগঞ্জ এলাকার হাজি ইউনুস অ্যান্ড কোং নামের পেট্টোল পাম্পের ভেরিফিকেশন সনদ হালনাগাদ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে তাদের ডিসপেন্সিং ইউনিটে পরিমাপের যথার্থতা সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদার। এছাড়া একই এলাকায় খান ব্রাদার্স সিএনজি প্রাইভেট লিমিটেডের পরিমাপ সঠিক এবং প্রয়োজনীয় সব সনদ হালনাগাদ থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

চালের কার্ড দিবে বলে প্রতারনা স্বর্ণালংকার লুট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে শামসুন নাহার (৬০) নামের এক বৃদ্ধা কানের দুল ও স্বর্ণের রকেটসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়েছেন। রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে গোমদন্ডী বুড়ি পুকুর পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগীরা হলেন বোয়ালখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদার তালুকদার বাড়ির শামসুন নাহার ও তার পুত্রবধূ খুরশিদা বেগম (২৭)।

খুরশিদা বেগম জানান, বুড়িপুকুরপাড় এলাকার একটি মাদ্রাসায় ছেলেকে দেখতে যান তারা। পরে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক যুবক তাদের পথরোধ করে ‘চাউলের কার্ড’ করে দিলে সরকারি চাউলের বস্তা দেওয়া হবে বলে জানায়। পরে তাদের আঙুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে বলে। তিনি বলেন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট কাজ করছে না বলে ওই যুবক জানতে চায় তাদের কাছে কোনো স্বর্ণ আছে কি না। তখন তিনি এক জোড়া কানের দুল খুলে দেন। পরে আবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার কথা বলে তাকে সামনে একটি দোকানে যেতে বলে এবং শাশুড়ি শামসুন নাহারকে সেখানে রেখে যেতে বলে।এ সুযোগে তিনজন প্রতারক শামসুন নাহারকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।

শামসুন নাহার জানান, তাকে সিএনজিতে করে অলিবেকারী এলাকায় নিয়ে গিয়ে এক জোড়া কানের দুল ও ধারালো কিছু দিয়ে গলার স্বর্ণের রকেট কেটে নেয় প্রতারকরা। পরে একটি স্থানে নামিয়ে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। প্রতারক চক্র শাশুড়ি ও পুত্রবধূর কাছ থেকে দুই জোড়া কানের দুল প্রায় ১২ আনা স্বর্ণ, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ফাইল নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল হাতিয়ে নেয় তারা।
এ ঘটনায় বোয়ালখালী থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন খুরশিদা বেগম।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ