আজঃ শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার দোসরেরা এখনো বহাল তবিয়তে: আবদুস সালাম মামুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ফ্যাসিবাদ উৎখাত আন্দোলনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন বলেছেন, হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার দোসরেরা এখনো বহাল তবিয়তে। বিগত ১৭ বছর আন্দোলনের ফলে জনগণের বিজয় অর্জিত হয়েছে গত ৫ আগস্ট। জনগণের বিজয়ের মাধ্যমে শিশু ও গণহত্যাকারিরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। দেশ থেকে স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে।

এখন আমাদের দেশকে গড়তে হবে। আমরা জনগণের মালিকানা জনগণকে ফিরিয়ে দিতে চাই। গত ১৭ বছর জনগণ ভোটাধিকার হারা। তাদের ভোটাধিকার ফেরত দিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার গঠন করতে হবে। জনস্রোতে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ভেসে গেছে। এক্ষেত্রে তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনতা যে ইতিহাস তৈরি করেছে। তা পুরো পৃথিবীর ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তিনি আজ শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব এস রহমান হলে দুপুর সাড়ে ১১ টায় ফ্যাসিবাদ উৎখাত আন্দোলন চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর শাখার প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী এম এ হাশেম রাজুর সভাপতিত্বে ও সংগঠনের বাংলাদেশের সাংগঠনিক সচিব সাংবাদিক আলমগীর নূরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি, তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর যাবত গণতন্ত্র ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করেছি।

এখনো আন্দোলনে আছি আমরা, যতদিন জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারবে ততদিন অব্যাহত থাকবে আন্দোলন। তাই ভোটাধিকারের মাধ্যমে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপিলটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বাসস ব্যুরো চীপ মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে। তারা বাংলাদেশকে লুটপাট ও মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।

শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার কিছু দোসর এখনও দেশে রয়ে গেছে, যারা আবারো দেশকে আক্রমণ করতে পারে। সেই ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক চোখ হারানো সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ এমদাদ বলেন, হাজার হাজার ছাত্র জনতার মায়ের বুক খালি হওয়ার মধ্য দিয়ে যে স্বপ্ন নিয়ে গত ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারমুক্ত একটি নতুন মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো কায়েম করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের মানচিত্র রক্তে রঞ্জিত হয়েছিলো সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ফ্যাসিবাদ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন বাংলাদেশের মাটিতে অব্যাহত থাকবে।

এম এ হাশেম রাজু বলেন, নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে একযোগে দল মতের উর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি। গত ১৭ বছরের সব ঝড়-ঝঞ্ঝা আর গ্লানি মুছে দিয়ে এই নতুন প্রজন্মের হাত ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আমরা থামব না, আমরা আমাদের স্বপ্ন পূর্ণ করবই।

সংগঠনের বাংলাদেশে সাংগঠনিক সচিব সাবেক ছাত্রনেতা আলমগীর নূর বলেন, গত ১৭ বছরে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার আইনের সুশাসন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা, জনগণের সাংবিধানিক অধিকার ধ্বংস করে দিয়েছে। এখনো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগুলোতে সেই স্বৈরাচারের দোসর বহাল তবিয়তে রয়েছে। অনতিবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. ইউনুস সাহেব আপনি দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের সের্বোচ্চ রাষ্ট্র কাঠামো সচিবালয়সহ সারাদেশে ঘাপটি মেরে বসে থাকা খুনি স্বৈরাচারের দোসরদের বাধ্যতামূলক অবসরের ব্যবস্থা করবেন নইলে দুর্বার গণ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বিশেষ অতিথি ডেনমার্ক বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার খান বলেন, গত ১৪ বছর নিজের মা-বাবার চেহারা দেখিনি, ফ্যাসিষ্ট হাসিনা রাষ্ট্রদ্রোহীর মামলার হুমকী দিয়েছে, দেশে থাকা পরিবার পরিজনকে।

ডেনমার্ক বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সোনিয়া আফরোজ খান বলেন, বিদেশের মাটিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আকাংখা বুকে ধারণ করে দাবী আদায়ের লক্ষ্যে ডেনিচ ও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ঘেরাও করে প্রতিদিন মিছিল মিটিং করেছি। দেশে আর কোন ফ্যাসিষ্ট দেখতে চাই না।বক্তব্য রাখেন এডভোকেট আবদুল মান্নান, জায়েদ তালুকদার, ফরিদ উদ্দিন, মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী রানা, মোহাম্মদ জায়েদ উদ্দিন, সাবেক ছাত্র নেতা ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, এড: সৈয়দ এহেসানুল হক, ডবলমুরিং থানা বিএনপি নেতা হাজী আবদুর রহিম, সাংবাদিক নুররুল ইসলাম রিপন, জাহিদুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ শফিকুর

রহমান, সাংবাদিক মোঃ ইমতিয়াজ ফারুকী, ইঞ্জিনিয়ার মাজেদুল আলম, ওসমান সরওয়ার খান, মো: রাশেদ, মো. মিজান, মো: বাবুলু, মো: খোকন, মো: আকতার, মো: মিনহাজ রানা, মো. শাকিল, মো. তায়েস, মো: জাহেদ, মো: নুরুল আলম ও মো: আরিফ প্রমুখ। প্রতিনিধি সম্মেলনে হাউজের নিকট উপদেষ্টা মন্ডলীতে ৩ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। মো: জাহিদুল করিম কচি, মো: শাহ নওয়াজ ও কামরুল হুদা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিপদে ফেলে গেছে সমর্থকদের, নির্দোষদের পাশে আছে বিএনপি: ফখরুল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সমর্থকদের বিপদে ফেলে গেছেন, তাদের মধ্যে যারা অন্যায় করেনি, বিএনপি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, এ কথা বলেছেন দলের মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (বুধবার, ২৮ জানুয়ারি) নিজ আসনে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এর আগে এমপি নির্বাচন করছি ১৫ বছর আগে। মাঝখানে আমরা আর কোনো ভোট দিতে পারিনি। সব ভোট নিয়ে গেছে ওরা। কারা? ওই ফ্যাসিস্ট, হাসিনার লোকেরা, পুলিশ, প্রশাসন। এবার একটা সঠিক ভোট হবে বলে আশা করছি আমরা। অর্থাৎ যার ভোট, সে দিতে পারবে। যাকে খুশি তাকে দিতে পারবে।

তিনি বলেন, এবারের ভোটটা একটু অন্যরকম হচ্ছে। অন্যান্যবার এলাকায় আমার খালি দৌড়াদৌড়ি করি, নৌকা আর ধানের শীষ, নৌকা আর ধানের শীষ। এবার তো নৌকা নাই, নৌকা এবার পালাইছে। চলে গেছে হাসিনা, যারা সমর্থক আছে, তাদের বিপদে ফেলে গেছে। আমরা সে বিপদ থেকে তাদের পাশে দাঁড়াইছি।

যারা অন্যায় করেছে তাদের জন্য শাস্তি হবে উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা হিন্দু ভাইদের বলছি, আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না, আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে। যারা অন্যায় করছে তাদের জন্য শাস্তি হবে। যারা অন্যায় করেনি, সাধারণ মানুষ, তাদের আমরা আমাদের বুকের মধ্যে রেখে দেবো।
তিনি শেষে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে ধানের শীর্ষে ভোট চান বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল।
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনগণ গণতন্ত্রের পথে যাবে : আমীর খসরু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনগণের ওপর আস্থা রেখে নির্বাচন করা ভালো। সব ধরনের খুটিনাটি নিয়ে, প্রপাগান্ডা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার যে প্রক্রিয়া সে পথে তো জনগণ যাবে না, জনগণ যাবে গণতন্ত্রের পথে। তারা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন এবং সে পথেই চলছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর ৩৮ নং দক্ষিণ মধ্য হালিশহর ওয়ার্ডের সল্ট গোলা ক্রসিং থেকে নিশ্চিন্তপাড়া ওয়ার্ড অফিস মাইজপাড়া, ১ নং সাইট, হিন্দু পাড়া, বাকের আলি ফকির টেকসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।আমীর খসরু বলেন, প্রত্যেক নির্বাচনে ছোটখাটো কিছু ঘটনা ঘটে থাকে এটার জন্য বা এটার অর্থ এই নয় যে নির্বাচনে লেভেল ফিল্ড নেই। সব জায়গায় সব সময় সারা বিশ্বে ঘটে থাকে ছোটখাটো ঘটনা। এটার জন্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা অর্থাৎ যারা নির্বাচন চায় না তারা এই কাজগুলো এই কথাগুলো বলে।কিছু ছোটখাটো ঘটনা, এটা সারা বিশ্বে ঘটছে, এটা বাংলাদেশেও ঘটেছে। জনগণের সমর্থনে এ নির্বাচন হচ্ছে। এটা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। এই নির্বাচনে তার মালিকানা ফিরে পেতে চায় মানুষ।

তারা নির্বাচিত সরকার দেখতে চায়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দেখতে চায়, যারা তাদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, জবাবদিহি থাকবে। সে অপেক্ষায় তারা আছে। এটাকে বাধাগ্রস্ত করতে যারাই যাবে তারা নিজেরাই বাধাগ্রস্ত হবে। তাদের রাজনৈতিক কোনো ভবিষ্যৎ থাকবে না। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মহানগর বিএনপির সদস্য হাজী হানিফ সওদাগর প্রমুখ।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ