আজঃ শনিবার ২১ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামের রাউজানে চাঁদার জন্য জাহাঙ্গীর খুনের তথ্য দিয়েছে ঘাতক

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের রাউজানে খুনের মামলার তথ্য দিয়েছে খুনি নিজেই। দেড় মাস আগে নামাজ পড়তে যাবার পথে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি করে হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অস্ত্র-গুলিসহ দুজনকে গ্রেফতারের পর পুলিশ তথ্য দিয়েছে, জাহাঙ্গীরকে চাঁদার জন্য খুন করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর নাসিরাবাদে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম সানতু এ তথ্য দিয়েছেন।

এর আগে বুধবার রাতে পুলিশ রাউজানের পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের গরীর উল্লাহপাড়া থেকে দুজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতাররা হলেন- আরাফাত মামুন ও বিপ্লব বড়ুয়া। তাদের কাছ থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি ভর্তি রিভলবার, একটি রাম দা ও একটি দেশীয় তৈরি এলজি ও দুইটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এসপি সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, আরাফাত মামুন হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা। তিনি সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডস্থল এবং আশেপাশের এলাকার সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে তারা চাঁদা দাবি করেছিলো বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। মূলত এ চাঁদার জন্যই খুন করা হয়েছে।নিহত জাহাঙ্গীর আলম রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের নিরামিষ পাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ওই এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারের মালিক ছিলেন। এছাড়া নগরীর আসাদগঞ্জ এলাকায় তার শুটকির ব্যবসা ছিল।

গত ২৪ জানুয়ারি (শুক্রবার) দুপুরে মোটর সাইকেলে চড়ে জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে যাবার পথে দুর্বৃত্তরা গুলি করে তাকে খুন করে। এ সময় মোটর সাইকেলের চালক আব্বাস গুরুতর আহত হন।
পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরের পরিবারের করা মামলায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সর্বশেষ আরাফাত মামুন ও বিপ্লবসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামুন ও বিপ্লবকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়ে এসপি সাইফুল বলেন, মামুন পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের গরীর উল্লাহপাড়ায় তার মামার বাড়িতে সহযোগী বিপ্লবকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাকে গ্রেফতারের অভিযানের সময় পুলিশকে গুলি করার চেষ্টা করে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের কোনো দল নেই। কিন্তু প্রত্যেক অপরাধী রাজনৈতিক আশ্রয় চায়। সে হিসেবে তারা আশ্রয় নেয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে শেষ সময়ে ঘরমুখো মানুষের স্রোত, রেল ষ্টেশন-টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদের সাতদিনের ছুটিকে কেন্দ্র পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ বাগাভাগি করতে বন্দরনগরী ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ। মহানগরের বাস টার্মিনালগুলো ও রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখ পড়ার মতো। বুধবার ভোর থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। যথাসময়ে ছেড়ে যাচ্ছে একের পর এক ট্রেন। এছাড়া ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বাস টার্মিনালেও ভিড় করেন যাত্রীরা।

পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এদিকে চট্টগ্রাম অনেকটা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। নগরের বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তায় নেই আগের চিরচেনা যানজটের দৃশ্য। যানজটহীন স্বস্তিতে গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন নগরবাসী।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) শেখ মো. সেলিম বলেন, এখানে নিরাপত্তার কোনও শঙ্কা নেই। পুলিশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার জন্য। প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা করা দরকার তা নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনেও পুলিশ কাজ করছে। যাত্রীদের ভাড়ার বিষয়েও আমরা তদারকি করছি।

বুধবার মহানগরের কদমতলী, বহদ্দারহাট ও নতুন ব্রিজ জিইসি বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীর চাপ বেশি। টিকিট পাচ্ছেন না অনেকে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা পর সকালে ছেড়ে যাওয়া ফিরতি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন কেউ কেউ। যাত্রীর চাপের তুলনায় বাস টার্মিনালে গাড়ির সংকট দেখা গেছে। তবে কাউন্টার বসে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, যে গাড়িগুলো গেছে সেগুলো ফিরে এলেই এই টিকিটের সংকট থাকবে না। যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রীরা বলছেন, কোনও ভোগান্তি নেই। তারা নির্বিঘ্নে যথাসময়ে ট্রেনে উঠছেন এবং ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যাত্রীরা যেতে পারছেন। সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন। অন্য ট্রেনগুলোও যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। তাই স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও খোলা ট্রাকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছে লোকজন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে বিআরটিএ’র সতর্ক সংকেত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন বাস চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অস্থায়ী পতাকা নয়-স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাঁকের উভয় পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ফলে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ