আজঃ সোমবার ২২ জুন, ২০২৬

পরিচ্ছন্নকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে হবে: মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীতে কর্মরত বর্জ্য সংগ্রহকারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে ইপসা (ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন) নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে রোববার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় নগরীর হালিশহর আনন্দবাজার ল্যান্ডফিল্ডে বর্জ্য সংগ্রহকারীদের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, কমান্ডার মো. আরিফুর

রহমান, ইপসা’র প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাহী মো. আরিফুর রহমান, চসিকের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার নাছির উদ্দিন রিফাত, ইপসা প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের ফোকাল ও সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস সবুর, প্রোগ্রাম ম্যানেজার অপূর্ব দেবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, আমরা ‘ক্লিন সিটি, গ্রীন সিটি, হেলদি সিটি’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি। জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হলো প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য, যা নালায় জমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত করছে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতির মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। চসিক তিনটি ধাপে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে—প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও চূড়ান্ত স্তর। পরিকল্পনার আওতায় বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা হবে, যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বায়োগ্যাস উৎপাদন ও সার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
শহর পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার জন্য নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে একটি উদ্যোগ নিয়েছি, যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ প্লাস্টিক জমা দিলে বিনিময়ে চাল, ডাল বা অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। এতে জনগণ উৎসাহিত হচ্ছে এবং পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে উঠছে।
“সিটি কর্পোরেশন কেবল পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কাজ করছে না, বরং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের জন্য গ¬াভস, বুট, হেলমেটসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষাও নিশ্চিত করা।”

ইপসা প্রধান নির্বাহী মো. আরিফুর রহমান জানান, “চট্টগ্রাম নগরীতে ইপসা এখন পর্যন্ত ১,৮২৭ জন বর্জ্য সংগ্রহকারীদের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে, যা তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমিয়েছে এবং কর্মঘণ্টা বাড়িয়েছে। এর ফলে নগরীর প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম আরও বেগবান হয়েছে।”
ইপসা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত এই প্রকল্পের আওতায় চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডে ১,৭০০ বর্জ্য সংগ্রহকারী ও ১৫৬ জন ভাঙারিওয়ালা কাজ করছে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের মাধ্যমে ২১,৭৩৪ টন প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইক্লিং করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মোঃ ইফতেকারুল আলম সায়েম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন বুড়িশ্চর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান মোঃ ইফতেকারুল আলম সায়েম। তাঁর এই অর্জনে এলাকায় আনন্দ ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসা ইফতেকারুল আলম সায়েম সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়ে নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করেছেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন।

তাঁর মূল্যানের খবরে বুড়িশ্চর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে তিনি ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার পাশাপাশি তরুণ সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কৃষি শ্রমিক কে মারধরের অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা পর মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে এক কৃষি শ্রমিক কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রায় চার ঘণ্টা পর জামিল হোসেন (৫০) নামে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিনা গ্রামের আবু মণ্ডলের ছেলে।

অভিযুক্ত ইউসুফ আলী উপজেলার চড়-ভাঙ্গুড়া গ্রামের কুদ্দুস মণ্ডলের ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা এবং বর্তমানে সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ দিন আগে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে জামিল হোসেন তার মেয়ে, মেয়ের জামাই ও চাচাতো ভাইকে নিয়ে ভাঙ্গুড়ায় আসেন। তারা উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে রেললাইনের পাশে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

নিহতের মেয়ের জামাই আব্দুল কাদের জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইউসুফ আলী জামিল হোসেনকে ধান মাড়াইয়ের কাজে যেতে বলেন। তিনি কিছুটা দেরি হবে জানালে ইউসুফ আলী ক্ষিপ্ত হয়ে ধান মাড়াই মেশিনের চাবি কেড়ে নেন। পরে চাবি ফেরত চাইলে সেই চাবি দিয়েই তাকে মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক ধান মাড়াইয়ের কাজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি প্রায় তিন বিঘা জমির ধান মাড়াই করেন।

আব্দুল কাদের আরও জানান, কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে তারা কৈডাঙ্গা গ্রামে ফিরে আসেন। এ সময় জামিল হোসেন অসুস্থ বোধ করলে পাশের নদীতে গোসল করতে যান। গোসল শেষে ফিরে এসে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর ইউসুফ আলীর চাপে তারা দ্রুত মরদেহ নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে ভাঙ্গুড়া থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউসুফ আলীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার বাড়িতেও গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপন বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী ভাঙ্গুড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার জানান, প্রাথমিকভাবে মরদেহের মাথার পেছনে সামান্য কাটা-ছেঁড়ার দাগ পাওয়া গেছে। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার কারণে ওই আঘাত লেগে থাকতে পারে। শরীরের অন্য কোথাও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ