আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

স্বাধীনতা দিবস জনগণের সাহস, ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক ঃ বিভাগীয় কমিশনার।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম এম.এ আজিজ স্টেডিয়ামে প্যারেড পরিদর্শন করছেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার নগরীর পাহাড়তলীস্থ উত্তর কাট্টলীস্থ ডিসি পার্কের দক্ষিণ পাশে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ও এম.এ আজিজ স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এসময় কাট্টলীস্থ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির

শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ, জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুসহ সরকারী-বেসরকারী দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এদিকে সকাল ৯টায় নগরীর এম.এ আজিজ স্টেডিয়ামে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও কপোত উড়িয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের উদ্বোধন শেষে প্যারেড পরিদর্শন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন। এ সময় সিএমপি ও জেলা পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, কারারক্ষী, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স, বি.এন.সি.সি, বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যুব রেড ক্রিসেন্ট ও সরকারী শিশু পরিবার কর্তৃক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন বিভাগীয় কমিশনার।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসাক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ, জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মহান স্বাধীনতা দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাহসিকতার বার্তা দিয়েছে। দেশের ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক মুহুর্ত হিসেবে চিহ্নিত, যা দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দেশের জন্য ত্যাগের প্রেরণা দেয়। আর স্বাধীনতা দিবস বাংলাদেশের জনগণের সাহস, ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক। এটি দেশের জাতীয় গৌরব ও মুক্তির ইতিহাসকে স্মরণ করার দিন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ সকল সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বীরাঙ্গানা মা-বোন ও ২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যূত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদ এবং বিপ্লবে আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করা হাজারও বিপ্লবী বীরদের স্মরণ করেন তিনি।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমাদের স্বাধীনতা অর্জন কেবল একটি ভূখন্ডের নয়, বরং এক শাশ্বত চেতনার উদযাপন। এই চেতনাই আমাদেও জাতিকে একত্রিত রাখে এবং ভবিষ্যতের পথ প্রদর্শন করে। আমরা যেন সবার জন্য উন্নতি, শান্তি ও মানবাধিকারের স্বীকৃতি নিশ্চিতপূর্বক সকল প্রকার বৈষম্যকে পেছনে ফেলে সাম্যের এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, অনেক রক্ত, অশ্রু আর স্বজন হারানোর বেদনায় সিক্ত আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দীর্ঘদিনের শোষিত আর শৃঙ্খলিত বাঙ্গালী জাতীর হৃদয়ে অধিকার আদায়ের যে মাটির প্রদীপটি মিটমিট করে জ্বলে উঠেছিল, দীর্ঘ নয় মাসে হাজারো ধারায় স্ফুরিত হয়ে ১৬ই ডিসেম্বর তা রূপ নিয়েছিল আলোর মশালে। আমরা পেয়েছিলাম স্বাধীনতা, তারপর বিজয়। ইতিমধ্যে স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, ৫৫-তে আমাদের পদার্পন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরাই আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর। তোমাদের প্রতি অনুরোধ শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা নয় বরং ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে অংশগ্রহণপূর্বক মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে চেষ্টা করবে। ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদেরকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যোগ্য করে তুলবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মতিউর রহমান চৌধুরী নোয়াব সভাপতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী  মালিকদের সংগঠন- নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ