আজঃ বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কুড়িগ্রামে মিলছে না বোতলজাত সয়াবিন, দূর্ভোগে মানুষ।

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুড়িগ্রামের কোনও দোকানে মিলছে না বোতলজাত সয়াবিন তেল। ফলে অত্যাবশ্যকীয় এই ভোগ্যপণ্যের ভোগান্তি নিয়ে শুরু হলো ভোক্তাদের পবিত্র মাহে রমজানের যাত্রা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট পরিবেশকদের কাছে তেল চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। কোনও কোম্পানি বোতলজাত সয়াবিন সরবরাহ করছে না।

শহরের একাধিক বাজারের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের দোকান ঘুরে বোতলজাত সয়াবিন পাওয়া যায়নি। গ্রাহকরা বাধ্য হয়ে খোলা তেল কিনে চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছেন। প্রতি লিটার খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। তবে খোলা তেলে অতৃপ্তি নিয়ে ঘরে ফিরেছেন ক্রেতারা।

বিক্রেতারা জানান, তারা বারবার তাগিদ দিয়েও ডিলারদের কাছে বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ পাচ্ছেন না। ক্রেতারা আসলে তাদের খোলা তেল সরবরাহ করতে হচ্ছে। প্রথমে আপত্তি করলেও কয়েক দোকান ঘুরে শেষে খোলা তেল কিনে বাড়ি ফিরছেন ক্রেতারা।

কুড়িগাম শহরের জিয়া বাজারের আমির অ্যান্ড সন্স দোকানের ব্যবসায়ী নওফেল বলেন, ‘কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন সরবরাহ করছে না। গ্রাহকরা বারবার বোতলজাত সয়াবিন দাবি করলেও আমরা দিতে পারছি না। বাধ্য হয়ে খোলা তেল নিচ্ছেন তারা। এমনকি আমরা নিজেরাও খোলা তেলে রান্না করে খাচ্ছি।’

কোম্পানিগুলো বোতলজাত তেল দিতে নানা শর্ত জুড়ে দিচ্ছে উল্লেখ করে এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, ‘এক কার্টন তেল নিতে এক বস্তা প্যাকেট চাল, আটা কিংবা সরিষার তেল নেওয়ার শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এভাবে ব্যবসা করা অসম্ভব।’

শহরের বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে এই ব্যবসায়ীর কথার সত্যতা পাওয়া যায়। কোনও দোকানে বোতলজাত সয়াবিন মেলেনি। দুই একটি দোকানে ভেজিটেবল অয়েলের বোতল পাওয়া গেলেও তার সংখ্যা সীমিত।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তীর, রূপচাঁদা, ফ্রেশ এবং পুষ্টি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা (এসআর) বোতলজাত তেলের সঙ্গে চাল, আটা ও সরিষার তেল নেওয়ার শর্তে বোতলজাত সয়াবিন সরবরাহ করতে চাচ্ছেন। রাজি হলে দুই কার্টনের বেশি তেল দিতে চাইছেন না তারা। ফলে গ্রাহকরা বোতলজাত সয়াবিন পাচ্ছেন না।

শহরের মুদি দোকানি আজগর আলী বলেন, ‘অন্য পণ্য নেওয়ার শর্ত ছাড়া বোতলজাত সয়াবিন মিলছে না। কোম্পানিগুলো শর্তের জালে দোকানদারদের জিম্মি করছে। ডিলারদের ফোন দিলে বলছে তেল নাই।’

একই কথা বলেছেন আরেক মুদি দোকানি মানিক ঘোষ। তিনি বলেন, ‘দুই দিন আগে রূপচাঁদা কোম্পানির এসআর এসে এক কার্টন তেলের সঙ্গে এক বস্তা প্যাকেট চাল নেওয়ার শর্ত দিয়ে গেছেন। নিতে পারি নাই। বোতলজাত সয়াবিন না থাকলেও খোলা সয়াবিন সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।’

মানিক ঘোষের দোকানে দেখা মেলে আবু মুসা নামে এক গ্রাহকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বোতলের সয়াবিন কিনতে আসছি। কোথাও পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে খোলা তেল কিনলাম।’

আরেক গ্রাহক আফরোজা ফেরদৌস বলেন, ‘রমজান মাস আসলেই জনগণের ভোগান্তি বাড়ে। জিনিসের দাম তো বেশি হয়, সঙ্গে সংকটও তৈরি হয়। ইফতারসহ রান্নার কাজে সয়াবিনের ব্যবহার একটু বেশি হয়। সব পরিবারে একই রকম। কিন্তু বোতলের তেল কোথাও নেই। খোলা তেল নিয়ে বাড়ি ফিরছি।’

কুড়িগ্রামে ফ্রেশ সয়াবিন তেলের ডিলার দবির হোসেন। যোগাযোগ করলে তার ম্যানেজার পাপ্পু বলেন, ‘কোম্পানি তেল না দিলে আমরা কী করবো। আমরা বারবার তেল চেয়েও পাচ্ছি না। তারা বলছে, তাদের তেলের সরবরাহ কম। আপনারা কোম্পানির সঙ্গে কথা বলেন।’

রূপচাঁদা কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি সাব্বির বলেন, ‘আমরা তেল পাওয়ামাত্র মার্কেটে ছাড়ছি। সরবরাহ তুলনামূলক কম হলেও আমরা আটকে রাখছি না। গত বৃহস্পতিবারও আমি নিজে জিয়া বাজারে ১০৮ কার্টন (প্রতি কার্টনে ১৬ বোতল) বোতলজাত তেল দিয়েছি। আমার কাছে প্রত্যেকটার বিক্রয় স্লিপ আছে। শনিবার পৌরবাজার ও খলিলগঞ্জ বাজারে চাহিদাপত্র নিয়েছি। রবিবার সরবরাহ করবো।’

দোকানদারদের অভিযোগের বিষয়ে এই বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, ‘বোতলজাত তেলের চেয়ে খোলা বিক্রিতে লাভ বেশি। দোকানিরা বোতলের তেল খুলে বিক্রি করছেন কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা উচিত।’

এদিকে, তেল নিয়ে তেলেসমাতি চললেও ভোক্তাদের ভোগান্তি নিরসনে বন্ধ থাকা সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিক্রি শুরু হয়নি। বোতলজাত সয়াবিনের সঙ্কটের বিষয়টি জেলা প্রশাসন অবগত থাকলেও টিসিবি পণ্য বিক্রির বিষয়ে রমজানের চাঁদরাত পর্যন্ত কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

এ ব্যাপারে জানতে জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানাকে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) উত্তম কুমার রায় বলেন, ‘বোতলজাত সয়াবিনের সঙ্কটের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। এ নিয়ে পরিবেশকদের সঙ্গে দুই-একদিনের মধ্যে কথা বলবো।’

টিসিবির পণ্য বিক্রির বিষয়ে উত্তম কুমার রায় বলেন, ‘টিসিবি বন্ধ নেই। আমরা পণ্য পেয়েছি। শিগগিরই বিক্রি শুরু হবে।’ তবে টিসিবি ডিলারদের দাবি, কবে থেকে পণ্য বিক্রি করতে হবে, সে ব্যাপারে এখনও সুনির্দিষ্ট তারিখ পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কেন্দুয়ায় ভোট কেন্দ্রে আগুন, নাশকাতার চেষ্টা ব্যর্থ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় একটি ভোটকেন্দ্রে আগুন দেওয়ার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৪টার দিকে উপজেলার বীরমহুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত জানালা দিয়ে ডিজেল ভেজানো চটের বস্তা ভেতরে ছুড়ে মেরে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে কক্ষের ভেতর আসবাবপত্র কম থাকায় এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বিদ্যালয়ের মেঝেও দেয়ালের কিছু অংশে পোড়া দাগ লক্ষ্য করা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, এটি কোনো ভোটকেন্দ্রে আগুন দেওয়ার ঘটনা নয়, বরং একটি ভোট কক্ষ বা ভবনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা ছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, বীরমহুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট তিনটি ভবন রয়েছে। এরমধ্যে যে দুটি ভবন ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেগুলো অক্ষত আছে। দুর্বৃত্তরা এমন একটি ভবনের কক্ষে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে যা মূলত ভোটকেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত নয়।

ওসি আরও জানান, রাতের ডিউটি শেষে গ্রাম পুলিশ চলে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। তবে নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত থাকায় এখনো কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এ ধরণের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

প্রেস সচিবের ব্যাংক ব্যালেন্স বেড়েছে ৯ লাখ টাকা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নিজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

আলোচিত খবর

নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ৮ লাখ। কর্মকর্তা- ইসি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিশাল এক কর্মীবাহিনী মাঠে নামিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের কর্মযজ্ঞ সফল করতে সারা দেশে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা সরাসরি নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বিশাল তালিকায় প্রিজাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে পোলিং অফিসার পর্যন্ত সর্বমোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন দক্ষ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।  

নির্বাচন পরিচালনার ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার। মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে প্রায় ৯ লাখ পোস্টাল ব্যালট প্রতিটি কেন্দ্রের প্রধান দায়িত্ব সামলাবেন একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার, সেই হিসেবে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার এখন কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়াও ভোটকক্ষগুলোতে দায়িত্ব পালনের জন্য ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসারকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ