আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ, ২০২৬

নেত্রকোনায় স্কাউট পরীক্ষার্থীর উপর ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

মোঃ নুর উদ্দিন মন্ডল দুলাল নেত্রকোনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

।নেত্রকোনায় প্রেসিডেন্ট স্কাউট পরীক্ষা (২০২৪) দিতে গিয়ে পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর জালশুকা কুমুদগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা বর্বোচিত হামলার ঘটনায় দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনায় ৭ শিক্ষার্থী আহত হয়, এর মধ্যে ৩ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়াও হামলার শিকার হয়েছে ৩ মেয়ে শিক্ষার্থীও। হামলার ঘটনায় গতকাল রাতে আহত শিক্ষার্থীদের হয়ে শিক্ষকরা বাদী হয়ে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।

রবিবার (৯মার্চ) সকাল ১১ ঘটিকায় পূর্বধলা জগৎমনি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়ে পূর্বধলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। পরে শ্যামগঞ্জ বিরিশিরি মহাসড়ক ঘন্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখে। এসময় বিক্ষোভ মিছিলে স্কুলের বর্তমান ও সাবেক প্রায় ৭ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে।

এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হোন, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবু তাহের তালুকদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইশতিয়াক আহমেদ বাবুসহ বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হন। তারা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের সমর্থন জানান।

পরে পূর্বধলা থানার নবাগত ওসি নুরুল আমিন গিয়ে অবরোধকারীদের মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও অবরোধ কারীরা সরে যেতে রাজি হয়নি। অবশেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আগামীকাল সকাল ১০ ঘটিকার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতারের আশ্বাসে পেলে আন্দোলনকারীরা আন্দোলন স্থগিত করে।

জানা যায়, উপজেলার শ্যামগঞ্জের জালশুকা কুমুদগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের শাপলা কাব ও প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ডের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেত্রকোনা সদর ও পূর্বধলা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৮৩জন স্কাউট অংশ নেয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে দুপুরে কেন্দ্রের পাশ্ববর্তী সোয়াই নদীতে সাঁতার মূল্যায়ন শেষে বিদ্যালয়ে ফেরার পথে পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়।

বিক্ষোভ মিছিলে, আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দিবো না, ‘ We Want Justice, তুমি কে আমি জেএম জেএম, সন্ত্রাসীদের আস্তানা ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও, কুমুদগঞ্জের সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাওসহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী‘ আমিন ইসলাম বলেন, পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কাউট শিক্ষার্থীদের উপর তারা ইলেকট্রিক শক, কারেন্টের তার এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই ঘটনায় বাংলাদেশ স্কাউটস এর ইতিহাস একটি নিন্দনীয় ঘটনা। উক্ত ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। প্রশাসনের আশ্বাসে আগামীকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেছি। এর মধ্যে দোষীদের বিচারের সম্মুখীন না করতে পারলে আরও কঠোর আন্দোলন যেতে বাধ্য হবো।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কুতুবদিয়ায় আজাদ চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ঈদ উপহার পেয়ে খুশি গ্রাম-পুলিশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেছেন কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় দক্ষিণ ধূরুং ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ। এসময় উপহার পেয়ে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গ্রাম পুলিশের সদস্য কাইচার আলম, জয়নাল আবেদীন, হারুন রশীদ, পারভেজসহ অন্যান্য সদস্যরা।

জানা যায়, স্থানীয় দক্ষিণ ধূরুং ইউপি চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত উদ্যোগে গ্রাম পুলিশদের মাঝে এ ঈদ উপহার বিতরণ করেন। উপহার হিসেবে দেওয়া হয় পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ।

উপহার গ্রহণকালে গ্রাম পুলিশের সদস্য কাইচার আলম বলেন, “ঈদের আগে এ ধরনের সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। এতে আমাদের পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ আরও বাড়বে।”

এসময় স্থানীয় দক্ষিণ ধূরুং ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, “গ্রাম পুলিশরা সবসময় জনগণের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে ঈদের আগে সামান্য উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।”

ঈদ জামাত সকাল ৮টায়, প্রস্তুত চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ময়দান :চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদ-উল-ফিতরের কেন্দ্রীয় জামাত উপলক্ষে চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ ময়দান সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বুধবার জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। পরিদর্শনকালে মেয়র নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং রমজানের শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করে চট্টগ্রামের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- ইসলামিক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মোস্তফা মনসুর আলম খান, চসিকের জনসংযোগ ও প্রটোকল কর্মকর্তা আজিজ আহমদ, নির্বাহী প্রকৌশলী আনু মিয়া, মেয়রের একান্ত সহকারী জিয়াউর রহমান জিয়া এবং সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতি কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ।

পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, প্রায় ৬৫ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে এবং নিচে কার্পেটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখে ওপরে টারপলিন দেওয়া হয়েছে, যাতে আবহাওয়া প্রতিকূল হলেও ঈদের জামাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। এছাড়া প্রায় ২৫০টি পাখা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, ৫০টি মাইক এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গত সাত দিন ধরে চসিকের উদ্যোগে এসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারেন।

ডা. শাহাদাত বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মুসল্লি এই কেন্দ্রীয় জামাতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত মুসল্লির কথা বিবেচনায় রেখে দুটি জামাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে-প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।তিনি আরও বলেন, মুসল্লিদের নির্বিঘ্ন প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য তিনটি গেট খোলা রাখা হবে, পাশাপাশি পেছনের গেটটিও ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের ভিড় বা হুড়োহুড়ি না হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নগরীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে চসিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় চলছে এবং নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গত ১৬ মাসে চট্টগ্রামে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা একটি ‘সেফ সিটি’ বা নিরাপদ নগরী গড়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

মাঠ পরিদর্শনকালে মেয়র আরো বলেন, প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব আলহাজ্ব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক আল কাদেরী।এছাড়া নগরীতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে সকাল ৮টায় ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে যথাক্রমে লালদীঘি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শাহী জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (রঃ) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি কর্পোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী (ভিআইপি) আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুবাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকী চসিক জামে মসজিদ (সাগরিকা জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম সংলগ্ন)।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ