আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম সাংবাদিক বৃন্দের সম্মানে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কখনো বিচারহীনতায় বিশ্বাস করে না। ইতোমধ্যে প্রায় ২০০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে নারীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। যারা নির্বাচন এড়িয়ে অন্য পন্থা অবলম্বন করতে চায়, তারা গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার হরণের পক্ষে অবস্থান করছে।

শনিবার, ২২ মার্চ বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের কাজীর দেউরী সংলগ্ন একটি কমিউনিটি সেন্টারে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্মসূচি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা করেন। তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন এবং বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। বিএনপি নেতৃবৃন্দ তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশের অর্থ লুটপাটকারীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে। শেখ হাসিনাসহ যারা দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে, তাদের বিচার করা হবে। যারা অপরাধী, তাদের বিরুদ্ধে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। বিএনপি সবসময় আইনের শাসনে বিশ্বাস করে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্য প্রকাশের মাধ্যমে তারা দেশ ও জাতির সামনে বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। এজন্য তিনি সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকরা সবসময় সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে থাকবেন, এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জনগণ আজ কঠিন সময় পার করছে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকার হরণের ফলে দেশ একটি ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের দমন-পীড়ন ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। এদেশের জনগণ যেভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে, জনগণ পরিবর্তন চায়। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ধৈর্য ও সাহস ধরে রাখতে হবে, কারণ এই আন্দোলন শুধু বিএনপির নয়, এটি দেশের জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াই।

সভায় সভাপতিত্ব করেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শামছুল আলম। এছাড়াও সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কগণ, সাংগঠনিক সম্পাদকগণ, চট্টগ্রামের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বগণ। সভাটি সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।

বক্তারা বলেন, দেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বিএনপি আপসহীন আন্দোলন চালিয়ে যাবে। দেশের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিত অতিথিদের জন্য ইফতার পরিবেশন করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ও ছোট জামাই সোহেলের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন বড় জামাই এ.কে আজাদ। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের হুজরাপুরে অবস্থিত চাঁপাই প্রেসক্লাবে হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন তিন।

লিখিত বক্তব্য এ. কে আজাদ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুরে অবস্থিত মার্কেটসহ বাড়ি দখলের বিরোধের জেরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে উক্ত আর.এস দাগ নং ১১৪৯ জমির উপরে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেন। এর পরেও মোশাররফ হোসেন ও তার ছোট জামাই সোহেল রানা আদালতের আইন অমান্য করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গত ১ বছর ধরে তার নামে থাকা একটি মার্কেটসহ বাড়ী জোর পূর্বক দখল করে নেন। সে সঙ্গে বাড়ি ও মার্কেটের প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা শশুর এবং তার ছোট জামাই উত্তোলন করে আসছেন। মার্কেটসহ বাড়ির বর্তমান মালিক এ.কে আজাদ দখল ছাড়তে বললে বিভিন্ন প্রকার হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের মুঠোফোনে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা।

বিএসএফের টাকার টোপে সীমান্তের দরিদ্ররা সহযোগিতা করছেন পুশ-ইনে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীমান্তজুড়ে পুশ-ইন ইস্যু নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলা দিয়ে নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে কড়া নজরদারির কারণে অনেক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও এ কাজে সীমান্ত এলাকার কিছু দরিদ্র মানুষকে অর্থের প্রলোভনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে গিয়ে জানা গেছে, সীমান্তঘেঁষা নদীপথগুলো এখন নতুন কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। আগে যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া কিংবা স্থলপথে কড়াকড়ি ছিল, এখন সেখানে নদীপথকে ব্যবহার করে রাতের অন্ধকার কিংবা ভোরের সময় পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন একাধিক ঘটনার তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী দরিদ্র কিছু বাংলাদেশিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজে ব্যবহার করছে বিএসএফ।

সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন কার্যক্রমে কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী- একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিএসএফের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব পুশইনে সহায়তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একজনকে পুশ-ইন করতে পারলে দেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে।

তবে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের চেষ্টা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ